শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

চামড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ক্ষুদ্র-মাঝারি-মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তায় আছেন ক্ষুদ্র, মাঝারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত সঠিক দাম পাবেন কি না, সব চামড়া বিক্রি করতে পারবেন কি না- এনিয়ে তাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। যদিও সরকার গত বছরের তুলনায় এবার চামড়ার দাম খানিকটা বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত ঢাকায় ১৮ থেকে ২৪ বর্গফুট বা লবণযুক্ত প্রতিটি গরুর চামড়া ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বেচা-কেনা হচ্ছে। ঢাকার বাইরে প্রতিটি চামড়া বেচা-বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। গত বছরের চেয়ে এবারে চামড়ার দাম একটু বেশি। তবে সব কিছু নির্ভর করছে ট্যানারি মালিকদের ইচ্ছার উপর।

অবশ্য ট্যানারি মালিকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামেই ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবেন। তারা বলেন, পুঁজি সংকট দূর করতে পারলে অবস্থার উন্নতি হবে। তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) থেকে ১৫৪টি ট্যানারি একযোগে চামড়া কেনা শুরু করেছে। এবার তাদের লক্ষ্য ৯৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ করা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এবারের কোরবানি ঈদের দিন কয়েক আগে সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়। যা অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ঢাকায় লবণযুক্ত চামড়া বর্গফুট ৪৭-৫২ টাকা। গত বছর ট্যানারি মালিকরা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বর্গফুট কিনেছিলেন। আর ঢাকার বাইরে সারা দেশে ট্যানারি মালিকদের লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৪০ থেকে ৪৪ টাকা দর নির্ধারণ করে দেয় সরকার। গত বছর এই দাম ছিল ৩৩-৩৭ টাকা। এ ছাড়া সারা দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দর ৩ টাকা বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা। যা গত বছর ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা।

ট্যানারি মালিকরা এ দামে চামড়া কিনতে সম্মতিও প্রকাশ করেন। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম বাড়ছে। চামড়া ব্যবসায়ীরাও ঈদের আগে বলেছিলেন, এবার দাম বাড়বে চামড়ার। কারণে দেশে এবার লবণের সংকট নেই। দামও কম। মিলগেটে ১৪ টাকা কেজি এবং খুচরা পর্যায়ে ২০ টাকা কেজি।

এবার চামড়ার দাম কেমন হলো জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্জুন ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পিস কেনা হয়েছে। এরমধ্যে একবারে ছোট গরুর ১০০ টাকা ও বড় গরুরর ৫০০ টাকা। তবে মাঝারি গরুর চামড়া গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পিস কেনা হয়েছে। আর খাসিরটা ১০ থেকে ৩০ টাকা পিস। প্রতি পিস চামড়ায় গড়ে ৫ থেকে ৭ কেজি লবণ লেগেছে, আর কারিগরের মজুরি লেগেছে ২০০ টাকা। এভাবে প্রতি পিস চামড়ার পেছনে লবণ লাগাতে ৩০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। সেই চামড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি দাম।

চামড়ার দামের ব্যাপারে ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া সাতমসজিদ মাদ্রাসার বোর্ডিং ম্যানেজার মো. জাসিম ঢাকাপ্রকাশ-কে জানান, ‘এবার চামড়ার দাম একটু বেশি পাওয়া গেছে। প্রতি পিস গরুর চামড়া ৫৯৫ টাকা বিক্রি করা হয়েছে ট্যানারির কাছে। আর খাসির চামড়া ১০ থেকে ২০ টাকা পিস।

ট্যানারি মালিকরা চাইলেই বাড়বে চামড়ার দাম
ট্যানারিতে দাম বাড়লেও কোরবানিদাতারা এবারও দাম পেলেন না কেন? জানতে চাইলে চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির (বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যানোসিয়েশন) সভাপতি আফতাব খান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘ গত বারের চেয়ে বেশি দামেই এবার কোরবানির চামড়া কেনা হয়েছে। রাজধানীর প্রধান আড়ৎ পোস্তায় চামড়া কম আনা হয়েছে। মাদ্রাসা, এতিমখানা থেকে ১৫৪টির মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি ট্যানারি মালিকরা সরাসরি চামড়া কিনেছে। এ ছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও আড়তে চামড়া বিক্রি করেছে বাজার দরে’।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চামড়ার দামের ব্যাপারে কয়েক বছর আমরা একবারে অন্ধকারে ছিলাম। গতবারের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কেনা হচ্ছে। ২৪ বর্গফুটের চামড়া ১২০০ টাকা, ২০ বর্গফুটের ১০০০ ও ১৮ বর্গফুটের চামড়া ৯০০ টাকা পিস বিক্রি করা হচ্ছে। এভাবে বাড়তে বাড়তে ২০০৮/২০১০ সালের মতো ১৩৫ টাকা বর্গফুট বা ৩২০০ থেকে ৩৩০০ টাকা পিস গরুর চামড়া হবে। এভাবে চামড়ার দাম বাড়তে থাকলে আমরা আলোর মুখ দেখতে পাব।’

তিনি বলেন, ‘চামড়ার বাড়তি দাম নির্ভর করছে ট্যানারি মালিকদের উপর। তারা বেশি দাম দিলে আমরাও বেশি দামে চামড়া কিনতে পারব।’

এ চামড়া ব্যবসায়ীর কথার সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ টেনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘আগের ঘোষণা অনুযায়ী ট্যানারি মালিকরা বৃহস্পতিবার থেকে কোরবানির চামড়া কেনা শুরু করেছে। সরকারের নির্ধারিত দামেই কেনা হচ্ছে। ঢাকার মধ্যে আড়ত থেকে প্রতি পিস গরুর চামড়া গড়ে ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা পিস কেনা হচ্ছে। আর ঢাকার বাইরে কম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পিস। এটাও সরকারের নির্ধারিত দামে কেনা হচ্ছে।

চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ট্যানারি মালিকরা তৎপর না হলে চামড়ার দাম বাড়বে না। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ট্যানারি মালিকরা কোরবানির চামড়া কেনার ব্যাপারে খুবই তৎপর। এ জন্যই আগের বছরের চেয়ে বেশি দামে এবার চামড়া কেনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে দাম। তাই আমরাও বেশি দামে কিনছি। শুধু তাই নয়, এবারে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে সরাসারি ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনেছেন। বিভিন্ন ট্যানারি মালিকরা সাড়ে ৩ লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। ১৫৪টি ট্যানারি রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে একযোগে লবণযুক্ত চামড়া কেনা শুরু করেছে বৃহস্পতিবার থেকে। এ বছর ট্যানারি মালিকরা ৯৫ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া খাসির চামড়া সংগ্রহ করবেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) কী পরিমাণ কেনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তা সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়। এ জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

আগের মতো দাম বাড়ছে না কেন? সরকার কী করলে বাড়বে দাম। এমন প্রশ্নের জবাবে শাহিন আহমেদ জানান, ‘পুঁজি সংকটসহ বিভিন্ন ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা পেলেই আগের অবস্থায় ফেরা সম্ভব। কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কেমিক্যাল প্রয়োজন। সুপারভাইজড বন্ড সুবিধার আওতায় ট্যানারিগুলো কেমিক্যাল সংগ্রহ করে থাকে। তাই ট্যানারি শিল্পের স্বার্থে সুপারভাইজড বন্ড বহাল রাখা ও এর সুবিধার আওতা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপির ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে হবে। চামড়া খাতে ঋণের তিন বছরের সুদ মওকুফ, জরুরি ভিত্তিতে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন, এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের পদক্ষেপসহ চামড়া শিল্প নগরীর ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা হালনাগাদ করতে হবে। এসব করলে চামড়া শিল্প আগের অবস্থায় আসবে ফিরে।

এনএইচবি/এসএন

 

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধান ক্ষেত থেকে ফজিলা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আউলিয়াবাদ গ্রামের মাঝিপাড়ার ধান ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফজিলা বেগম ওই গ্রামের মৃত চান মাহমুদের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার ৪ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে মেয়েরা ফজিলা বেগমকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ পায়নি। এ সময় বৃদ্ধার বসত ঘরটির দরজা ও জানালা বন্ধ ছিল।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে ঘরে না পেয়ে মেয়েরা ওই বৃদ্ধাকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের বোরো ধানের জমির পাশে ফজিলা বেগমেরব মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। ফজিলা বেগমের মুখে কাঁদা মাখানো ছিল। তাদের চিৎকারে আশপপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

ফজিলা বেগমের স্বজনদের ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র ফজিলাকে হত্যা করে তার গলা, কান ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া জানান, ওই বৃদ্ধা নারীর মুখে কাঁদা মাখানো ছিল। তার একটি কান কাটা ও নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ধারণা, তাকে হত্যা করে গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি লুকিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী, সাথী ও সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক প্রীতিসভায় এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে সৎ, আদর্শবান ও ইসলামপন্থী প্রার্থীদের জয়ী করে জাতিকে সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।

ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদিঘি) আসনে নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী, বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে আলহাজ দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে আবিদুর রহমান সোহেল এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে গোলাম রব্বানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব ফেডারেশন (ইফসু)’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। এছাড়া জামায়াতের বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুর রহীম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে ছাত্রশিবিরের দুই হাজারেরও বেশি সাবেক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা পরিবেশনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে জামায়াত নির্বাচনী মাঠে নিজেদের পুনরায় সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চাইছে। ছাত্রশিবিরের সাবেকদের অংশগ্রহণ দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির একটি ইঙ্গিত বলেও মনে করছেন অনেকে।

Header Ad
Header Ad

রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের বদরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার ও দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক জন নিহত এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার এবং বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিকের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি শহরের ঢেউটিন ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার এবং দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবুর মধ্যে দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দ্বন্দ্বকে ঘিরে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

জানা গেছে, দোকান মালিক ইশতিয়াক বাবু দাবি করেন, জাহিদুলের দোকান ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভাড়াটিয়া জাহিদুলের দাবি, তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৈধ এবং তিনি দোকান ছাড়বেন, যদি জামানত হিসেবে দেওয়া ৩৫ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু দোকান মালিক সেই অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে বুধবার সন্ধ্যায় দোকানঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে ইশতিয়াক বাবুর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

এর প্রতিবাদে শনিবার শহিদুল ইসলাম মানিকের নেতৃত্বে শহিদ মিনার এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু মানববন্ধন চলাকালে মোহাম্মদ আলী সরকারের অনুসারীরা হামলা চালিয়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন ও মাইক ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, “পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।”

 

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

টাঙ্গাইলে ধান ক্ষেতে মিলল ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ
বগুড়ার সাতটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
রংপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণহানি, আহত অন্তত ২০
গত ২৫ বছর ‘জয় বাংলা’ বলিনি, এখন থেকে বলব: কাদের সিদ্দিকী
বিরামপুরে ভয়াবহ আগুনে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই
রাতেই ঢাকাসহ ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে
মোদির প্রতিক্রিয়া শেখ হাসিনার ফেরত নিয়ে নেতিবাচক ছিল না: প্রেস সচিব
নওগাঁ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে অসোন্তোষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ২৫৫
‘বিদেশি কিছু গণমাধ্যম অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করছে’
সারা দেশে ৩২৯ উপজেলায় হচ্ছে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ: মহাপরিচালক
২৭৭ জনকে নিয়োগ দেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এইচএসসি পাসেও আবেদন
ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩৫৪
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালো নিউজিল্যান্ড
স্বর্ণভর্তি ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোরিকশাচালক খায়রুল
ঈদের ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু
ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছেন ১ কোটি ৭ লাখ সিম ব্যবহারকারী
যারা ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিয়েছে, তারা রাজনীতি করার অধিকার রাখে না
লৌহজংয়ে কার্টনে পাওয়া মরদেহের টুকরোগুলো সাভারের সবুজ মোল্যার
মার্কিন শুল্ক নিয়ে সন্ধ্যায় জরুরি মিটিং ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা