পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানীতে চাপ কমবে: মীর মোস্তাক আহমেদ

‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানী ঢাকায় মানুষের চাপ অনেকাংশ কমে যাবে। ঢাকায় যারা বাড়ি-ঘর ভাড়া দিয়ে চলেন তাদের একটু কষ্ট হবে। অনেক বাড়ি-ঘর ফাঁকা হয়ে যাবে।’ এমনটাই মনে করেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
সম্প্রতি ঢাকাপ্রকাশ-এর স্টুডিওতে এসে ঢাকাপ্রকাশের বিশেষ আয়োজন ‘পদ্মা সেতুর সম্ভবনা নিয়ে জননেতার মুখে জনতার কথা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া পদ্মা সেতু নিয়ে ঢাকাপ্রকাশের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লার সঙ্গে এ সংসদ সদস্যের কথোপকথন তুলে ধরা হলো।
ঢাকাপ্রকাশ: পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলার কী রকম প্রভাব ফেলবে?
মীর মোস্তাক আহমেদ: আমাদের জেলা সাতক্ষীরায় ভোমরা বন্দর রয়েছে। এ বন্দর স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে। এ বন্দর দিয়ে এখনও বিপুল সংখ্যক গাড়ি যাওয়া আসা করে। পদ্মা সেতুর কারণে ভোমরার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব যেমন কমে যাবে তেমনি ভারতের সঙ্গেও দূরত্ব কমে যাবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। স্বভাবতই তখন সবাই ভোমরা বন্দর ব্যবহার করবে। শুধু শিল্পের উন্নয়ন হবে না, সার্বিকভাবে উন্নয়ন হবে, মানুষের মর্যাদা বাড়বে। আমাদের অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য দিনে দিনে ঢাকায় পৌঁছে যাবে। পচনশীল খাদ্যদ্রব্যগুলো আর পচবে না।
ঢাকাপ্রকাশ: পদ্মা সেতু চালু হলে সাতক্ষীরা অঞ্চলে কোন কোন খাতে উন্নয়ন ঘটতে পারেন বলে মনে করেন?
মীর মোস্তাক আহমেদ: বহুমুখী উন্নয়ন হবে, যেটা অবিশ্বাস্য। আমাদের ওই অঞ্চলে ভারী শিল্প খুব বেশি ছিল না। সেতু চালু হলে ভারী শিল্পগুলোর উন্নয়ন ঘটবে। যারা একসময় নদী পারাপারের জন্য ঢাকায় গার্মেন্টস শিল্প করেছে তারা এখন ওই দিকেই করবে। সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। ট্যুরিজম থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারব। এখন বলা হচ্ছে জিডিপি বাড়বে এক দশমিক ২ শতাংশ। বস্তুতপক্ষে জিডিপি বাড়বে ২ শতাংশের বেশি।
ঢাকাপ্রকাশ: পদ্মা সেতু চালু হলে যানবাহন চলাচলেও তো গতি বাড়বে…
মীর মোস্তাক আহমেদ: দেখেন, এ সেতু হচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণ। যানবাহনের যেমন গতি থাকবে, তেমনি চাপও বাড়বে। আমার তো আশঙ্কা সেতুর টোল দেওয়ার সময় যানজট সৃষ্টি হতে পারে। তবে মানুষ যদি সুশৃঙ্খলভাবে টোল দেয় এবং টোল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত কাউন্টার থাকে তাহলে যানজট হবে না।
ঢাকাপ্রকাশ: পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকার সঙ্গে আপনার জেলার দূরত্ব কমবে?
মীর মোস্তাক আহমেদ: অবশ্যই, দূরত্ব অনেক অনেক কমবে। প্রায় ১০০ কিলোমিটারের উপরে কমতে পারে। নড়াইলের উপর দিয়ে একটা সেতু আছে সেটি চালু হলে দূরত্ব আরও কমবে। তখন সাতক্ষীরা থেকে নড়াইলের উপর দিয়ে সরাসরি ঢাকা চলে আসা যাবে। তাই দূরত্ব অনেক কমে যাবে। এখন তো যশোর হয়ে আসতে হয়।
ঢাকাপ্রকাশ: সুন্দরবন ছাড়া আপনার এলাকায় পর্যটনে আর কী কী সম্ভাবনা আছে?
মীর মোস্তাক আহমেদ: আমাদের ওখানে মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত রয়েছে। যেটি এখনও সেভাবে ফোকাস হয়নি। তবে সেতু চালু হলে এ পর্যটন কেন্দ্রের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। এটা যদি পরিপূর্ণ মাত্রায় পরিকল্পিভাবে করা যায় তাহলে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা আছে। পদ্মা সেতু গোটা দেশের চিত্রকে পরিবর্তন করে দিচ্ছে। গোটা দেশের অর্থনীতিকে পরিবর্তন করে দিচ্ছে। গোটা দেশের মান সম্মান ইজ্জতকে বদলে দিচ্ছে।
ঢাকাপ্রকাশ: পদ্মা সেতু তো খুলছে ২৫ জুন। আপনার এলাকার সড়ক অবকাঠামো কি বাড়তি পরিবহনের চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত?
মীর মোস্তাক আহমেদ: আমাদের এলাকার সড়ক অবকাঠামো প্রচুর না থাকলেও যথেষ্ট আছে। আর উন্নয়ন হচ্ছে একটা চলমান প্রসেস। এখন আমি যদি রাত ১২টার সময় মনে করি আমার এলাকায় যাব সেটা যেতে পারব, তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। তা ছাড়া ভোর বেলা জরুরি কাজে ঢাকায় এসে কাজ শেষ করে আবার চলে যেতে পারব।
ঢাকাপ্রকাশ: পদ্মা সেতু চালু হলে কি ঢাকায় মানুষের চাপ কমবে বলে মনে করেন?
মীর মোস্তাক আহমেদ: ভারতের কথা বলি, সবচেয়ে বড় একটা দেশ। সেখানে প্রায় দেড়শ কোটি মানুষ বসবাস করে। ওখানে কিন্তু অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শহরে এসে অফিস করে আবার চলে যায়। পশ্চিম বাংলায় সম্ভব হলে আমাদের দেশেও এটা সম্ভব। আমাদের দেশে আরও বেশি সম্ভব। যে সমস্ত উদ্যোগ চলছে সব কিছু সম্ভব। আমার কাছে মনে হচ্ছে ঢাকার প্রচুর বাড়িঘর খালি হয়ে যাবে, ফাঁকা হয়ে যাবে। যারা ঘর ভাড়া দিয়ে চলে তাদের একটু কষ্ট হতেই পারে। যারা ফরিদুপর, ভাঙা, শরিয়তপুর বা মাদারীপুর থাকেন তারা তো দিনে দিনে এসে কাজ সেরে চলে যেতে পারেন। কেন তারা ঢাকায় থাকবেন? তারা কেন বাড়ি ভাড়া নেবেন। বাড়ি ভাড়াটা সঞ্চয় হতে পারে। আমার ধারণা অনেক বাড়ি ঘর ফাঁকা হয়ে যাবে।
এসএম/এসএন
