শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২৫

বিষাদ বসুধা

শাহবাজ খান সকালে অফিসে এসেই আসিফ আহমেদকে ডেকে পাঠান। আসিফ আহমেদ পড়িমরি করে তার অফিসে গিয়ে হাজির হন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এমডি সাহেব চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ওখানে বৈঠক শেষ করেই অফিসে আসবেন। কাজেই অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষার সময় কতক্ষণ তা কেউ জানে না।

আসিফ আহমেদ অতিথি কক্ষে অপেক্ষা করছেন। আর সেখান থেকে ফোনে ফোনে অফিস করছেন। সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে সম্পাদকীয় বিষয় চূড়ান্ত করার পাশাপাশি উপ-সম্পাদকীয়তে কার লেখা যাবে না যাবে তা ঠিক করে দেয়। তারপর চিফ রিপোর্টার এবং বার্তা সম্পাদকের সঙ্গে সকালের পরিকল্পনা বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা করেন। তাদের যথাসময়ে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ভালো রিপোর্টের আইডিয়াও দিয়েছেন তিনি। এরপর তিনি মোবাইলে বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইনগুলো দেখতে শুরু করেন। কোন পত্রিকায় কি রিপোর্ট এসেছে তা দেখেন। এরমধ্যে দুই ঘণ্টা সময় চলে যায়।
আসিফ আহমেদকে আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে তা নিয়ে ভাবেন। তারপর এমডি সাহেবের পিএসের কাছে গিয়ে জানতে চান, আর কতক্ষণ তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

পিএস হাসি হাসি মুখ করে বলল, সরি স্যার। বুঝতে পারছি না। স্যার না বলা পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতেই হবে। কিছু করার নেই।

দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন আসিফ আহমেদ। আবার অতিথি কক্ষে গিয়ে বসেন তিনি। অপেক্ষা করেন। এ রকম অপেক্ষা তাকে প্রায়ই করতে হয়। আজও করছেন। অপেক্ষা করিয়ে এমডি সাহেবকে বোঝাতে হয়, তিনি মহাব্যস্ত একজন মানুষ। তার সঙ্গে দেখা হওয়া অতো সোজা কথা না! এর নাম নাকি করপোরেট বিজনেস। একটি অফিসের প্রধান তো বটেই; সম্পাদকও। রাষ্ট্র পরিচালনা যারা করেন তারা পর্যন্ত সমীহ করে চলেন। অথচ পত্রিকা মালিকদের কাছে (তবে সবাইকে এক পাল্লায় মাপা যাবে না) সম্পাদকরা অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের মতোই। তারা মনে করেন, আমি নিয়োগকর্তা। আমার সঙ্গে দেখা করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে বাধ্য।

অপেক্ষার সময় যেন কিছুতেই শেষ হয় না। এরমধ্যে আরও এক ঘণ্টা চলে যায়। হঠাৎ পিএস অতিথি কক্ষে এসে আসিফ আহমেদকে উদ্দেশ করে বলে, স্যার আপনাকে কাল সকালে আসতে বলেছেন। আজ এখনো চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে তার বৈঠক চলছে। ওখানেই তিনি লাঞ্চ করবেন। কাজেই আজ আর হচ্ছে না।
ঠিক আছে। আমি আসছি।

আসিফ আহমেদ নিজের অফিসের দিকে রওয়ানা হওয়ার সময় মনে মনে ভাবেন, কি সিদ্ধান্ত হয় কে জানে। এরা শুধু লাভ-লোকসান চিন্তা করে। প্রতিষ্ঠানের সুনামের কথা ভাবে না। কাজেই যে কোনো ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারে। নেয় নেক। কিছুই করার নেই। তাদের প্রতিষ্ঠান তারা ধ্বংস করবে নাকি বাঁচাবে সেটা তারাই ঠিক করুক। আমার দায়িত্ব বলার আমি বলেছি।

আসিফ আহমেদ অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন বিভাগীয় প্রধান এসে হাজির হয়। তারা উদ্বিগ্ন। কি সিদ্ধান্ত হলো তা জানার জন্য তারা উদগ্রীব হয়ে আছে। একজন বলল, ঈদের আগে বেতন হবে তো! আরেকজন বলল, ছাঁটাই কি ঠেকানো যাবে? আরেকজন বলল, বোনাসের কথা তো চিন্তাও করা যায় না; তাই না।

আসিফ আহমেদ পিওন ডেকে সবাইকে চা দিতে বললেন। নিজে চায়ে চুমুক দিলেন। কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইলেন। কীভাবে কথা শুরু করবেন তা নিয়ে ভাবেন। তারপর বললেন, ঈদে আগে তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারলেই আমি খুশি। এখন বোনাস নিয়ে আমি ভাবছি না।
সহকারি সম্পাদক মামুন রশিদ বলল, আপনার ভাবনাই ঠিক আছে। আমরা যে বেতন পাই তা দিয়ে ঠিকমতো মাস চলে না। অথচ টানা তিন মাস বেতন নেই। এভাবে কি চলা যায়! আসিফ আহমেদ বললেন, তোমরা কীভাবে চলবে? আমি নিজেই তো প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে লোন নিয়েছি। তা নাহলে ঠিক মতো চলতে পারতাম না। এরমধ্যে দুই বাচ্চার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। পিওনদের মুখের দিকে তাকানো যায় না। আমি নিজে মাঝেমধ্যে দুইচার পাঁচশ’ টাকা দিয়ে সাহায্য করি। কিন্তু বেতন না পেলে কাজ করবে কি?

চিফ রিপোর্টার একটু তোতলায়ে কথা বলে। সে কথা শুরু করলে শেষ করতে পারে না। তার কথার ফাঁকে অন্যরা ঢুকে পড়ে। সে দুইতিনবার প্রস্তুতি নিয়েও কথা শেষ করতে পারেনি। এবার সে হাত তুলে বসে আছে। আসিফ আহমেদ তাকে বলার সুযোগ দিয়েছে। সে আগেই বলে দিয়েছে, চিফ রিপোর্টার শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কেউ কথা বলবে না।

চিফ রিপোর্টার বলল, ভাই এই সপ্তাহে আমি বেতন না পেলে আর চলতে পারব না। আমার পক্ষে অফিসে আসাও সম্ভব না। ধার করে চলতে চলতে একেবারে শেষ হয়ে গেছি। আর পারছি না। আমার কথা হয়ত একটু বেশি কড়া হয়ে গেছে। এজন্য আমি দুঃখিত।
আসিফ আহমেদ মাথা ঝাঁকালো। তারপর বলল, এই সপ্তাহের মধ্যেই আপনারা যাতে বেতন পান সে চেষ্টা আমি করছি। আপনারা এখন যান। কাজ করেন। কাজ তো আর বন্ধ রাখা যাবে না!

বিভাগীয় প্রধানরা চলে যাওয়ার পর দুপুরের খাবার খেয়ে বিজ্ঞাপন বিভাগের প্রধানকে ডেকে পাঠান আসিফ আহমেদ। তার সঙ্গে বিজ্ঞাপনের কলেকশনের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার পরামর্শ মোতাবেক বেশ কয়েক জায়গায় ফোন করেন। তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। তারপর হিসাব কষে তিন মাসের বেতন টাকা দিতে হলে কত টাকা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী কলেকশন যাতে হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরমধ্যে হিসাব বিভাগীয় প্রধানকে টেলিফোনে তিনি বলে রাখেন যে, ঈদের আগে বেতনের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য। কোথা থেকে কি পরিমাণ টাকা আসছে সে বিষয়েও তিনি সব সময় খোঁজ রাখছেন।

সম্পাদকের কথা হিসাব বিভাগ শুনবে, নাকি শুনবে না সেটা তার এখতিয়ার। এটা একমাত্র পত্রিকা; যার হিসাব বিভাগ সম্পাদকের কথায় চলে না। সম্পাদক একশ’ টাকাও হিসাব বিভাগ থেকে বের করতে পারে না। তার জন্য এমডি সাহেবের সই-সাবত লাগে। যদিও আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্পাদককেই দিতে হয়। প্রতি মাসে পাঁচ কোটি টাকা সম্পাদককেই আয় করতে হয়।

পরদিন সকালে আবার আসিফ আহমেদ দৌড়ালেন এমডি সাহেবের কার্যালয়ে। আবার যথারীতি তাকে অপেক্ষায় থাকতে হলো। তাকে বলা হলো, বসতে হবে। স্যার ব্যস্ত আছেন।
এক দুই ঘণ্টা নয়, তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর একজন দৌড়ে এসে বলল, স্যার আসেন। আপনাকে স্যার ডাকছেন।
আপনাকে তো আগে দেখিনি! আপনি কে?
আমি স্যার পিএস। নতুন যোগ দিয়েছি।
মানে! সবুজ নেই?
না স্যার। ওনার পরিবর্তে আজ আমি যোগ দিয়েছি। আমার নাম সাইদুল।
আচ্ছা আচ্ছা। কাল পর্যন্ত আছেন তো?
সাইদুল হাসলো। তারপর বলল, সবই আল্লাহর ইচ্ছা স্যার।

আসিফ আহমেদ এমডি সাহেবের কক্ষে গেলেন। যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাহবাজ খান বললেন, আপনি চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে বেতনের বিষয়ে মনে হয় কথা বলেছিলেন।
আসিফ আহমেদ মাথা নেড়ে সায় দিলেন।
শাহবাজ খান বললেন, তাকে বলতে গেলেন কেন? উনি কোত্থেকে দেবেন? ওনাকে এ সব বিষয়ে জানানোর দরকার নেই। যাকগে শোনেন, ঈদের আগে আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না। আমি এক মাসের বেতন দেব। বাকিটা আপনারা জোগাড় করেন। আর ঈদের পর ছাঁটাইয়ের তালিকা নিয়ে আসবেন। এতে আর গড়িমসি চলবে না। ঈদের পর ছাঁটাই করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

আসিফ আহমেদ কোনো মন্তব্য করলেন না। শাহবাজ খানের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের অফিসের উদ্দেশে রওয়ানা হন। মনে মনে ভাবেন, ছাঁটাইয়ের ভূত মাথা থেকে গেলোই না!

হিসাব বিভাগ প্রধান মনির হোসেনের ফোন পেয়ে নড়েচড়ে বসলেন আসিফ আহমেদ। তিনি বিস্ময়ের সঙ্গে বললেন, এমডি সাহেব এক মাসের বেতন দেবেন না! কেন? তাহলে কত দেবেন?
মনির হোসেন বলল, উনি দেবেন পঁয়ষট্টি লাখ। সেটাও আপনাদের বিজ্ঞাপন বাবদ পাওনা টাকা। নিজের থেকে এক পয়সাও দেবেন না।
বলো কী! তাহলে উপায়?
স্যার, আপনি চেষ্টা করে দেখেন। ঈদের আগে বেতন ক্লিয়ার করতে না পারলে তো আসলেই সমস্যা স্যার।
হঠাৎ তোমার মুখে এই কথা! তুমি তো এক সময় সুর মিলিয়ে বলতে, সাংবাদিকরা বেতন না হলেও চলতে পারে।
সরি স্যার। ভুল হয়ে গেছে। আমার ভুল ধারনা ছিল।
এজন্যই না জেনেশুনে কোনো মন্তব্য করা উচিত না। যাহোক, ঠিক আছে আগে এমডি সাহেবের কাছ থেকে টাকাটা নাও। আমরা এদিকে দেখছি কি করা যায়।
জি। উনি কাল যেতে বলেছেন।

আসিফ আহমেদ ফোন রেখে স্থির হয়ে বসলেন। তিনি উদ্বিগ্ন। কী করবেন তা নিয়ে ভাবেন। মনে মনে বললেন, এমডি সাহেব এক মাসের টাকাও দেবে না! এটা কেমন ধরনের কথা হলো! আমরা তো আমাদের বিজ্ঞাপনের টাকা চেয়েছি। তার মানে মার্কেট থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা জোগাড় করতে হবে। তা না হলে তিন মাসের বেতন শেষ করা যাবে না।

আসিফ আহমেদ দেরি না করে বিজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান নূরুজ্জামানকে ডাকলেন। সে তখন কালেকশনের কাজে ব্যস্ত। সম্পাদকের ডাক পেয়ে সে ছুটে যায় তার কাছে। সম্পাদকের কাছ থেকে সবকিছু জানার পর সেও বিরক্তির সঙ্গে বলল, আপনি জানেন স্যার, এই সময় হাতেপায়ে ধরে মানুষের কাছ থেকে টাকা আনছি। কেউ অফিসেই যাচ্ছে না। কারো বাসায় গিয়ে, আবার কাউকে কাউকে অফিসে ডেকে এনে চেক লিখিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। মালিকদের কাছ থেকে এইটুকু সাপোর্ট না পেলে আমরা চলব কি করে?

আর বোলো না। আমি আর পারছি না। তুমি দেখ। হিসাব করো। আমার প্রায় তিন কোটি টাকা লাগবে। কার কাছ থেকে কত পাওয়া যাবে। আমার আরও কাকে কাকে ফোন করতে হবে তার তালিকা দাও। যা করার এই সপ্তাহের মধ্যেই করতে হবে। আর কিন্তু সময় নেই!
জি স্যার। আমি আপনাকে তালিকা দিচ্ছি। স্যার, আপনি বেশি চিন্তা করবেন না। আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাদের জন্য সমস্যা।
তুমিই বলো; এতো চাপ নেওয়া যায়?
নূরুজ্জামান বিরক্তির সঙ্গে বলল, এই রকম আজব প্রতিষ্ঠান আমি কোথাও দেখি নাই স্যার।
ঠিক তখনই প্রশাসনের রাকিব সম্পাদকের কক্ষে ঢুকে বলল, স্যার এমডি স্যারের অফিস থেকে উপস্থিতির তালিকা চাচ্ছে। এক ঘণ্টার মধ্যে ওই অফিসে পাঠাতে হবে।
বিস্ময়ের সঙ্গে আসিফ আহমেদ বললেন, মানে!
করোনার সময় কে কে অফিস করেছে তাদের তালিকা চাচ্ছে। যারা অফিস করেনি তাদের বেতন নাকি দেবে না! রাকিব বলল।
রাকিবের কথা শুনে সম্পাদকের মাথায় যেন বাজ পড়ল।

চলবে…
আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>
বিষাদ বসুধা: পর্ব-২৪

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২৩

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২২

বিষাদ বসুধা: পর্ব ২০

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১৯

আরএ/

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী