বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | ৬ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২৪

বিষাদ বসুধা

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যর্থতার কোনো সীমা পরিসীমা নেই। তাকে অপসারণ করুন। এমন দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। শুধু রাজনৈতিক দলই নয়, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও সোচ্চার হয়ে ওঠে। পত্রিকায় প্রায় প্রতিদিনই তিনি হেডলাইন হচ্ছেন। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে অনেক ব্যঙ্গবিদ্রুপ লেখা ছাপা হচ্ছে। তার বিদ্রুপাত্মক কার্টুন ছাপা হচ্ছে। তিনি নিজে এবং তার লোকজন পত্রিকা অফিসে ধর্না দিচ্ছেন। পত্রিকার মালিকদের কাছে ছুটছেন। তাকে নিয়ে যেন লেখালেখি না হয় সেজন্য তিনি ব্যাপক তদবির করছেন। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রতিদিনই পত্রিকার পাতায় তিনি আছেন। আছেন আলোচনার টেবিলে। করোনা ঝড়ের সঙ্গে তার নামটিও জড়িয়ে গেছে। করোনা মানুষের মধ্যে যতই উদ্বেগ সৃষ্টি করছে তিনিও ঠিক তেমন উদ্বেগই ছড়াচ্ছেন।

এর আগে যখন করোনা শুরু হয়, ঠিক তার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সপরিবারে বিদেশে ভ্রমণে চলে যান। সে কী কাণ্ড সেই প্রমোদ ভ্রমণ নিয়েও পত্রিকায় একের পর এক রিপোর্ট ছাপা হয়। সমালোচনার ঝড় ওঠে সর্বত্র। সেই ঝড় গণভবনের উঁচু প্রাচীর ভেদ করে প্রধানমন্ত্রীর গায়েও লাগে। ঝড় থামাতে তিনি তড়িঘরি করে তাকে দেশে ডেকে আনেন। গণভবনে ডেকে নিয়ে ঠিকঠাক মতো কাজ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু যেই লাউ সেই কদু। দেশে ফিরেই তিনি উল্টাপাল্টা বক্তব্য শুরু করেন। তার সেই বক্তব্য নিয়েও পত্রিকা অফিসগুলোতে শোরগোল ওঠে। তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। সবাই বলাবলি করেন, এবার আর রক্ষা নেই। এবার তাকে বিদায় হতেই হবে। কিন্তু না। তিনি বিদায় হননি। তিনি আছেন বহাল তবিয়তে। এর নেপথ্যে রহস্য কী তা খোঁজার চেষ্টা করে মানুষ।

এরমধ্যেই সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক দুর্নীতির খবর। একের পর এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয় পত্রিকায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু শাক দিয়ে কী আর মাছ ঢাকা যায়! একদিক ঢাকলে আরেকদিকে বের হয়ে যায়। এতেও তিনি বিব্রত হন না। লজ্জা পান না। টিভির সামনে বেশ হাসি মুখে কথা বলেন। একে ওকে দোষারোপ করেন। কখনো কখনো উট পাখির মতো মুখ লুকিয়ে থাকেন। ব্যাস। ওতেই যেন সব বিপদ কেটে যায়। আবার মাথা তুলে দাঁড়ান। গা ঝাড়া দিয়ে আবার স্বরূপে আবির্ভূত হন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনে মনে ভাবলেন, গণমাধ্যমকে হাত করতে হবে। তা না হলে বিপদ কাটবে না। ওরা উল্টাপাল্টা রিপোর্ট করে বলেই বিপদ! মালিকদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে হবে। গভীর সম্পর্ক। ওরা হাতে থাকলে আর চিন্তা করতে হবে না। তারা হাতে থাকলে এক অক্ষরও আমার বিরুদ্ধে লিখবে না। কিন্তু কীভাবে কাজটি করা যায়, কাকে দিয়ে করা যায়— ঠিক সেই সময়েই তার কাছে হাজির হন রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ করিম। তাকে দেখেই তিনি বললেন, এই! আপনার সঙ্গে মিডিয়ার সবার খুব খাতির! তো, আমার জন্য একটা কাজ করেন না!

কি করতে হবে সেটা বলেন স্যার। আপনার জন্য আমি সব কিছু করতে পারব। সাহেদ করিম বললেন।
আগে কথা দিন, আমার জন্য আপনি করবেন।
কথা দিলাম স্যার। অবশ্যই করব।
না মানে আপনি বলছিলেন, মিডিয়ার সঙ্গে আপনার খুব খাতির।
জি স্যার। কথা মিথ্যা না। সবার সঙ্গেই আমার গভীর সম্পর্ক।
কীভাবে এতো সম্পর্ক তৈরি করলেন?
স্যার, খরচাপাতি করতে হয়। পার্টি টার্টি দিতে হয়। আমাকে টকশোতে দেখেন না? দেখেন তো!
হুম।
কীভাবে সম্ভব হলো? দেশে এতো মানুষ থাকতে আমাকে কেন ডাকে? নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে?
হ্যাঁ তা ঠিক। কীভাবে সম্ভব হলো বলেন তো!
স্যার, ব্যাপারটা সিক্রেট। হা হা হা! আমার অ্যালবামটা দেখেন। ভালো করে দেখেন। তাহলেই বুঝবেন মিডিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কেমন!

সাহেদ করিমের হাত থেকে অ্যালবামটা নিয়ে মন্ত্রী ছবিগুলোর উপর চোখ রাখেন। ছবির দিকে তাকিয়েই বলেন, বাব্বা! আপনার সঙ্গে তো দেখছি সবাই আছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি, মিডিয়ার মালিক, সম্পাদক! ও মাই গড! কার সঙ্গে নেই! আপনি তো দেখছি বিরাট সেলিব্রেটি! আমি তো দেখছি বিরাট মিস করে ফেলেছি! আপনার সঙ্গে শুধু আমার ছবিই নেই।

সাহেদ করিম মাথা নিচু করে মুসকি মুসকি হাসে। ভাবখানা এমন যেন তার সঙ্গে ছবি তুলে মন্ত্রী সাহেবই ধন্য হয়ে যাবেন। অবশেষে মন্ত্রী সেই কাজটিই করে বসলেন। তিনি খুব আদবের সঙ্গে সাহেদ করিমকে ডাকলেন। আসেন আসেন! আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলি। তুলে ধন্য হই। তা না হলে যে বড় মিস হয়ে যাবে!
সাহেদ করিম সঙ্গে সঙ্গে পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ছবি তুললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। একটা নয়, দুইটা নয়, দশ-বারটা। তারপর সাহেদ মন্ত্রী সাহেবকে উদ্দেশ করে বললেন, স্যার আমার একটা হাসপাতাল আছে।
রিজেন্ট হাসপাতাল তো!
জি স্যার। আপনি জানেন!
জানি জানি। সবই জানি।
বাহ! এতো আমার সৌভাগ্য। স্যার, আমি সিদ্ধান্ত নিছি আমার হাসপাতালে করোনার ফ্রি টেস্ট করাব।

তাই! সে তো ভালো কথা! কবে শুরু করতে চান?
তার জন্য তো একটা চুক্তি করতে হয় স্যার!
করব, অসুবিধা কি? আপনি নিয়ে আসেন। আমি করে দেব।
স্যার, একটু প্রচারট্রচার...
মন্ত্রী সাহেব কিছুক্ষণ থেমে বোঝার চেষ্টা করলেন। তারপর বললেন, ও আচ্ছা। করে দেব। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটা যাতে ভালো করে প্রচার করা হয় সে ব্যবস্থা... আচ্ছা, আমি কি করব? আপনার সঙ্গেই তো সবার ভালো সম্পর্ক! আপনিই বরং সবাইকে ওই দিন ডাকুন।

সেটাই বলতে চাইছি স্যার। আপনি যদি মন্ত্রণালয়ে একটা অনুষ্ঠান করেন! মানে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিই যদি অনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে করেন তাহলেই..
ঠিক আছে ঠিক আছে। তাই করব। আপনি এতোবড় সেলিব্রেটি! আপনার সঙ্গে চুক্তি করতে পারলে তো আমরা ধন্যই হবো!
কী যে বলেন স্যার। আমি ছোটোখাটো মানুষ। সবাই আমাকে ভালোবাসে আর কী! স্যার, আমার টকশোগুলো দেখেছেন তো?
হুম। অল্প কয়েকটা দেখেছি। খুব বেশি দেখিনি।
স্যার, আপনার দোয়ায় আমি সব টিভি চ্যানেলেই দাওয়াত পাই। কোনো কোনো দিন এমনও হয়, দুটি তিনটি টিভিতে যেতে হয়। সময় দেয়াই মুশকিল হয়ে গেছে স্যার।
বাহ! খুব ভালো, খুব ভালো। আপনার সঙ্গে কেন যে আরও আগে পরিচয় হলো না!
অসুবিধা নেই স্যার। ইংরেজিতে একটা কথা আছে না! ওহ, ভুলে গেছি।
বেটার লেট দেন নেভার।
জি স্যার জি স্যার। ওটাই।
আপনাকে আমার জন্য কিছু কাজ করতে হবে। বুঝতে পারছেন?
জি স্যার। অবশ্যই করব স্যার। কি কাজ স্যার? যদি একটু আভাস দেন!
দেখছেন না, মিডিয়াতে আমার বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা লেখে!
বুঝছি বুঝছি স্যার। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না স্যার। আমি দেখবো। আমি সব ঠিক করে দেব।
আরেকটা কথা।
জি স্যার, বলেন স্যার।
টকশো মানুষ খুব দেখে; তাই না?
স্যার, টকশোই তো মানুষ দেখে। আর কিছু দেখে নাকি টিভিতে?
হুম হুম। তো, আমাকেও মাঝেমধ্যে ডাকতে বলেন না!
জি স্যার, বলব স্যার। আপনার সঙ্গে তো আমার সে রকম আলাপ-পরিচয় ছিল না! এখন আর সমস্যা নাই। আমি সব দেখব স্যার। আপনার ভাবনা আমি নিয়ে নিলাম স্যার।
ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ স্যার, অনেক ধন্যবাদ। আমি তাহলে আসি স্যার?
আসুন।
সাহেদ করিম চলে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্থির হয়ে বসলেন। তিনি মনে মনে ভাবেন, একটা হাসপাতালের মালিক! তার কত ক্ষমতা! সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক! ভাবা যায়! নিশ্চয়ই লোকটার অনেক টাকা আছে! এই দেশে টাকা থাকলে কি না হয়! আমি ঘোড়ার ডিমের মন্ত্রী! আমাকে কেউ গোনায় ধরে না। উল্টো মানুষের গালমন্দ! মিডিয়াতে উল্টাপাল্টা রিপোর্ট! মন্ত্রী হয়ে কি লাভ হলো! না, কিছু ভালো লাগে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কয়েকদিন ধরে টিভিগুলোর দিকে নজর রাখতে শুরু করলেন। বিশেষ করে টকশোগুলো দেখছিলেন। টিভিগুলোতে সাহেদ করিমের সরব উপস্থিতি দেখে বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, দেশে কী আর কোনো লোক নেই! একজনই আছে। সাহেদ করিম। আর সে যেভাবে কথাবার্তা বলছে তাতে তো মনে হয় দেশে সে-ই একমাত্র বোদ্ধা লোক। আর সবাই চুনোপুটি। যাকগে, যেই দেশে যেই ভাও। সাহেদ করিমকে হাতে রাখলে যদি আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা বন্ধ হয় তাহলে তাই করতে হবে! আর তার সঙ্গে যাদের ছবি দেখলাম! তাতে সন্দেহ করারও কোনো সুযোগ নেই। সবাই যখন আছে। আমি আর বাদ যাবো কেন।

সাহেদ করিমের কথা ভাবতে ভাবতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করলেন। ফোনে তাকে বললেন, কালাম সাহেব সাহেদ করিমকে তো চেনেন! রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি। সে আমার কাছে এসেছিল। তার হাসপাতাল থেকে করোনার ফ্রি টেস্ট করাতে চায়। আমাদের তো কোনো অসুবিধা নেই। বরং ভালো। আপনি তাকে ডেকে চুক্তিটা একটু দেখেন। তারপর একদিন অনুষ্ঠান করে চুক্তি সই করে ফেলবো।

মন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে ডিজি সাহেব তড়িঘরি করে সাহেদ করিমকে ডেকে চুক্তির খসড়া নিয়ে বসলেন। ভালো করে দেখলেন। তারপর মন্ত্রী সাহেবের সঙ্গে কথা বলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করলেন। মন্ত্রণালয়ে সবার উপস্থিতিতে সাহেদ করিম এবং মহাপরিচালক চুক্তিতে সই করলেন। সবাইকে নিয়ে ছবি তুললেন। সেই ছবি গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হলো। লোকজন জানতে পেরে করোনা পরীক্ষার জন্য ছুটলো রিজেন্ট হাসপাতালে। এই হাসপাতালটি সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে শুধু করোনা পরীক্ষাই করছে। মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক সবাই করোনা টেস্টের জন্য লোক পাঠাচ্ছেন।

সাহেদ করিম তদবিরের ধরন বুঝে সেগুলো আগে-পরে করে দিচ্ছেন। এইভাবে বেশ কিছুদিন চলে যায়। কিন্তু রিজেন্ট হাসপাতালের টেস্ট নিয়ে কারো কারো সন্দেহ হয়। সন্দেহ হওয়ার কারণও অবশ্য আছে। টেস্টের পরেও দেখা গেছে, করোনার লক্ষণগুলো তাদের শরীরে বিদ্যমান। এদের মধ্যে কেউ কেউ করোনার লক্ষণ নিয়ে মারাও গেছে। ফলে সন্দেহপ্রবণ অনেকেই দ্বিতীয়বার সরকারি ব্যবস্থাপনায় করোনা পরীক্ষা করিয়ে দেখেছেন তারা করোনায় আক্রান্ত।

রিজেন্ট হাসপাতালের ভুয়া পরীক্ষা ফাঁস হয়ে যায়। লোকমুখে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। লেখালেখি শুরু হয় ফেসবুকে। এ সব লেখালেখির খবর চলে যায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কানে। তিনি শুরুতে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তিনি ভেবেছিলেন, কিছু লোক ঈষান্বিত হয়ে এ সব করছে। কিন্তু সবকিছু জেনে মন্ত্রী বিস্ময়ের সঙ্গে বলেন, সর্বনাশ!

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২৩

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২২

বিষাদ বসুধা: পর্ব ২০

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১৯

আরএ/

Header Ad
Header Ad

অবশেষে সরিয়ে দেওয়া হলো মাউশির বিতর্কিত ডিজিকে

অধ্যাপক ড. এহতেসাম উল হক ও মাউশির লোগো। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষক নেতাদের আন্দোলন ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) পদ থেকে অধ্যাপক ড. এহতেসাম উল হককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি শিক্ষা ক্যাডারের ১৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা এবং পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি তার বিতর্কিত কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে মাউশিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, নতুন মহাপরিচালক হিসেবে অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানের এই দায়িত্ব কেবল সাময়িক, যা পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না। পরবর্তীতে নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে মহাপরিচালক নিয়োগ হলে এই চলতি দায়িত্ব বাতিল হয়ে যাবে।

অধ্যাপক এহতেসাম উল হকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তিনি বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তথ্য তিনি পুলিশের কাছে সরবরাহ করেছিলেন।

২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তার অপসারণের দাবিতে কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের জুন মাসে বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে যোগদানের পর থেকে তিনি নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যান। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, অধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন এবং আন্দোলনে অসহযোগিতা করতেন। এমনকি কলেজের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন, যা তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও ব্যবহার করতেন। তিনি কলেজের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিজের বাসায় গ্রিল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ করিয়েছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে চাকরি খেয়ে ফেলার হুমকি দিতেন এবং বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) খারাপ করে দেওয়ার ভয় দেখাতেন। এছাড়া, চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন না দিয়ে বিদায় করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডিজি পদ থেকে এহতেসাম উল হককে অপসারণের খবরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একজন বিতর্কিত ব্যক্তি শিক্ষাখাতের এত বড় দায়িত্বে থাকতে পারেন না। তার অপসারণের মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতি সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।

Header Ad
Header Ad

২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ৩৩ ডিসি ওএসডি

ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালের বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৩৩ জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত ছয়টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিতর্কিত নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে এই কর্মকর্তাদের ওএসডি করা হয়েছে। এর আগে একই কারণে আরও ১২ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছিল।

ওএসডি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের পরিচালক (যুগ্মসচিব) কবীর মাহমুদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. মাহমুদুল আলম, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল ফজল মীর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সদস্য-পরিচালক (যুগ্মসচিব) মঈনউল ইসলাম, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্মসচিব) মো. ওয়াহিদুজ্জামান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) এ কে এম মামুনুর রশিদ এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) সদস্য (যুগ্মসচিব) ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম।

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কাজী আবু তাহের, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সদস্য (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (সংযুক্ত) আনার কলি মাহবুব, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য (যুগ্মসচিব) সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সাবিনা ইয়াসমিন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আতাউল গনি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (সংযুক্ত) আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন।

এছাড়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এ জেড এম নুরুল হক, বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) এস এম আজিয়র রহমান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সচিব (যুগ্ম-সচিব) মো. মাসুদ আলম সিদ্দিক এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব গোপাল চন্দ্র দাশসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ওই সময়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এবার সেই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে ওএসডি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।

Header Ad
Header Ad

ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি: চলমান যুদ্ধের সূচনা ইউক্রেনই করেছিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকেই দায়ী করে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনীতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প এবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধের সূচনা ইউক্রেনই করেছিল।

মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনে একটি নতুন নির্বাচন হওয়া উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এটি জেলেনস্কিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনারই ইঙ্গিত।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নির্বাচন হয়নি এবং সেখানে সামরিক আইন চলছে। তার দাবি, জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা মাত্র চার শতাংশে নেমে গেছে, আর দেশটি ধ্বংসের পথে। যদিও যুদ্ধকালীন সময়ে নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ পাওয়া কঠিন, তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা ট্রাম্পের দাবির মতো এতটা কমেনি।

এছাড়া, ইউক্রেনের নির্বাচন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, "তারা কি জনগণের মতামত নিয়েছে? তারা আলোচনার টেবিলে বসতে চায়, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কোনো নির্বাচন হয়নি।"

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনে ২০২৪ সালের এপ্রিলে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কৌতুকপূর্ণ, কারণ তিনি নিজেই ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইউক্রেন চাইলে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারতো এবং তাদের উচিত ছিল রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর অর্থ হলো—ইউক্রেনকে হয় রাশিয়ার মিত্র সরকার গঠনের প্রস্তাবে রাজি হতে হতো, নয়তো প্রতিরোধ ছেড়ে দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হতো।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইউক্রেনকে সমর্থন না দিয়ে বরং রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বিতর্কিত শান্তিচুক্তির দিকে এগোতে পারেন, যা পুতিনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক জয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র: সিএনএন

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অবশেষে সরিয়ে দেওয়া হলো মাউশির বিতর্কিত ডিজিকে
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ৩৩ ডিসি ওএসডি
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি: চলমান যুদ্ধের সূচনা ইউক্রেনই করেছিল
ডিবির সাবেক প্রধান হারুনের ১০০ বিঘা জমি, ৫ ভবন ও ২ ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ
দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন রেখা গুপ্তা, বিজেপির সিদ্ধান্তে চমক
একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতির শহীদ মিনারে না যাওয়ার আহ্বান
নামাজি জীবনসঙ্গী খুঁজছেন আইশা খান
গাইবান্ধায় গাঁজাসহ আটক এএসআইকে কারাগারে প্রেরণ
উপদেষ্টাদের মিটিংয়ে কোন প্রটোকলে গিয়েছিলেন হাসনাত-পাটোয়ারী: ছাত্রদল সেক্রেটারি
সরকারে থেকে ‘নতুন দল’ গঠন করলে মেনে নেওয়া হবে না: মির্জা ফখরুল
হোস্টিং সামিট ২০২৫ অনুষ্ঠিত
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩২১ রানের বড় লক্ষ্য দিলো নিউজিল্যান্ড
বৈষম্যবিরোধী নামধারী শীর্ষ নেতার নির্দেশে কুয়েটে ছাত্রদলের ওপর হামলা: রাকিব
যান্ত্রিক ত্রুটিতে আবারও বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
কুবিতে ছাত্র সংসদের দাবিতে মানববন্ধন ও সন্ত্রাসবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল
২২০ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদন
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ২ দিনব্যাপি খামারি প্রশিক্ষণ
সবার সাত দিন কারাগারে থাকা উচিত: আদালতে পলক
বিপ্লবী সরকারের ডাক থেকে সরে এলেন কাফি  
নাঈম ভাই হেনা কোথায়?: ‘তুই অনেক দেরি করে ফেলেছিস বাপ্পা’