শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২৩

বিষাদ বসুধা

কথায় বলে, অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর। আলী আকবর পুত্রকে হারিয়ে একেবারে পাথর হয়ে গেছেন। তিনি কাঁদতেও পারছেন না। তার কান্না পাচ্ছে না। কেমন যেন একটা অস্বাভাবিক ভঙ্গি করে মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকেন। কখনো কখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন বলেন। তিনি বাড়িতে গিয়ে যখন পা রাখলেন তখন সকাল নটা। তাকে দেখে বাড়ির সবাই এগিয়ে এসেছে। সবাই তার কাছে আরেফিনের কথা জানতে চাচ্ছে। আরেফিনের কী খবর? কোথায় আছে? কেমন আছে? কবে দেশে আসবে সে?
আরেফিন যে কোনোদিনই আর দেশে ফিরবে না; সেকথা কী তারা কেউ জানে! জানতে কী এ রকম প্রশ্ন কেউ করত? ঘাতক করোনায় আরেফিনের জীবন বিনাশ করেছে। আরেফিনকে চিরদিনের জন্য কেড়ে নিয়েছে। সেই কথা যে আলী আকবর মুখ ফুটে বলবেন তা পারছেন না। তিনি তার স্ত্রী জমিলা খাতুনের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন। তার চোখের দৃষ্টি দেখেই হয়ত আঁচ করতে পারলেন। বাড়ির অন্যলোকগুলো কিছু বোঝার আগেই মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন জমিলা খাতুন। সবাই দৌড়ে গেল তাকে ধরার জন্য। আলী আকবরের চোখের সামনে তার স্ত্রী পড়ে গেলেও তিনি ধরতে গেলেন না। তিনি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন। বিদ্যুতায়িত হলে মানুষের যেমন অবস্থা হয় আলী আকবরের সেই অবস্থা হয়েছে। তাকে কেউ ছুঁয়ে দিলেও হয়তো তিনি পড়ে যাবেন।

আলী আকবরের ছোট ছেলে আক্কাস আলী মেজছেলে আবদুল আলী চিৎকার দিয়ে মা’র কাছে যায়। জমিলা খাতুন ততক্ষণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। বাড়ির মহিলারা তাকে ধরে মাটিতে পাটি বিছিয়ে শুইয়ে দিয়েছে। একজন জগে করে পানি এনে জমিলা খাতুনের চোখেমুখে ছিটিয়ে দিচ্ছে। আরেকজন তালপাখা দিয়ে বাতাস করছে। আবদুল আলী আর আক্কাস আলী কান্নাকাটি করছে। তারা তখনো বোঝেনি, তাদের বড় ভাই আর পৃথিবীতে নেই। কোনোদিন তারা তাকে দেখতে পাবে না।
আবদুল আলী কাঁদতে কাঁদতে বলে, কী হয়েছে মা? চোখ খোল মা! চোখ খোল!
আক্কাস আলীও কাঁদে। অঝোরধারায় তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। মা’র জন্য তার খুব কষ্ট হচ্ছে। বাড়ির পুরুষ লোকগুলো আলী আকবরকে ধরে খাটের ওপর বসিয়েছেন। একজন দৌড়ে এসে তার মাথায় তেল-পানি দিতে দিতে বলল, ইহ! মাথাডা কী গরম! মনে হয় আগুন বাইর হইতেছে!
আলী আকবর আর বসে থাকতে পারলেন না। তাকে বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই জমিলা খাতুনের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি চোখ মেলে দেখেন বাড়ির সব মহিলা তার চারপাশে ঘিরে বসে আছে। তিনি তাদের কাছে জানতে চান, আমার বড় পোলাডা কই? আমার আরেফিন?
মহিলারা একজন আরেকজনের মুখ চাওয়া চাওয়ি করেন। হঠাৎ আরেফিনের কথা জিজ্ঞাসা করাতে তারা ঠিক বুঝতে পারছেন না, কী বলা উচিত। একজন আরেকজনকে বললেন, আরেফিন কী বাড়িতে আইছে?
আরেকজন ঠোট উল্টে জবাব দেন। কই, দেহি নাই তো!
জমিলা খাতুন বললেন, আরেফিনের বাপরে জিজ্ঞাসা কর না, আমার আরেফিন কই?
চাচা মিয়া চাচা মিয়া বলতে বলতে জরিনা বেগম আলী আকবরের কাছে যায়। গিয়ে দেখে তিনিও বিছানায় শুয়ে আছেন। বাড়ির লোকরা তাকে ঘিরে বসে আছেন। জরিনা বেগম তাদের কাছে জানতে চায়, চাচা মিয়ার কী হইছে?
কী যে হইল বুঝতে পারতেছি না। করিম মুন্সি বলল।
এরমধ্যেই আলী আকবর হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন, আমার আরেফিন নাইগো, আরেফিন বাঁইচা নাই! করোনায় আরেফিনরে নিয়া গেছে!
আরেফিনের মৃত্যুর খবর শুনে বাড়ির লোকরা একেবারে থ। নির্বাক দৃষ্টিতে তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা নিজেদের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। সবার মনে এক প্রশ্ন, আমরা ঠিক শুনছি তো! নাকি আরেফিনের বাবা পাগল টাগল হইয়া গেল! এমন আবোল তাবোল বকতেছে কেন?
আরেফিনের মা বাবা ভাই-বোনের সঙ্গে বাড়ির লোকরাও কাঁদছে। কে কাকে দেবে সান্ত্বনা। পুরো বাড়িতে শুধু কান্নার রোল। সেই কান্না শুনে আশপাশের মানুষও জড়ো হয় আরেফিনদের বাড়িতে। তারাও আরেফিনের খবর শুনে আপসোস করে। প্রতিবেশি জালালউদ্দিন দুঃখ করে বলে, বড় ভালো ছেলে ছিল আরেফিন। সব সময় হাসি দিয়া কতা কইত। আজরাইল তারে টাইন্যা নিল চীনে? দুনিয়াতে ভালো মানুষ থাকতে পারে না গো! গ্রামে কত খারাপ মানুষ, তাগোরে চোহে দেহে না। গ্রামে এতো অন্যায় অত্যাচার হইতাছে; অথচ গ্রামে করোনা নাই। করোনা সব শহরে ঘুরতাছে।
নাসির উদ্দিন তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলল, ঠিকই কইছ। আমাগো গ্রামে এহন পর্যন্ত একটাও করোনা রুগী পাওয়া যায় নাই। এহন আবার নতুন খবর বাইর হইছে। চীনই নাকি এই ভাইরাস বানাইয়া ছাইড়া দিছে।
তাই নাহি? এইসব কতা তুমি কই পাইলা নাসির ভাই? আবদুল করিম বলল।
আমার পোলায় কইল। পত্রিকায় নাহি দিছে? হারা দুনিয়ায় দহল চীনের হাতে যাইব বুঝলা? এই দুনিয়ায় যার হাতে টাকা থাকব, সে-ই তো সব! চীন এহন সবার সেরা। আমেরিকা, ইউরোপ-সবাই নাকি চীনের কাছে ধরা।
আরে তুমি তো দেহি সব খবরই রাহো! আবদুল করিম বলল।
নাসির উদ্দিন গর্বের সঙ্গে বলল, আমি কী এসব জানি নাহি। আমার পোলায় সব খবর রাহে। হাতে একখান মোবাইল। হারাদিন মোবাইল টেপে। আমি কইলাম, কিরে আফসার? তোর কী কোনো পড়ালেহা নাই। হারাদিন মোবাইল টেপোস? ও কইল, মোবাইলে পত্রিকা পড়ে! সারা দুনিয়ার খবর নাহি মোবাইলে পাওয়া যায়! কও দেহি কী কাণ্ড! আমারে কয়েকটা খবর পইড়াও হুনাইলো। না হুনাইলে তো বিশ্বাসও করতাম না!
আবদুল করিম বলল, আশ্চর্য কতা কইলা নাসির ভাই। কী মোবাইল কও তো? আমারও তো মোবাইল আছে। মোবাইলে পত্রিকা পড়া যায় তা তো কহনো হুনি নাই!
আমাগো বাড়ি লও। দেখবা হানে। নাসির উদ্দিন বলল।
আবদুল করিম নাসির উদ্দিনের বাড়ির দিকে হাঁটা দেয়। অন্যরা যে যার বাড়ির দিকে চলে যায়। ধীরে ধীরে আলী আকবর মাথা তোলেন। বিছানা থেকে উঠে বসেন। শোকে মুহ্যমান পরিবেশটা আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এভাবেই আপনজন হারানোর বেদনা ভুলে যায় মানুষ। কিংবা ভুলে যেতে বাধ্য হয়। শোকের পাটি ভাঁজ করে পাশে রেখে কাজের পেছনে ছুটতে হয় তাকে। বেঁচে থাকার তাগিদ যে অনেক বড়। সেজন্যই হয়তো মানুষ সব ভুলে যেতে পারে।

ঘরের মেঝেতে বসে আছেন জমিলা খাতুন। তার হাতে একটা অ্যালবাম। অ্যালবামে বড় ছেলে ও ছেলের বউ’র ছবি। তিনি একটা একটা করে অ্যালবামের পাতা উল্টান আর ছবি দেখেন। তার পাশে বসে ছোট ছেলে আক্কাসও ছবি দেখে। ছবি দেখে মাকে এটা ওটা জিজ্ঞাসা করে। ছেলের সব প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না জমিলা খাতুন। তিনি কিছুক্ষণ পরপর আঁচল দিয়ে চোখের পানি মোছেন। আক্কাস তার মা’র দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আবার ছবির দিকে তাকায়। ছবি দেখে আর মাকে প্রশ্ন করে। এরমধ্যেই বাইরে থেকে ঘরে আসেন আলী আকবর। তিনি জলচকি টেনে জমিলা খাতুনের কাছে গিয়ে বসেন। জমিলা খাতুন তাকে এক নজর দেখে আবার অ্যালবামে চোখ রাখেন। আলী আকবর কোনো রকম ভনিতা ছাড়াই বলতে শুরু করেন। বুঝলা আরেফিনের মা, পোলার বউরে তো তুমি দেহ নাই! আস্ত একটা পরী! আল্লায় মিলাইছিল! এতো সোন্দর মাইয়া আমি কোনো দিন দেহি নাই। আমার কাছে মনে হইতেছে স্বপ্ন। আমি স্বপ্ন দেখতাছি! আমি বিমান বন্দরের সামনে কান্নাকাটি করতে আছিলাম। বউমারে তো আমি চিনি না! আমারে আইয়া কইল, আপনে কানতেছেন কেন? আমি কইলাম, চীন থেকে আইজ আমার পোলার লাশ আইব। আমি আমার পোলার মুখটা একটু দেখমু। তারপর জিগাইল, আপনের পোলা কেডা?
আমি আরেফিনের নাম কইলাম। সঙ্গে সঙ্গে কইল, আপনে আমার গাড়িতে ওডেন। আমি গিয়া গাড়িতে উঠলাম। ওরে বাপরে! ওই রহম গাড়িতে আমি জীবনেও উডি নাই। সিডে বইলেই ঘুম আইয়া পড়ে। কিছুক্ষণ পর বউমা আমারে তার অফিসে লইয়া গেলো। ওরে বাবা! অফিস না যেন স্বর্গখানা! তারপর আমারে বইতে কইল। ঘ্রাণ আলা চা খাওইয়াল। বিস্কুট খাওইয়াল। তারপর দুই লাখ টাকা দিয়া কইল। ছেলেরে তো আর ফেরত পাইবেন না। ধইরা নেন আমিই আপনার ছেলে। আমার দুই চোখ দিয়া দরদর কইরা পানি বাইর হইতে লাগল। বউমা চোখ মুইছা দিয়া কইল, মন খারাপ কইরেন না। বাড়ির ঠিকানাডা দিয়া যান। আমি আপনাগো লাইগ্যা মাসে মাসে টাকা পাডাইয়া দিমু।
আবার কাঁদলেন আলী আকবর। তিনি চোখে চোখে বউমাকে দেখছেন। আর মনে মনে ভাবছেন, বউমা তার চোখের পানি মুছে দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে। এই সান্ত্বনাটুকুই যেন তার বেঁচে থাকার অবলম্বন।

চলবে...

 

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২২

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২১

বিষাদ বসুধা: পর্ব ২০

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১৯

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী