শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২১

বিষাদ বসুধা

মোহিনী আজ আগেভাগেই ঘুম থেকে উঠেছেন। সকাল সকাল তিনি বিমানবন্দরে যাবেন। আরেফিনের লাশ আসবে। সেই লাশ দেখার কোনো উপায় নেই। পুরোপুরি প্যাক করা থাকবে। সেখান থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় লাশ দাফন হবে মাতুয়াইলে। বিমানবন্দরে মোহিনীর কিছুই করার নেই। তারপরও তিনি যাবেন। যাবেন তার প্রতি সম্মান জানাতে। একজন স্বামী, একজন বন্ধু, একজন প্রেমিক এবং একজন সুহৃদ হিসেবে আরেফিনই ছিলেন তার একমাত্র সঙ্গী। তাকে নিঃসঙ্গ করে দিয়ে তিনি অসময়ে চলে গেছেন। আরেফিনকে ছেড়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন এটা সত্য। সেটা ছিল তার অভিমান; কেবলই অভিমান! অভিমান করেই তিনি চলে গিয়েছিলেন। নিশ্চয়ই সেটা তার শেষ যাওয়া ছিল না। আরেফিন হাত ধরে বললেই হয়তো তিনি ফিরে আসতেন। সেটাই মোহিনী মনে মনে চেয়েছিলেন। অথচ আরেফিনই চিরদিনের জন্য ওকে ছেড়ে চলে গেলেন!
মোহিনী যেদিকে তাকায় আরেফিনের স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভাসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন থেকে দাম্পত্য জীবন; কত কিছুই মনে পড়ছে আজ। ভালো স্মৃতিগুলোই আজ তার মনটাকে আচ্ছন্ন করে রাখছে। তিনি তৈরি হতে গিয়ে বার বার হোঁচট খাচ্ছেন। সারাক্ষণই মনে হচ্ছে, আরেফিন তার আশপাশেই আছে। তাকে ঘিরে রেখেছে। তৈরি হওয়ার সুযোগটুকুও দিচ্ছে না। আরেফিনের সঙ্গে স্মৃতিকাতর সময় কাটাতে কাটাতেই হঠাৎ তার মনে হয়; প্রকৃতি তাকে সুবিচার করেনি। তিনি মনে মনে প্রকৃতিকে উদ্দেশ করে বলেন, হে প্রকৃতি! এ তোমার কেমন বিচার! আমি মানুষকে এত উপকার করি! এতভাবে সাহায্য সহযোগিতা করি! তারপরও তুমি আমাকে শাস্তি দিচ্ছ! কারোনাকালে আমি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমার পুরো অফিস মানুষকে সহযোগিতার জন্য কাজ করছে।

মোহিনী আবার বলেন, এসব আমি কী ভাবছি? প্রকৃতি যা করছে তা নিশ্চয়ই ভালোর জন্য করেছে। আর আমি মানুষকে যে সহায়তা করছি সেজন্য কি প্রকৃতির কাছে পুরস্কার চাইতে হবে! নিশ্চয়ই প্রকৃতি তার সর্বোচ্চ ভালোটা করবে। নিশ্চয়ই করবে।
রহিমাবিবি হন্তদন্ত হয়ে মোহিনীর কক্ষে এসে বলে, একি আপামনি, আপনি চা খান নাই? চা তো ঠাণ্ডা হইয়া গেল!
ও তুই চা দিয়েছিলি? আমি খেয়াল করিনি। মোহিনী বললেন।
আপামনি আপনার কি হইছে কন তো? আপনার মনডা কি খারাপ?
মোহিনী কোনো কথা বললেন না। তিনি আরেফিনের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। রহিমাবিবি মোহিনীর কোনো জবাব না পেয়ে আবারও বলে, আপনি না কই যাইবেন আপামনি?

মোহিনী এবারও কোনো কথা বললেন না। তিনি সাজঘরে গিয়ে তৈরি হতে লাগলেন। কাপ হাতে নিয়ে চলে যাওয়ার সময় রহিমাবিবি আবারও বলল, আপামনি চা কি দেব?
সাজঘর থেকেই মোহিনী বললেন, না। কোনো দরকার নেই। তুই একটা কাজ কর। আমার ড্রাইভারকে তৈরি হতে বল। আমি এখনই বের হব।
জি আপামনি।
রহিমাবিবি চলে গেল। সে বাইরে বের হয়ে ড্রাইভারকে গাড়ি নিয়ে প্রস্তুত থাকার জন্য বলল। এরমধ্যে মোহিনীও তৈরি হয়ে নিজের কক্ষ থেকে বের হয়ে আনোয়ারা বেগমের কাছে যান। তাকে আরেফিনের লাশের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন তিনি। কিন্তু মোহিনী কিছুতেই নিজের মনকে বুঝাতে পারেন না। তিনি কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, বিধাতা এমন একটা শাস্তি কেন আমাকে দিল বলতে পার? মৃত্যু যখন কপালেই ছিল, তখন স্বাভাবিক মৃত্যু কেন হলো না। এর আগে তো কয়েকবার হাসপাতালে ছিল। তখনই না হয় মারা যেত! করোনায় আক্রান্ত হয়েই মারা যেতে হবে! আর সেজন্য শেষ বিদায়ের দিনে তার চেহারাটাও দেখতে পাব না?

আনোয়ারা বেগম নিজের আবেগকে সামলে নিয়ে বললেন, কী করবি মা। সবই কপাল!
মোহিনী কোনো কথা বললেন না। তিনি হন হন করে বাইরের দিকে পা বাড়ালেন। এ সময় আনোয়ারা বেগম জানতে চাইলেন, কিরে মা, কই যাস?
বিমানবন্দর যেতে হবে মা। আরেফিনের লাশ আসবে। চেহারা তো আর দেখতে পাব না। দূর থেকে বিদায় জানাব, চিরদিনের জন্য বিদায়!
আমিও যাই। নিবি আমাকে?
কী দরকার মা। থাক। করোনার মধ্যে তোমার বের হওয়ার দরকার নেই।
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আনোয়ারা বেগম বললেন, আচ্ছা!
মোহিনী বাসা থেকে বের হয়ে বিমানবন্দরের দিকে রওয়ানা হয়। গাড়িতে বসে সে মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে তারিখটা ভালো করে দেখল। দোসরা জুন। বুধবার। দুই হাজার বিশ সাল। তার জীবনের সবচেয়ে খারাপ একটি দিন। তার জীবনসঙ্গীর চলে যাওয়ার দিন। এত দুঃখের, এত কষ্টের, এত বেদনার দিন তার আর কখনো আসেনি। এত কষ্ট তিনি আগে কখনো পাননি। আজ তার মনে হচ্ছে, সবকিছুই বুঝি শেষ হয়ে গেল। প্রকৃতির চরম এক শাস্তি তাকে মাথা পেতে নিতে হলো। তিনি জানেন না, কেন এত বড় শাস্তি তার জীবনে নেমে এসেছে। কার ভুলে তাকে শাস্তি পেতে হচ্ছে? তিনি কি নিজে কোনো ভুল করেছেন? তিনি কি জীবনে কারও ক্ষতি করেছেন? কারও ক্ষতির চিন্তা করেছেন? মনে করার চেষ্টা করেন মোহিনী।

মোহিনী কিছুতেই নিজের ভুলের কথা মনে করতে পারছেন না। তিনি সব সময়ই অন্যের ভালোর চিন্তা করেছেন। অন্যকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। কোনোদিন কারও ক্ষতির চিন্তা করেননি। ছোটবেলা থেকেই তিনি পরোপকারী। নিজের ক্ষতি করেও অন্যকে কীভাবে সহায়তা করা যায় তা ভেবেছেন। অথচ আজ তাকে কষ্ট পেতে হচ্ছে। তাহলে কি তার পরিবারের কেউ ভুল করেছে? সেই শাস্তি তাকে পেতে হচ্ছে? তার দাদা অত্যন্ত দানশীল ব্যক্তি ছিলেন। তার বাবাও সেই অভ্যাস পেয়েছে। তার পরিবারে এমন কেউ নেই যে অন্যের ক্ষতি করেছে। অন্যের টাকা পয়সা মেরে খেয়েছে। অন্যকে ঠকিয়েছে।

কষ্টের মধ্যেই মোহিনী সান্ত্বনা খোঁজেন। সৃষ্টিকর্তা যা করেন তা নাকি মঙ্গলের জন্যই করেন। এর মধ্যে কী মঙ্গল আছে তার অপেক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া আর উপায় কী!

মোহিনীকে বহনকারী গাড়িটি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমান বন্দরে পৌছবে। মোহিনী মোবাইল হাতে নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই কর্মকর্তার নম্বরে ফোন দিল। দুতিন বার রিং বাজার পরই লোকটা ফোন ধরল। হ্যালো।

মোহিনী সালাম জানিয়ে বললেন, আমি মোহিনী বলছি। আপনি কি বিমানবন্দরে এসেছেন? আমিও ঠিক কাছাকাছি। কোথায় আসব? ভিআইপি লাউঞ্জে? আচ্ছা আচ্ছা। আমি আর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসছি। অনেক ধন্যবাদ ভাই।
ফোনে কথা বলা শেষ করে মোহিনী ড্রাইভারকে বললেন, ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে চলো।

ড্রাইভার গাড়ি ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে গেল। লাউঞ্জের গেটেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অপেক্ষায় ছিল। মোহিনীকে দেখে সে চিনতে পারল। তার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল, আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আছি।
ও আচ্ছা আচ্ছা। মোহিনী বললেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহিনীকে ভেতরে নিয়ে যেতে যেতে বলল, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমান অবতরণ করবে। আমাদের আর অল্প কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। আপনি চা খাবেন? কিংবা কফি?
না থাক। মোহিনী বললেন।
অসুবিধা নেই। খেতে পারেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বললেন।
না থাক। পরে এক সময় আপনার অফিসে গিয়ে খাব।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হাসি ছড়িয়ে দিয়ে বললেন, মোস্ট ওয়েলকাম। ইউ আর মোস্ট ওয়েলকাম।
মোহিনী মাথা নেড়ে সায় দিলেন। আর কোনো কথা বললেন না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বললেন, আরেকটা কথা, আপনি বোধহয় জানেন, লাশ প্যাকিং অবস্থায় থাকবে। খোলা যাবে না। এখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে পাগলায় নিয়ে যাওয়া হবে।

মোহিনী এবারও মাথা নেড়ে সায় দিলেন। কোনো কথা বললেন না। হঠাৎ তার মনটা ভারী হয়ে উঠল। কিছুক্ষণের জন্য সবকিছু যেন থেমে গেল। সবাই নীরব। পিনপতন নীরবতা ভিআইপি লাউঞ্জে। মোবাইল ফোনের রিং বাজার শব্দে সেই নীরবতা ভাঙে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ছুটে যায় দরজার সামনে। তিনি মোহিনীকেও ডাকেন। লাশ এসেছে। আপনি আসুন।

মোহিনী সামনের দিকে পা বাড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে এগিয়ে যায় দরজার সামনে। বাক্সে ভরা লাশ। শুধু বাক্স দেখে মনকে সান্ত্বনা দেবে, ওর ভেতরেই আরেফিনের লাশ আছে। ব্যাস। ওইটুকুই।

মোহিনী গাড়িতে বসে আছেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি বাসায় যাচ্ছেন। ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে সামনের দিকটায় আসতেই দেখেন রাস্তার পাশে অসংখ্য মানুষের ভিড়। ভিড়ের কাছাকাছি আসতেই তিনি কান্নার আওয়াজ পান। এক বয়স্ক মতো লোক চিৎকার দিয়ে কাঁদছেন। তার বেশভূষা অতি সাধারণ। চুল দাড়ি পাকা। মুখোমন্ডলের বলিরেখাগুলো স্পষ্ট। রোদে পোড়া বৃষ্টিতে ভেজা ঝামা ইটের তো কঠিন চেহারা; দেখেই বোঝা যায়।

লোকটা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমারে একবার শুধু আমার ছেলের লাশটা একটু দেখতে দেন ভাই! আমি খবর নিয়া জানছি, আমার পোলার লাশ আইজকা উহান থেকে আসব। হাচা কইতেছি। আমি একবার শুধু আমার পোলার মুখখানা দেখমু। আমার আর কিছু চাই না। শেষবারের মতোন আমি পোলাডারে একটু দেখতে চাই।

পথের লোকজন তাকে কী বলে সান্ত্বনা দেবে? কী সান্ত্বনা দেওয়ার আছে তাদের? তারা শুধু বুড়ো মানুষটার কষ্ট উপলব্ধি করার চেষ্টা করছে। কেউ কেউ বলছেন, ভাইরে, করোনা হলে লাশের কাছেও যাওয়া যায় না। বিদেশ থেকে বাক্সভর্তি করে আসছে। ওইভাবেই করব দেওয়া হবে। দেখার আর সুযোগ নাইরে ভাই!

মোহিনী গাড়ি রাস্তার পাশে রেখে বুড়ো লোকটার কাছে এগিয়ে যান। মোহিনীকে দেখে পুরুষ লোকগুলো জায়গা করে দেয় বুড়োর কাছে যাওয়ার জন্য। তিনি বুড়ো লোকটাকে উদ্দেশ করে বললেন, আপনার ছেলের লাশ কোন দেশ থেকে আসবে বললেন?
চীনের উহান থেকে।
আপনার ছেলের কী নাম?
কাঁদতে কাঁদতে বুড়ো লোকটা বললেন, আরেফিন।
নামটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে মোহিনীর মাথায় যেন বাজ পড়ে। বিদ্যুতের শক খাওয়ার মতো শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলেন, আপনি আরেফিনের বাবা!
হ মা।
আপনার নাম?
আলী আকবর। বাড়ি বরিশাল। উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ। গ্রাম আজিমপুর।
কীভাবে জানলেন, আরেফিন মারা গেছেন?
আলী আকবর আবেগ জড়ানো কণ্ঠে বললেন, আমি খোঁজ নিতে নিতে ওর অফিসে গেছিলাম। ওখান থেকে কইল, আইজ আমার ছেলের লাশ আইব। কতদিন আমার ছেলেডারে দেহি নাই। বাড়ি যাইব যাইব কইরা চীনে চইলা গেল। আর দেহাও হইল না।

মোহিনী অনেক কষ্টে নিজের আবেগ সামলে বললেন, আপনি আমার গাড়িতে ওঠেন। আপনি কেডা মা? আপনের লগে গেলে আমার পোলার লাশ দেখা যাইব।
আপনি আমার সঙ্গে আসেন।
মোহিনী গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। আলী আকবর তাকে অনুসরণ করলেন। পথের লোকেরা যে যার গন্তব্যে চলে গেল। গাড়িতে সামনের আসনে আলী আকবরকে বসতে দিলেন। তারপর মোহিনী পেছনে গিয়ে বসে ড্রাইভারকে বললেন, আমার অফিসে যাও।
ড্রাইভার গাড়ি স্ট্রাট দিল। গাড়ি চলতে শুরু করল। আলী আকবর কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তুমি কেডা মা?
আমার অফিসে চলুন। তারপর বলছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পৌছে যাব। আপনি ঢাকায় আসছেন কবে?
কয়েকদিন হইয়া গেলো মা। পোলার খোঁজেই আইছিলাম। বাসায় গেছিলাম। দারোয়ান বলল, আরেফিন চীনে গেছে। তারপর অফিসে গেলাম। ওইখান থেকেই খবর পাইলাম, আরেফিন করোনায় মারা গেছে। আরেফিনের মা কইল, ঘরের চালে বইসা কাকগুলান কেমন কইরা ডাকতাছে। আপনি ঢাকায় গিয়া আমার ছেলের খবর লন! ছেলের মারে এহন আমি কী কমু?
আলী আকবর হাউমাউ করে আবার কাঁদতে শুরু করলেন। মোহিনী সান্ত্বনাসূচক কিছু কথাবার্তা বললেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তার অফিসে পৌঁছলেন। আলী আকবরকে নিয়ে নিজের রুমে গেলেন। দরজা বন্ধ করে বললেন, আপনি বসুন। চা খাবেন?
আলী আকবর কোনো কথা বললেন না। তিনি চোখ পাকিয়ে অফিস দেখছেন। বিশাল অফিস দেখে তার চোখ ধাঁধিয়ে যায়। তিনি বসবেন কি বসবেন না তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান। ওই জায়গায় তাকে বড় বেমানান মনে হয়। নিজেকে বড় ছোট মনে হয় তার কাছে। তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, এইডা কোন জাগা মা?
গুলশান।
ও গুলশান! অনেক নাম হুনছি।
এটা আমার অফিস।
আচ্ছা মা, আপনি কেডা? আমারে কি আপনি চেনেন?
আমি আপনার ছেলের বউ!
আলী আকবরের চোখেমুখে রাজ্যের বিস্ময়। তিনি কী বলবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে তিনি মোহিনীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।

চলবে...

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

বিষাদ বসুধা: পর্ব ২০

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১৯

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী