শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১৬

বিষাদ বসুধা

দুপুরের রোদে খা খা করছে চারদিক। রোদের উত্তাপে গাছের পাতাগুলো লজ্জাবতী গাছের মতো কেমন মিইয়ে পড়েছে। গাছপাতা, তরুলতাগুলোও যেন একটুখানি বাতাসের জন্য হা-পিত্তেশ করছে। কিন্তু বাতাসের কোনো নাম-গন্ধও নেই। গরমে হাঁসফাঁস করছেন জমিলা খাতুন। তিনি রান্না করতে গিয়ে গরমে হাপিয়ে উঠেন। কোথাও স্বস্তি নেই। শ্বাস-প্রশ্বাসও উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

জমিলা খাতুন তালের পাখা নিয়ে ঘরের বারান্দায় এসে বসলেন। এ সময় একটি কাক ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে বাড়ির উঠানে বাঁশের আড়ার উপর বসে। তারপর শুরু করে ডাকাডাকি। একেবারে উথালিপাথালি ডাক। কাক ডাকার শব্দটা যেন কলিজায় গিয়ে লাগে। এমন ডাক খুব সহসা শোনেননি জমিলা খাতুন। কাকের ডাক শুনে বুক ধরফর করে উঠে তার। মনটা স্থির হয়ে উঠে। তিনি কাকটাকে হাত দিয়ে তাড়া করেন। যা কাক, যা। এমন করে কেন ডাকতেছিস? কার সর্বনাশের খবর নিয়া আইছিস ক তো? যা। আর সর্বনাশা ডাক ডাকিছ না। যা যা।

কাকটা কিছুতেই যায় না। এদিক উড়ে, ওদিক উড়ে। আবার বাঁশের উপর বসে। পড়ে পড়ে ডাকে। কা কা কা কা!

জমিলা খাতুনের কাছে কাকের ডাকটা ভয়ঙ্কর লাগে। তার ছেলের কথা মনে পড়ে। তার কলিজার টুকরা আরেফিন। পরিবারের একমাত্র রত্ন। একমাত্র মানিক। গ্রামের লোকেরা ওকে বলে, গোবরে পদ্মফুল। ওদের সংসারে সবাই গো-মূর্খ। কারও ভেতরে কোনো শিক্ষার আলো নেই। পূর্বপুরুষরাও কেউ কখনো স্কুল-কলেজে যায়নি। মেধার গুণে আরেফিন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যেতে পেরেছে। তার মেধার মূল্যায়ন করেছেন মোহিনী। তিনি বড়লোকের মেয়ে হয়েও অতি নীচু পরিবারের সন্তান আরেফিনকে ভালোবাসেন। তাকে তিনি বিয়ে করেন। পাল্টে যায় আরেফিনের জীবনধারা। কত বড় ভাগ্য নিয়ে তিনি পৃথিবীতে এসেছেন কে জানে!

আরেফিন মা বাবার জন্য গ্রামে প্রতিমাসে টাকা পাঠান। যত ঝড়ঝাপটাই তার উপর দিয়ে যাক, মা বাবার কাছে টাকা পাঠানোর কথা ভোলেন না। আরেফিন এক দেশ থেকে আরেক দেশে যান, আর বাবার বুকের ছাতিম ফুলেফেঁপে বড় হয়। মার মুখে হাসি ফোটে। সেই হাসি ছড়িয়ে পড়ে আজিমপুর গ্রামে। একে বলে ওকে বলে, আমার সোনার মানিকের কথা শুনছ? বিরাট পাস দিছে আমার ছেলে। বিরাট চাকরি করে। বড়লোকের মেয়েরে বিয়া করছে। আর কি চাই?

কেউ কেউ টিপ্পনি কেটে বলে, ছেলের বউরে কখনো দেখছ? খুব তো বড়াই করতেছ?

জোখের মুখে চুন পড়ার মতো অবস্থা হয় জমিলা খাতুনের। তিনি মাথা নিচু করে অন্য দিকে চলে যান। মনে মনে বলেন, সব হিংসা। এই দুনিয়ায় কারো ভালো কেউ কি দেখতে পারে! পারে না। হিংসায় জইলা পুইড়া মরে। নিজেগো পোলারা মাইনসের খেতে বদলা দেয়। আমাগো পোলায় লেখাপড়া কইরা ঢাকা শহরে বড় চাকরি করে। এইডা কি কারো সহ্য হয়। হয় না। এই জন্যই টিটকারি মাইরা কথা কয়। ওইসব আমি বুঝি না! সব বুঝি।

কিছুক্ষণ পর আবার কাকটা পড়ে পড়ে ডাকে। কা কা কা কা!

জমিলা খাতুনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। কোনো একটা অঘটন ঘটছে। তা না হলে কাকটা এমন করে ডাকতো না। আরেফিনের বাপ কোথায় গেল! সারাদিন কই কই যে থাহে!

জমিলা খাতুন মনে মনে ছোটছেলেকে খোঁজেন। আক্কাস গেল কই? আক্কাস আক্কাস!
আক্কাস দৌড়ে আসে মা’র কাছে। কি হইছে মা?
দেখ তো তোর বাপ কই? তাড়াতাড়ি খুইজা আন।
আনতাছি মা। আনতাছি।

আক্কাস দৌড়ে দরজার দিকে যায়। বৈঠকখানায় বসে আক্কাসের বাবা আলী আকবর গল্পগুজব করছিলেন। গরমের দিনে বৈঠকখানায় বাড়ির লোকদের আড্ডা বসে। আড্ডার মধ্যমণি আলী আকবর। ছেলের কারণে আলী আকবর বাড়ির লোকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন। তিনি না গেলে আড্ডা জমে না। তিনি যতক্ষণ বৈঠকখানায় থাকেন ততক্ষণই আড্ডা জমজমাট থাকে। বাড়ির লোকরা নানা বিষয়ে এখন আলী আকবরের পরামর্শ নেন। ভালোমন্দ জানতে চান। আলী আকবরও বিজ্ঞলোকের মতো যাকে যে পরামর্শ দেওয়া দরকার তা দিয়ে থাকেন। প্রতিদিনের মতো আজও আড্ডা বেশ জমে উঠে। আজ তিনি তার গর্বের ছেলেকে নিয়ে গল্প করছিলেন। কিভাবে বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করল সেই গল্প। সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো আলী আকবরের গল্প শুনছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আক্কাস আলী সেখানে হাজির হয়। সে তার কাছে গিয়ে কানে কানে বলে, মা ডাকতাছে। কি যেন হইছে তার। কেমন জানি করতাছে। তাড়াতাড়ি বাড়ি চলেন বাবা।
পরে জামু। তুই গিয়া ক, আমি একটু পর আসতাছি।
বাবা, এই কথা গিয়া কইলে মা রাগ করব। আপনি চলেন তো! পরে আইসা গল্প কইরেন।
আলী আকবর সবার উদ্দেশে বললেন, মিয়ারা, আমার গল্প শেষ হয়নি। আমি আবার আসতাছি। আইসা গল্প শেষ করব।

আলী আকবর হন হন করে হেঁটে বাড়ির দিকে ছুটে যান। জমিলা খাতুনের কাছাকাছি গিয়ে বলেন, কি হইছে আরেফিনের মা? এতো উতালা হইছ কেন? আমি আমার ছেলেরে নিয়া গল্প করছিলাম। সবাই উদাস হইয়া আমার ছেলের গল্প শুনছিল। সেইডা তোমার সহ্য হইল না?
আরেফিনের গল্প?
আর কার গল্প? গল্প কিংবা গর্ব করার মতোন আর কে আছে কও?
দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে জমিলা খাতুন বললেন, আমার আরেফিন! ওর লইগ্যা আমার মনডা কেমন জানি করতেছে। বুকের মধ্যে কী রহম জানি ধুকফুক ধুকফুক করতেছে। আপনে আরফিনের খবর নেন তো! কোনো সমস্যা হইল কি না পোলাডার।
কেন? আবার কি হইল?
কাকটা দেহেন না, এহনও পইড়া পইড়া ডাকতেছে। বড় অহস্য লাগতেছে।
ওসব বাদ দেও তো! কাক ডাকতাছে তাতে সমস্যা কি? কাক ডাকবো না?
আপনে আমার কতাডা একটু হোনেন। আপনে খোঁজ লন পোলাডার। খোঁজ লইতে তো কোনো দোষ নেই! খোঁজ লইয়া আমারে কন, পোলাডা ভালো আছে।
হুম, কয়দিন পর পর কাক ডাকবো আর তোমার মন উতালা হইব; এইডা কেমন কথা?
আপনে খোঁজ লইবেন? নাকি অন্য কাউরে কমু?

কও না কও। কারে কইবা? আরেফিন যে দেশে নাই এইডা কেউ জানে? মন খারাপ কইরো বউ। আরেফিন চীন দেশে গেছে। ছোডবেলায় চীনের গল্প হোন নাই? চীনরে বলে মহাচীন। সেই দেশে আমার ছেলে গেছে। ভালোই তো আছে কইল। খারাপ থাকলে ফোন কইরা জানাইতো না?
আপনের লগে কবে কতা হইছে?
ওইদিন, তাও তিন চাইর দিন হইয়া গেছে।
আজকে তো হয় নাই?
না। আজকে হই নাই। আচ্ছা, তুমি যেহেতু কইতেছ, আমি ফোন কইরা দেখতেছি।

আলী আকবর মোবাইল হাতে নিয়ে আরেফিনের নম্বরে ফোন দেন। কিছুতেই তার ফোনে ঢোকা যাচ্ছে না। একবার দুইবার তিনবার ফোন করেন তিনি। না। কিছুতেই ফোনে ঢোকা যাচ্ছে না। ফোন বন্ধ কি না তাও বোঝা যাচ্ছে না। তিনি বিরক্ত হন। ভীষণ বিরক্ত হন। কিছুক্ষণ পর তিনি ছেলের বউর নম্বরে ফোন করেন। মোহিনীর ফোনে রিং বাজে। কিন্তুমোহিনী ফোন ধরছে না। মোহিনীর নম্বরেও কয়েকবার ফোন করেন তিনি। বিরক্ত হয়ে তিনি ফোনটাকে বিছানার উপর ছুড়ে মারেন।

জমিলা খাতুন স্বামীর কা-কির্তি দেখে বলেন, ওকি ওকি! ফোনডারে ছুইরা মারলেন যে!

আলী আকবর ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, আইজ কি হইল বুঝতে পারতেছি না। কুফা লাগছে। পাইতেছি না। কাউকেই পাইতেছি না।
কি কন?
হ। আরেফিনের ফোন বন্ধ। বউমা ফোন ধরতেছে না।
হায় হায়! তাইলে কি হইব?
কি আর হইব। পরে আবার দেখবনে।
বউমার ফোনে আগে কি কতা কইছেন?
না। তা কই নাই।
তাইলে কেমনে পাইবেন? আপনের অচেনা নম্বর ধরব নাকি?
অচেনা নম্বর বইলা ফোনডাও ধরব না? না ধরলে না ধরলো!
জমিলা খাতুন হতাশার চোখে আলী আকবরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। ছেলের জন্য তার দুশ্চিন্তা হচ্ছে। মনে মনে আল্লাহকে ডাকেন তিনি। বিড় বিড় করে বলেন, মাবুদ গো; তুমি আমার ছেলেরে ভালো রাইখো। আমার সোনার মানিকরে তুমি সুস্থ রাইখো।

জমিলা খাতুনের চেহারা দেখে আলী আকবরও ভাবনায় পড়েন। তিনি বিড় বিড় করে বলেন, কয়দিন আগেও কতা হইল। কইল, ভালোই আছে। কোনো অসুবিধা নাই। মোবাইলডা কেন যে বন্ধ রাখল? বউমাও ফোনডা ধরতেছে না। বউমার কাছে কি আমার নম্বর আছে? কে জানে! অচেনা নাম্বার তো কেউ ধরতে চায় না।
আলী আকবর স্ত্রীর মাথায় হাত রাখেন। মন খারাপ কইরো না। আইজ যেমনেই হইক ছেলের খবর নিমু।
আবারও কাকটা ডানা ঝাপটে ঝাপটে ডাকে। কা কা কা কা!

দুশ্চিন্তায় হাবুডুবু খাচ্ছেন আলী আকবর ও জমিলা খাতুন। তাদের ধারণা, ছেলেটা কোনো বিপদে পড়েছে। তা না হলে নিশ্চয়ই সে যোগাযোগ করত। সে যোগাযোগ করছে না বলে আমরাও চুপচাপ বসে থাকব! না না! এভাবে ঘরে বসে থাকা যায় না!
আলী আকবর বললেন, আমি বরং ঢাকায় যাই। কি কও?
হ যান। ঢাকায় যান। বাসায় কেউ না কেউ তো থাকব!
হ। তা নিশ্চয়ই থাকব। ঠিকানাডা তোমার কাছে আছে নাহি?
আছে আছে। রাখছিলাম।
জমিলা খাতুন ধর্মীয় বইপুস্তকের ফাঁকে সাদা কাগজে লেখা একটা কাগজ বের করলেন। আলী আকবরের হাতে দিয়ে বললেন, দেহেন এইডা কি না?
হ আইডাই। রাহো। কাইল তাইলে রওয়ানা হই?
হ যান। দেরি কইরা লাভ নাই।
আলী আকবর ছেলের খোঁজে ঢাকায় আসেন। ছেলের বাসায় গিয়ে দেখেন দরজায় তালা ঝুলছে। বিস্ময়ের সঙ্গে বাসার দিকে তাকিয়ে থাকেন। মনে মনে ভাবেন, কি ব্যাপার! বাসার লোকজন মানে বউমা কই? বউ মা কি এই বাসায় থাহে না। আমাগোরে তো কিছুই কইলো না। এখন উপায় কি?

কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর আলী আকবর বাড়ির দারোয়ানের কাছে জানতে চান, আরেফিনের কোনো খবর জানো তোমরা?
আরেফিন স্যার আপনার কি হয়? দারোয়ান জানতে চাইল।
আমার ছেলে। ছেলে হয়।
সে তো বিদেশে!
হ জানি। চীন দেশে গেছে। কিন্তু বউমা? বউমা কই?
আপনার ছেলে যেদিন বিদেশে গেছে সেদিনই আপনার বউমা নিজ বাড়িতে চলে গেছে।
ওহ! বউমার ঠিকানাডা কি তোমার কাছে আছে? আমারে দিতে পারবা?
আমি কই পাব তার ঠিকানা? আমারে দেয় নাই। কেন, আপনি আপনার ছেলের শ্বশুর বাড়ি যান নাই?
দীঘনিশ্বাস ছেড়ে আলী আকবর বলেন, না রে বাবা!
দারোয়ান বিস্ময়ের দৃষ্টিতে আলী আকবরের দিকে তাকিয়ে থাকে। আলী আকবর মাথা নিচু করে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি কি করবেন তা নিয়ে ভাবেন। ছেলের খোঁজ না নিয়েই তিনি বাড়ি ফিরে যাবেন! নাকি ঠিকানা জোগাড় করে ছেলের শ্বশুর বাড়িতে যাবেন! তিনি কোনো দিন ছেলের বড়লোক শ্বশুর বাড়ি যাননি। পরিচয়ও নেই ছেলের শ্বশুরের সঙ্গে। সেখানে গেলে তাকে যদি দূরদূর করে তাড়িয়ে দেয়! তখন কি হবে?

রাজ্যের চিন্তা মাথায় নিয়ে আলী আকবর বাইরের দিকে পা বাড়ান।

চলবে…

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১৫

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১৪

বিষাদ বসুধা: পর্ব-১৩

বিষাদ বসুধা: পর্ব-১২

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১১

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১০

বিষাদ বসুধা: পর্ব ৮

বিষাদ বসুধা: পর্ব ৭

বিষাদ বসুধা: পর্ব-৬

বিষাদ বসুধা: পর্ব-৫

বিষাদ বসুধা: পর্ব-৪

বিষাদ বসুধা: পর্ব-৩

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২

বিষাদ বসুধা: পর্ব-১

আরএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত