শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান

ঘৃণার স্রোত নেমে যায়। জ্যাক এবং তার ভাইকে হাত খরচের কোনো টাকা দেওয়া হতো না। মাঝে মধ্যে কোনো দোকানদার মামা কিংবা ভালো পরিবারে বিয়ে হয়ে যাওয়া কোনো খালার কাছে তাদেরকে পাঠানো হতো। তখন সামান্য কিছু পাওয়া যেত। মামার কাছে যাওয়াটা সোজা ছিল। কারণ মামা তাদের দুজনকে খুব ভালোবাসতেন। কিন্তু খালা তার তুলনামুলক সামান্য সম্পদের কথা তাদের মনে করিয়ে দিতেন। অপমানিত বোধ করার পরিবর্তে তারা দুভাই বরং পয়সা না পেলেও ওইসব ফাইফরমাস কাজে যেতে পছন্দই করত। যদিও সমুদ্র দেখার, খোলা আকাশের নিচে ঘুরে বেড়ানোর এবং পাড়ার খেলাধুলার জন্য পয়সা লাগত না তবু আলুভাজা, মিঠাই, আরব পেস্ট্রি এবং জ্যাকের ক্ষেত্রে ফুটবল ম্যাচের জন্য পয়সার দরকার হতো। একদিন সন্ধ্যায় জ্যাক পাড়ার বেকারি থেকে হাতে করে আলু আর পনিরের বাটি নিয়ে ফিরছিল। তাদের বাড়িতে, গ্যাস কিংবা চুল্লি কোনোটাই ছিল না; তারা একটা অ্যালকোহল স্টোভে রান্না করত। রুটি জাতীয় কিছু তৈরি করার ব্যবস্থা ছিল না। কোনো খাবার সেঁকার দরকার হলে সেটা তৈরি অবস্থায় পাশের কোনো বেকারিতে নিয়ে যাওয়া হতো। কয়েক সেন্টিমের বিনিময়ে সেখানকার চুল্লিতে রেখে নজর রাখা লাগত। সেদিনের সেই বাটিটার ওপরে একটা কাপড় দেওয়া ছিল যাতে রাস্তার ধূলি পড়তে না পারে এবং কাপড়টাসহ ধোঁয়া ওঠা গরম বাটিটার কানা ধরা সম্ভব হয়। তার হাতে একটা দড়ির ব্যাগে ছিল অল্প পরিমাণ করে কয়েকটা প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন: আধা পাউন্ড চিনি, একপোয়া মাখন, পঁচিশ সেনটিম দিয়ে কেনা পনির ইত্যাদি। তার কনুইয়ের ভাঁজের ওপরে ঝোলানো ব্যাগটা খুব ভারি ছিল না। আলু আর পনিরের গন্ধ শুকতে শুকতে বেশ চঞ্চল গতিতেই যাচ্ছিল জ্যাক; তখন রাস্তায় কর্মফেরত লোকজনের বেশ ভিড় ছিল পাড়ার ফুটপাতের ওপর। হঠাৎ দুই ফ্রাঁর একটা মুদ্রা তার পকেটের ছেড়া দিয়ে গড়িয়ে পড়ল ফুটপাতের ওপর। মুদ্রাটা কুড়িয়ে তুলে জ্যাক তার কাছে থাকা খুচরা পয়সাগুলো গুণে ওই মুদ্রাটা অন্য পকেটে রেখে দিল। হঠাৎ তার মনে হলো, আমি তো মুদ্রাটা হারিয়েও ফেলতে পারতাম। পরের দিনের ফুটবল ম্যাচের সম্ভাবনাটা সে ততক্ষণও বাতিল করেই রেখেছিল। সে সম্ভাবনাটাও এখন মনের পর্দায় মাথা তুলতে থাকল।

 

বালক জ্যাককে কেউ শিখিয়ে দেয়নি কোনটা ন্যায় কোনটা অন্যায়। কিছু কিছু বিষয় নিষিদ্ধ ছিল এবং সেগুলোর বরখেলাপ হলেই প্রচণ্ড শাস্তি পেতে হতো। সেগুলোর বাইরে কোনো কিছুর ব্যাপারে কিছু বলা ছিল না। শুধু তার শিক্ষকেরা পাঠ্যতালিকা অনুযায়ী পড়াশোনা শেষ করে সময় পেলে মাঝে মাঝে নৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলতেন। তাদের কথাতেও মূল কারণের চেয়ে নিষেধের বিষয়টাই মুখ্য হয়ে দেখা দিত। নৈতিকতা সম্পর্কে জ্যাক যা দেখেছে এবং অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তার সবটা জুড়ে ছিল তাদের শ্রমজীবি শ্রেণির পরিবারের দৈনন্দিন জীবন। সেখানে কেউ ভাবতেই পারেনি, টিকে থাকার জন্য যে টাকা পয়সা দরকার সেটা যোগাড় করার জন্য কঠিন পরিশ্রম ছাড়া আর কোনো পথ আছে কি না। তবে সে শিক্ষার মধ্যে ছিল সাহস, নৈতিকতা নয়। তা সত্ত্বেও জ্যাক জানত, ওই দুই ফ্রাঁ লুকিয়ে ফেলাটা অন্যায়। সে এই কাজ করতে চায়নি। করবে না। তার চেয়ে বরং তার আগের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আরেকটা কাজ করতে পারে-প্যারেড গ্রাউন্ডের পুরনো স্টেডিয়ামের দুটো তক্তা ফাঁক করে ভেতরে ঢুকে পয়সা ছাড়াই খেলা দেখে আসতে পারে। ওই একই অভিজ্ঞতার জন্যও হতে পারে, নিজে হয়তো বুঝতে পারেনি কী কারণে, বাড়ি ফিরে তাড়াতাড়ি খুচরো পয়সাগুলো ফেরত দেয়নি। বাড়ি ফিরে একটু পরে টয়লেট থেকে ঘুরে এসে জ্যাক বলেছিল, টয়লেটে ট্রাউজার খূলে বসার সময় তার পকেট থেকে দুই ফ্রাঁর একটা মুদ্রা টয়লেটের গর্তের মধ্যে পড়ে গেছে। জায়গাটাকে টয়লেট বললেও বেশি উঁচুমানের একটা চেহারা মনে হতে পারে। আসলে ওপরের তলার সিঁড়ির গোড়ায় সুরকি ঘষামাজা করে একটু জায়গা বের করে ওই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দরজা আর পেছনের দেয়ালের মাঝে মাঝারি আকারের বেদীতে তুর্কি কেতায় ফুটো করে বানানো হয়েছিল টয়লেটটা। সেখানে বাতাস, বৈদ্যুতিক আলো কিংবা তরল পদার্থ বের করার কোনো নলও ছিল না। কাজেই প্রত্যেকবার ব্যবহার করার পর ক্যানেস্তারা ভরে পানি ঢেলে দিতে হতো। তবে গোটা সিঁড়ি বেয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকত সব সময়। গন্ধ আটকানোর কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। জ্যাকের ব্যাখ্যাটা বাস্তবসম্মত ছিল। যদি বলত রাস্তায় হারিয়ে গেছে তাহলে তাকে আবার হয়তো সেখানেই পাঠানো হতো পয়সাটা খুঁজে আনার জন্য। বাড়তি কাজের ঝামেলা এড়ানো গেছে মনে হলো। তবু এই দুঃসংবাদটা প্রচার করার পর জ্যাকের মনের ভেতর খচখচ করতে লাগল। নানি তখন রান্নাঘরে একটা পুরনো ব্যবহারজীর্ণ দাগপড়া তক্তার ওপরে রসুন আর মসলা কাটছিলেন। কাজ থামিয়ে তিনি জ্যাকের দিকে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। জ্যাকের মনে হলো, নানি এই বুঝি বিস্ফোরণে ফেটে পড়বেন। কিন্তু তিনি চুপ থেকে বরফ শীতল চোখে জ্যাককে নিরীক্ষণ করতে লাগলেন। শেষে বললেন, তুই কি নিশ্চিত, পয়সা ওখানে পড়ে গেছে।

হ্যাঁ, পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনলাম।
তারপরও তিনি জ্যাকের দিকে পরীক্ষামূলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন। তারপর বললেন, ঠিক আছে, দেখি কী করা যায়।
আতঙ্কের মধ্যে জ্যাক দেখল, নানি তার জামার ডান হাতা ওপরের দিকে গুটিয়ে নিয়ে সিঁড়ির মাথার দিকে হাঁটা দিলেন। জ্যাক পড়িমরি করে খাবার ঘরের দিকে দৌড়লো। নানি ডাক দিলে জ্যাক এগিয়ে নানিকে ওয়াশবেসিনের সামনে দেখতে পেল। তার হাতের গোটা অংশ সাদা ফেনায় ঢাকা; পানির প্রবাহে ধুয়ে ফেলছেন তখন। জ্যাককে উদ্দেশ করে বললেন, ওখানে কিছু নেই। তুই মিথ্যে কথা বলেছিস।

তোতলাতে তোতলাতে জ্যাক বলল, মনে হয় পানির সাথে ধুয়ে চলে গেছে।
নানি বললেন, হতে পারে। তবে তুই যদি মিথ্যে কথা বলে থাকিস তাহলে তোর কপালে খারাপি আছে আজ।
হ্যাঁ, তার কপালে খারাপিই ছিল। কারণ সেবার সে বুঝতে পেরেছিল, তার নানি মনুষ্যবিষ্ঠার মধ্যে হাতড়ে হাতড়ে পয়সা খুঁজছিলেন লোভের বশবর্তী হয়ে নয়। ভয়ঙ্কর অভাব অনটনের কারণে। মাত্র দুই ফ্রাঁর একটা মুদ্রা অতি মূল্যবান হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সে তখনই বুঝতে পেরেছিল এবং পরবর্তীতে লজ্জার আকস্মিক বিচলনের সঙ্গে আরো পরিষ্কারভাবে দেখতে পেয়েছে, সে তার পরিবারের মানুষদের অতি কষ্টে উপার্জিত দুই ফ্রাঁ চুরি করেছিল। এমনকি আজও জানালার পাশে বসে থাকা মাকে দেখে জ্যাক ব্যাখ্যা করতে অপারগ, কী করে ওই দুই ফ্রাঁ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলেও পরের দিন ঠিকই ফুটবল ম্যাচ দেখতে যেতে পারত।

 

চলবে..

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

 

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি