বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান

বাবা, তার মৃত্যু

যুদ্ধ, বোমা বিস্ফোরণ

একটানা পাঁচটা সিঁড়ি বেয়ে, নিশ্চিত গতিতে একটাও ভুল পদক্ষেপ না ফেলে, তার শরীর যেন সিঁড়িগুলোর সঠিক উচ্চতা এখনও ঠিক ঠিক মনে রেখেছে, তেমনিভাবে দৌড়ে উঠে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে দরজার সামনেই জ্যাক মাকে জড়িয়ে ধরল। যখন সে ট্যাক্সি থেকে নামল তখন রাস্তাটা ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে; জায়গায় জায়গায় সকাল ঝলমল করে উঠছে। কুয়াশার ভেতরে পল্লবিত তাপ চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। অনেক দিন আগে যেখানে তাকে দেখা গেছে সেখানেই মাকে দেখতে পেল জ্যাক নাপিতের দোকানের মাথার উপরে দুই রুমের মাঝখানে সরু ব্যালকনিতে।

এই নাপিত লোকটা অবশ্য জাঁ এবং যোসেফের বাবা নন; তিনি যক্ষায় মারা গেছেন। তার স্ত্রী বলতেন তার কাজের কারণেই যক্ষা হয়েছিল, মানে তার নিঃশ্বাসের সঙ্গে সব সময় শরীরের মধ্যে চুল প্রবেশ করত। টিনের চালার উপরে আগের মতোই আছে ডুমুরের ফল, ছোট ছোট কাগজের টুকরো, সিগারেটের গোড়ালি ইত্যাদি। মা ওখানে দাঁড়িয়েছিলেন। চুল এখনও অনেক; তবে বেশ কয়েক বছর আগেই পেকে গেছে। বয়স বাহাত্তর বছর হয়ে গেলেও শরীর টানটান; হালকা পাতলা শরীরের কারণে তাকে আসলে বয়সের চেয়ে দশ বছরের মতো ছোট দেখায়। শরীরের শক্তি মনে হয় আগের মতোই আছে; তাদের পরিবারের সবারই শরীর-স্বাস্থ্য এরকমই। তাদের সবারই শরীর হালকা পাতলা, নির্লিপ্ত চালচলনের কারণে ক্লান্তিহীন অবয়ব। তাদের কারও উপরে বার্ধক্য ভর করতে পারেনি। পঞ্চাশ বছর বয়সেও তার আধাবোবা মামা এমিলকে অল্পবয়সী যুবকের মতো মনে হয়। নানি মারা যাওয়ার সময়েও তার মাথা একটু নুইয়ে পড়েনি। আর তার মা, যার কাছে জ্যাক এই তো ছুটে এসেছে, কোনো কিছুই তার নীরব সহ্য ক্ষমতাকে ক্ষয় করতে পারেনি। জ্যাক ছোটবেলায় সর্বান্তকরণে মায়ের অল্পবয়সী সুদর্শনা চেহারাটা ভক্তিতে উচ্চে তুলেছে; তার সেই চেহারাটা দশকের পর দশক ধরে কায়িক শ্রমের বোঝা পার করেছে। তবু যেন সেই অল্পবয়সীই রয়ে গেছেন তিনি।

জ্যাক চৌকাঠের কাছে পৌঁছলে মা দরজা খুলে দিয়ে নিজেকে ছেলের বাহুতে এলিয়ে দিলেন। আগে যেমন প্রতিবারই পুনর্মিলনের সময় দুতিনবার চুমু খেতেন ছেলেকে এবারও নিজের শরীরের সঙ্গে সর্বশক্তি দিয়ে চেপে ধরে চুমু খেলেন। আর জ্যাক মাকে নিজের বাহুর মধ্যে ধারণ করে মায়ের পাঁজরের হাড়গুলোর অস্তিত্ব টের পেল। মায়ের কাঁধের বের হয়ে আসা অস্থিগুলো যেন একটুখানি কেঁপে গেল। তখন মায়ের ত্বকের কোমল সুগন্ধ জ্যাকের নাকে আসে আর মনে পড়ে যায় মায়ের স্বরযন্ত্রের নিচে এবং ঘাড়ের তন্তুর মাঝের দাগের কথা। আগে ওখানে চুমু দেওয়ার সাহস হতো না।

তবে মাঝে মাঝে মা তাকে কোলে বসিয়ে দিলে ধুমের ভান করে ওখানে নাক ডুবিয়ে থাকতে ভালো লাগত; ছেলেবেলায় মায়ের ঘাড়ের ওখানে নাক ডুবিয়ে যে কোমলতার পরশ পেত ওই জীবনে আর কোথাও তেমন পেত না। মা এবার জ্যাককে বুকের মাঝে জড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আবার ছেড়ে দিলেন যেন ছেলের প্রতি তার ভালোবাসা কতখানি আছে কিংবা কতখানি প্রকাশ করেছেন তা মেপে দেখছেন এবং বুঝতে পারছেন, আরও খানিকটা বাদ আছে প্রকাশ করা। সেটুকু প্রকাশ করতেই তিনি আবেগভরা কণ্ঠে বলে উঠলেন, বাবা, কত দূরে ছিলি এতদিন! তারপর ঘুরে গিয়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে রাস্তামুখি খাবার ঘরটাতে গিয়ে বসলেন। মনে হলো, তিনি আর ছেলের কথা ভাবছেন না কিংবা তিনি আর বর্তমানের মুহূর্তে নেই: ছেলের দিকে এমনভাবে থেকে থেকে তাকাচ্ছেন যেন ছেলে তার সামনে নেই; ছেলে রাস্তায় আছে আর এই শূন্য, সরু, আবদ্ধ জায়গাতে তার একাকী অবস্থানকে ছেলের অনুপস্থিতি অস্থির করে দিচ্ছে।

জ্যাক তার পাশে বসে পড়ার পর মনে হলো, তিনি যেন আজও কোনো এক দুশ্চিতার মধ্যেই আছেন, থেকে থেকে রাস্তার দিকে তাকাচ্ছেন তার সুন্দর বিষণ্ন চাহনির প্রকাশ দিয়ে। যতক্ষণ চোখ জোড়া রাস্তার দিকে ততক্ষণ চোখের উপর অস্থিরতা ভর করে আছে; রাস্তা থেকে ছেলের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে চোখ দুটো যেন শান্ত হয়ে যাচ্ছে।

রাস্তাটা আরও হৈচৈপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে: লাল রঙের বিশাল ট্রলিবাসগুলো ক্রমেই সংখ্যায় বেশি হচ্ছে এবং জোরে শব্দ করতে করতে চলা শুরু করছে। জ্যাক মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে: সাদা কলারঅলা ধূসর রঙের ছোট একটা ব্লাউজ পরে আছেন তিনি; আগেও জানালার পাশের যে অস্বস্তিকর একটা চেয়ারে বসতেন সেটার উপরেই বসে আছেন; বয়সের কারণে পিঠটা একটুখানি প্রশস্ত হয়ে গেছে, তবু চেয়ারের গায়ে হেলান দেননি; হাতে একটা রুমাল; রুমালটা তার শক্ত হয়ে যাওয়া আঙুলে পেঁচিয়ে গোলাকার বল বানাচ্ছেন, আবার পরনের কাপড়ের ফাঁকায় রেখে দিচ্ছেন। মাথাটা কিছুটা জানালার দিকে ফেরানো। ত্রিশ বছর আগে যেমন ছিলেন তেমনই আছেন তিনি। মুখের উপরে বার্ধক্যের ভাঁজগুলো থাকলেও মুখটা অলৌকিকভাবে আগের মতোই রয়ে গেছে। মসৃণ এবং মার্জিত ভ্রু জোড়া যেন কপালের উপরে বসিয়ে দেয়ো হয়েছে। ছোট নাকটা সোজা, খাড়া। দুশ্চিন্তার ছাপ সত্ত্বেও মাড়ির পাশ থেকে ঠোঁটের সঙ্গে যেন তার মুখটা সুস্পষ্টভাবে অংকন করে রাখা হয়েছে। ঘাড়ের পাশটা দ্রুতই দুর্বল হয়েছে মনে হলেও আকৃতি আগের মতোই আছে; অবশ্য তন্তুগুলো গ্রন্থিল হয়ে গেছে; আর থুতনি কিছুটা দুর্বল হয়েছে।

জ্যাক জিজ্ঞেস করল, নাপিতের ওখানে গিয়েছিলে?

দুষ্টুমিতে ধরা পড়া বাচ্চা মেয়ের মতো করে হাসলেন মা, হ্যাঁ, তুই আসছিলি বলে। স্পষ্ট করে দেখা না গেলেও মায়ের আচরণে একটা অপ্রকাশী ভাব থাকে: যা বলছেন তার মধ্যে কেমন একটা প্যাঁচ। আবার অন্যদিকে তার পোশাক আশাকের ব্যাপারে একদম সোজাসাপটা: অরুচিকর কোনো পোশাক তাকে পড়তে দেখেনি জ্যাক। এখনও ধূসর আর কালো রঙের পোশাক পরেছেন; তার মধ্যে রয়েছে রুচিপূর্ণ নির্বাচনের ছাপ। এরকমটাই তাদের বংশের লোকদের ধারা: সব সময়ই হতভাগ্য অবস্থা, একেবারেই গরিব, কিংবা কারো অবস্থা একটু স্বচ্ছল–যা-ই হোক না কেন, তাদের পোশাকের বাছবিচার বেশ স্পষ্ট। তাদের সবাই, বিশেষ করে পুরুষেরা, ভূমধ্যগাগরীয় অন্য সবার মতোই সাদা শার্ট আর স্ত্রী করা ট্রাউজার পরার উপরে জোর দিয়ে আসছে।

নিজেদের পোশাক-আশাক সংখ্যায় কম হলেও নিয়মিত ভালো করে ধুয়ে স্ত্রী করার বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে নারীদের কাজের পরিমাণ আরও বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক, তা সে নারী মা, স্ত্রী যে-ই হোক না কেন। জ্যাকের মায়ের কথা বলতে গেলে, তিনি মনে করতেন, অন্য লোকদের ঘরদোর পরিষ্কার করা এবং জামা কাপড় ধোয়াই যথ্ষ্টে নয়, বাড়ির লোকদের জামাকাপড়ও পরিষ্কার করা দরকার। জ্যাকের যতদূর মনে পড়ে, তাদের দুভাইয়ের মাত্র একটা করে ট্রাউজার ছিল। তবু সেগুলো ধুয়ে নিয়মিত স্ত্রী করে দিতেন মা। পরবর্তীতে জ্যাক বাইরের জীবনে প্রবেশ করে দেখেছে সেখানে নারীরা কেউ এই কাজ করে না।

মা বললেন, এই লোকটা ইতালীয়; কাজকর্ম ভালোই করে।

হ্যাঁ, বলল জ্যাক। সে বলতে যাচ্ছিল, মা তুমি কত সুন্দর। কিন্তু বলতে পারল না। মা সম্পর্কে তার ধারণা সব সময় এরকমই ছিল। তবে কখনওই বলা হয়নি। অবশ্য এর পেছনে এমন কোনো কারণ নেই যে, মা তার এই প্রশংসার কথা অবজ্ঞাভরে উড়িয়ে দেবেন, কিংবা এরকম প্রশংসায় মা খুশি হবেন–তাও মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে, তার এবং মায়ের মাঝে যে অদৃশ্য দেয়াল আছে সেটায় ফাটল তৈরি হতে পারে; দেয়ালের আড়ালেই মাকে সে সারা জীবন আশ্রয় নিতে দেখে এসেছে। তখন মাকে মনে হয়েছে কত বিনয়ী, নম্র, সৌজন্যপূর্ণ, এমনকি অপ্রতিরোধী তবে কোনো ব্যক্তি কিংবা কোনো বিষয় তাকে জয় করতে পারেনি। কিছুটা বধির হওয়ার কারণে তিনি সবার থেকে বিচ্ছিন্ন, নিজেকে প্রকাশ করতে অপারগ। সুন্দর হলেও কার্যত অপ্রবেশ্য; আর মায়ের এই অবস্থাটা সবচেয়ে বেশি মনে বেজেছে মা যখন অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি হাসিখুশি ছিলেন এবং জ্যাক মায়ের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেতে উৎসুক ছিল তখন। হ্যাঁ, সারা জীবন জ্যাক মায়ের এরকম আচরণই দেখে এসেছে: সমীহজাগানিয়া-ভীতিকর এবং নমনীয়, তবু দূরের।

ত্রিশ বছর আগেও মায়ের এই চাহনিই দেখেছে জ্যাক; তখন তার নানি চাবুক দিয়ে জ্যাককে আঘাত করেছেন। আর মা কিছু বলতে পারেননি। মা নিজে কোনো দিন তাদের গায়ে হাত তোলেননি, এমনকি কোনো দিন বকুনিও দেননি; সন্দেহ নেই, ছেলের গায়ের আঘাতে তিনিও জর্জরিত হয়েছেন। তবু তিনি কিছু করতে পারেননি। কারণ তিনি ছিলেন ক্লান্ত; কারণ বলার মতোকোনো কথা তার মুখ দিয়ে বের হয়নি। কারণ তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাও ছিল; তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারেননি।

প্রত্যেকটা দীর্ঘ দিন, প্রত্যেকটা দীর্ঘ বছর তিনি তার সন্তানদের উপর বর্ষিত সেই আঘাত সহ্য করেছেন যেভাবে অন্য লোকদের কাজ করার জন্য তাকে কঠিন পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে সময় পার করতে হয়েছে: তাদের কাপড় ধোয়া, হাঁটুর উপর ভর করে মেঝে পরিষ্কার করা–সবই করতে হয়েছে। পুরুষ-শূন্য জীবন যাপন করতে হয়েছে অন্য লোকদের আবর্জনা পরিষ্কার করে। একটা একটা করে দিন পার হয়ে বছর গড়িয়ে গেছে তার জীবনে। জীবনে কোনো আশা না থাকায় তার মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়নি। অজ্ঞ থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পেরেছেন। নিজের এবং তার সন্তানদের জীবন কষ্ট ভোগের কাছে ছেড়ে দিয়েছেন। জ্যাক মাকে কখনও কারো বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শোনেনি। বড় জোর বলেছেন তিনি ক্লান্ত, কিংবা সারা দিন অনেক কাপড়-চোপড় ধুয়ে পিঠ ব্যথা করছে। মাকে কারো নামে কোনো খারাপ কথা বলতেও শোনেনি জ্যাক। কখনও হয়তো উল্লেখ করেছেন অমুক বোন কিংবা অমুক খালা-চাচি কেমন রূঢ় আচরণ করেছেন। অন্যদিকে, মাকে কোনো দিন প্রাণ খুলে হাসতেও দেখেনি সে। ইদানিং মায়ের হাসিখুশি ভাবটা একটু বেড়েছে; কারণ তাকে আর অন্য লোকদের কাজ করতে হয় না। তার সব প্রয়োজন তার সন্তানেরা মিটিয়ে থাকে। বাড়িটাও আগের মতোই আছে; এখানে মায়ের নিয়ম মতো চলা। এই পাড়ায় সব কিছু তার কাছে সহজলভ্য; অন্য কোনো আরামের জায়গায় গেলে সবকিছু কঠিন হয়ে যেত বলে মনে হয় তার। এই রুমটাও সেই একই রকম আছে; শুধু আসবাবগুলো তারা বদলে দিয়েছে। এখন আরেকটু মার্জিত রূপ পেয়েছে রুমটা; হত অবস্থাটা কিছুটা দূর হয়েছে; তবু আসবাবপত্রগুলো কেমন ফাঁকা ফাঁকা মনে হয়। সবগুলো আসবাই এখনও দেয়ালঘেঁষা।

তুই আগের মতোই সবকিছু হাতড়ে বেড়াস কেমন, মা বললেন।

হ্যাঁ, দেরাজ না খুললে যেন তার চলেই না; প্রবল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে খুলতে গেলেও আসলে দেরাজের ভেতরে অতি নগণ্য প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। দেরাজের নিরাভরণ চেহারাটাও তাকে আকর্ষণ করে। দেরাজের ড্রয়ারগুলো খুলে দেখতে পায় দুতিন রকমের ওষুধ–বাড়ির মানুষদের জন্য দরকারে কোনো রকমে চালিয়ে নেয়ওার মতো ওষুধ। সেখানে দুতিন রকমের পুরনো খবরের কাগজ, কয়েক টুকরো সুতা, পড়ে থাকা কয়েকটা বোতামভরা কয়েকটা কার্ডবোর্ড বাক্স আর সবার পরিচিতিমূলক পুরনো একটা ছবির সঙ্গে মিশে আছে। এখানে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর চেহারাও মলিন; কারণ অপ্রয়োজনীয় জিনিস তাদের কখনোই ছিল না।

জ্যাকের ভালো করেই জানা আছে, তার নিজের বর্তমানের বাড়ির মতো জায়গায় যেখানে সবকিছুর প্রাচুর্য আছে তার মাকে সেখানে নিয়ে গেলেও মা শুধু অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোই ব্যবহার করবেন। সে জানে, পাশের ঘরটায় মা থাকেন; সেখানে রয়েছে একটা ছোট আলমারি, একটা সরু বিছানা, কাঠের একটা ড্রেসিং টেবিল আর নিচে খড় দেওয়া একটা চেয়ার। ঘরটার একটা জানালায় হাতে বোনা নকশাঅলা একটা পর্দা ঝুলছে। তা ছাড়া আর তেমন কিছু সেখানে পাওয়া যাবে না। বড় জোর ড্রেসিং টেবিলটার উপরে মোড়ানো একটা রুমাল থাকতে পারে। মা আগে সেরকমই রাখতেন।

(চলবে)

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা