বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান

সৈকতে যেতে ভেড়ার পথ নামক একটা এলাকা পর হতে হতো। কারণ আসলেই আলজিয়ার্সের মাইসন কারি বাজারে যাওয়া আসার পথে অনেক ভেড়া ওই পথে যাতায়াত করত। আসলে সেটা ছিল একটা পার্শ্বিক রাস্তা। সমুদ্র আর শহরকে বিভাজনকারী এই রাস্তাটা এম্পিথিয়েটারের মতো পাহাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। রাস্তা আর সমুদ্রের মাঝে ছিল কারখানা, ইটের ভাটা, গ্যাসের কারখানা; রাস্তাটা কাদামাটি কিংবা চুনাগুড়ার আস্তরণে ঢাকা বালিময় এলাকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন ছিল অন্য সবকিছু থেকে। সেখানে লোহা আর কাঠের ছাঁট সাদায় পরিণত হতো। সাবলেতেস সৈকতে পৌঁছতে হলে ওই ঊষঢ় এলাকাটা পার হতে হতো। সৈকতের বালির মধ্যে থাকত ময়লা আবর্জনা। আর প্রথম ঢেউয়ের পানি সব সময় পরিষ্কার থাকত না। ডান দিকের গণগোসলখানায় কেবিন ছিল। রণপায়ের ওপর স্থাপিত কাঠের বাক্সের আকারের হলে ছুটির দিনে নাচার ব্যবস্থাও থাকত।

জমজমাট মৌসুমে ফ্রেঞ্চ-ফ্রাইঅলা সৈকতে স্টোভ জ্বালাত। জ্যাকদের ছোট দলের কারো কাছে বেশিরভাগ সময়ই এক ঠোঙা আলুভাজা খাওয়ার পয়সাও থাকত না। যদি কখনও তাদের কারো কাছে ভাজা কেনার পয়সা থাকত তাহলে সে ঠোঙা হাতে গম্ভীর চালে সোজা সৈকতের দিকে হাঁটা দিত। পেছনে বাকিরা তাকে সমীহের সঙ্গে অনুসরণ করত। সমুদ্রের ধারে আটকে থাকা ভাঙাচোরা পুরনো কোনো বজরার ছায়ায় পা বিছিয়ে বসে এক হাতে ঠোঙার নিচের অংশ অন্য হাতে ঠোঙার ওপরের অংশ ধরে থাকত যাতে একটা মচমচে টুকরোও যেন পড়ে না যায়। তাদের মধ্যে নিয়ম ছিল ঠোঙার মালিক সঙ্গীদের প্রত্যেককে সুগ্রাস হিসেবে একটা করে টুকরো দেবে এবং তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে গরম গরম ওই এক টুকরো খেয়ে কড়া তেলের স্বাদে আহাউহু করে উঠবে। ঠোঙার ভাগ্যবান মালিক বাকি টুকরোগুলো আয়েশ করে খাবে এবং বাকিরা তার খাওয়া দেখবে। টুকরোগুলো শেষ হয়ে গেলে ঠোঙার তলায় পড়ে থাকা আলু ভাজার গুঁড়োগুলো খাওয়ার জন্য সঙ্গীরা পেটুক মালিকের কাছে অনুনয় বিনয় করত। ঠোঙার মালিক কিপটে জাঁ ছাড়া অন্য কেউ হলে সাধারণত ঠোঙাটা ছিড়ে ভেতরের অংশটা বাইরে এনে প্রত্যেককে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একেকটা টুকরো খেতে দিত। তখন সবার মাঝে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত কে আগে নেবে, কে বড় টুকরোটা নেবে।

খাওয়া-পর্ব শেষ হয়ে গেলে আনন্দ আর হতাশার কথাও তারা ভুলে যেত। এরপর সৈকতের পশ্চিম প্রান্তের দিকে দৌড় শুরু করত সবাই। পশ্চিম প্রান্তে ছিল ইটসুরকির একটা ভাঙা কাঠামো। হয়তো কোনো এক সময়কার বাংলোর ভিত্তি ছিল সেটা। ওই কাঠামোটার কাছে না পৌঁছনো পর্যন্ত তাদের দৌড় চলতেই থাকত। কাঠামোটার আড়ালে সবাই পরনের কাপড় খুলে ফেলত। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সবাই দিগম্বর হয়ে যেত। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সবাই পানিতে নেমে আনাড়ি ভঙ্গিতে সাঁতার কাটত, চিৎকার ছুড়ে দিত, মুখ থেকে কুলি করে পানি ছিটিয়ে দিত, কে কত গভীরে ডুব দিতে পারে কিংবা কে সবচেয়ে বেশিক্ষণ পানির নিচে ডুব দিয়ে থাকতে পারে তার বাজি ধরত।

সমুদ্র শান্ত এবং উষ্ণ; তাদের ভেজা মাথার ওপরে সূর্যের হালকা আলো পড়ত আর আলোর ঔজ্জ্বল্য তাদের কচি শরীরের ওপর পড়ার ফলে থেকে থেকে আনন্দের চিৎকার ছুড়ে দিত তারা। জীবনের ওপরে এবং সমুদ্রের ওপরে তারা রাজত্ব করত তখন। অভিজাত লোকদের মতো তারা মনে করত, তাদের সম্পদের কোনো সীমা নেই। বেপরোয়ভাবে তারা পৃথিবীর এই দানের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপহার উপভোগ করত।

সমুদ্র আর সৈকতের মাঝে ওঠা নামা করতে করতে তারা সময়ের কথা ভুলে যেত। বালির ওপরে উঠে আসলে তাদের শরীর আঠালো মনে হতো আর সমুদের পানিতে নেমে আবার সাদা পোশাকের মতো বালি ধুয়ে ফেলত। তারা এরপর দৌড়তে থাকত এবং দৌড়ের সঙ্গে তাদের চিৎকার আশপাশের কারখানাগুলোর মধ্যে ডুবে যেতে থাকত। তখন আকাশ ফাঁকা হয়ে যেত এবং দিনের তপ্ত হালকা কুয়াশা উঠে গেলে চারপাশ পরিষ্কার হয়ে উঠত, তারপর সবুজাভ আভা ছড়িয়ে পড়ত। আলো কমে আসলে উপসাগরের অন্য পাশটা তখনও মনে হতো কুয়াশায় ঢাকা। বাড়িঘর আর শহরের ঢালু বিস্তার আরও সুস্পষ্ট মনে হতো। তখনও দিন; তবু আফ্রিকার সংক্ষিপ্ত গোধূলির প্রস্তুতি হিসেবে বাতি জ্বালানো হতো তখনই।

সবার আগে সাধারণত পিয়েরে সংকেত দিত, দেরি হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে যেত, যতদূর সম্ভব দ্রুত বিদায়। অন্যদের কথা মোটেও না ভেবে যোসেফ এবং জাঁর সঙ্গে বাড়ির দিকে দৌড়তে থাকত জ্যাক। সৈকতের সীমানার বাইরে না আসা পর্যন্ত তারা ঘোড়ার দুলকি দৌড়ের গতিতে চলতে থাকত। তাদের জানা ছিল, যোসেফের মায়ের হাত ভালোই চলে; জ্যাকের নানির হাতও। দ্রুত নেমে আসা রাতের মধ্যে তারা দৌড়ত। গ্যাসের প্রথম আলো জ্বলে উঠলে তাদের আত্মা চমকে উঠত। তাদের সামনে থেকে ট্রলি বাসগুলো আলো জ্বালিয়ে দূরে বিলীন হয়ে যেত। আরও দ্রুত দৌড়তে দৌড়তে তারা দেখতে পেত, রাত ইতোমধ্যে জেঁকে বসেছে। শেষে দরজার কাছে এসে জ্যাক ওদের থেকে আলাদা হয়ে যেত বিদায় না জানিয়েই।

এ রকম সব সন্ধ্যায় জ্যাক পুতিগন্ধময় সিঁড়ির কাছে এসে দেয়ালে হেলান দিয়ে খানিক দাঁড়িয়ে থাকত যাতে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু অপেক্ষা করতে পারত না। আতঙ্কে বরং হৃদস্পন্দন আরও বেড়ে যেত। তিন লাফে সিঁড়ির মাঝখানে, টয়লেটের দিকে যাওয়ার দরজা দিয়ে সোজা মেঝের দিকে পা বাড়াত এবং দরজা খুলত। খাবার ঘরের কোণায় আলো জ্বলত। থালাবাসনের সঙ্গে ঘষা খাওয়া চামচের ক্যাচক্যাচানি শোনা যেত। আরও সামনে প্রবেশ করে দেখত, তার আধো বোবা মামা সশব্দে সুপ পান করে যাচ্ছে। মায়ের বয়স তখনও অল্প ছিল। ছড়িয়ে পড়া বাদামী চুলের আড়ালে মায়ের শান্ত চাহনি চোখে পড়ত। মা কথা বলা শুরু করতেন, তুই ভালো করেই জানিস....।

কিন্তু জ্যাক তখন নানির শুধু পেছন পাশটা দেখেছে যখন তিনি তার মেয়ের কথার মাঝে নিজেই কথা বলা শুরু করে দিয়েছেন। কালো পোশাকে নানির শরীর ঋজু; মুখাবয়ব কাঠিন্যে ভরা; সোজাসুজি কড়া চোখে তাকিয়ে নানি জিজ্ঞেস করতেন, কোথায় ছিলি?

–পিয়েরে আমার পাটীগণিতের বাড়ির কাজ দেখিয়ে দিচ্ছিল।

সোজা হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে নানি তার কাছে এসে জ্যাকের চুল শুঁকতেন। তারপর জ্যাকের পায়ের দিকে হাত দিয়ে দেখতেন–বালির আস্তরণে ঢাকা পড়ে আছে গোড়ালি।

–তুই সৈকতে গিয়েছিলি।

মামা কোনো রকমে বলে উঠতেন, তাহলে তুমি মিথ্যে বলছ।

জ্যাকের পিছন দিকে এগিয়ে গিয়ে নানি দরজার পেছন থেকে কড়া চাবুকটা নিয়ে আসেন। পায়ের নিচের দিকে এবং পাছায় সপাং সপাং বাড়ি মারেন গোটা চারেক। ব্যথায় চিৎকার দিয়ে ওঠে জ্যাক। একটু পরে মুখ আর গলা অশ্রুতে ভরে গেলেও মামার দয়াপরবশ হয়ে দেওয়া সুপের প্লেট সামনে নিয়ে জ্যাক আপ্রাণ চেষ্টা করে চোখ বেয়ে যেন অশ্রু না নামে। নানির দিকে এক নজর তাকিয়ে মা তার কাছে উঠে আসেন। মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে জ্যাক ভেতর থেকে অনুভব করতে থাকে, এই তার একমাত্র প্রিয় মুখ। মা বলেন, তোর সুপ খেয়ে ফেল। আর কিছু বলবে না। আর কিছু বলবে না। জ্যাক তখন সব প্রচেষ্টা ছেড়ে দিয়ে কান্নায় ভাসতে থাকত।

জ্যাক করমারি জেগে উঠেছে। ঘুলঘুলির তামার ওপরে আর সূর্যের আলো পড়ছে না। সূর্য দিগন্তে অস্ত গেছে। কেবিনের কাঠের আচ্ছাদনের ওপর আলো পড়ছে। পোশাক পরে নিয়ে জ্যাক ডেকের দিকে পা বাড়াতে থাকে। রাত শেষ হলেই আলজিয়ার্সের দেখা পাবে সে।

(চলবে)

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা। ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিরপুর এলাকার সাবেক সমন্বয়ক তানিফা আহমেদ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১০ জন নিহত হন, যার মধ্যে তানিফা আহমেদও ছিলেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তানিফার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি লেখেন— “তানিফা আহমেদ ছাত্র আন্দোলনের প্রতি অত্যন্ত নিবেদিত ছিলেন এবং তিনি সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতেন। তার অকালমৃত্যু সংগঠনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

তানিফার আকস্মিক মৃত্যুতে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উমামা ফাতেমা বলেন, “তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, বরং বিশ্বাস ও আদর্শের জন্য কাজ করে গেছেন।”

সংগঠনের পক্ষ থেকে তানিফার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং তার সহকর্মীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

উমামা ফাতেমা আল্লাহর কাছে তানিফার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করার দোয়া করেন।

 

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আখাউড়ায় ট্রেনের ছাদে টিকটক বানাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, নিহত ২