বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান

সেন্ট ব্রিউক এবং মালান (জে জি)

সেদিন সন্ধ্যায় ডিনারে বসে জ্যাক করমারি তার পুরনো বন্ধুর খাওয়া দেখছিল: ভেড়ার পায়ের মাংসের দ্বিতীয় খণ্ড সে বিরক্তিকর রকমের রাক্ষুসে কামড় দিচ্ছে। সমুদ্র তটের দিকে চলে যাওয়া রাস্তার ধারের ওই এলাকার ওই বাড়িটাতে যে বাতাস ঢুকছে সে বাতাসও যেন নিচু ছাদঅলা বাড়ির ভেতর মৃদু গর্জন তুলছে। বাড়িতে ঢোকার সময় জ্যাক খেয়াল করেছে, ফুটপাতের পাশে পয়োনালিতে বেশ কয়েক টুকরো শুকনো শেওলা পড়ে আছে। শেওলার টুকরোগুলোর লবণাক্ত গন্ধ থেকে বুঝতে পেরেছে, ধারে কাছেই সমুদ্র আছে।

ভিক্টর মালান তার কর্মজীবনের পুরোটাই শুল্ক প্রশাসনের কাজে ব্যয় করে অবসরে গেছে এই ছোট শহরে। অবসরের জন্য সে নিজে এই জায়গা বেছে নেয়নি; তবে এর পক্ষে তার সাফাই হলো, তার নিঃসঙ্গ ধ্যানমগ্নতা থেকে কোনো কিছুই তার মনোযোগ নষ্ট করতে পারবে না: না বাড়তি সৌন্দর্য, না বাড়তি কদর্যতা, না খোদ নির্জনতার আতিশয্য। বিভিন্ন বিষয়ের প্রশাসন এবং মানুষজনকে বিভিন্নভাবে ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার অভিজ্ঞতা থেকে তার অনেক কিছুই শেখা হয়েছে। তবে প্রথমত এবং বাহ্যত আমাদের জানার পরিধি খুবই সীমিত পরিসরের। তারপরও অভিজ্ঞতা থেকে মালানের শিক্ষাদীক্ষা অনেক হয়েছে। জ্যাক করমারি তার প্রশংসা করে থাকে খোলা মনেই। বিশেষ করে যখন উল্লেখযোগ্য মানুষদের মামুলিত্ব খুব বেশি চোখে পড়ার মতো তখন মালান তার নিজস্ব চিন্তা চেতনার জন্য নিজেকে এক আলাদা ব্যক্তিত্বে পরিণত করতে পেরেছে। যে করেই হোক, তার আপাত বিভ্রান্তিকর আনুকূল্য প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বাইরের অবস্থার ভেতরে আসলে সে নিজস্ব মতামতের ব্যাপারে আপোষহীনভাবেই অবিমিশ্র।

মালান বলে, বৎস, তুমি যেহেতু তোমার মাকে দেখতে যাচ্ছ তোমার বাবার ব্যাপারেও খোঁজ-খবর করে দেখার চেষ্টা করো। তারপর ফিরে এসে তাড়াতাড়িই আমাকে জানাও পরবর্তীতে কী ঘটেছে। সব কিছু হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মতো বলে মনে হয় না আমার।

জ্যাক বলে, হ্যাঁ, ব্যাপারটা তো সেরকমই। তবে এখন আমার আগ্রহ যেহেতু জেগে উঠেছে আমি আরো কিছু তথ্য যোগার করার চেষ্টা করতে পারি। আমি যে এতদিন এ ব্যাপারে উদাসীন ছিলাম সেটাই আসলে রোগ নির্ণয়ের মতো বিষয়।

না, সেরকম নয় মোটেই। এখানে বরং প্রজ্ঞার কথা বলতে পারো। তুমি তো মার্থাকে চিনতে। ওর সঙ্গে আমার বিবাহিত জীবন ত্রিশ বছরের। চমৎকার মানুষ একজন। এখনও ওর কথা খুব মনে পড়ে। আমি আগে সব সময়ই মনে করতাম, মার্থা নিজের বাড়ি খুব পছন্দ করে।

অন্য দিকে তাকিয়ে মালান আরো বলে, সন্দেহ নেই, তোমার কথা ঠিকই। জ্যাক মনে মনে অপেক্ষা করতে থাকে; তার অনুমোদনের বিপক্ষে আপত্তি আসবেই।

মালান আাবার শুরু করে, তা সত্ত্বেও আমি নিশ্চিত, জীবন যতদূর আমাকে শিখতে দিয়েছে তার চেয়ে বেশি কিছু শেখার ব্যাপারে আমি নিজেকে নিবৃত্ত করেছি। অবশ্য আমি জানি, হয়তো সেটা আমার ভুলই হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আমি একটা খারাপ উদাহরণ, তাই না? যখন সবকিছু বলা হয়ে গেছে এবং করা হয়ে গেছে তখন আমি আর কোনো চেষ্টা করিনি; মানে দোষটা আসলে আমারই। আর তুমি, তুমি তো বেশ করিৎকর্ম হে। শেষের কথাগুলো বলার সময় মালানের চোখ সামান্য দুষ্টুমিতে নেচে ওঠে।

মালানের চেহারা চীনাদের মতো:
গোলাকার মুখ, নাক খানিকটা চ্যাপটা, চোখের ওপরে ভ্রু নেই বললেই চলে, চুলের কেতা তার মাথায় অনেকটা পুডিংয়ের বাটি সদৃস চেহারা দান করেছে। আর তার গোঁফ বিরাট হলেও মোটা ইন্দ্রিয়জ ঠোঁটকে আড়াল করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার নরম গোলাকার শরীর, মাংসল হাত এবং বেঁটে খাটো আঙুলগুলো পায়ে হাঁটতে নারাজ কোনো মান্দারিন পর্যটকের কথা মনে করিয়ে দেয়। আয়েশ করে খাওয়ার সময় সে যখন চোখ বন্ধ করে তার চেহারা দেখে মনে না করার উপায় নেই, সে সিল্কের পোশাক পরে চপস্টিক হাতে খাচ্ছে না। তবে তার ভঙ্গি বদলেও যায়: তার অস্থির এবং আকস্মিক একাগ্র কালো চোখ সত্ত্বেও যখন কোনো বিশেষ বিষয় নিয়ে তার মন নিবিষ্ট থাকে তখন মনে হয় এই চোখ জোড়া মহান সংবেদনশীলতা আর সংস্কৃতির ধারক বাহক কোনো পাশ্চাত্যের মানুষের।

বৃদ্ধা এক চাকরানী একটা পনিরের ট্রে নিয়ে এল। মালান পনিরের দিকে চোখের কোণা দিয়ে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মালান বলল, আমি একজনকে চিনতাম; তার স্ত্রীর সাথে ত্রিশ বছর কাটিয়েছে...., আমি এরকম একজনকে চিনতাম ....,, কিংবা, এক বন্ধুকে আমি চিনতাম...., একজন ইংরেজ একবার আমার সহযাত্রী হয়েছিলেন.... মালান যখনই এরকম বলা শুরু করে জ্যাক তখন আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে শোনে। যেমন .... ওই লোকটা পেস্ট্রি পছন্দ করত না। তার স্ত্রীও কোনো দিন পেস্ট্রি খেত না। বিশ বছর এক সঙ্গে কাটানোর পর লোকটা তার স্ত্রীকে একদিন পেস্ট্রির দোকানে পেয়ে গেল। তারপর স্ত্রীর ওপর নজর রেখে দেখতে পেল, সে ওখানে সপ্তাহে বেশ কয়েকবার করে যায় কফির কেক খেতে। হ্যাঁ, লোকটা মনে করেছিল, তার স্ত্রী মিষ্টি পছন্দ করে না, অথচ সে কফির কেক খেতে যায়।

জ্যাক বলল, তাহলে আমরা কাউকেই ভালো করে চিনি না।

সেটাই মনে করতে পারো। সবকিছু ইতিবাচক বলে বর্ণনা করার ব্যাপারে আর্মা নিজের দোষ থাকতে পারে। তবে আমার কাছে আরো সঠিক বলে মনে হয় বা আমি বলতে পছন্দ করি, যদি বিশ বছর এক সঙ্গে বসবাস করেও কাউকে চেনা না যায় তাহলে কারো মৃত্যুর চল্লিশ বছর পর তার ব্যাপারে অনুসন্ধান করাটা অগভীর থেকেই যেতে পারে। সীমিত তথ্য পাওয়ার একটা ঝুঁকি থেকে যায় তাতে। হ্যাঁ, এই মানুষটির সম্পর্কে পাওয়া তথ্য যে কেউই সীমিত বলতে পারে। অবশ্য অন্য অর্থে....।
তারপর মালান একটা ছুরি তুলে নিয়ে সেটাকে ছাগলের পনিরের ওপরে অদৃষ্টবাদীর মতো করে নামিয়ে বলল, ইয়ে, তুমি পনির খাবে না, না? এখনও এত মিতাহারী তুমি? তোমাকে খুশি করা খুব কঠিন।

তার আধো বোজা চোখের ওপর আবারো দুষ্টুমির আভা ছড়িয়ে পড়ল।

করমারি তার এই পুরনো বন্ধুকে বিশ বছর ধরে চেনে। তার পরিহাস সে সানন্দচিত্তেই গ্রহণ করে থাকে। সে বলল, আমাকে খুশি করার ব্যাপার নয়। বেশি খেলে আমার শরীর স্থূল হয়ে যায়। আর স্থূল হলেই তো রসাতল।

হ্যাঁ, তা তো বটেই। তা না হলে তো তুমি আমাদের বাকি সবার ওপর দিয়ে উড়তে পারো না।

করমারি নিচু ছাদঅলা সাদা রং করা ডাইনিং রুম বোঝাই সাদাসিধা অথচ সুদর্শন আসবাবপত্রের দিকে নজর রেখে বলল, বন্ধু, তুমি হয়তো সব সময়ই ভেবেছো, আমি উগ্র। অবশ্যই আমি উগ্র। তবে সব সময় নই এবং সবার সঙ্গে নই। যেমন তোমার সঙ্গে উগ্রতা দেখাতে একেবারেই অপারগ আমি।

মালান অন্য দিকে দৃষ্টি ফেরাল। তার মানে আবেগের মুহূর্তগুলোতে সে এরকমই করে থাকে। সে বলল, হ্যাঁ, সেরকমই দেখেছি। কিন্তু কারণটা কী?

করমারি শান্ত কণ্ঠে বলল, কারণ তোমার জন্য আমার ভালোবাসা আছে।

মালান ঠাণ্ডা করা ফলের বাটিটা নিজের দিকে টেনে নিল। মুখে কিছু বলল না।

করমারি বলেই চলল, যখন আমার বয়স খুব অল্প ছিল, প্রচণ্ড রকমের বোকা ছিলাম, একা ছিলাম। আলজিয়ার্সের সেই দিনগুলোর কথা তোমার মনে আছে? তখন তুমিই আমার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলে আর এই জগতে আমার যা কিছু ভালো লাগতো সেসবের দরজাগুলো আমার জন্য খুলে দিয়েছিলে।

আরে না। তোমার নিজের যোগ্যতা ছিল বলেই।

অবশ্যই ছিল। কিন্তু যোগ্যতম মানুষের জন্য আরেকজন মানুষ দরকার হয় যিনি তাকে শুরু করিয়ে দেন। চলার পথে জীবন যে মানুষটাকে উপহারের মতো এনে হাজির করে সে মানুষটাকে তো চিরদিন ভালোবাসতেই হবে, শ্রদ্ধা করতেই হবে। এমনকি সেই মানুষটার মধ্যে দায়িত্ব বোধের ঘাটতি থাকলেও। আমার ত্রুটি হয়তো সেখানেই।

মালান বিনয়ের সঙ্গে বলল, হ্যাঁ, সেটাই।

আমি জানি তোমার পক্ষে এটা বিশ্বাস করা কঠিন। তবে মনে রেখো তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা অন্ধ নয়। তোমারও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে, বেশ বড় ত্রুটিই আছে, অন্তত আমার দৃষ্টিতে।
লান তার মোটা ঠোঁট চাটতে লাগল। তাকে আগ্রহী মনে হচ্ছে। জিজ্ঞেস করল, কী দোষত্রুটি?

যেমন তুমি মিতব্যয়ী। অবশ্যই বলতে পারি, তুমি লোভের বশবর্তী হয়ে মিতব্যয়ী হওনি। তবে ভয় থেকে মিতব্যয়ী হয়েছ। ভয় মানে কপর্দকহীন হওয়ার ভয়। এটাও একটা ত্রুটি। আমি সাধারণত এই ত্রুটিটা পছন্দ করতে পারি না। তবে সর্বোপরি তুমি অলক্ষিত প্রণোদনা সম্পর্কে অন্যদেরকে সন্দেহ না করে পারো না। অন্যদেরও যে নিরপেক্ষ মতামত থাকতে পারে সে ব্যাপারে তুমি সহজাতভাবে অবিশ্বাসী।

মালান মদ শেষ করে বলল, শোনো, আমার কফি খাওয়া উচিৎ নয়। তবু...।
করমারি তবু বলেই চলল, যেমন ধরো তুমি কিছুতেই নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারতে না। যদি আমি তোমাকে বলতাম, তুমি শুধু মুখ দিয়ে চাইলে আমার যা কিছু আছে সব আমি তোমাকে দিয়ে দিতে পারতাম, তবু পারতে না।

মালান তার বন্ধুর দিকে দ্বিধান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলল, আহা, আমি জানি তো, তুমি খুব উদার।

না, আমি উদার নই। যেসব বিষয় আমাকে ক্লান্ত-বিরক্ত করে সেসব বিষয়ে আমি সময় এবং শক্তি খরচের ব্যাপারে ব্যয়কুণ্ঠ। তবে আমি যা বলছি তা সত্যি। তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো না এবং এটাই তোমার ত্রুটি। একজন উঁচু মাপের মানুষ হয়েও এখানেই তুমি অসহায়। কারণ এটাই তোমার ভুল। আরেকটা কথা, এখন আমার যা কিছু আছে সব তোমার। তোমার আর এর কোনো দরকার নেই এবং এটা একটা উদাহরণ মাত্র। তবে আমি এটা অযৌক্তিকভাবে বেছে নিইনি। সত্যিই আমার সবকিছুই তোমার।

চোখ আধোবোঁজা রেখেই মালান বলল, সত্যিই তোমাকে ধন্যবাদ। আমি অভিভূত।

ঠিক আছে। আমি তোমাকে বিব্রত করছি। যারা খোলামেলা কথা বলে তাদের তোমার পছন্দ নয়। আমি শুধু বলতে চাই তোমার সব দোষত্রুটিসহই আমি তোমাকে ভালোবাসি। খুব কম মানুষকেই আমি ভালোবাসি কিংবা গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। অন্যদের ব্যাপারে বলব, তাদের প্রতি আমার উদাসীনতার জন্য আমি লজ্জিত বোধ করি। কিন্তু যাদেরকে আমি ভালোবাসি তাদেরকে ভালোবেসেই যাই; অন্য কিছু কিংবা অন্য কেউ এমন কি তারা নিজেরাও আমার এ ভালোবাসা থেকে নিরত রাখতে অক্ষম। এ সত্যটা বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে। এখন আমি পরিষ্কারভাবেই জানি। আমার যা বলার বলা হয়েছে। তাহলে এবার আমাদের কথায় আসা যাক: আমার বাবার সম্পর্কে খোঁজ খবর করাটা তুমি সমর্থন করো না।

না, সেরকম নয়। বলতে গেলে, আমি সমর্থনই করি। আমার আশঙ্কা ছিল, তুমি হয়তো হতাশ হতে পারো। আমার এক বন্ধু এক মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকে বিয়ে করার জন্য অন্যদের কাছ থেকে তার সম্পর্কে জানতে গিয়ে ভুল করে ফেলে।

 

(চলবে)

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

 

 

 

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে রাঙামাটির বাঘাইহাট ও সাজেক পরিদর্শন শেষে স্থানীয় বিজিবি সেক্টরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর সমতলের অনেক থানার অস্ত্র লুট হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধার হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।”

পাহাড়ের উন্নয়নকে সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে তিনি বিজিবির বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের খোঁজ-খবর নেন। এছাড়া, তিনি রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর পরিদর্শন করেন।

সাজেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঘটনা ঘটেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা