বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-২০

কয়েকদিন পরে কায়রো ফিরে মনে হলো নিজের বাসায় ফিরেছি। একটু রাত করে নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে বেশ বেলা করে যখন উঠেছি তার আগেই সৌরভ অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে গেছে। আমরা ধীরে-সুস্থে ঘরে নাস্তা বানিয়ে খেয়ে কিছুটা সময় আলসেমি করে বাইরে বেরোতে সাড়ে এগারোটা বেজে গেল। হাঁটতে হাঁটতে আল মাদি স্টেশনে যাবার পথে রানা ভাই দুই দুটো ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। লুক্সরেও আমাদের একই অভিজ্ঞতা হয়েছে। ফলে বুঝলাম মিশরের বেশিরভাগ এটিএম বুথ অনেক সময় খারাপ থাকে। 

এল মাদি থেকে ট্রেনে চেপে দুটো স্টেশন পার হবার পরে রানাভাই বললেন, আমরা তো উল্টো দিকে যাচ্ছি।’ তিনি যেহেতু আগে একবার কায়রো এসে গেছেন, সেই কারণে আমি নিজে কোনো কিছু না দেখে তাকে কেবল অনুসরণ করেছি মাত্র। উল্টো পথের যাত্রা নিশ্চিত হবার পরে পরবর্তী স্টেশন কোজিকায় নেমে গেলাম। ওভার ব্রিজ দিয়ে প্লাটফর্ম বদলে ওপারে যাবার পরপরই সঠিক পথের ট্রেন এসে দাঁড়াল। ট্রেনে উঠেই শূন্য আসনে বসে পড়তে পেরেছি তিনজনই। মহিলাদের জন্য নির্ধারিত কামরা থাকলেও পুরুষের কামরায় মহিলাদের উঠতে মানা নেই।

হিজাব-নিকাব-বোরকার পাশাপাশি টিশার্ট-জিনস কিংবা স্কার্ট-টপস পরিহিতাদেরও একই কামরায় আসা যাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। যাত্রীদের কেউ কারো দিকে তাকায় বলেও মনে হলো না। বরং আমিই আমাদের উল্টো দিকের সিটে বসা মেরুন রঙের বোরকায় আবৃত এক মহিলাকে আড় চোখে কয়েকবার দেখে নিলাম। কিছুক্ষণ পরপরই তিনি যখন তার বোরকার লম্বা জিহ্বা তুলে একটা করে চকলেট মুখে পুরে দিচ্ছিলেন আমার মনে হচ্ছিল তিনি লেটারবক্সের ঢাকনা তুলে একটা করে চিঠি পোস্ট করছেন। 

একে একে তোরা এল বালাদ, এল মাদি, দার এল সালাম, জগলুল নামের গোটা দশেক স্টেশন পার হয়ে যেখানে এসে আমরা নেমে গেলাম, সেই স্টেশনটির নাম সাদাত এবং পরের স্টেশনই নাসের। আনোয়ার সাদাত বা গামাল আব্দুল নাসেরের লম্বা চওড়া নাম বাদ দিয়ে শুধুই সাদাত এবং নাসের। এতে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্টদের কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হয়নি, বরং স্টপেজের সংক্ষিপ্ত নামই মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। সাদাত স্টেশনটি এদেশের মেট্রোর সমসাময়িক, অর্থাৎ পঁত্রিশ বছরের পুরোনো। ইওরোপ এবং এশিয়ার যে সব দেশে মেট্রোরেলে আসা যাওয়া করেছি তার সবগুলোই ভীষণ পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে। সেই তুলনায় মিশররের মেট্রোরেল এবং স্টেশন অনেকটাই নিষ্প্রভ। আফ্রিকায় অবশ্য কায়রো এবং আলজিয়ার্স ছাড়া আর কোনো শহরে মেট্রো নেই। সেদিক থেকে কায়রো অনেক এগিয়ে আছে। 

বেশ বড় মেট্রো স্টেশন সাদাত থেকে অনেকগুলো বাইরে বেরিয়ে যাবার পথ। পথ খুঁজে বাইরে বেরোতে আমাদের বেশ সময় লেগে গেল। সাদাত থেকে সঠিক পথে বাইরে বেরোতে পারলে মিনিট খানেক পায়ে হেঁটেই তাহরির স্কয়ার পৌঁছানো যায়। আমরা একটু ভুল পথে বেরিয়েও মিনিট পাঁচেক হেঁটে গোটা পাঁচেক বড় রাস্তার সংযোগস্থলের যে বিশাল সড়ক দ্বীপে এসে পৌঁছলাম সেটিই বিখ্যাত তাহরির স্কয়ার।  

তিউনিশিয়ায় ২০১০ সালে স্বৈরশাসকের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আরব বসন্ত নামে যে গণজাগরণ ঘটেছিল তার ঢেউ এসে লেগেছিল মিশরসহ আর বিশ্বের আরও অনেক দেশে। সে সময় মিশরে সমাজের বিভিন্ন আর্থ সামাজিক স্তরের লাখ লাখ বিক্ষুব্ধ মানুষ তাহরির স্কয়ার এবং সংলগ্ন এলাকায় সমবেত হয়ে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পদত্যাগের দাবি জানায়। গণ বিরোধী রাষ্ট্রীয় জরুরি আইন, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, পুলিশি নির্যাতন, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব এবং ঘুষ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভুত ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কায়রো। 

গণ আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালের এগারোই ফেব্রুয়ারি হোসনি মোবারক পদত্যাগ করলেও সমস্যা সমাধান হয়নি। সামরিক বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল ক্ষমতা দখল করে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে। ২০১২ সালে নির্বাচনে জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইসলামিক ব্রাদারহুডের মোহম্মদ মুরসি। একটি ইসলামপন্থী সংবিধান পাশ করানোর চেষ্টা করে মুরসি পার্লামেন্টের ভেতরে বাইরে, জনগণ এবং সামরিক বাহিনীর তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। 
গণরোষকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ এল সিসি সেনাবাহিনীর সহায়তায় মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২০১৪ সালে আবারো একটি নির্বাচন দিয়ে নিজেই প্রেসিডেন্ট হয়ে বসে পড়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতার রদবদল ছাড়া তাহরির স্কয়ার ঘিরে জনগণের বিক্ষোভ সংগ্রামের ফলাফল একেবারেই শূন্য।  

দুপুরের এই সময়টাতে তাহরির স্কয়ারে খুব একটা জনসমাগম নেই। চত্বরে সবুজ ঘাস এবং ছোট ছোট গাছপালার ভেতরে ভেতরে বেঞ্চ পাতা। পাথরের বেদীতে বসানো ভাস্কর্যটি কার তা না জেনেই ক্যামেরা বের করে ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রাখতেই বেঞ্চে বসা নীল পোশাকধারী দুজনের একজন এগিয়ে এসে হাসিহাসি মুখে বললো, লা তসবির, লা তসবির, তসবির মানে ছবি আগে থেকেই জানতাম আর লা মানে যে না অথবা নাই সে তো মুসলমান মাত্রেরই জানা। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ... মানে যদি আল্লাহ ছাড়া উপাস্য নেই হয়, তাহলে লা তসবির মানে ছবি নাই। এই এলাকায় ছবি তোলা যে নিষিদ্ধ, তা কিন্তু কোথাও লেখা নেই। কোনো বোর্ডে-বিজ্ঞপ্তি দিয়েও জানানো হয়নি। পরে খেয়াল করে দেখলাম তাহরির চত্বরের চারিদিকে নীল রঙের বেসামরিক পোশাক পরা বেশ কিছু সংখ্যক সতর্ক প্রহরী আসলে পুরো স্কয়ারকে ঘিরে রেখেছে। কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, পোশাকধারী কোনো সরকারি বাহিনী নেই অথচ অদৃশ্য প্রহরার বেস্টনি দিয়ে ঘেরা বিদ্রোহ বিপ্লব সংগ্রামের সূতিকাগার তাহরির স্কয়ার। মুরসির কুরসি উল্টে যাবার অভিজ্ঞতা শাসকগোষ্ঠীর মনে এই চত্বর সম্পর্কেই একটা ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। তাই সিসি মহোদয়ের এই সাবধানতা।  কী মনে করে সতর্ক প্রহরী কাছে এসে বলল তোমরা ইচ্ছে করলে একটা ছবি তুলে রাখতে পারো, তার বেশি নয়।’ আমার ততোক্ষণে ছবি তোলার ইচ্ছে চলে গেছে। 

তাহরির স্কয়ার থেকে বেরিয়ে রাস্তার ওপারে যাবার জন্যে ট্রাফিক সিগনালে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, তারপরে রাস্তা পেরিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম কায়রোর জাতীয় জাদুঘরের দিকে। তাহরির স্কয়ারের দৃষ্টি সীমার মধ্যে আরব বিশ্বের প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের গোলাপি রঙের ভবনের দিকে এগোতে থাকি। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ ঈজিপ্টশিয়ান অ্যান্টিকুইটি নামে ১৯০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘর খুব শিগগিরই স্থান্তরিত হয়ে গ্রান্ড ঈজিপ্টশিয়ান মিউজিয়াম নামে গিজায় চলে যাবে। তখন এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর। এরই মধ্যে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবার ফলে জাদুঘরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন চলে গেছে গ্রান্ড মিউজিয়ামে। সম্প্রতি দ্বিতীয় তৃতীয় রামেসেস, প্রথম ও দ্বিতীয় আমেনহোতেপ, নেফারতারি এবং হাতসেপস্যুসহ ফারাও যুগের সম্রাট সম্রাজ্ঞীদের বাইশটি মমি রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতায় বাদ্য বাজনা বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে গ্রান্ড ঈজিপ্টশিয়ান মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপরেও কায়রোর পুরোনো মিউজিয়ামে ঢুকে পড়ার ইচ্ছে ছিল। রানাভাই ঘড়ি দেখে বললেন, এখন ২০০ পাউন্ড দিয়ে টিকেট কিনে ঘণ্টা দুয়েকের জন্যে মিউজিয়ামে ঢুকে দেখে শেষ করা সম্ভব হবে না। বরং অন্য কোনো দিন সকালের দিকে আসা যাবে।’ 

বাইরে থেকে মিউজিয়াম ভবন দেখে খানিকটা উল্টো দিকে হেঁটে আমরা মূল সড়ক ছেড়ে একটা অপ্রশস্ত পথে ঢুকে পড়লাম। বেলা প্রায় আড়াইটা বাজে, অতএব লাঞ্চের সময়ও পার হয়ে গেছে বলা যায়। পথে প্রথমেই যে রেস্টুরেন্ট চোখে পড়ল তার ঝকঝকে নাম ফলক এবং কাচের স্যুইংডোর দেখে বিভ্রান্ত হয়ে সেখানে ঢুকে পড়লাম। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হলঘরের ভেতরে তুমুল হৈ হট্টগোল চলছে। এক নজর চারিদিকে তাকিয়ে দ্রুত, বলা যায় ছিটকে বেরিয়ে এলাম। আবার ফুটপাথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে খানিকটা এগিয়ে একটা মোড়ের ওপরে পাওয়া গেল কায়রোর জনপ্রিয় স্ট্রিটফুডের ভ্যান। অনেকটা কলকাতায় রাস্তায় লুচি তরকারি আলুর দম পরিবেশনের মতো পরিবেশিত হচ্ছে রুটির ভেতরে ভাজা মাংসের কিমা পুরে শরমা কিংবা বনরুটির মধ্যে কাবাব জাতীয় কিছু একটা দিয়ে বার্গার। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় আলেক্সাদ্রিয়ান লিভার কিংবা সসেজ স্যান্ডউইচ। সসেজ জিনিসটা আমার পছন্দ নয় বলে পরীক্ষামূলকভাবে লম্বা ব্রেডের ভেতরে কলিজি ভুনার পুর দেয়া আলেক্সাদ্রিয়ান লিভার স্যান্ডউইচ এবং কোল্ডড্রিংকস দিতে বললাম। 

অল্প সময়ে লিভার স্যান্ডউইচ তৈরি হয়ে গেলে রাস্তার ওপার থেকে ঠাণ্ডা পানীয়ের বোতল আনিয়ে নিয়ে আমাদের হাতে ধরিয়ে দিলেন স্ট্রিটফুড কার্টের মধ্য বয়সী মালিক কাম বাবুর্চি। পাশেই একটি বন্ধ ভবনের সিঁড়ি দেখিয়ে দিয়ে বললেন, তোমরা বসে পড়ো না কেন। সত্যিই তো! রাস্তায় বসে না খেলে আর স্ট্রিটফুড খাওয়া কেন। আমরা যখন সিঁড়িতে বসে আলেক্সাদ্রিয়ান লিভার স্যান্ডউইচ সাবাড় করছি তখন স্কুল ড্রেস পরা একদল কিশোরী খাবারের গাড়িটা ঘিরে দাঁড়িয়ে গেছে। একে একে খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে কেউ কেউ আমাদের কাছাকাছি এসে বসেও পড়েছে। তারা প্রথমে আমাদের দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকাচ্ছিল আর মিট মিট করে হাসছিল। আমি যখন বললাম, তোমরা কি কিছু বলবে? তখন দু তিনজন হাসতে হাসতে এক অন্যজনের গায়ে গড়িয়ে পড়ল। খাবারের দাম মিটিয়ে আমরা যখন আবার হাঁটতে শুরু করেছি, তখন ফুডকার্টের বিশাল ছাতার নিচে ভিড় জমিয়েছে নতুন একদল তরুণ। কে জানে তাদের মূল আকর্ষণ আলেক্সাদ্রিয়ার স্যান্ডুইচ নাকি একঝাঁক রূপবতী কিশোরী! 

রানা ভাই বললেন, এখন এক কাপ কফি হলে ভালো হতো। আমিও ভাবছিলাম, কফি বা চা হলে মন্দ হতো না। একটু সামনে এগোতেই দুই সারি ভবনের মাঝখানে ছোট্ট এক কানাগলিতে দু পাশে চেয়ার টেবিল সাজিয়ে অস্থায়ী চা কফির আয়োজন। দুপাশে উঁচু ভবন ছাড়াও ভেঙে ফেলা একটা বাড়ির খালি জায়গায় ইট পাথরের স্তূপ। সে অংশটা অবশ্য পর্দা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। গোটা  কয়েক টেবিলে কয়েক জোড়া তরুণ-তরুণী কফির কাপ সামনে নিয়ে বসে আছে। বোরকা আবৃত তরুণীদের মুখ খোলা, তারা কথা বলে ফিসফাস করে কিন্তু হাসে উচ্চস্বরে। পথের রেস্তোরায় পথিক নেই কিন্তু চলছে ফেরিওয়ালা নারী পুরুষের বিরতিহীন আসা যাওয়া। মালা, মানিব্যাগ, চিরুনি, রুমাল, টুপিসহ অনেক কিছুই এখানে বসে কিনে ফেলা যায়। এক নারী হাতে কতগুলো তসবিহ ঝুলিয়ে আমাদের সামনে করুণ মুখ করে হাজির হতেই রানা ভাই তসবিহ না কিনেই তার হাতে একটা দশ পাউন্ডের নোট ধরিয়ে দিলেন।  

আমরা যে কফির কাপ সামনে নিয়ে বসেছিলাম, অ্যারাবিয়ান কফি নামের সেই বিস্বাদ কফির তলায় ঘন তলানি জমে, আমার খুব একটা ভালো লাগে না। আমাদের উল্টো দিকের এক টেবিলে বিভিন্ন বয়সের চারজন বসে ডমিনো খেলছেন। বেলা সাড়ে তিনটায় গলিপথের কফিশপে জমিয়ে আড্ডা দেওয়া বোধহয় মিশরীয়দের পক্ষেই সম্ভব। আমি টেবিল থেকে উঠে ডোমিনো খেলায় মগ্ন মানুষদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি, অনুমতি নিয়ে কয়েকটা ছবিও তুলি। এদের একজন আমাদের পরিচয় জানতে চান, কিন্তু বাকিদের খেলায় বিঘ্ন ঘটবে বলে আমি পরিচয় দিয়ে খুব বেশি কথা না বলেই নিজেদের টেবিলে ফিরে আসি। 

ফেরার পথে সাদাত মেট্রো স্টেশনে এবং ট্রেনে ভিড় বেড়েছে। এবারে তিন চারটে স্টেশন পার হবার পরে বসার জায়গা পেলাম। যাত্রীর ভিড় কমে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই ফেরওিয়ালার ভিড় বেড়েছে। মাস্কের ফেরিওয়ালা ঘোরাঘুরি করলেও বিক্রি হতে দেখিনি একটাও। অধিকাংশ যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই, দুতিনজন তাদের মাস্ক যথারীতি গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনের বাইরে বেরোতেই ফুটপাথ জুড়ে পসরা সাজিয়ে বসা নানা পণ্যের মাঝখানে জুতা সেলাইয়ের দোকানে সৌমকান্তি বৃদ্ধ লোকটিকে চোখে পড়ে। সাদা চুল দাড়ি মিলিয়ে তাকে চর্মকার নয়, দার্শনিক বলে মনে হয়। রানা ভাই জানালেন কয়েক বছর আগেও তাকে ঠিক একই জায়গায় একইভাবে বসে জুতা স্যান্ডেল মেরামত কিংবা পালিশ করতে দেখেছেন। হয়ত আরও বহু বছর দার্শনিক চর্মকার তার কর্ম করে যাবেন। তার দোকানের উল্টোপাশেই একটি বইপত্রের দোকান। হয়ত একেই বলে জুতা সেলাই থেকে চণ্ডিপাঠ। আমাদের দার্শনিক মুচির তেমন পাঠাভ্যাস আছে কিনা কে জানে! 

চলবে...  

আগের পর্বগুলো পড়ুন>>

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা: পর্ব-১৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১১

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১০

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৯

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৮

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৭

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৬

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৫

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৪

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ৩

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ২

প্যাপিরাসের পুরোনো পাতা, পর্ব: ১

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী