বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ঢাকাপ্রকাশ-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মা

দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গবেষণায় যে ক’জন গবেষক নিবিষ্ট রয়েছেন তারমধ্যে অপূর্ব শর্মা অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের ছাইচাপা পড়ে থাকা ইতিহাস তুলে আনতে তিনি পালন করে চলেছেন এক অনন্য এবং অতূলনীয় ভূমিকা।  পাশাপাশি সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করছেন বীরাঙ্গনাদের অগ্নিভাষ্য। যুদ্ধাপরাধীদের স্বরূপ উন্মোচনেও তিনি আপোষহীন। এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের অনালোকিত-অনালোচিত দিক জাতির সামনে তুলে ধরতে বিরামহীনভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অপূর্ব শর্মা। সে কারনেই তাঁর নামের পাশে সংযোজিত হয়েছে ‘প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা’র বিশেষণ। জাতীয়ভাবে একাধিক পুরস্কার প্রাপ্ত এই মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান, সিলেট-এর মাধ্যমে আবারো আলোচনায় এসেছেন। সিলেট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন সালুটিকর বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সূর্য সন্তানদের নাম অনুসন্ধান করে বের করা এবং এই উদ্যান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য রূপে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বমহলে। 

পরম নিষ্ঠার সাথে দীর্ঘ এই অভিযাত্রা সম্পন্ন করেছেন অপূর্ব শর্মা। একাত্তরে সালুটিকর বধ্যভূমি ও সংলগ্ন এলাকায় নির্মম নির্যাতনের পর যেসব মুক্তিকামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল হানাদার বাহিনীর সদস্যরা-তাদের আত্মত্যাগের আখ্যান এতকাল ছিলো লোকচক্ষুর অন্তরালে।  ৫২ বছরের পুরণো ঘটনার বিস্তৃত বিবরণ বের করতে তাঁকে যেমন দীর্ঘ অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে তেমনি ঘুরে বেড়াতে হয়েছে শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামের পর গ্রাম। ধূলিমাখা রাস্তা যেমন পারি দিতে হয়েছে তেমনি অতিক্রম করতে হয়েছে কাঁদামাখা পথ। রোদে যেমন পুড়তে হয়েছে তেমনি ভিজতে হয়েছে বৃষ্টিতে। যেতে হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। কথা বলতে হয়েছে অগনন মানুষের সাথে। অপূর্ব শর্মার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের ফলে এই বধ্যভূমির ইতিহাস এবং শহীদদের একটি অসম্পূর্ণ তালিকা প্রণয়ণ করা সম্ভব হয়েছে। অনুসন্ধান এবং স্মৃতি উদ্যান নির্মাণের আদ্যপান্ত জানতে ফারজানা নাজ শস্পা অপূর্ব শর্মার মুখোমুখি হয়েছিলেন। বিশেষ এই আলাপচারিতার অংশবিশেষ ঢাকা প্রকাশের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

 

ঢাকা প্রকাশ : প্রথমেই সিলেট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন বধ্যভূমি সম্পর্কে জানতে চাই?

অপূর্ব শর্মা : মুক্তিযুদ্ধচলাকালে সিলেট শহরের নিকটবর্তী তৎকালীন সিলেট রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলকে (বর্তমান সিলেট ক্যাডেট কলেজ) আবর্তিত করে একটি মিনি ক্যান্টনম্যান্ট প্রতিষ্ঠা করেছিল হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। পাশেই বিমানবন্দর থাকায় সহজেই এই স্থানটিতে তারা মজবুত সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। এখানে এহেন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। সুরমা উপত্যকার অন্যতম বৃহৎ এ বধ্যভূমিতে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে এনে নারী পুরুষ নির্বিশেষে হত্যা করা হয় অগনিত মানুষকে। এই স্থানটিতে ঘুমিয়ে আছেন মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবি, সাধারণ জনগণ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম জানা না জানা অগনন নিরীহ মুক্তিকামী মানুষ।

 

ঢাকা প্রকাশ : এই বধ্যভূমিতে আনুমানিক কতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

অপূর্ব শর্মা : মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী এই বধ্যভূমিতে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে নানা তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে আমার অনুমান, এখানে দুই হাজারের অধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

 

ঢাকা প্রকাশ : স্বাধীনতা পরবর্তী এই বধ্যভূমিতে কি কোনও অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল?

অপূর্ব শর্মা : হ্যা, হয়েছিল। ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে এই বধ্যভূমিতে সরকারের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালানো হয়। এই বধ্যভূমি থেকে ৪ হাজার হাড়, ২৪ টি মাথার খুলি ও ৪টি নরকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা প্রকাশ : শুধু কি মুক্তিকামী পুরুষদেরকেই এই বধ্যভূমি ও সংলগ্ন এলাকায় হত্যা করা হয়েছিল?

অপূর্ব শর্মা : না। এখানে অনেক নারীকেও হত্যা করা হয়। এদের প্রায় সবারই পরিচয় অজানা রয়ে গেছে।

 

ঢাকা প্রকাশ : কেন এমনটি হলো, নারীদের পরিচয় অজ্ঞাত থাকার বিশেষ কোনও কারন আছে কি?

অপূর্ব শর্মা : নির্যাতিত এবং হত্যার শিকার নারীদের বড়ো একটি অংশ মুণিপুরী সম্প্রদায়ের ছিলেন, বাকিরা হিন্দু এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের। এদের অনেকের পরিবারই হারিয়ে গেছে যুদ্ধের দামামায়। আবার কারো কারো পরিবার চলে গেছে ভারতে। অবশিষ্ট যারা দেশে আছেন তারাও লোকলজ্জার ভয়ে লুকিয়ে রেখেছেন বিভৎসতার পর হত্যার কথা। 

 

ঢাকা প্রকাশ : শহীদ নারীদের পরিচয় বের করতে কি অনুসন্ধান চালাবেন আপনি?

অপূর্ব শর্মা : অবশ্যই। শুধু নারীরা নন, এই বধ্যভূমিতে শহীদদের আত্মপরিচয় বের করতে আমার অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। 

 ঢাকা প্রকাশ : এই বধ্যভূমিতে এতো মুক্তিকামীকে কিভাবে হত্যা করা হয়?

অপূর্ব শর্মা : এই বধ্যভূমি সংলগ্ন সিলেট রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলে একটি বন্দিশালা গড়ে তুলেছিল হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। এটি ছিলো সিলেটের অন্যতম বৃহৎ বন্দিশালা। মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিকামীদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের জন্য প্রথমে তাদেরকে বন্দিশালায় আটক করে তাদের উপর অবর্ননীয় পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হতো। এরপর তাদেরকে সংলগ্ন বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে গুলিতে ঝাঝড়া করা হতো বুক।

 

ঢাকা প্রকাশ : শুধু কি গুলি করেই এখানে মুক্তিকামীদের হত্যা করা হয়েছে?

অপূর্ব শর্মা : না। এখানে প্রাণ শহীদদের একটি অংশ মারা গেছেন রক্তশূণ্যতায়।

 

ঢাকা প্রকাশ : রক্তশূণ্যতার বিষয়টি যদি একটু ক্লিয়ার করেন?

অপূর্ব শর্মা : সিলেট রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের বন্দিশালায় আটক মুক্তিকামীদের শরীর থেকে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রক্ত নিতো হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। এই রক্ত তারা সীমান্তে বা বিভিন্ন যুদ্ধ ক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের অপারেশনের সময় ব্যবহার করতো।একেক জন বন্দির শরীর থেকে যখন খুশি তখন রক্ত নিয়েছে। এর আগে মিলিয়ে নিতো গ্রুপ। অধিক রক্ত নেয়ার কারনে যারা জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যেতো তাদের বধ্যভূমিতে ফেলে আসতো।

 

ঢাকা প্রকাশ : মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে এমন কাউকে কি পেয়েছেন যার শরীর থেকে রক্ত নিয়েছে পাকিরা এবং ভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন?

অপূর্ব শর্মা : হ্যা, এরকম কয়েকজনকে পেয়েছি। যাদেরকে আটকের পর বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। এদের শরীর থেকে একাধিকবার রক্ত নিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের খোঁজে বের করে তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছি।

 

ঢাকা প্রকাশ : যে বন্দিশালা সম্পর্কে বললেন, সেটি নিয়ে কি কোনো গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশের ইচ্ছে আছে?

অপূর্ব শর্মা : সিলেটের বৃহৎ এই বন্দিশালা নিয়ে আমার গবেষণা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হবে।

 

ঢাকা প্রকাশ : এবার এখানে শহীদ স্মৃতি উদ্যান নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাই?

অপূর্ব শর্মা : সিলেট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন সালুটিকর বধ্যভূমিটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। শহীদ পরিবারের অফুরন্ত ইচ্ছায় স্থানীয় জনগনের প্রত্যাশায় সেনাবাহিনী প্রধানের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেট এরিয়া কমান্ডারের বিশেষ সহযোগিতায় এখানে একটি স্মৃতি উদ্যান তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব) আবদুস সালাম বীর প্রতীক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জিয়া উদ্দিন আহমদ এখানে শহীদ স্মৃতি উদ্যান নির্মানের উদ্যোগ নেন এবং এর সঙ্গে আমাকে যুক্ত করেন। বধ্যভূমিতে শহীদদের নাম অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয় আমাকে।

 

ঢাকা প্রকাশ : এই কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে কি কোনো কমিটি গঠন করা হয়েছিল?

অপূর্ব শর্মা : হ্যা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান নির্মানে ৩ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। 

 

ঢাকা প্রকাশ : বধ্যভূমিতে যাদেরকে ধরে এনে হত্যা করা হয়েছিল, কিভাবে খোঁজ পেলেন তাদের?

অপূর্ব শর্মা : এই প্রক্রিয়াটি ছিলো দুরহ এবং কঠিন। সেইসাথে সময় সাপেক্ষ। যদিও ২০১০ সাল থেকে এই বধ্যভূমিতে শহীদদের নাম অনুসন্ধানে কাজ করছিলাম আমি। কিন্তু বিগত ২ বছর একটানা অনুসন্ধান চালিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী পত্র-পত্রিকা, গবেষণা গ্রন্থ এবং মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে, প্রতিটি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে এপর্যন্ত ৬৬ জনের নাম সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

ঢাকা প্রকাশ : এভাবে স্মৃতি উদ্যান নিমার্ণের বিশেষ কোনও কারন আছে কি?

অপূর্ব শর্মা : বিশেষ একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এমনটি করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগকে দৃশ্যমান করা। 

 

 

ঢাকা প্রকাশ : এই উদ্যান নিয়ে শহীদদের সন্তান এবং স্বজনদের অনুভূতি কি?

অপূর্ব শর্মা : গত ৪ মার্চ এই উদ্যান উদ্বোধন করা হয়। ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে এক বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত এই উদ্যানের উদ্বোধন করেন শহীদ সৈয়দ সিরাজুল আব্দালের স্ত্রী সৈয়দা সাকিনা আব্দাল। এই অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেদিন প্রথমবারের মতো তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাদের স্বজনদের। এদের অনেকেই সেদিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। সকলেই আপ্লুত। তাদের অনুভূতি এমন তারা যেনো তাদের স্বজনদের খুজে পেয়েছেন ৫২ বছর পর।

 

ঢাকা প্রকাশ : আপনার অনুভূতি জানতে চাই?

অপূর্ব শর্মা : শুধু আমি নই আমরা যারা স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান বাস্তবায়নের সাথে নানাভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম সবাই খুশি। উল্লেখ্য যে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার শহীদ স্মৃতি উদ্যান, সিলেট-উদ্বোধন উপলক্ষে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়েছে। সেটি সম্পাদনা করেছেন অপূর্ব শর্মা l এই বধ‍্যভূমির ইতিহাস, শহীদদের নামসহ প্রাসঙ্গিক সকল তথ‍্য উপাত্ত‍্য এবং ছবি গ্রন্থটি তে স্থান পেয়েছে।

 

ঢাকা প্রকাশ : দীর্ঘ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ l

অপূর্ব শর্মা : ঢাকাপ্রকাশের প্রিয় সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিবাদন এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 

ডিএসএস/ 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী