শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বিজয়বনের মুক্ত পাখি

চারিদিকে গুমোট পরিবেশ। সকাল থেকে আকাশে মেঘ জমে রয়েছে। বৃষ্টি হবে হবে করেও হচ্ছে না। ফলে গরম কমারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জঙ্গলের ভেতর বসে দরদর করে ঘামছে মুক্তিসেনারা। দশ জনের ছোট্ট একটা দল। গাছের কয়েকটা ডাল কেটে একটা তাবু কোনোমতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি একবার এসে পড়লে অতটুকু জায়গায় সবাই শান্তিমতো বসতে পারবে কি-না সন্দেহ আছে। তবুও সবাই বৃষ্টির দেখা চায়। গরম ক্রমশ অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলছে।

আকাশের কালো মেঘের মতো দেশের আকাশেও দুর্যোগের ঘনঘটা। হঠাৎ করেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা বাংলার মানুষের ওপর সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। পুরো দেশটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে একেবারে ছারখার করে দিচ্ছে ওরা। ওদের বিরোধিতা করে এমন কোনো মানুষকেই জীবিত রাখবে না।

হাসানের পরিবারের কাউকেও জীবিত রাখা হয়নি। সে কোনোরকমে সেদিন চোখের জল সম্বল করে পালিয়ে এসেছিল। তারপর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভিড়ে গেছে।
দশজনের এই দলটাতে হাসান বাদে বাকি সবাই ভারত থেকে যুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নিয়ে এসেছে। হাসানকেও তারা সীমানা পেরিয়ে ওপারে যেতে বলেছিল। কিন্তু সে যেতে রাজি হয়নি; বলেছে, 'আমাকে আপনারা কেউ অস্ত্র চালানো শিখিয়ে দিলেই হবে।'
'ভারতে গেলে ঠিকমতো শিখতে পারবি। ওরা ভালো ট্রেনিং করায়।'
বলেছিল ক'দিনের ভেতর খুব কাছের বন্ধু হয়ে যাওয়া হৃদয়। কিন্তু হাসান বলে, 'আমাদের হাতে সময় খুব কম। আমি যুদ্ধ করতে চাই। পাকিস্তানি শুয়োর মারতে মারতে আমি শহিদ হতে চাই। ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে আবার ফিরে আসবো এত সময় কোথায়!'
হাসানের মনোভাব বুঝতে পেরেছিলেন দলের কমান্ডার। পরদিনই তিনি হাসানকে ট্রেনিং দিতে শুরু করেন। কমান্ডার যে শুধু তাকে অস্ত্র চালানোই শিখিয়ে দিলেন তাই নয়; কীভাবে অ্যামবুশ করতে হবে, গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করতে হবে কীভাবে- সবই শেখনো হয় হাসানকে। সে খুব দ্রুতই যুদ্ধের সমস্ত কলাকৌশল শিখে নেয় এবং দলের সেরা গেরিলা যোদ্ধায় পরিণত হয়।

 
বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে আরম্ভ করেছে।
হাসানের পোষা ময়না পাখিটা বৃষ্টি পড়তে দেখে ডাকাডাকি শুরু করেছে। সবাই তাবুর ভেতর প্রবেশ করলে হাসান খাঁচাটাকে নিয়ে তাবুর এক কোনায় ঝুলিয়ে দেয়। তারপর ময়নার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, 'বল তো, এই বৃষ্টি আমাদের জন্য সৌভাগ্য নাকি দুর্ভাগ্য বয়ে আনবে?'
ময়না কিছু বুঝতে না পেরে চুপ করে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। হাসান দলের বাকি সদস্যদের দিকে চেয়ে দেখে, তারা সবাই ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ও সবার কাছে চলে আসতে গেলে ময়না চিৎকার দিয়ে বলে ওঠে, 'বিজয়...বিজয়...বিজয়...'
অবাক হয়ে যায় সবাই; হাসানও। কারণ, কথাটা মোটেও সে তাকে শেখায়নি।
হাসান ফিরে এসে মাটিতে বসে পড়ে। সবাই কোনোমতে গোল হয়ে বসার সুযোগ পেয়েছে। প্রথমে কথা বলে ওঠেন কমান্ডার।
'এই বৃষ্টিটার জন্য আমরা সারাদিন অপেক্ষায় রয়েছি। সন্ধ্যাও হয়ে এসেছে। হাসান ময়নাকে যে প্রশ্ন করেছে তার উত্তর আমি দিচ্ছি—এই বৃষ্টি আমাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে নিয়ে এসেছে।'
কমান্ডারের চিন্তাধারা আগে থেকে অনুমান করা মুশকিল। তার কাজের ধরনই আলাদা। সামনে বসে থাকা বোকাসোকা জয়নাল প্রশ্ন করে, 'এতটা নিশ্চিত হচ্ছেন কীভাবে?'
কমান্ডার রহস্যময় হাসি হেসে বলেন, 'নিশ্চয়ই কারণ আছে। আজ রাতে আমরা নদী পেরিয়ে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ করবো।'
'একে তো বৃষ্টির রাত—তার ওপর ঘুটঘুটে অন্ধকার। নদী পার হতে সুবিধাই হবে বটে।'
যোগ করে হাসান। তার বুদ্ধিমত্তা এবং দক্ষতার ওপর অগাধ ভরসা কমান্ডারের।
কমান্ডার বলেন, 'আমি এই অভিযানের নেতৃত্ব হাসানের ওপর দিলাম। তুমি পাঁচজনকে নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে নদী পার হয়ে যাও। অন্ধকার যখন একেবারে গাঢ় হয়ে আসবে তখনই আক্রমণে যাবে।'
দলের সদস্যরা একে অন্যের মুখের দিকে তাকায়। কমান্ডার বুঝতে পারেন সব।
'আমি বাকি তিনজনকে নিয়ে ক্যাম্প পাহারায় থাকছি। আল-বদর বাহিনী রাতে হামলা করতে পারে।'
বু্ক টানটান করে উঠে দাঁড়ায় হাসান। তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়ে সবাই। কমান্ডারের বুকের সঙ্গে বুক মেলায় সে। তারপর পাঁচ সঙ্গী নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ঘুটঘুটে রাতের অন্ধকারে।

 
কমান্ডার যেভাবে বলেছিলেন, আক্রমণ পর্যায়টা তেমন সহজ হয়নি। পাকিস্তানিরা আক্রমণের জন্য প্রস্তুতই ছিল। হাসানের বাহিনী আক্রমণ শুরু করতেই ওপার থেকে তীব্র গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তবে এই জল-কাঁদার ভেতর ওদের চেয়ে দ্বিগুণ সংখ্যায় থাকা সত্ত্বেও পাক বাহিনী বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। সাতটা লাশ পেছনে ফেলে আস্তানা ছেড়ে পালিয়েছে ওরা। এদিকে হাসানের বুকেও বিদ্ধ হয়েছে গুলি। সেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে রক্তের ফোঁটা মিশে গিয়ে আশেপাশে লাল রঙের স্রোত তৈরি করেছে।
সহযোদ্ধারা ধরাধরি করে ক্যাম্পে নিয়ে এসেছে হাসানকে। এখনো বেঁচে আছে সে। কমান্ডার এগিয়ে এসে কান পাতেন বুকে। হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন টের পাওয়া যাচ্ছে। হাসান চোখ খুলে তাকায়। সহযোদ্ধাদের সবার চোখেমুখে কান্নার ছাপ। তারা জাতির একজন সাহসী সন্তানকে হারাতে যাচ্ছে।

হাসান তাকায় তার পোষা ময়নার দিকে। সে বড় ছুটাছুটি করছে। হয়ত মুক্তির আকুতি জানাচ্ছে হাসানের কাছে। হাসান ইশারায় বুঝিয়ে দেয় ময়নাকে ছেড়ে দিতে। ওর এখন মুক্তি প্রয়োজন। কমান্ডার এগিয়ে যান খাঁচার দিকে। কাঁপাকাঁপা হাতে খুলে দেন খাঁচার মুখ। ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে কালো মিশমিশে অন্ধকারে মিলিয়ে যায় ময়না পাখিটা। সহযোদ্ধারা ময়নার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে হাসানের দিকে চেয়ে দেখে, তার বুকের ভেতর থেকেও প্রাণপাখিটা বেরিয়ে অন্ধকার রাতের বুকে মিলিয়ে গেছে।

 

 ডিএসএস/




Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি