বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

অভিমানী মুক্তিযোদ্ধা

অনেকক্ষন যাবৎ হাঁটছি। কোনো রিকশা পাচ্ছি না। হাঁটতে ভালই লাগে আমার কাছে, বিশেষ করে এ জায়গাটাতে। রাস্তার দু’পাশে প্রচুর গাছপালা, অনেকটা ঝোপঝাড়ের ন্যায়। বেশ কিছু তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। শান্তশিষ্ট, নির্জন, নিরিবিলি পরিবেশ। সন্ধ্যা নামতেই যেন ভূতুরে অন্ধকার জেঁকে বসে। রাইনাদি গ্রাম পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে শিমুলতলী বাজারে এসে উপস্থিত। আজ এ এলাকাতে কী রিকশা ধর্মঘট চলছে নাকি ? মনে মনে ভাবছি। সারাটা রাস্তা জুড়ে খালি রিকশা তো নাই-ই, যাত্রীসহ কোনো রিকশা ও চোখে পড়লনা ।


বেড়ানোর সূত্রে মাঝে মাঝে এ এলাকায় আসা হয়। খুব বেশি একটা পরিচিত এলাকা না। বাজারেও কোনো রিকশা নেই। হাঁটতে আর ভালো লাগছে না তাই রিকশার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। বেলা বড়জোড় এগারোটা। বয়স্ক এক রিকশা ওয়ালা যাত্রীবিহীন রিকশা নিয়ে এ দিকেই আসছে।
“চাচা, যাবেন ?” জিজ্ঞেস করলাম। “যামু, তবে এক কাপ চা খাইয়া লই”। উত্তর দিলেন রিকশা চালক। “আচ্ছা, চলেন তাহলে আমিও খাই এক কাপ”।
এক চালা টিনের মাচাটাকে বাঁশ দিয়ে উঁচু করে রাখা দোকানের সামনে দুইটা কাঠের বেঞ্চি। দোকানে কোনো খরিদ্দার নাই। এই সময়ে বাজারের চায়ের দোকানে দু’চার জন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বাজারটা নাকি নতুন পত্তন পাওয়া আর এ শিমুলতলী বাজারটা ও নিতান্তই ছোটখাট। আড়াআড়ি দু’ বেঞ্চে দু’জন বসলাম।
“চাচা, চায়ের আগে বিস্কুট বা কেক কিছু একটা খান”।“ না-না, আপনে খাইলে কিছু খান। আমি শুধু এক কাপ চা-ই খামু”। “আচ্ছা, ঠিক আছে। দুধ চা নাকি রং চা ?”

“চাচার অভিব্যক্তিতে বুঝা গেল, তিনি অপরিচিত ব্যক্তির আপ্যায়নে এক কাপ চা বিনা পয়সায় খেতে সম্মত না। অবশেষে আমার পীড়াপীড়িতে রাজি হলেন। দু’ জনেই রং চা নিলাম। জিজ্ঞেস করলাম- “চাচার নাম ?” “রমিজ আলী”। “বাড়ী ?” “টোডার বাগ”। সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর। “চাচার বয়স কত হবে আনুমানিক ?” চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিতে দিতে প্রশ্ন করলাম। “এই- কত- আর সত্তুর অইব হয়তো।” উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন রমিজ চাচা। “কই যাইবেন ?” বিল দিয়ে বললাম- “আপনার ইচ্ছা। ইলমদী বা তিলচন্দী। যেখানে আপনি রাজি হন”। “রিশকা যহন চালাই, যেনে কন হেনে-ই যামু”। রিকশার পেডেলে চাপ লাগালেন।

“কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করতাম, চাচা।” কী পরশন করবেন এই বুড়া বয়সেও ক্যান রিশকা চালাই- এইডাই তো ?” কথার মধ্যে কেমন যেন ক্ষোভ, ঘৃনা, অভিমান, লজ্জা জড়িয়ে আছে। আমি কৌতুহলী হয়ে উঠলাম। আজকালের অটো রিকশার জমানায় ও পায়ে চালানো রিকশা, তদুপরি বয়স্ক চালক। ফলে রিকশার গতি ও মন্থর। আমার হাতে অফুরন্ত সময়, আমি ও মনে মনে চাইছি আরো ধীরে চলুক রিকশা টা। লোকটার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে আমার। “উত্তরটা দিলেন না যে চাচা ?”

পিছন ফিরে এক ঝলক তাকালেন। মনে হলো চোখ দুটো যেন ঝাপসা। অস্ফুট স্বরে বললেন, “কপালের দোষ, বাজান।” “আপনার ছেলে সন্তান নাই ?” “হ” আছে- দুই পোলা এক মাইয়া। মাইয়া বিয়া দিয়া দিছি। পোলারা বিয়া শাদী কইরা নায় নাতি লইয়া যের যের সংসারে ব্যস্ত - আমগোরে দেহোনের সময় কই ? আমরা বুড়াবুড়ি ভালই আছি- মাশাল্লা। দোয়া কইরেন। পোলারা আর কী করব, দেশই কী কিছু করলনা”। তিলচন্দির রাস্তা পার হয়ে ইলমদীর রাস্তায় এসে পড়েছি। মনে সন্দেহ বাজল, উনি কী মুক্তিযোদ্ধা ?

“চাচা, কী মুক্তিযোদ্ধা ?” “এই কতা জিগাইয়া আর শরম দিয়েন না।” আমি অবাক স্বরে বললাম, এটা কেমন কথা বললেন চাচা, মুক্তিযোদ্ধা হওয়া তো গৌরবের কথা, সম্মানের বিষয়- এটা লজ্জার ব্যাপার হবে কেন ? “ততক্ষনে ইলমদী চলে এসেছি।” নামেন, আমার ভাড়া দেন।” কন্ঠস্বরটা বেশ কর্কষ মনে হলো। “চাচা কী আমার উপর রাগ করেছেন ?” “না-না, আফনে আমার কী হন যে আপনার উপর আমি রাগ করমু। আমার সময় নষ্ট কইরেন না। ভাড়া দিয়া নাইমা যান।” “আমি সামনের শান্তির বাজার যামু, চলেন।” “ভাড়া কত দিবেন ?” জিজ্ঞেস করলেন। “আপনি যা চান ?” নরম হয়ে আসে চাচা স্বর। আস্তে আস্তে রিকশার প্যাডেল চাপতে থাকেন। “মুক্তিযোদ্ধাদের তো সরকার অনেক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। আপনি পাচ্ছেন না ?” “মুক্তিযোদ্ধাদের লিষ্টে আমার নাম নাই।”
“কেন- কেন ?” “কেওরে ধন্না দইরা মুক্তিযোদ্ধার লিষ্টে নাম উঠানোর লাইগ্যা তো যুদ্ধ করি নাই। যুদ্ধ করছি দেশের লাইগ্যা, দেশের মানুষের লাইগ্যা।”

“চাচা, সামনের বটতলায় রিকশাটা থামাইয়া চলেন আরো এক কাপ চা খাইয়া নিই।” বুঝার বাকি রইল না- কঠিন এক মানুষ। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা, খাঁটি দেশ প্রেমিক। চা খাওয়া উপলক্ষ্যে অনেকক্ষন কথা হলো। অনেক অজানা কথা, আবেগের কথা, ভাললাগার কথা, ভালোবাসার কথা, যুদ্ধকালীন নির্মম অনেক স্মৃতির কথা, নির্দয় পাকিস্থানীদের কথা, নির্ঘুম অনেক রাতের কথা, অনাহারে কিংবা অর্ধাহারে দিনানিপাতের কথা, স্বজনদের ছেড়ে দূরে থাকার কথা, এমন অনেক কথা যে কথা কখনো কাউকেই বলা হয়নি। যুদ্ধ পরবর্তী অবহেলার কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম না উঠার কথা। এমন-ই অসংখ্য আলাপ। “জীবন বাজী রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করলেন। বিনিময়ে কিছুই পেলেন না। কষ্ট হয় না আপনার ?” জিজ্ঞেস করলাম, “না---হ’, নিশ্বাস ফেলে সহজ উত্তর। আবার চলা শুরু। এ বয়সে ও এত কষ্ট করছেন অথচ দেখার কেউ নেই। কাউকে বলছেন ও না কিছু। ভিতরে আমার কান্না চেপে রাখতে কষ্ট হচ্ছে।

বিড়বিড় করে বলছেন-“পোলাগো কাছেই কিছু আশা করি না আর দেশের কাছে কী আশা করমু।” দাসিরদিয়া ব্রিজ পার হওয়ার পরে বেশ নিরিবিলি একটা জায়গা। রাস্তার দু’পাশে বেশ গাছপালা। অনেক দূর পর্যন্ত কোনো গ্রাম নেই। রাস্তার ডানে বামে দু দিকেই সবুজ ফসলি মাঠ। বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, বিশাল প্রান্তর। স্বাধীন দেশের মুক্ত প্রানের ছোঁয়ায় যেন গ্রাম বাংলার প্রকৃত রূপ। এ অপরূপ, মুক্ত স্বাধীন দেশটাকে আমার দেখার অসাধারণ সৌভাগ্য তো হয়েছে এ সাধারণ রিকশা চালক রমিজ আলীর জন্য। স্যালুট, তোমাকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধা। বললাম- “চাচা, রিকশাটা থামান।” “কেন- বাজান ?” চাচা রিকশা থামালেন, “চাচা, কষ্ট করে রিকশা থেকে একটু নেমে আসবেন ?” আমি রিকশা থেকে নেমে বললাম। রিকশা থেকে নামলেন রিকশা চালক রমিজ আলী। “আমি আপনার পা ছুঁয়ে একটু সালাম করতে চাই।” পায়ে হাত লাগানোর আগেই জোড়ে বুকে জড়িয়ে নিলেন মুক্তিযোদ্ধা রমিজ আলী আর হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলেন। চলতি পথে কোনো রিকশা বা অন্য কোন গাড়ীর যাত্রীর অথবা কোনো মেঠো পথচারীর চোখে এ দৃশ্য পড়ল কিনা জানি না তবে তার কান্নার দৃশ্য আমার চোখে এখনো সতেজ।

খুচরা দু’তিন শ’ টাকা বাদ দিলে পকেটে মাত্র এক হাজার টাকার একটা নোট। ভাড়া দিতে সাহসে কুলাচ্ছেনা। এক হাজার টাকার নোটটা হাতের মধ্যে গুঁজে দিয়ে বললাম- “চাচা, মাফ করবেন। আমার যদি এখন পাঁচ হাজার, দশ হাজার বা পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়ার সামর্থ্য থাকতো আমি তা-ই দিতাম। আপনার সন্তান মনে করে টাকাটা রাখবেন।” কিছুতেই রাজি হলেন না, চাচা। অগত্যা নির্ধারিত ভাড়া মিটিয়ে হাঁটা ধরলাম। চাচা বললেন-“হাঁইটা যাইতে কষ্ট অইব না, আপনের।” তার চাইতে কতগুন কষ্ট করেছেন আপনি আমাদের জন্য। মনে মনে বললাম- এ রিকশায় চড়ে আমি আর মহান মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করতে পারিনা। অন্তত পক্ষে বাকী রাস্তা টুকু পাঁয়ে হেঁটে তার প্রায়শ্চিত্ত করি। আমি রিকশা থেকে নেমে গেলে ও রিকশা হয়তো খালি থাকবে না। কোন না কোন যাত্রী এ রিকশায় চড়বেই। কিন্তু সবাই তো আর আমার মত এ প্রচার বিমুখ অভিমানী মুক্তিযোদ্ধার মনের গভীরের কথা জানবে না। কিছু দুর এগিয়ে পিছন ফিরে তাকাই। আবার চোখে চোখ পড়ে যায়। দেখি সে চোখে যেন বর্ষার বৃষ্টি ভর করে আছে।

ডিএসএস/

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী