শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ড. সোলায়মানের কৃষিতে ‘সৌর আলোর ফাঁদ’

বাংলাদেশের প্রখ্যাত কৃষি অধ্যাপক শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ব বিভাগের নামকরা মধুবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান ও তার দল আবিষ্কার করেছেন কৃষকদের বাঁচাতে সৌর আলোর ফাঁদ। জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনের উন্নততর প্রযুক্তি। দারুণ এই আবিষ্কারটি নিয়ে লিখেছেন ও ছবি দিয়েছেন তার ছাত্র রবিউল ইসলাম রাকিব

ফসলি জমির নানা ধরনের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও ফসল উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন কম্পানির কিটনাশক ব্যবহার করেন বাংলাদেশের কৃষকরা। তাতে পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, ফসলের ও জমির যে ক্ষয় ঘটে, সেসব নিয়ে কৃষিবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের অনেক কাজ আছে। তবে একেবারেই প্রাকৃতিক এক নিরোধ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন ঢাকার একমাত্র কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ‘শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’র অধ্যাপক ও ছাত্র, ছাত্রীরা। অভিনব এই ক্ষতিকর পোকা দমন পদ্ধতির নাম দিয়েছেন তারা ‘সোলার ইনসেক্ট লাইট ট্যাপ’। বাংলায়ও নামটি খুব সুন্দর ‘সৌর আলোর ফাঁদ’।
ফাঁদটি পুরোপুরি প্রকৃতিনির্ভর, যেভাবে কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করেন। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। তবে এটি একটি যান্ত্রিক কৌশল। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশের বিখ্যাত মধুবিজ্ঞানী ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান অন্যরকম এই গবেষণা দলের প্রধান। জানিয়েছেন, ‘পরিবেশবান্ধব সৌর আলোর ফাঁদের মাধ্যমে বাংলার কৃষকরা তাদের ফসলি জমিতে রাসায়নিক কিটনাশকগুলোর ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারবেন।’ বাংলাদেশের প্রখ্যাত এই মধুবিজ্ঞানী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন টাস্ট্র আমাকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে।’
অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান বলেছেন, ‘আমাদের সৌর আলোর ফাঁদের মাধ্যমে সূর্যের আলোকশক্তিকে ব্যবহার ও ধারণ করে রাতের বেলাও এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও পুরুষ ও স্ত্রী জাতের নানা ধরণের ক্ষতিকর ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়কে ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’ তিনি জানিয়েছেন, ‘পোকামাকড়ের স্বাভাবিক প্রবণতা হলো, তারা যেখানেই থাকুক না কেন আশপাশের আলোর দিকে উড়ে চলে। সেখানে থাকে। এই আচরণকে আমরা বলি ফ্যাকালটেটিভ বা অনুসঙ্গী আচরণ। তাদের এই আচরণটিকে ভিত্তি করেই সৌর আলোর ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। এখানে কোনো ধরণের সারের বালাই নেই, প্রয়োজন ও ব্যবহার নেই কোনোভাবেই। এর বাদেও সূর্যালোকের উপর ভিত্তি করে তৈরি বলে এই ফাঁদটি পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। কৃষকরা খুব সহজে ব্যবহারও করতে পারবেন। তাদের জমির যেখানে প্রয়োজন স্থাপন করতে পারবেন। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করতে হবে। তাতে আছে সংযুক্ত ব্যাটারি। ফলে বৃষ্টি-বাদলাতেও এই সৌর আলোর ফাঁদ কাজ করে যাবে। চার্জ কন্টোল সার্কিটের মাধ্যমে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনে চার্জ দেওয়া যাবে বিদ্যুৎ শক্তি থেকে। ফলে কোনো সময়-বন্যাতেও ফসলের জমি নিয়ে কৃষকদের ভাবনা থাকবে না। আছে বিশেষ এলইডি লাইট, সেটি আলোর সংরক্ষণ করবে। এই বাতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য শক্তিশালী বাল্ব হোল্ডিং ফানেল আছে। ব্যাটারির জন্য বিশেষ বক্স রেখেছি আমরা। এলইডি লাইটটি প্লাস্টিকের বালতির মুখের প্রায় সামনে বলে সেখানে জালের মধ্যে পোকামাকড়গুলো এসে আটকে পড়বে। রাতের বেলা এই সৌর আলোর ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। দিনে চার্জ নেবে সৌর শক্তির।’ তিনি বলেছেন, ‘প্রতি একর বা ২০ কাঠা জমির জন্য একটি মাত্র সৌর আলোর ফাঁদ যথেষ্ট বলে কৃষকের জন্য দারুণ সাশ্রয়ী।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, সৌর আলোর ফাঁদ নামের এই বিশেষ আবিস্কারের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড়কে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অন্তত পক্ষে ৫ ভাগ আর ভালোভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকায় ভর্তি জমির ক্ষতি কমিয়ে এনে ফলন ৫০ ভাগও বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এর বাদেও ধান, ভুট্টা, শাকসবজির জমিতে রাসায়নিক পেস্টিসাইডের ব্যবহার ২৫ থেকে ১শ ভাগ পর্যন্তও কমানো সম্ভব হয়েছে। এমনকি আম গাছের মতো বড় আকারের গাছগুলোতেও খুব ভালোভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সৌর আলোর ফাঁদ। তাতে এই ফসলের ফলন বাড়ানো গিয়েছে ৫০ ভাগও। আমে পোকামাকড় কোনো ক্ষতিই করতে পারেনি। এই জাতের ফলের গাছে ২০ থেকে ৩০ ভাগ রাসায়নিক স্প্রের ব্যবহারও কমানো সম্ভব হয়েছে। নিয়মিত সৌর আলোর ফাঁদে একসময় আর কোনো ধরণের রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার করতে হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম নামকরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণী অধ্যাপক ও গবেষক এবং আবিস্কারক।
অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান আরো বলেছেন, ‘ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা কৌশলে এই প্রযুক্তিবান্ধব, সহজ ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য আবিষ্কারটি নব দিগন্তের সূচনা করবে। এই খাতে কৃষকের দুশ্চিন্তা ও আর্থিক আগে-পরের ক্ষতি ধীরে, ধীরে দূর করা যাবে।’
অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান বলেছেন, ‘কিটনাশক ব্যবহার করলে দিনের বেলায় যেসব পোকামাকড় মানুষের ফসলের জমি ও খাদ্যপণ্য উৎপাদনে সাহায্য করে তারা নির্বিচারে মারা পড়ে। ক্ষতিকর পোকারা দিনে লুকিয়ে থাকে। দিনে পোকামাকড় তেমন মারতে হয় না। তখন তারা ফসলের উৎপাদন বাড়াতে স্প্রে করেন বা সার দেন। কিন্তু পোকা না থাকলে আর স্প্রের বা সারের দরকার তেমন নয় না। ফলে কৃষকদের সৌর আলোর ফাঁদের বাংলাদেশী বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব হবে। এর বাদেও চাইলে কৃষকও রাতের ক্ষতিকর পোকাগুলোকে জমিতে তাদের পরিমাণ ও নমুনাগুলো দেখতে পারবেন। কেননা তখন তারা একমাত্র আলোর ফাঁদটি দেখে নির্বিচারে সৌর আলোর ফাঁদে পা দেবে। এরপর দিনের বেলা ও চাইলে ভোর রাতে বা প্রয়োজনানুসারে তাদের বন্দী করবেন কৃষক। দিনে যে চার্জ নেবে এই সৌরশক্তির ফসল প্রযুক্তি, রাতে সে তা ব্যবহার করে কৃষকের ফসল বাঁচাবে। পরদিন সৌর আলোর ফাঁদের মাধ্যমেই কৃষক জমিতে কাজ করতে পারবেন। ব্যবহারের ফলে একসময় আর ব্যবহার করতে হবে না কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে বা সার।’
ঢাকার পাশের মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় বাংলাদেশ সরকারের ‘বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়’র মাধ্যমে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অন্যতম আবিষ্কারটিকে সে উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমিতে ২শ সৌর আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে কৃষকের সাহায্যে। এর বাদেও উদ্যানতত্ববিদ ও মধুবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান তার ছাত্র এই লেখক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাকিবকে জানিয়েছেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মোট পাঁচ উপজেলায় মোট ১ হাজারটি সৌর আলোর ফাঁদ বিশেষ প্রকল্প হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে ফলাফল জানতে স্থাপন করেছে।’
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, সারা দেশে সৌর অলোর ফাঁদের এই কৃষি প্রযুক্তির সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। তাতে আরো অনেক বেশি কৃষক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিটি ব্যবহারের সুবিধা লাভ করবেন।
তারা নিশ্চিত করেছেন, সৌরচালিত ক্ষতিকর পোকামাকড় চিহ্নিত করার এই ফাঁদের নীচের অংশে প্লাস্টিকের চাইলে পাটের বা অন্যকোনো উপকরণেও করা যায়, বালতিতে পোকামাড়কগুলো জমা হয়ে থাকে। ফলে তাদের বিনাশ করতে পারেন কৃষক নিজেই। কেবল তাকে আধুনিক প্রযুক্তিটি কিনতে সামর্থ্যবান করে তুলতে হবে। সরকার ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণদান করতে হবে। সাহায্য করতে হবে এই মানুষগুলোকে যারা আমাদের খাবারের যোগান দেন।
তারা বলেছেন, এই সৌর আলোর ফাঁদ উন্নত প্রযুক্তিতে খুব ভালোভাবে তৈরি। পরিবেশের কোনো ক্ষতি তো করেই না, বরং কিটপতঙ্গের আক্রমণ রোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হিসেবে সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত কাজ করে যাবে। এই প্রযুক্তিটি একটি অনন্য আবিষ্কার ও কৃষকবান্ধব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। বিনাখরচে তারা এর উন্নত গবেষণাও দাবী করেছেন। তাতে কৃষকের অনেক উপকার হবে প্রাথমিকভাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় এটি কাজ করবে। টেকসই কৃষি চাষ পদ্ধতি গড়ে উঠবে।
কৃষকদের সঙ্গে সরেজমিনে কথা বলে অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান জানিয়েছেন, ‘কেবল জমিতে খুঁটি পুতে, বিভিন্ন অংশ জোড়া দিয়ে সহজেই এটি স্থাপন করতে পারছেন কৃষকরা। তারা বেশ বুদ্ধিমান। উৎপাদন ও ক্ষতি না থাকায় বরং ক্ষতিকর পোকামাকড়গুলো নষ্ট করায় খুব লাভবান হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ সহযোগিতা তাদের শিখিয়ে দিলেই শিখে নিচ্ছেন।’ এই কাজে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ছাত্রীদের সহযোগিতা লাভ করছেন তারা। তাতে তাদেরও মাঠশিক্ষণ ঘটছে।
একজন কৃষক বলেছেন, ‘আমার সৌর আলোর ফাঁদে অনেক কিট ধরা পড়েছে। আমি খুব খুশি সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছেন ও পরিবেশের ক্ষতি বাঁচাচ্ছেন।’ তিনি বলেছেন, ‘জমিতে কোনো ধরণের বিষ ব্যবহার না করায় জমির উবরা শক্তি বাড়ছে, পানির সঙ্গে মিশে পুকুরের মাছেরও কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। তাদের বংশ বাড়ছে। নিজের শরীরও ভালো থাকছে কিটনাশক প্রবেশ করতে না পেরে। ফসলও ভালো হচ্ছে।’
সবশেষে ‘সৌর আলোর ফাঁদ প্রকল্প পরিচালক’ অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান বলেছেন, ‘বিদ্যুত শক্তি খাত থেকে কাবন নি:সরণের হার হলো ৪৫ ভাগ। বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানির দহন থেকে হয়। তাতে ক্ষতিকর কিটনাশক ব্যবহারে ফসল, মাটি ও পানি দূষণ ঘটে। কৃষকের নিয়মিত স্বাস্থ্যহানি হয়। টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য টেকসই পরিবেশ প্রয়োজন। সৌর আলোর ফাঁদের ফলে জলবায়ুর পরিবতন ঘটবে না, কার্বন ফুট প্রিন্ট কমে আসবে। দূর হবে।’

ছবি : সৌর আলোর ফাঁদের সামনে গর্বিত কৃষক, আবিষ্কারক ধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সোলায়মান, স্থাপন করা হচ্ছে তাদের উন্নত, পরিবেশসহায়ক প্রযুক্তি।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে শুল্ক ইস্যুর একটি ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।"

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অধ্যাপক ইউনূসের বরাত দিয়ে বাসসকে এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘এখনো পুরো বিষয়টি আলোচনা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। আমরা এটা পর্যালোচনা করছি এবং আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, তাতে আশাবাদী সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আমরা এমন একটা সমাধানের দিকে যেতে পারব, যাতে উভয় পক্ষের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন হয়।’

প্রেস সচিব দূঢ় আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এমন কিছু করবো যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে বলে জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, "বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে। শুল্ক আরও যুক্তিসংগত করার উপায় খুঁজে বের করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করছে। যাতে শুল্কবিষয়ক জটিলতা নিরসন হয়।"

প্রেস সচিব আরও জানান, "যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে আসছি।"

তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চলমান কার্যক্রম শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।"

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা