শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩১
Dhaka Prokash

করপোরেট গিলে খাচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতারাও

করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসেছেন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা মুড়ি, চানাচুর তৈরি করে তা কম দামে বিক্রি করেন। হাসকিংসহ অটো রাইস মিল থেকেও কম দামে চাল বিক্রি করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিটি গ্রুপ, আকিজ, প্রাণসহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান মুড়ি, চানাচুর, চালের ব্যবসায় নেমে প্যাকেটজাত করে অনেক বেশি দামে বিক্রি করছে। এসব খাতে তারা একেবারে বাজার দখল করে নিয়েছে। যার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

শিল্পনীতির ফাঁকফোকরেই তারা গিলে খাচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আহার। শিল্পনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিকাশের কথা বলা হলেও কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পখাতে বিনিয়োগে করপোরেটদের নিষেধ করা হয়নি। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা হারিয়ে যাচ্ছেন। করপোরেটদের বিনিয়োগে মন্ত্রী থেকে শুরু করে শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও ক্ষুদ্ধ। তারা বলছেন, করপোরেটরা সব জায়গয়ে বিনিয়োগ করলে ক্ষুদ্র ও ছোটরা যাবে কোথায়?

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, সিটি গ্রুপের তীর মিনিকেট ২৫ কেজি বস্তার দাম ১৮৫০ টাকা। প্রতি কেজির মূল্য ৭৪ টাকা। এটি পাইকারি দাম। তবে খুচরা প্রতি কেজি চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা। একইভাবে আকিজ গ্রুপের এসেনসিয়াল ২৫ কেজি মিনিকেট চালের দামও ১৮৫০ টাকা। যেখানে মোজাম্মেল, রশিদসহ অন্যান্য মিনিকেট চালের কেজি ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির আব্দুল আওয়ালসহ অন্যান্য চাল ব্যবসায়ীরা করপোরেট কোম্পানির চালের বাড়তি দামের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ দিনের ব্যবসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ওই চাল ব্যবসায়ীরা করপোরেটদের বেশি দাম নেওয়ার ব্যাপারে বলেন, গুণাগুণ একই হলেও প্যাকেটজাত করার কারণেই করপোরেট কোম্পানির চালের দাম বেশি। এতে ভোক্তাদের বাড়তি টাকা করপোটেরদের পকেটে যাচ্ছে। তারা আরও বলেন, কোম্পানি থেকে লোক এসে বলে ভালো চাল, আমরাও রাখি। কারণ অনেকে মনে করে, বেশি দাম তাহলে বেশি ভালো হবে।

আটারও একই দশা। হাজী স্টোরের জসিম, জব্বার স্টোরের জব্বারসহ অন্যান্য মুদি ব্যবসায়ীরা জানান, তীর, ফ্রেশসহ বিভিন্ন করপোরেটের দুই কেজি আটা ১৩০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। যেখানে খোলা আটার কেজি ৬০ টাকা। পোলাও চালও বেশি দামে বিক্রি করছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। খোলা চাল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি করা হলেও প্রাণ, তীর কোম্পানির প্যাকেট চাল ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

ভাই ভাই ট্রেডার্সের মুনির হোসেন ও মেসার্স রফিক ট্রেডার্সের রফিক জানান, কুষ্টিয়া, গাজীপুরের খোলা মুড়ি প্রতি কেজি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। আর বরিশালের মোটা চালের মুড়ি প্রতি কেজির দাম ১২০ টাকা। কিন্তু একটু দূরেই প্রাণসহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মুড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা।

ওই মার্কেটের দ্বিতীয় তলার রফিক ট্রেডার্সের রফিক জানান, বিসমিল্লাহ বেকারির ৯০০ গ্রামের চানাচুর ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। ৩০০ গ্রামের রুচি চানাচুরের দাম ৬৫ টাকা।

এটা যে শুধু কারওয়ানবাজারের চিত্র, তা কিন্তু নয়। মোহাম্মদপুরের পাইকারি বাজার কৃষিমার্কেট, টাউনহলের মতো বড় বড় বাজার থেকে শুরু করে পাড়া মহলায়ও করপোরেটরা ঢুকে গেছে। মোহাম্মদপুরের ফিউচার টাউন হাউজিং এর আলআমিন এন্টারপ্রাইজের মো. আনোয়ার এ প্রতিবেদককে বলেন, আগে বিভিন্ন এলাকার মুড়ি, চানাচুর কম দামেই বিক্রি করতাম। কিন্তু প্রাণ, সিটিসহ বিভিন্ন কোম্পানিও মুড়ি, চানাচুর, চাল, ডাল নিয়ে আসছে। তাদের পণ্যের দামও বেশি। তীর মিনিকেট ২৫ কেজি ১৮৭৫ টাকা। প্রতি কেজির মূল্য ৭৫ টাকা। ৫ কেজির মিনিকেট রুপচাঁদা চাল ৪৬০ টাকা। অথচ অন্য মিনিকেট কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তারা প্যাকেটজাতের কারণেই বেশি দাম নিচ্ছে।

এভাবেই বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানি বেশি দামেই চাল, আটা, ময়দা, তেল, চানাচুর বিক্রি করছে। তাদের ব্যবসার পরিধিও বাড়ছে। কিন্তু কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওই সব পণ্য কম দামে বিক্রি করা হলেও তাদের ব্যবসা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ এ শিল্পখাতের উন্নয়নের ব্যাপারে বলা হয়েছে-এসএমই নীতিমালা ২০১৯ এর আলোকে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বিসিক উদ্যোক্তা উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখসহ এর সার্বিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিকখাতে কটেজ ও মাইক্রো শিল্পের বিকাশকে ত্বরান্তিত করা হবে। শিল্পখাতে নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তার ব্যাপারেও বলা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ প্রদানে বিসিকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষিভিত্তিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নের জন্য আধুনিক সুবিধা সম্বলিত পরিবেশবান্ধব শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা একেবারেই ভিন্ন। বৃহৎ শিল্প বা করপোরেটদের চাপে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ দূরের কথা, দিনে দিনে তলিয়ে যাচ্ছে। কারণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তারা ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ না করেও চানাচুর, মুড়ি সরবরাহ করছে। তারা কম দামেও ভোক্তাদের এসব পণ্য সরবরাহ করছে।

অপরদিকে জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে আমদানি বিকল্প পণ্য হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে এসব ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এরফলে সম্প্রতি সিটি গ্রুপ, প্রাণ, আকিজের মতো বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এসব ব্যবসায় নজর দিয়েছে। ফলে তাদের প্রভাবে ছোট উদ্যোক্তারা হারিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে ভোক্তাদেরও চাল, আটা, ময়দা, তেল, মুড়ি, চানানচুর বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বাজার করপোরেটদের দখলে চলে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সিটি গ্রুপের তীর ব্র্যান্ডের আটা, চাল, ডাল নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের উপদেষ্টা অমিতাব চক্রবর্ত্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা আমি দেখি না। যারা দেখেন তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা দেখে থাকেন।

বিশ্বজিৎ সাহার সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, করপোরেটরা ব্যবসা করবে। কিন্তু চাল প্যাকেটজাত করে কেজিতে ৫ টাকা বেশি দাম নিবে, এটা হতে পারে না। আমাদের কাছেও অন্য চাল ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছে। বাজারে আসলে দাম বাড়াচ্ছে করপোরেটরা। কারণ তারা নিজে ধান কিনে মজুদ করে রাখছে। কিন্তু তথ্য প্রমাণ না পেলে তো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। শিল্পনীতিতে কী আছে তাও দেখার বিষয়।

এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সম্প্রতি বলেছেন, সিটি গ্রুপসহ বড় বড় সাহেবরা চাল ব্যবসায়ে ঢুকে পড়েছে। একেকটা মিল দেড় থেকে দুই কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে। সিটির তীর চাল তারা খুচরাও বিক্রি করছে। এটা কেন? সব জায়গায় কেন তাদের যেতে হবে। এটা সরকারের দেখা উচিৎ। কারণ এভাবে চললে মুদির দোকানও বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অটো মেজর ও হাসকিং রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দিনাজপুর চেম্বারের পরিচালক শহিদুর রহমান পাটওয়ারী (মোহন) বলেন, পুঁজি থাকলে যে কেউ ব্যবসা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছুটা নিয়ম মেনেই তা করতে হবে। যেভাবে পারব ভোক্তাদের কাছে বেশি দাম নেব, এটা কোনো ব্যবসা না। করপোরেটরা মিনিকেট চাল বাজারে বিক্রি করছে আমরাও অটো রাইস মিল থেকে সেই মিনিকেট চাল বিক্রি করছি কম দামে। ভোক্তাদের তা দেখতে হবে। তাহলে তারা একচেটিয়ে বাজার দখল করতে পারবে না। অন্যরা টিকে থাকবে।

পলিশ করে মিনিকেট নামে চিকন চাল বাজারে বেশি দামে বিক্রি করার ব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, যে কেউ আইন মেনে বৈধপথে ব্যবসা করবে এটা দোষের কিছু না। কিন্তু বর্তমানে মিনিকেটের নামে ভোক্তাদের সঙ্গে ডাহা প্রতারণা করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকেও বলা হয়েছে মিনিকেট নামে কোনো জাত নেই। তারপরও কেন বাজার থেকে সরকার বন্ধ করছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, এজন্য আইন করতে হবে। অর্থনীতিবিদ হিসেবেই আমি বলছি এক ধানকে তিনবার কেটে অন্য চাল হিসেবে বিক্রি করা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু না।

এনএইচবি

Header Ad
Header Ad

আমি জানি না, ওরা কেন মাঠ থেকে অবসর নিতে চায় না : খালেদ মাহমুদ সুজন

আমি জানি না, ওরা কেন মাঠ থেকে অবসর নিতে চায় না : খালেদ মাহমুদ সুজন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। সর্বশেষ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রসঙ্গ আবার আলোচনায় এসেছে।

২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ খেলে ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে হাসিমুখে বিদায় নিয়েছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। একইভাবে ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিদায় নিয়েছিলেন মোহাম্মদ রফিক। কিন্তু এরপর থেকে দুই দশকের বেশি সময়েও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের দৃশ্য দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, “ওদের ক্যারিয়ার বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অসাধারণ ছিল। মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগ ওদের প্রাপ্য ছিল। যারা ভালোবেসেছে ও সমর্থন দিয়েছে, তারাও চাইত গ্যালারি ভরা দর্শকের হাততালির মধ্যে তারা বিদায় নিক। কিন্তু সেই সুযোগটা আর হলো না। কেন মাঠে অবসর নেয়নি, সেটা ওরাই ভালো বলতে পারবে।”

অনেকে মনে করেন, বোর্ডের পরিকল্পনার অভাবের কারণেই এমনটা ঘটছে। তবে সুজন এই দাবির সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, “যখন আমি অবসর নিয়েছিলাম, আগেই জানিয়েছিলাম সেটাই আমার শেষ ম্যাচ। কিন্তু যদি কেউ না জানায়, বোর্ড বুঝবে কীভাবে? ক্রিকেটাররা আগেই বললে বোর্ডও সম্মানজনক বিদায়ের ব্যবস্থা করতে পারে।”

সম্প্রতি মুশফিকুর রহিম ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে এবং মাহমুদউল্লাহ সব ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তাদের এমন সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন সুজন। তার মতে, “ওরা চাইলে হয়তো আরও কিছুদিন খেলতে পারত। কিন্তু মাঠ থেকে বিদায় নিলে সেটা আরও স্মরণীয় হয়ে থাকত।”

মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলা না গেলে ভবিষ্যতেও এই ধরনের পরিস্থিতি চলতেই থাকবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

Header Ad
Header Ad

উপদেষ্টা মাহফুজ শাহরিয়ার কবিরদের ভাষাতেই কথা বলেছেন : জামায়াত

উপদেষ্টা মাহফুজ শাহরিয়ার কবিরদের ভাষাতেই কথা বলেছেন : জামায়াত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৩ মার্চ এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, মাহফুজ আলম গত ১২ মার্চ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন যে, “জামায়াত যুদ্ধাপরাধের সহযোগী ছিল।” মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা আখ্যা দিয়ে বলেন, মাহফুজ আলম জামায়াত সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা আসলে একটি প্রতিবেশি দেশের গুপ্তচর শাহরিয়ার কবিরদের ভাষার অনুকরণ।

তিনি আরও বলেন, মাহফুজ আলমের উচিত স্মরণ রাখা যে, তিনি একটি অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে টার্গেট করে এমন মন্তব্য করার অধিকার তার নেই। এমন মন্তব্য দিয়ে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অরাজনৈতিক চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে, শেখ মুজিবুর রহমানের সময় গঠিত তদন্ত কমিশনেও জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি অধ্যাপক গোলাম আযম সুপ্রিম কোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের প্রভাবিত বিচার এবং স্কাইপ কেলেঙ্কারি, বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বক্তব্য এবং সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর বক্তব্য এই বিচার ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী আহলে সুন্নত আল জামায়াতের অনুসারী এবং এর আক্বিদার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক। জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করে আসছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আশা প্রকাশ করেন যে, মাহফুজ আলম তার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন এবং ভবিষ্যতে এমন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

Header Ad
Header Ad

নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

শফিউল আজম টুটুলকে আহ্বায়ক ও মোস্তাফিজুর রহমান মানিককে সদস্য সচিব করে নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানি ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এই কমিটি অনুমোদন দেন।

কমিটির অন্যান্য নেতারা হলেন, যুগ্ম-আহ্বায়ক দেওয়ান কামরুজ্জামান কামাল,মো. জাহাঙ্গীর আলম গুলজার, শামিম নুর আলম শিপলু,মো. মাহমুদ হাসান,গোলাম মোস্তফা তাতু,আলম তাজ তাজু,মো. মিজানুর রহমান রনি, মো. মামুনুর রশিদ,আব্দুল্লাহ আল মামুন শিমুল,হাসিবুর রহমান প্লাবন,মো. নূর নবী,মো. আব্দুল বারী তুহিন,মো. রাগিব শাহরিয়ার কৌশিক,মো. শহিদুজ্জামান সৌরভ,মো. ফারহিম ইসলাম মুন্না।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

এছাড়া সদস্যরা হলেন, আব্দুল বারী হিরা, মহসিন আলী,মুশফিকুর রহমান সুজন চৌধুরী,মেহেদী হাসান পলাশ,মো. হেলাল উদ্দিন,আরিফুল ইসলাম বাপ্পী,স্বাধীন সরদার,কে এম রাব্বি রিফাত স্বচ্ছ,মো. সুরুজ সরকার,মো. মামুনুর রশিদ বুলেট,মো. মাসুদ রানা,মো. শাহরিয়ার হক রাজু,মো. সালমান ফারসী রাজ,মো. শামীম হোসেন, মো. ইস্রাফিল আলম তিতাস,মো. রায়হানুল ইসলাম রিপন,মো.শামস বিন আইয়ুব,মো. আশাদুল ইসলাম,মো. রুহুল আমিন মল্লিক,মো. ইশতিয়াক আহমেদ মিনার,মো. এনামুল হক (দপ্তরের দায়িত্বে),মো. রাকিন হোসেন (সহ-দপ্তরের দায়িত্বে),মো. পাঠান মুরাদ,মো. আশিক আহমেদ শাওন,মো. সবুজ হোসেন,মো. ডলার,শ.ম. আলেফ হোসেন সুমন,মো. শহীদুজ্জামান মুরাদ,মো. রিপন রেজা, এ্যাড, আলতাফ হোসেন উজ্জল,সোহেলী আক্তার শুভ,সোহাগ কুমার কর্মকার,মোঃ ওমর ফারুক (ওমর),মো. স্বাধীন আহমেদ।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

 

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

আমি জানি না, ওরা কেন মাঠ থেকে অবসর নিতে চায় না : খালেদ মাহমুদ সুজন
উপদেষ্টা মাহফুজ শাহরিয়ার কবিরদের ভাষাতেই কথা বলেছেন : জামায়াত
নওগাঁ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
শিশু আছিয়ার দাফন সম্পন্ন, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা
বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন ড. ইউনূস
‘২০২৬ সালেই বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণ করা হবে’
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের বাবা গ্রেপ্তার
শুক্রবার থেকে বন্ধ হচ্ছে দেশের সব পর্ন ওয়েবসাইট
ট্রাম্পের গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসা নিয়ে যা বলল হামাস
গাম্বিয়ার সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীরতর করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্ত্রীসহ সাবেক বিজিবি প্রধান সাফিনুল ইসলামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
মাগুরার শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার ৭ দিনের মধ্যে শুরু হবে: আইন উপদেষ্টা
আছিয়ার মরদেহ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে মাগুরায় নেওয়া হবে
ঢাকায় পৌঁছেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
সোয়া ২ কোটি শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল
ধর্ষণের হুমকি পেলেন ভাইরাল কন্যা ফারজানা সিঁথি, অতঃপর...
যমুনা সেতু মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ২৫
নওগাঁ মেডিকেল কলেজ নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ ও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি
চুয়াডাঙ্গায় ১ লাখ ৪৭ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাপসুল
টাঙ্গাইলে ‘বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস ও বঙ্গবন্ধু ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ’র নাম পরিবর্তন