শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্রশ্নবিদ্ধ সাংবাদিকতা: উত্তরণের পথ (১)

ক্ষমতাবান ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধক

অক্ষরের পাশে অক্ষর বসানো সমাচার দর্পণ থেকে আজকের ঝকঝকে চার রঙে ছাপা প্রতিদিনের অজস্র সংবাদপত্র। সাদা-কালো যুগ পেরিয়ে স্যাটেলাইটের হাত ধরে দেশ-মহাদেশের সীমানা পেরিয়ে যায় টেলিভিশন। এককালের ছুটে চলা প্রান্তিক সাংবাদিকতা থেকে আজকের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ। সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রযুক্তির নানা মাত্রা।

এত কথা যে সংবাদমাধ্যম নিয়ে, বর্তমানে তার গতিপথ কোন দিকে? মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে নতুন শতকের প্রথম দুই দশক পেরিয়ে আজ কোন জায়গায় আমাদের সাংবাদিকতা? তার মানই বা কী?

প্রশ্ন অনেক, উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি আমরা। ঠিক সে কারণেই ঢাকা প্রকাশের পক্ষ থেকে মুখোমুখি হওয়া গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।

বর্তমান সাংবাদিকতার নানা সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব থাকছে আজ।

পৃথিবীতে একটি বড় সত্য হলো পরিবর্তন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন ঘটবে সমাজের। বদলে যেতে পারে নিয়ম-নীতি। সেই বদল ইতিবাচকও হতে পারে, নেতিবাচকও হতে পারে। ঠিক তেমনই পাল্টে গেছে সাংবাদিকতার ধরন। বেড়েছে বিস্তৃতি, যোগ হয়েছে নানা মাধ্যম। তবে মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা, স্বাধীনতা পরবর্তী সাংবাদিকতা ও বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতার মান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

দেশের সাংবাদিকতা কোন পথে আছে এবং সময়ের ব্যবধানে গণমাধ্যমের পেশাদারিত্বের কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবিসি নিউজের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু বলেন, ‘৩০ বছর আগে সাংবাদিকতার মিশন ছিল, জনগণকে সেবা দেওয়া, শিক্ষিত করে তোলা। একজন মানুষকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে যেন সহায়ক ভূমিকা পালন করে, সেই ধরনের তথ্য, সংবাদ দিয়ে উন্নত করা। আর এখন সেটির পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা। কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কিছু কোটারি, দল, মত এগুলোকে পেট্রোনাইজ (পৃষ্ঠপোষকতা) করা সাংবাদিকতার ভেতের ঢুকে গেছে। যে কারণে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থের দ্বন্দ্ব) বাড়ছে।’

একই রকম কথা বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি জানান, পাকিস্তান বা ব্রিটিশ আমলে সাংবাদিকতার সুযোগের অভাব ছিল; কিন্তু যারা সাংবাদিকতায় আসতেন তাদের উদ্দেশ্য ছিল–তারা সাংবাদিকতা করবেন, জনগণকে তথ্য সেবা দেবেন। এর বিনিময়ে তাদের বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়া ছিল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আরও বলেন, ‘সেই সময়ের সাংবাদিকদের বেতনভাতা, সুযোগ-সুবিধা, চাকরির নিরাপত্তা খুবই দুর্বল অবস্থায় ছিল; কিন্তু তাদের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করার যে প্রয়াস, যে উদ্যম ছিল, আজ সেটির কিছুটা শৈথিল্য লক্ষ্য করছি। বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যনিষ্ঠার জায়গায় কিছু ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন উত্তর সত্য বা পোস্ট ট্রুথ, অলটারনেটিভ ফ্যাক্ট কথাগুলো চালু হয়েছে।’

সংবাদমাধ্যম এখন আর শুধু মুদ্রণ মাধ্যমে আটকে নেই। তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে গণমাধ্যম এখন মানুষের হাতের মুঠোই। ছাপানো সংবাদপত্র, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, স্যাটেলাইট টেলিভিশনসহ নানা ধরনের বিস্তৃতি বেড়েছে। তবে গণমাধ্যমের মূল কাজ বা পেশাদারিত্বের জায়গায় কতটা অটল রয়েছে–তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়ে সচেতন মহলে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদপত্রের বিস্তৃতি বেড়েছে এবং পরিবেশনার ক্ষেত্রে এসেছে অনেক বৈচিত্র্য; কিন্তু মান বেড়েছে কি-না তা বলা মুশকিল।’

সংবাদপত্রের করপোরেট মালিকানা এবং সাংবাদিকদের দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়কে মান কমে যাওয়ার জন্য অনেকটাই দায়ী করলেন এই সাহিত্যিক। তিনি বলেন, ‘অনেক সংবাদপত্র মালিকপক্ষের সংবাদ বা স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সম্পাদক বা মালিকের রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, একটা রাজনৈতিক পরিচয় এসে যাচ্ছে। মানের একটু সমস্যা রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে আরও ভালো করতে হবে। নিরপেক্ষতার ঘাটতি আছে বলেই মানও কমে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা প্রতিফলিত হচ্ছে না। শিক্ষকরা যেমন রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন, সাংবাদিকরাও নাম লিখিয়েছেন। সাংবাদিক সমিতির অনেকগুলো রং আছে। এটি তো হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশে কোনো সংবাদপত্র কখনো ব্যাপকভাবে কোনো দলকে সমর্থন দিলে তার খারাপ কাজকেও সমর্থন দেয়।’

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সংবাদমাধ্যমের একাংশ স্বাধীনতাবিরোধীদের সমর্থন করে। স্বাধীন দেশের সংবাদমাধ্যমের কাছে এটি কখনোই কাম্য নয়। এ প্রসঙ্গে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো সংবাদপত্র যদি স্বাধীনতাবিরোধীদের সমর্থন দেয়, তাহলে সেটি তো স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেল। এটি কখনোই কোনো সংবাদপত্রের কাজ হতে পারে না; কিন্তু আমাদের দেশে সেটি হচ্ছে।’

স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যেমন সংবাদপত্রের কাজ নয়, ঠিক তেমনই আবার সরকারের সমর্থক বনে যাওয়াও সংবাপত্রের কাজ নয়। এতে গণমাধ্যমের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। এ প্রসঙ্গে এ গবেষক বলেন, ‘সাংবাদিকদের একটি অংশ যখন সরকারের সব কাজের সমর্থনে দাঁড়িয়ে যায়, তখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, ‘ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সংবাদকর্মীরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে থাকে।’

মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী। তবে এ ক্ষেত্রে খুব কম আগ্রহ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবীণ এ সাংবাদিক বলেন, ‘করোনা রিপোর্টিং খুবই নিম্নমানের ছিল। বেশিরভাগেরই করোনা সংকট সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। অনেক ক্ষেত্রেই ভুল রিপোর্ট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অনেকগুলো মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের উত্থান হলেও, বেতন-ভাতার পরিমাণ খুবই কম হওয়ায় মানসম্পন্ন পেশাদার কর্মীরা এ পেশায় আসছেন না। এ ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের একটি অংশ নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। আগের তুলনায় মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে গেছে। এর জন্য সব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম নিজেও দায়ী।’

সাংবাদিকতাকে সঠিক পথে আনতে নতুন প্রজন্ম ও প্রতিষ্ঠানকে সৎ, অনুসন্ধানী, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতায় আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান সাজ্জাদ আলম খান তপু।

/এসএন/এসএ/

 

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত

নিহত শফিউল্লাহ মিয়া। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ট্রাক চাপায় শফিউল্লাহ মিয়া (৪৭) নামে এক আনসার সদস্য (কমান্ডার) সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শফিউল্লাহ মিয়া উপজেলার মৌলভীপাড়া গ্রামের মরহুম হাবিবুল্লাহ ওরফে মজনু মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কমান্ডার (পিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায, ঈদের ছুটিতে গত ২৮ মার্চ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল শফিউল্লাহর। শুক্রবার ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে ছিলেন তিনি।

এ সময় দেলদুয়ার সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে শফিউল্লাহর মাথায় পড়ে। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোয়েব আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন শফিউল্লাহ। শুক্রবার ভোরে তিনি নামাজ পরে হাঁটতে বের হন। হাঁটার একপর্যায়ে হাসপাতালের সামনে এলে মাটি বহনকারীর ড্রাম ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান