পদ্মা সেতু দিয়ে চলবে দেড় হাজার বাস

দেশের পরিবহন জগতে বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে পদ্মা সেতু। সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উম্মোচন করা পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করবে অন্তত ৬০ পরিবহন কোম্পানির দেড় হাজার যাত্রীবাহী বাস। আগামীকাল রবিবার (২৬ জুন) সকাল থেকেই এসব পরিবহন কোম্পানির গাড়িগুলো সরাসরি পদ্মা পার হয়ে যাবে নতুন নতুন গন্তব্যে।
জানা গেছে, অনেক কোম্পানি নতুন বাসের জন্য রুট পারমিটের আবেদন করছে। পুরাতন বাসের ক্ষেত্রে রুট পারমিট লাগবে না। যেসব বাস পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে যেত সেসব বাসও চলবে পদ্মা সেতু দিয়ে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। উদ্বোধন হয়ে গেলেই পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চালাব।’
এক প্রশ্নের জবাবে এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ‘পুরোনো গাড়ির রুট পারমিট লাগবে না। নতুন গাড়ি নামালে রুট পারমিট লাগবে।’
দেশের অন্যতম বিলাসবহুল বাস সার্ভিস পরিচালনায় নিয়োজিত গ্রিন লাইনের সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা সেতুর কারণে সার্ভিস বাড়াতে ৩০ কোটি টাকা দিয়ে ২০টি বিলাসবহুল বাস নামানো হচ্ছে। তারা বলছেন, এখন ট্রিপও বেশি হবে। আগে ফেরিঘাটে আটকে থাকার কারণে যেখানে একটা ট্রিপ হতো এখন ডাবল ট্রিপ মারা সম্ভব হবে।
গ্রিণ লাইনের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল সাত্তার বলছেন, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-বেনাপোল রুটে পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে যেত গ্রিণ লাইনের বাসগুলো। ২৬ তারিখ থেকে এসব রুটের বাস যাবে পদ্মা সেতু দিয়ে।
এ ছাড়া রুটের পরিধিও বাড়ছে উল্লেখ করে আব্দুস সাত্তার বলেন, বরিশালের বাসগুলো কুয়াকাটা পর্যন্ত যাবে। খুলনার বাসগুলো সাতক্ষীরা পর্যন্ত যাবে।
বাংলাদেশের সব থেকে বড় পরিবহন কোম্পানি হানিফ পরিবহনও পদ্মা সেতুর কারণে তার সেবার পরিধি বাড়াচ্ছে। এজন্য কোম্পানিটি নতুন বিনিয়োগ করে বিলাসবহুল আরও বাস নামাচ্ছে।
হানিফ পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন বলছেন, আমাদের ৬০ বাস এই রুটে চলে। আরও ২০টি বিলাসবহুল বাস কিনেছি।
যশোর, বেনাপোল, খুলনা ও সাতক্ষীরায় সোহাগ পরিবহনের ৪০টি বাস সেবা দিয়ে থাকে। কোম্পানির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাটুরিয়া ঘাট ব্যবহার করতে হবে না। এজন্য সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
পদ্মা সেতু ব্যবহার করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচলের জন্য ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন শরীয়তপুরের পরিবহন ব্যবসায়ীরা। এই টাকা দিয়ে নতুন করে আরও আড়াইশ বাস প্রস্তুত করেছেন তারা।
মাদারীপুর জেলা বাস মালিক সমিতি নতুন করে আরও ২৫টি বাস যুক্ত করছে। ‘সার্বিক পরিবহনের’ ৫৭টি বাসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও ২০টি চেয়ারকোচ ও ৫টি এসি বাস। এ ছাড়া সোনালি ও চন্দ্রা পরিবহনেও নতুন বাস যুক্ত করার কথা ভাবছেন বাস মালিকরা।
সাকুরা পরিবহন (প্রাইভেট) লিমিটেডের পরিচালক হুমায়ুন কবির জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া হয়ে ৭০টি বাস চলে। সেতু চালু হওয়ার কারণে এসি বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
এ ছাড়া শ্যামলী পরিবহন, ইউনিক পরিবহন, ইলিশ পরিবহনসহ প্রায় সব কোম্পানিই পদ্মা সেতুর কারণে বাস সংখ্যা বাড়াচ্ছে। শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার আফজাল হোসেন জানান, বরিশাল বিভাগে আমাদের বাস চলে না। ফেরি পারাপারের জটিলতার কারণে এতদিন বাস চালানো হয়নি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪টি রুটে বাস চালাব।
২১ জেলায় চলবে বিআরটিসির ৬৭ এসি বাস
দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ করতে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই ৬৭টি এসি বাস দিয়ে পরিবহন সেবা চালু করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এরই মধ্যে প্রাথমিক রুটম্যাপও তৈরি করা হয়েছে।
বিআরটিসর জেনারেল ম্যানেজার (আইসিডব্লিউএস) মেজর মোক্তারুজ্জামান ঢাকাপ্রকাশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে এসি বাস দিয়ে সার্ভিস চালু করতে চাই। এরপর যাত্রীদের চাহিদার ভিত্তিতে নন-এসি বাস চালুর চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৫-৬৭টি এসি বাস চালু করব।
এনএইচবি/এসএন
