'শোকজ করে অধ্যক্ষকে, আর জবাব লিখে দেয় সভাপতি'

বরগুনার বামনা উপজেলার বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও কর্মচারীদের কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে। বন্ধ রয়েছে কলেজের পাঠদান। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় ওই কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার যায়গাম আহসানের অপসারনের দাবীতে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস)।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি লেমুয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল করিম। তিনি বলেন, বেগম ফায়জুন্নেসা মহিলা কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার যায়গাম আহসান নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে কলেজ চালাচ্ছেন। ইচ্ছেমতো কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরীচ্যুত করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
তিনি বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক আশ্রাফুল হাসানকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত ও অফিস সহায়ক উজ্জল হাসানকে চাকরীচ্যুত করার জন্য অধ্যক্ষকে নোটিশে উল্লেখ করে সভা ডাকার জন্য বলেন। অধ্যক্ষ মিহসীন কবির বিধি বহির্ভূতভাবে এজন্ডা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সভাপতি শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করে কলেজ থেকে বের করে দেন। পরে নাসিমা বেগম নামে সহকারি অধ্যাপককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে বলেন। নাসিমা বেগম অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে রাজি হননি।
সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহসীন কবির বলেন, আগেও একবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাগরিকা কর্মকারকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। কারন আমি সভাপতির অবৈধ কর্মকাণ্ডের অংশীদার হতে চাইনা। তাই আমাকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে তার কর্মকাণ্ডের কারণে শোকজ হতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যখনি আমাদের কাছে বরিশাল আঞ্চলিক অফিস থেকে কারন দর্শানোর নোটিশ এসেছে সেই জবাবটা পর্যন্ত অধ্যক্ষর দায়িত্বে থেকেও একটা লাইনও আমি নিজে দিতে পারি নাই। প্রত্যেকটা লাইন তিনি ঢাকায় বসে বলে দিয়েছেন, সেই ভাবে আমাদের লিখতে হয়েছে। আবার পছন্দ হয়নি, আবার লিখতে হয়েছে। এভাবে তার কথা মতো বারবার লিখে পাঠাতে হয়েছে। শোকজ করে অধ্যক্ষকে, আর জবাব লিখে দেয় সভাপতি। এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না।
সম্মেলনে সাগরিকা কর্মকার বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থাকাকালে আমাকে দিয়েও বিধি বহির্ভূত কাজ করানো হয়েছে। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়েছি। নতুন দায়িত্ব পাওয়া নাসিমা বেগম বলেন, আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেবনা। তিনিও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির অপসারন চান।
অফিস সহায়ক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতির ডাকে যেতে দেরী হওয়ায় আমাকে শারিরিক লাঞ্ছনাসহ ৫০ বার কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে। আরেক অফিস সহায়ক জালাল উদ্দিন বলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে লঞ্চঘাট থেকে নিয়ে আসতে দেরী করায় আমাকে শারিরিক লাঞ্ছনাসহ ১০০ বার কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে।
অফিস সহকারি সাইদ হোসেন রিপন বলেন, আমাকে একাধিকবার সভাপতির মার খেতে হয়েছে। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক- কর্মচারীরা জানান, তাদের একটাই দাবী। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সৈয়দ বজলুল গাফফার যায়গাম আহসানকে অপসারন না করা পর্যন্ত তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাবেন না।
এএজেড
