প্রবাসেও ঘুরল না ভাগ্যের চাকা, লাশের অপেক্ষায় মা

'ছয় মাস আগে স্বামী মারা গেছে। এখন আবার পোলাডারেও লইয়া গেলা। আল্লাহ, এত শোক ক্যামনে দেও তুমি। আমারে শান্তি দেওয়ার লাইগ্যা জমিজমা বেইচ্চা পোলাডা বিদেশ গেছে। জমিও শেষ, পোলাও শেষ। এহন কী নিয়া বাচমু। আমার পোলার কবরডা আমার চোখের সামনে দিতে চাই।'
গগন বিদায়ী এমন আর্তনাদ করছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকার ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা জয়নব বিবি। ৬ মাস আগে তার স্বামী আবুল হোসেন মুসল্লী মারা যান। অন্যদিকে গত ২৯ আগস্ট অভাবের সংসারে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে জমি বিক্রি করে সৌদি আরব যান জয়নব বিবির বড় ছেলে জাকির হোসেন মুসল্লী (৪৫)। সেখানে একটি হোটেলে চাকরিতে যোগদান করার তিন দিন পর মারা যান জাকির। সন্তানের এমন মৃত্যুতে তাই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন জয়নব বিবি।
সৌদি আরবে জাকিরের সহকর্মীদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জাকির। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বেলা ১১টার দিকে একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। জাকিরের মৃত্যুর খবর পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে গ্রামজুড়ে।
পাথরঘাটার সৌদি প্রবাসী ইউনুস মুন্সী জানান, জাকির দালালের খপ্পরে পড়েছিল। ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভিসায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি তার জমিজমা বিক্রি করে সৌদি আসেন। তাই তিনি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে ব্রেন স্ট্রোক করেছেন বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান ইউনুস মুন্সী।
তিনি আরও জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর জাকির জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে আল কাসিম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ মর্গে রয়েছে।
নিহত জাকির হোসেনের স্ত্রী হনুফা বেগম বলেন, টানাটানির সংসারে একটু ভালো থাকার আশায় ধারদেনা ও ভিটেমাটি বিক্রি করে বিদেশ যান আমার স্বামী। এখন শাশুড়ির ঘরে আছি, তিনিও অসুস্থ। তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব কিছুই বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, জাকিরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন তা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার মরদেহ ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এসজি
