বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

" জিয়নকাঠি "

 ছেঁড়া অংশটা চুপটি করে মিলিয়ে গেল লুঙ্গির সুবঙ্কিম ভাঁজে। ভোরের মোলায়েম আলো পঙ্কিল প্রান্তর ছুঁয়ে দেখবার আগেই রাজহাঁসের মতো নিঃশব্দে মিলিয়ে পড়ে বাবা। একপায়ি থামে না, বাবাকে নিয়ে এগিয়ে চলে সন্তর্পণে। বহুদূর যায় একপায়ি। ওপারে গিয়ে জিরোয়। তীর্থের কাকের মতো অপলক চেয়ে থাকে ও। ওপারে ডানাকাটা নধরদেহী রাঙা মেঘেদের বাসা। বাবা কি তাহলে সকাল সকাল মেঘের বাড়ি যায়? ও ঠিক বুঝে না। তবে ফেরার সময় বাবার নিয়ে আসা হাওয়াই মিঠাইগুলোকে ওর কাছে মনে হয় রঞ্জিত বন্দী আপের মতো। রাতে ও মজা করে আপ খায় আর নিপুণ চাঁদ ও মেঘেদের সাথে কথা বলে বেড়ায়। ও ভাবে বাবা হয়তো আকাশ থেকে আপ পেড়ে আনে ওর জন্যে। তাই হয়তো রাতের আকাশে সাদা মেঘগুলোকে আর দেখা যায় না। সাদা মেঘকে ও বলে উড্ডীন আপ। ওর খুব ভালো লাগে আপ খেতে। খুব মিষ্টি, তুলোর মতো নরম; মুখে দিলেই হাওয়া।

 

শন শন শন হাওয়ায় উড়ে পাল। ময়ূরের মতো পেখম তুলে ঢেউয়ের চূড়ায় নেচে নেচে চলে একপায়ি। বাবার পালতোলা ছই নৌকোকে ও বলে একপায়ি। এক পা দিয়েই পানিতে হেঁটে বেড়ায় ও। সেগুন কাঠের কালামুখো বৈঠাই ওর পা। রাই দিঘির নির্মল জলের বুক কুড়িয়ে ও জলজ শাপলা তুলে আনে। শাপলা ফুলকে ও বলে কেউকেটা মরা সাপ। আর মরা সাপ দিয়েই যত্নকরে বাবার জন্য কণ্ঠমালা গেঁথে রাখে। গলদঘর্ম শরীরে বাড়ি ফিরতেই বাবার গলা জড়িয়ে ধরে টুপ করে পড়িয়ে দেয় শাপলার মালাটা। বাবার মুখ চুইয়ে পড়ে মুগ্ধতার লুকনো হাসি। ওদেরকে দেখে মৃদু হাসে আকাশের চাঁদ।

 

পাখির মতো কিচিরমিচির ভাষায় কথা বলে ও। রাতে ওকে আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দেয় বাবা। মাঝেমধ্যে খুব বকেও দেয়। দুপুরে ঠিকমতো ভাত মুখে তুলে না। একেবারে ধান শালিকের মতো চিকনা হয়ে গেছে। মা'কে ও দেখেনি। অবশ্য তাতে ওর দুঃখ নেই। ও বলে, " আমার মা এবং বাবা, দুইডাই তুমি আব্বা। " নিজ হাতে ইলিশ মাছ বেছে খেতে পারে না ও। বাবা কাটা বেছে দিলে তবেই মুখে তুলে। এক নলা বাবার মুখে পুড়ে দিয়ে বলে, " হুদা আমারেই খাওয়াইবা, তুমিও খাও আব্বা।" প্রতিদিন বাবার জন্য বৈছা পুড়ে রাখে ও। বাবা আসলেই লাল লাল বৈছা দিয়ে বলে, " তোমার লইগ্যা পুইড়া রাখছি আব্বা। নেও খাও। " বাবা যখন জিজ্ঞেস করে, " কইত্তে পাইসস বৈছা? " ও হাসিমুখে বলে, " রাই দিঘির জলে ওড়না দিয়া ধরছি আব্বা। " ছোটছোট চিংড়ি মাছের দলকে ও বলে বৈছা মাছ। ইলিশ এবং বৈছা ওর খুব প্রিয়, বাবার ও।

 

আমের থোকা থোকা বোল গুলো বড় হয়ে গেছে। বাতাসে সুমিষ্টঘ্রাণ। সাদা পায়রা পাখা মেলে হাওয়া খায় আকাশে। ও পায়রাকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। পায়রাও ডানা ঝাপটিয়ে উত্তর দেয় কথার।
বাবা চলে গেলে তিন্নির সাথে ধাপ্পা খেলে ও। সাদা, সাদা নুড়ি পাথর দিয়ে খুব দ্রুত ধাপ্পা খেলতে পারে। তিন্নি বলে, ও নাকি ধাপ্পা খেলার রাণী। সেবার ধাপ্পা খেলতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল কুন্তি। বাবা কাঁদতে কাঁদতে নিঃশেষ করে ফেলেছে চোখের জল। এ গায়ে ডাক্তার নেই। বড় নৌকায় করে ওপারে নিয়ে গিয়েছিল বাবা। অনেক দূরের নদীপথ। নীল পানির বিশাল জমিন। কিন্তু ফিরে আসার পর বাবাকে খুব বকেছে ও। ডাক্তার চিকিৎসা দেওয়ার সময় ও অজ্ঞানই ছিল। গায়ে আসতেই ও চোখ মেলে তাকায়। আর তাতেই মন খারাপ করে বসে পড়ে। বাবা ওকে মেঘের বাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে আসলো না কেন! সেজন্য খুব হেঁড়ে হয়েছিল ও। সেদিন খুব কেঁদেছিল বাবা। কিন্তু কুন্তি জানে না সেকথা।

 

বাবা ওকে ডাকে কুন্তি বুড়ি বলে। এগারো বছরের বাক্যবাগীশ মেয়ে কুন্তি। রাই দিঘির সাথে জমপেশ আড্ডা মারে ও। মেঘের সাথেও ভাব জমেছে ওর। ও কথা বলে জুনিপোকার সাথে। জুনিপোকাকে ও বলে মাডির তারা। আকাশে যেমন তারা মিটমিট জ্বলে, মাডিতে জ্বলে জুনিপোকা। প্লবগ ঘাসফড়িং আর কুতকুতে পানকৌড়ির সাথে গত বর্ষায় সই পেতেছিল ও। গত ঈদে ওর জন্যে বাবা খয়েরি রঙের ফ্রক এনেছিল। কতটাই না খুশি হয়েছিল কুন্তি। সেদিন ওর খুশি দেখে কে! বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, " আমার আব্বা সবাইর সেরা আব্বা। " এদিকে দু'বছরের পুরনো সেই নীল লুঙ্গিটা আজও বাবার অঙ্গে শোভা পায়। লুঙ্গির ছেঁড়া অংশগুলোকে কিভাবে ভাঁজের মধ্যে লুকিয়ে ফেলতে হয়, তা বোধহয় বাবার চেয়ে ভালো কেউ জানে না।

 

একদিন বালিহাঁস খেতে চেয়েছিল কুন্তি। নদীর মাঝ থেকে এক ডুবে বালিহাঁস ধরে এনেছিল বাবা। রাজহাঁসের সাথে খুব বেশি জমে না ওর। রাজহাঁসকে ও বাবার ভয় দেখিয়ে বলে, " আর কোনদিন ঠোকর দিলে, আব্বারে দিয়া মাইর খাওয়ামু তোরে। " হস্তিমূর্খ রাজহাঁসও খুব ভয় পায় ওকে। ওর ধারে কাছেও আসে না আর। বাবা আম খায় না অথচ আম নাকি তার খুব প্রিয়। বাবাকে ও জোর করে আম খাওয়ায়, তা-ও একটার বেশি মুখে তুলে না। কিন্তু কুন্তি কি কখনো জানতে পারবে কাঁচামিঠা গাছের আম ওর খুব প্রিয় বলেই, মুখে তুলে না বাবা?

 

টনটন গাড়ি খুব পছন্দ ওর। গত দুদিন ধরে বাবার সাথে একটা কথাও বলে না ও। কতবার করে বাবাকে বলেছে পিঙ্গল রঙের টনটন গাড়িটা আনতে, তবুও আনে না বাবা। এ গায়ে টনটন গাড়ি পাওয়া যায় না। প্রধান বাড়ির মেয়ে রিনুর হাতে টনটন গাড়ি দেখে, ওর মনেও টনটন গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বাধ জাগে। কি সুন্দর নহবতের শব্দ করে সে গাড়ি- টন টনা টন টন। কিন্তু বাবা ওর জন্য টনটন গাড়ি আনে না। খুব দামি যে। কিন্তু ও বুঝে না। ওর টনটন গাড়ি চাই তো চাই। ওপারে নিমতলি বাজারে টনটন গাড়ি পাওয়া যায়। নিমতলি বাজার অনেক দূরের পথ। কিন্তু বাবার কাছে টাকা নেই যে। তবুও বাবা ওকে নিরাশ করে না। তিনদিন পর বাবা ঠিকই নিয়ে আসে টনটন গাড়ি। টনটন গাড়ি পেয়ে ও খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরে বাবাকে। আর বলে, " আমার আব্বা ভালা, আমার আব্বা ভালা। " কিন্তু পরক্ষণেই বাবার হাতে চোখ পড়তেই হেঁড়ে হয়ে উঠে ওর মনটা। ও কথা বলে না বাবার সাথে। বাবা ওকে বুকে টেনে নিয়ে বলে, " কি অইছে মা? তুই খুশি হছ নাই? " " তুমি আংটি বেইচা আমার লইগ্যা টনটন গাড়ি কেন আনছ আব্বা? তুমি কি মনে করছ আমি বুঝি না! " " আনটি দিয়া কি করমু রে মা, আমার কুন্তি বুড়ির মুহে আসি না থাকলে! " " আমারে তুমি এ-তো কেন ভালোবাস গো আব্বা! " " মাইয়ারে ভালোবাসমু না তো কারে বাসমু। " ও খাইয়ে দেয় বাবাকে। আর গল্প জুড়ে দেয় সারারাত ভর। বাবাও গল্প শুনে হাসে আর ঘুম পাড়িয়ে দেয় ওকে।

 

ও ঘুমিয়ে পড়ে, সাথে বাবাও। সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখে বাবা নেই। কাজে চলে গেছে। শ্রাবণের মেদুর বিকেলে আকাশপটে রংধনু দেখে ও অভিভূত হয়। রংধনুকে ও বলে, সাতরঙা ট্যাংড়া লাইন, ঠিক মনিবুবুর চোখের মতো ত্যারচা। মনিবুবু খুব আদর করে ওকে। মনিবুবু ওর চেয়ে পাঁচ বছরের বড়। ওকে কাঁচা আম খেতে দেয়, নৌকায় করে ঘুরতে নিয়ে যায়। মনিবুবুর সাথে ও মাছ ধরতেও বের হয়। কখনো বা শালুক তুলে আনে। একবার শালুক তুলতে গিয়ে পায়ে খুব ব্যথা পেয়েছিল কুন্তি। তাই বাবা ওকে আর শালুক তুলতে দেয় না। তবুও লুকিয়ে লুকিয়ে মনিবুবুর সাথে ও শালুক তুলতে যায়। মনিবুবুকে বলে, " আব্বারে কইয়ো না মনিবুবু, এই তোমার পায়ে পরি, কানে ধরি। "

 

সেদিন আম পাড়তে গিয়ে পিছল গাছের উপর থেকে পড়ে বুকে খুব ব্যথা পায় ও। বাবা ওকে আম গাছে উঠতে বারবার মানা করেছে। কিন্তু ও শুনে না বাবার কথা। এদিকে বাবা জানেও না সেকথা। জানতে পারলে খুব বকবে হয়তো। তাই ও বাবাকে কিছু বলে না। সকাল থেকে আকাশের অবস্থাটাও ভালো না। ঝড় আসতে পারে যেকোন সময়। রেডিওতে শুনেছে ঝড় নাকি দুর্নমিতভাবে ধেয়ে আসছে মেঘের বাড়ি চিঁড়ে। সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসের প্রকোপ। বাবাও কাজে যায়নি আজকে। ঝড়ের সময় এপার থেকে ওপারে নৌকা চলে না।

 

বিকেলে হঠাৎই রক্তবমি শুরু করে কুন্তি।
ছোটবেলায় বুকে খুব ব্যথা পেয়েছিল একবার। গাছ থেকে পড়ে গিয়ে আবারও সেখানটায় মারাত্মক ব্যথা পেয়েছে। বমির সাথে সাথে কাতর কণ্ঠে ও বলে উঠে, " আমার খুব কষ্ট অইতাছে আব্বা। মইরা যামু আমি। আমি মইরা যামু। কষ্ট আর সহ্য অয় না আব্বা। " ঝড়ের সাথে সাথে বাড়ছে কুন্তির আর্ত অসহায় চিৎকারও। ঝড়ের শব্দে নির্বাপিত হচ্ছে ওর আর্তনাদ। ভয় পেয়ে যায় বাবা। কি করবে এই দমকা ঝড়ের সময়। বাবা আযান দিতে থাকে খুব জোরে জোরে। পাশের বাড়ির মল্লিক চাচা কত বাঁধা দিলো, এই ঝড়ের সময় ওপারে যাইস না। কিছুখনের মাঝেই সুস্থ হয়ে উঠবে ও। কিন্তু কথা শুনে না বাবা। মেয়ের আর্ত চিৎকার আর সহ্য হয় না তার। ঝড় কিছুটা কমতেই বৃষ্টিকে বিদীর্ণ করে মেয়েকে নৌকায় তুলে বেড়িয়ে পড়ে শহরের উদ্দেশ্যে। ওপারেই শহর, ডাক্তার আছে বড়বড়। ডাক্তারের কাছে গেলেই সুস্থ হয়ে উঠবে কুন্তি। কুন্তির মুখ চুইয়ে রক্ত পড়ছে অঝোরে। মাঝপথে আবারও শুরু হয় তীব্র ঝড়। ঝড়ের বিপরীতে বৈঠা দিয়ে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে নৌকা বাইতে থাকে বাবা। আর আল্লাহ, আল্লাহ করতে করতে বলে, " এইতো মা, আর কতক্ষণ, এরপরই ডাক্তারের কাছে যাইতাছি। ভালা হইয়া যাবি মা, ভালা হইয়া যাবি। " কিন্তু কুন্তির ব্যথা কমে না; কমে না ঝড়ও। ঝড়ের বেগের সাথে বাবা একা পারে না কিন্তু হারও মানে না।

 

কোনমতে নৌকা নিয়ে ওপারে চলে আসে বাবা। বাবার হাত পা ফুলে গেছে সর্বশক্তি দিয়ে দাঁড় টানতে টানতে। অভুক্ত শরীরে দুইঘণ্টা নৌকা চালিয়ে এপারে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছে মেয়েকে। ঝড় কমে গেছে আগের চেয়ে। কুন্তিকে কোলে নিয়ে ডাক্তারখানায় নিতেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে ও। বাবা ডাক্তারের পায়ে পড়ে বলতে থাকে, " আমার মাইয়া রে বাঁচান ডাক্তার সাহেব, আমার মাইয়া রে বাঁচান। " কিছুক্ষণ পর ডাক্তার ফিরে এসে বলে, তাড়াতাড়ি ও পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন। বাবা এবং মেয়ের রক্তের গ্রুপ একই। ক্লান্ত শরীরেই রক্ত দিতে উদ্যত হয় বাবা। কিন্তু ডাক্তার বলে উঠে, " এরকম পরিশ্রান্ত শরীরে রক্ত দেওয়া আপনার জন্য মারাত্মক বিপদজনক। " কিন্তু পাগল হয়ে গেছে বাবা। তার মুখে একটাই কথা, " আমার মাইয়ারে বাঁচান। আমার মাইয়ারে বাঁচান। " ডাক্তারের কথা অমান্য করেই অভুক্ত শরীরে দুই ব্যাগ রক্ত দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে বাবা। রক্ত দেওয়ার ঘণ্টা খানেক পর চোখ মেলে তাকায় কুন্তি। কিন্তু আসেপাশে তাকিয়ে দেখে বাবা নেই। ও বাবাকে খুঁজতে থাকে অবিশ্রান্তভাবে। পাশের রুমে নিভৃতে বাবাকে শুয়ে থাকতে দেখে ও কাঁদতে থাকে হাউমাউ করে আর বলতে থাকে, " কতা কও আব্বা, কতা কও আব্বা। " কিন্তু কথা বলে না বাবা। পশ্চিম দিগন্তের মেঘগুলো মিলিয়ে পড়ছে কাঁদতে কাঁদতে, দিগন্তে আলোক সমারোহ ক্রমশ সংকোচিত হচ্ছে; নামছে চির আঁধার। উঁচু তালগাছগুলোর মাথায় সূর্যের আলো চিকচিক করে ডুবে গেলো। বিরান আকাশের মেঘ চিঁড়ে ওঠার সময় কাঁদতে কাঁদতে সায়ংকালীন চাঁদ বলে উঠে, " মেয়ের জীবনের তরে নিজের জীবনকে বানাইলো যে নৌকার লাঠি, জীবনের বিনিময়ে জীবন দিয়া মেয়েরে দিয়া গেলো জিয়নকাঠি! "

 শিক্ষার্থী, পশুপালন অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২


ডিএসএস/

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী