শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট

বাংলাদেশের আগাম পরিকল্পনা নিয়ে রাখতে হবে

গত কয়েকদিনের বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে মূলত ইউক্রেন-রাশিয়ার সামরিক অভিযানই প্রধান খবর হিসেবে উঠে এসেছে। শুধু খবর নয়, এটি সারা বিশ্বের জন্য চিন্তা এবং ধাক্কার সৃষ্টি করেছে। চিন্তার কারণ হলো–অনেকদিন ধরে বিশ্বযুদ্ধ নেই। এখন আবার নতুন করে যুদ্ধ বা সংঘাতের আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি।

গত চার দিন আগে রাশিয়া তিন দিক থেকে ইউক্রেন আক্রমণ করে। এই আক্রমণের প্রেক্ষাপট নতুন নয়। ২০১৪ সালে প্রথম রাশিয়া ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। যে কারণে ইউক্রেনের জনগণ খুব ভালো করেই জানতেন যে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ পরেও থাকবে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যে ১৩টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়, ইউক্রেন তাদেরই একটি। রাশিয়া চাচ্ছিল, ন্যাটো যেন ইউক্রেনে না আসে। তারা এটাই বলছিল যে, তাদের এমন একটি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, ইউক্রেন ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হবে না। রাশিয়ার দাবি, এটি তাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি। কাজেই এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাশিয়ানরা আগে থেকেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধচারণ করে এসেছে।

আবার এখন ন্যাটোর যে কাঠামো আছে তাতে, যে কোনো দেশকে নেওয়ার ক্ষমতা ন্যাটোর আছে। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই রাশিয়াকে লিখিতভাবে অঙ্গীকার দেওয়ার সুযোগ তাদের নেই। যে কারণে রুশ-মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যকার বৈঠকে ফলপ্রসূ কিছু হয়নি। তারই ফলশ্রুতিতে রাশিয়ানরা ইউক্রেন আক্রমণ করে বসেছে। আজকের ঘটনাটি তারই বহিঃপ্রকাশ।

এখন যেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার অজুহাতে যে কোনো দেশ যে কোনো কিছু করতে পারে–এই ধারণার পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয়ের প্রেক্ষাপট ছিল এ রকমই। আমরা দেখলাম, নাগরিক অধিকার রক্ষার যে ব্যাপারগুলো নিয়ে একটি চিন্তাভাবনা চলছিল, সেখানে আজকের ঘটনাটি একটি বড় ধরনের হুমকি। ছোট দেশকে বড়রা আক্রমণ থেকে শুরু করে শোষণ করে–এটি অনেকদিন ধরে চলে আসা একটি রীতি। গতকাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। যদিও রাশিয়া ভেটো দেওয়ার ফলে তা গৃহীত হয়নি।

ইউক্রেনের উপর হামলার জের ধরে এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপানসহ একাধিক দেশ রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যার বেশিরভাগই অর্থনৈতিক। এ সংকটের প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর। তেলের দাম বাড়ছে, সেটারও একটা প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর পড়বে। এই যুদ্ধের প্রভাবে এর মধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।

দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকটের বড় প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্য পণ্যের দাম বাড়লে তার প্রভাব সব ক্ষেত্রেই পড়ে। যে কোনো অবরোধ যখন দেয়া হয়, সেটার মাত্রাটা ব্যাপক হলে বাংলাদেশ কেন, সারা বিশ্বের জন্যই একটা চিন্তার ব্যাপার হয়ে যায়। আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তো চিন্তার কারণ আছেই, প্রভাবটা কতো ব্যাপক হবে, সেটা নির্ভর করবে এই সংকট কতদিন ধরে চলে, তার উপর। যদি নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সেটার মাত্রা বাড়তেই থাকবে। পক্ষ-বিপক্ষের প্রশ্ন আসবে। তখন তা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠবে।

একটা যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন তা বহুমুখী সমস্যার সৃষ্টি করে। সেটা শুধু সেই দুটি দেশ বা জোটের মধ্যে থাকে না, প্রত্যেকেই আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশের উপর কী বা কতটা প্রভাব পড়তে যাচ্ছে, তা হয়তো এখনো পরিষ্কার নয়। পরাশক্তিগুলোর বিরোধে বাংলাদেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য এখনই সতর্ক হতে হবে।

আমাদের এক ধরনের নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে হবে। আমরা কোনো পক্ষ নেব না। তবে যুক্তরাষ্ট্র কড়া নিষেধাজ্ঞা দিলে সেটা আমাদের মেনে নিতে হবে, সেটা লঙ্ঘন করার উপায় আমাদের নেই। রাশিয়াও সেটা বুঝবে। ফলে আমাদের দেখতে হবে, সেই নিষেধাজ্ঞা না ভেঙে, রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের যে ব্যবসা-বাণিজ্য আছে, বিশেষ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে–সেটা কীভাবে আমরা অব্যাহত রাখতে পারি, সেই চেষ্টা করতে হবে।

খুব তাড়াতাড়ি হয়তো রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের বড় প্রভাব বাংলাদেশে দৃশ্যমান হবে না; কিন্তু এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার আওতা আরও বাড়লে বাংলাদেশ কী করবে, বাংলাদেশকে সেই আগাম পরিকল্পনা এখনই নিয়ে রাখতে হবে।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

এসএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত