শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতার অনেক বেশি অভাব

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই পরিবর্তন হয়। আগে যে অবস্থা ছিল এখন নিশ্চয়ই সে অবস্থা নেই। সেটি শিক্ষার ক্ষেত্রেও সত্য, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও সত্য। সকল ক্ষেত্রেই সত্য। কাজেই পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এখন সেটি ভালোর দিকে যাচ্ছে না কি খারাপের দিকে যাচ্ছে সেটিই দেখার বিষয়।

আমরা দেখেছি, আগে সাংবাদিকদের বেতন ভাতা সুযোগ সুবিধা অনেক কম ছিল। কিন্তু সাংবাদিকতার মান অনেক ভাল ছিল। কারণ বস্তুনিষ্ট সংবাদের দিকে সাংবাদিকদের ঝোঁক বেশি ছিল। এখন সাংবাদিকেরা অপেক্ষাকৃত ভালো পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পায়। কিন্তু দেখা যায় বস্তুনিষ্ঠতার অনেক বেশি অভাব। আগে সাংবাদিকতার একটা ভিশনারি মিশন ছিল যে, আমরা সমাজকে সেবা করবো। এরকম একটি আদর্শ নিয়েই তারা সাংবাদিকতায় আসতেন। গণমাধ্যম যারা প্রতিষ্ঠা করতেন, তাদের ইচ্ছা ছিল, তথ্য সেবার মাধ্যমে জনগণের সেবা দেয়া, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করা। পত্র পত্রিকার জৌলুশ তাদের ছিল না। ছোট ছোট পত্রিকা অফিস সেখানে অল্প কিছু লোক কাজ করতেন। এখন সাংবাদিকদের ক্ষেত্র বেড়েছে, বড় বড় প্রতিষ্ঠান হয়েছে, কিন্তু কাজের গুণগত মান বাড়েনি। নৈতিকতার চেয়ে কি করে দ্রুত ধন সম্পদের মালিক হওয়া যায় এরকম একধরনের মানসিকতা দেখা যায়।

আগের দিনে সাংবাদিকরা সত্যের জন্য জেল জুলুম এমনকি মৃত্যুকে পরোয়া করতো না। এখন সেরকম ত্যাগের মহিমা নেই বলেই মনে হয়। আগে সাংবাদিক বড় হলেও ঘর ছিল ছোট, জীবনযাত্রা ছিল অতি সাধারণ। এখন সাংবাদিক ছোট কিন্তু গাড়ি বাড়ি টাকা পয়সার অভাব নেই। এই ট্রেডিশন চালু হয়ে গেছে। শুধু বাংলাদেশে নয় সারা পৃথিবীব্যাপি সংবাদপত্র শিল্পটি অর্থ নির্ভর হয়ে গেছে। তবে আমি বলবো, এখনও অনেক সাংবাদিক আছেন যারা ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন। তবে সাংবাদিকতারও সুদিন আসছে আমি দেখছি। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আমাদের আশাবাদী হতে হবে।

আমার মনে হয় না কোনো দেশের মানুষই বলতে পারবে যে, বর্তমানে যে অবস্থা বিরাজমান সেটি শিক্ষাক্ষেত্রে হোক, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হোক, চিকিৎসা ও অন্যান্য মাধ্যমেই হোক শতভাগ সন্তুষ্ট বলা যাবে না। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। আরও সংশোধন করা দরকার ছিল। আমরা আমাদের দেশে যে গণতন্ত্র চর্চা করছি, সেটি খুব অল্প সময়ের। আমরা ৭১ সালে স্বাধীন দেশ পাবার পর ৭২এ যখন সংবিধান রচিত হয়, তখন এই সংবিধানটি ছিল পৃথিবীর জন্য উন্নত সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক একটি সংবিধান। কিন্তু সেই সংবিধানকে আমরা ধরে রাখতে পারিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ৭৫এ হত্যাকাণ্ডের পরে এই সংবিধানকেও একধরনের হত্যা করেছিল। এদেশে সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন, অপশাসন দানা বেধেছিল। বহুদিন এভাবেই এইদেশ পরিচালিত হয়েছে। সংবিধানকে কাটা ছ্যাড়া করা হয়েছে। গণতন্ত্র নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। ১/১১তে আমরা দেখেছিলাম গণতন্ত্রের নির্বাসন। এদেশের গণতন্ত্র হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র এখন যে জায়গায় আছে, তা থেকে আমরা আরও উন্নত জায়গায় যেতে চাই।

আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশন সংসদে আইন পাশ করেছে। ইতিমধ্যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজেই আমরা আশা করবো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা দেখতে পাবো। নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূলকথা নয়। কিন্তু নির্বাচন একটি মৌলিক জায়গা। একটি গুরুত্বপুর্ণ জায়গা। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার দেশ শাসনের একটি অনুমতি পায়। এই নির্বাচনের মূল জায়গাটিই হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকার। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। প্রতিটি প্রার্থী যেন তাদের প্রার্থীতা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারেন। এটি একটি উল্লেখযোগ্য এবং যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তারা যেন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ শাসন করেন, সুশাসন উপহার দেন সেটিও দেখার দরকার আছে। যে সকল দেশ ৩০০/৪০০ বছর ধরে গণতন্ত্র চর্চা করছে তাদের নিয়েও প্রশ্ন অথবা বিতর্ক আছে। সেখানে আমাদের গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা কম সময়ের। আমরা আশা করবো আমাদের দেশ যত এগিয়ে যাবে, ততই আমরা গণতান্ত্রকে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ এবং জনগণের কাছে নিয়ে আসতে সক্ষম হবো।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষ একসঙ্গে যুদ্ধ করেছে। ত্রিশ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছে। সাড়ে সাত কোটি মানুষের জায়গায় এখন ষোল কোটির উপরে সবাই। একই রাজনীতি করবে, একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হবে। এটি ঠিক যে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন দল থাকবে, ভিন্ন দর্শন থাকবে। কিন্তু গণতান্ত্রিক একটি দেশে স্বাধীনতার বিরোধী কোনো শক্তি থাকবে না। কিন্তু আমরা দেখেছি যে, স্বাধীনতার সাথে সাথে স্বাধীনতার বিরোধী একটি শক্তি দাঁড়িয়ে গেছে। দেশের প্রতি অশুভ দৃষ্টি পড়েছে। সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। এক দেশ এক নেতা এক জাতি সবাই আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে এক এই নীতিতে বিশ্বাসী হতে হবে।

 

 

লেখক: সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

                                                                                

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত