রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩১
Dhaka Prokash
Header Ad

গণতন্ত্র বিকিয়ে দেওয়ার রাজনীতি চলছে ভারতবর্ষে

ইংল্যান্ডে প্রায় তিন শ বছর আগে ম্যাগনা কার্টার আমলে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। উদ্দেশ্য একটাই–জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য সরকার কাজ করবে। যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, সেসব দেশে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আয়ারাম-গায়ারাম হয়ে যায়। ১৯৬৭ সালে লোকসভা এবং বিধানসভাগুলোর নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছিল–কংগ্রেস দল পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং উত্তর প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

এই রাজ্যগুলোতে তাই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য আঞ্চলিক ছোট দলগুলো কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে সরকার গঠন করেছিল; কিন্তু এসব সরকার অস্থায়ী হয়নি। বিহারে বিন্দ্যেশ্বরী মন্ডল তো মাত্র একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর কর্পুরী ঠাকুর ও অন্য কয়েকজনের স্থায়িত্ব ছিল অল্প কিছুদিন বা কয়েক মাস। যেহেতু এইসব সরকার স্থায়ী হয়নি, তাই পরবর্তীকালে যখন নির্বাচন হয়, তখন দেখা যায়, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ওইসব রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে কংগ্রেস।

১৯৬৭ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গিয়ে মেদিনীপুরের অজয় মুখার্জি একটি নতুন দল গঠন করেন, যার নাম ছিল বাংলা কংগ্রেস। বাংলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন প্রণব মুখার্জি। বর্তমানে সেই দলের আর কোনো অস্তিত্বই নেই। যা-ই হোক বাংলা কংগ্রেস সেই ১৯৬৭ সালে বাম দলগুলোকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে। মুখ্যমন্ত্রী হন অজয় মুখার্জি। তবে সেই সরকারের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৯ মাস। এরপর পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। ১৯৬৯ সালে ফের বামদলগুলোর সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় আসে বাংলা কংগ্রেস। ফের মুখ্যমন্ত্রী হন অজয় মুখার্জি। সেই সরকার স্থায়ী হয় ১৩ মাস। ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ এই দুই সময়ের জোট সরকারেই অজয় মুখার্জির ডেপুটি, অর্থাৎ উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। এই দ্বিতীয় জোট সরকারও ভেঙে যায় মতপার্থক্যের কারণে।

১৯৭০ সালে অজয় মুখার্জি বামদের ছেড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে কোয়ালিশন করেন। তৃতীয় দফায় অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হন। এবং উপমুখ্যমন্ত্রী হন কংগ্রেসের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বিজয় সিং নাহার। এরপর শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে এই সরকার সামলাতে পারবে না মনে করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেন। বাংলাদেশের মানুষদের ঠিকভাবে খাওয়া, পরা ও চিকিৎসার সংস্থান করার জন্য তিনি ত্রাণ শিবির চালু করেন। দায়িত্ব দেওয়া হয় রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘসহ বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। এরপর একসময় মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম হয় বাংলাদেশের। এর অব্যবহিত পরই ১৯৭২ সালে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হন সিদ্ধার্থ শংকর রায়।

এ তো গেল পুরনো ইতিহাস। এবার আমরা চোখ ফেরাব ভারতে আগামী দু মাসে যে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে সেদিকে। এই পাঁচটি রাজ্য হলো–গোয়া, মনিপুর, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড। বঙ্গেশ্বরী মমতা বন্দোপাধ্যায় বিগত নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই তার আঞ্চলিক দলটিকে সর্বভারতীয় রূপ দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন। তিনি এই উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরে গোয়ায় গিয়ে কংগ্রেস এবং বিজেপি থেকে লোক ভাঙিয়ে নিজের দলকে শক্তিশালী করছেন। সে রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাকে এ ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর পাণ্ডে।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রখ্যাত সাংবাদিক শ্রীনিবাস জৈন ৪৫ মিনিট ধরে ইন্টারভিউ করেন প্রশান্ত কিশোরকে। সঞ্চালক শ্রীনিবাস জৈনের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই প্রশান্ত কিশোরের আসল রূপটি বেরিয়ে এসেছে। তিনি বলেছেন, দিদি আমাকে তিন রাজ্য–গোয়া, মেঘালয় ও মনিপুর থেকে কংগ্রেসের লোক ভাঙিয়ে আনার অনুরোধ করেছিলেন। গোয়ার ব্যাপারে বঙ্গেশ্বরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনিয়া গান্ধীকে ফোন করে বলেছিলেন, সে রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট চায় তৃণমূল। এ কথা বলার পাশাপাশি তিনি আবার কংগ্রেস থেকে দল ভাঙিয়ে লোক আনার চেষ্টাও করতে থাকেন।

এ ব্যাপারে গোয়ায় কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিদম্বরম স্পষ্ট করে বলেছেন, তৃণমূল গোয়ায় কংগ্রেস ভাঙানোর খেলায় নেমেছে। চিদম্বরমের বক্তব্য, এ কারণেই গোয়া বিধানসভার ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের জোট প্রক্রিয়া এগোয়নি। গত সপ্তাহেই গোয়ায় নির্বাচনী জোট না হওয়ার জন্য কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে রোববার (২৩ জানুয়ারি) চিদম্বরম অভিযোগ করেন, তৃণমূল জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল ঠিকই; কিন্তু পাশাপাশি কংগ্রেস ভাঙানোর কাজও শুরু করে। কোনো কোনো মহল থেকে শোনা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশের এক ব্যবসায়ী তৃণমূলকে কয়েক লাখ ডলার এবং ভারতীয় মুদ্রায় ১৫০ কোটি টাকা দিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি শিল্প কারখানার অংশীদার হতে চলেছেন। সেই ব্যবসায়ীর টাকাতেই তৃণমূলের এই রমরমা অবস্থা।

যে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচনে হবে, তার মধ্যে বৃহত্তম হলো উত্তরপ্রদেশ। এই রাজ্য বিধানসভার আসনসংখ্যা ৪০৩। উত্তরপ্রদেশের ভারপ্রাপ্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কংগ্রেসকে হারানোর জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি মমতা উত্তরপ্রদেশে যাচ্ছেন বলে তাঁর অফিস থেকে জানানো হয়েছে। কংগ্রেস মহল থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদির হাত শক্ত করতে তাদের অনুরোধেই মমতা কংগ্রেসকে হারাতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

শুধু তা-ই নয়, আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা না পায় তাহলে তৃণমূল তাদের সমর্থন করতে পারে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। গোয়ায় কংগ্রেস বিধায়ক লুইজিনহো ফেলেইরোকে দলে নিয়ে নেয় তৃণমূল। আরও দুজনকে কংগ্রেস প্রার্থী করার পরেও তাদের নিজেদের দলে টেনে নেয়।

দল ভাঙানোর এই খেলা প্রসঙ্গে একটু অতীতের কথা বলতে হয়। কংগ্রেস ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের দল গড়েন, সে সময় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি ২০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এমন কথাই শোনা যায় বিজেপি মহলে। আর এর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মমতা বিজেপি বাংলায় জায়গা করে দেন। বিজেপির সঙ্গে জোট করে লোকসভা নির্বাচনে লড়েন। ফলে পশ্চিমবঙ্গে খাতা খোলে বিজেপি। সরাসরি দল না ভাঙিয়েও টাকা দিয়ে গণতন্ত্রকে কিনে নিয়েছিল বিজেপি। আর টাকার লোভেই বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বাংলায় ডেকে এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এমন অভিযোগও রয়েছে।

আজও সেই টাকার খেলাই চলছে। বিজেপির মতোই এ খেলায় দক্ষ বঙ্গেশ্বরীর দলও। গোয়ার পার্শ্ববর্তী রাজ্য মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’য় শিবসেনার রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউথ প্রশ্ন তুলেছেন, গোয়ায় তৃণমূল এত লোককে কিনছে, এত খরচ করছে কার টাকায়?

এভাবে দল ভাঙিয়ে, টাকা ছড়িয়ে লোক কেনা এবং নীতিহীনতার রাজনীতি চলছে দেশজুড়ে। যার সূচনা করেছিল বিজেপি, আর বর্তমানে সেই ধারা সফলভাবে বহন করে চলেছে বিজেপিরই রাজনৈতিক দোসর মমতার তৃণমূল। এভাবে গণতন্ত্রকে বিকিয়ে দেওয়া রাজনীতি ভারতবর্ষ ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে বোধহয় পাওয়া যাবে না।

লেখক: ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক

এসএ/

Header Ad

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল

ছবি: সংগৃহীত

একইসঙ্গে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী। স্ত্রীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি দুই স্বামীর কাউকেই। গোপনে মন জয় করে চলছিলেন দুই স্বামীর। প্রায় দুই বছর দুই স্বামীর সংসার করার পর অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে ইউটিউবার সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই বসবাস করতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ। সংসার জীবন ভালোই চলছিল এ দম্পতির। হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল।

এদিকে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। প্রথম স্বামী সাগরের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে তার সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক রেখে চলছিলেন জান্নাতুল।

স্ত্রীর পরিবার তাকে মেনে না নেয়ায় তার বোনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটাতেন স্বামী-স্ত্রী। চলতি মাসের ২ নভেম্বর তারা একসঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন বলেও দাবি করেন সাগর।

তবে দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় স্বামীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে পারেন সাগর। আর এতেই বাঁধে বিপত্তি। তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জান্নাতুল। এখন দ্বিতীয় স্বামী নিয়েই সংসার করতে আগ্রহী তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন সাগর।

সাগর শেখ বলেন, জান্নাতুল ও আমার বিয়ের বিষয়টি জান্নাতুলের মা ও বোন জানতো। বিয়ের পর আমাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। তবে হঠাৎ করে জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় তাদের বাড়িতে আমার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের চার মাসের মাথায় আমি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য রাজবাড়ীর বাইরে যাই।

কাজ থেকে এসে শুনি আমার স্ত্রী জান্নাতুল অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘পরিবারের চাপে বিয়ে করেছি। ওই ছেলের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক হয়নি। আমি তোমার স্ত্রী আছি, তোমারই থাকবো। আমার আম্মু দেশে আসলে আমি তোমার কাছে চলে আসবো।’

সাগর বলেন, ‘আমি জান্নাতুলদের বাড়ি যাতায়াত করতে না পারার কারণে বিভিন্ন সময় আমরা রাজবাড়ী শহরে আমার বোনের বাসায় ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতাম। ওর কলেজে আনা-নেয়াসহ সবকিছু আমিই করতাম। এমনকি গত ২ নভেম্বরও আমরা আমার বোনের বাসায় আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছি।

তবে বিবাহ বার্ষিকী পালনের দুদিন পরে আমি জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে ওই ছেলের (দ্বিতীয় স্বামীর) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে। ওই ছেলে নিয়মিত জান্নাতুলের বাবার বাড়িতে এসে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি জান্নাতুলকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে গালাগালি করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও জানায়।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জান্নাতুলের মা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে। তিনিও এখন আমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে অস্বীকার করছেন। অথচ তার মেয়ের সঙ্গে আমার প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সবকিছুই তিনি জানতেন।

এখন বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গত ১১ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ১নং আমলি আদালতে মামলা করেছি।’

সাগর আরও বলেন, ‘আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে আমার স্ত্রী অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সে আমাকেও ম্যানেজ করে চলেছে, একইভাবে তার দ্বিতীয় স্বামীকেও ম্যানেজ করে চলেছে।

এটা আইন ও ধর্মীয় দুই দিক থেকেই অপরাধ। এছাড়া আমি এ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তারপরও আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।’

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। তবে তার দাবি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতেন। সাগরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন না।

জান্নতুলের দ্বিতীয় স্বামীর বাবা বলেন, ‘কোন এক সূত্রে আমার শ্বশুর জান্নাতুলদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তাকে পছন্দ করে। পরে আমি গিয়ে তার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিয়ের দিন ধার্য হয়। বিয়ের আগের দিন সাগর নামে এক ছেলে আমার ছেলেকে ফোন করে বলে জান্নাতুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে।

সে জান্নাতুলের সঙ্গে নিজের একটি ছবিও আমার ছেলেকে পাঠায়। এরপর আমি ওই এলাকায় আমার আত্মীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের কোন সম্পর্ক ছিল না। এছাড়া জান্নাতুলকেও আমি সরাসরি প্রশ্ন করলে সেও সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে।

পরে ঘরোয়া আয়োজনে জান্নাতুলের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে হয়। এখন সাগর নামে ছেলেটি জান্নাতুলকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছে। আমি যতদূর জেনেছি সাগরের স্ত্রী ও সন্তান আছে। এখন বিষয়টি আইনগতভাবেই সমাধান হবে।

আর জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলতে তার বাবার বাড়িতে গেলে ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি।’

বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তার মা হাচিনা বেগম বলেন, ‘সাগরের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল৷ তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মেয়ে তো ছোট বুঝে নাই, যে কারণে সেসময় ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিঁড়ে ফেলেছে। এর ৪/৫ মাস পরে আমার মেয়ের আবার বিয়ে হয়েছে। সাগর আমার মেয়েকে চাপে ফেলে এতোদিন তার সঙ্গে সময় কাটাতে বাধ্য করেছে।’

আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক জানান, ‘সাগর ও জান্নাতুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তার নোটিশের একটি কপি ইউনিয়ন পরিষদে আসার কথা। এরকম কোন কপি কখনো পাননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘সাগর আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। আমিও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সাগর জান্নাতুলের প্রথম স্বামী। সে সাগরকে তালাক না দিয়েই বিয়ের চার মাসের মাথায় অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে। প্রায় দুই বছর সে চালাকি করে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করেছে। সাগরের কাছ থেকে জান্নাতুল অনেক টাকা-পয়সা খেয়েছে বলেও আমি জানতে পেরেছি।’

আবু বক্কার বলেন, ‘সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি জান্নাতুলের বাবাকে নোটিশের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকি। তবে নোটিশ পেয়ে তিনি তার ছোটভাই ও তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে বলেন, আমি যেন পরিষদে বসে বিষয়টি সমাধান করে দেই। তবে এর ১/২ দিন পরে তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা বসতে চান না।

আইনগতভাবে তারা বিষয়টি সমাধান করতে চান। পরে আবার তারা বসতে সম্মত হলে জান্নাতুল ও তার বাবা এবং তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ পরিষদের অন্য সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে বসেছিলাম। সাগরও সেখানে ছিল। তবে সেখানে জান্নাতুল বলে দিয়েছে সে কোনভাবেই সাগরের সঙ্গে ঘর সংসার করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা নির্যাতিত হয়। কিন্তু ছেলেরা যে কতোটুকু নির্যাতিত হয় তা এই সম্পর্কের জের দেখলে বোঝা যায়। আমাদের সমাজে ছেলেরা আরও বেশি নির্যাতিত হচ্ছে। সেটা নীরবে নিভৃতে ছেলেরা সহ্য করে যাচ্ছে। আমি আশা করবো আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা বিষয়টি তুলে ধরবেন।

আপনাদের সংবাদের মাধ্যমে মানুষ যাতে সচেতন হতে পারে। আজকে আমার ইউনিয়নে এমন ঘটনা ঘটেছে। আর কোন ইউনিয়নে যেন এমন ঘটনা কোনদিন না ঘটে।’

Header Ad

শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

২৪ এর গনঅভূ্থানে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী, শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন।

এ সময় মোবাইল ফোনে লাউডস্পিকারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেন, আব্দুল্লাহ দেশের জন্য মানুষের জন্য মানবতার কল্যাণের জন্য জীবনকে উৎস্বর্গ করে আল্লাহর দরবারে চলে গেছেন, আল্লাহ তাকে শহীদ হিসাবে কবুল করুন। শহীদরা মরে না। তারা আল্লাহর জীম্মায় জীবন্ত থাকে। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বড় আঁচড়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন আব্দুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজ খবর নেন,কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এর আগে তিনি নাভারণ দারুল আমান ট্রাষ্টে ওলামা সম্মেলনে যোগদান করেন। পরে ২০১৬ সালে গুম হওয়া ইসলামি ছাত্র শিবিরে নেতা রেজোয়ানের বাড়িতে যান এবং খোঁজ খবর ও সমবেদনা জানান।

এসময় তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যু বরনকারী সকলে ন্যায় বিচার পাবেন বলে পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন। এবং গনঅভূ্থানে নিহত সকল পরিবারের সাথে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম আছে থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোরের জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা গোলাম রসূল, সাবেক জেলা আমীর মাওলানা হাবীবুর রহমান, জেলা জামায়াতের নেতা মাওলানা আবু জাফর, মাওঃ শিহাব উদ্দিন শার্শা থানা আমীর রেজাউল ইসলাম, সেক্রেটারী মাওলানা ইউসুফ আলী ও ঝিকরগাছা থানা আমীর মাওলানা আসাদুল আলম প্রমূখ।

Header Ad

বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

দিনাজপুরের বিরামপুরে বিশনি পাহান (৫৫) নামের এক আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের ময়না মোড় এলাকার ধানক্ষেত থেকে ওই নারীর হাতবাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিশনি পাহান উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের বেণুপুর গ্রামের সাধন পাহানের মেয়ে।

নিহতের ভাই চরকা পাহান বলেন, আমার ছোট বোনের স্বামী বিশনি পাহানকে ছেড়ে চলে গেছেন। সে প্রতিরাতেই নেশা করতো। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই আমার বাড়িতে থাকতো আমার বোন। আমার বোন এলাকায় মানুষের জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। শুক্রবার বিকেলে এলাকার এক ব্যক্তির জমিতে ধান কাটার কাজ শেষ করে আর বাড়িতে ফেরেননি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। শনিবার সকালে ধানক্ষেতে হাতবাঁধা অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক জানান, এলাকাবাসীর দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে আদিবাসী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে তাকে কে বা কাহারা হত্যা করেছে। তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গোপনে দুইজনকে বিয়ে, কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করেননি জান্নাতুল
শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন
বিরামপুরে আদিবাসী নারীর লাশ উদ্ধার
বিএনপির কাঁধে অনেক দ্বায়িত্ব: তারেক রহমান
'জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হওয়া উচিত'- তোফায়েল আহমেদ
৩ মাসে জ্বালানি খাতে সাশ্রয় হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা : জ্বালানি উপদেষ্টা
জুটি বাধলেন মিঠুন চক্রবর্তী-আফসানা মিমি
দেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দ্রুত নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই : তারেক রহমান
২৪ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আশঙ্কা
অক্টোবরে সড়কে প্রাণ গেছে ৪৭৫ জনের
গায়ানায় দলের সঙ্গে যোগ দিলেন সাকিব
আইপিএল নিলামের আগেই নিষিদ্ধ হলেন ভারতের ২ ক্রিকেটার
গাজীপুরে পিকনিকের বাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কবে বিয়ে করবেন জানালেন তামান্না ভাটিয়া
পঞ্চগড়ে ৫০০ টাকায় সন্তান বিক্রি, অতঃপর যা ঘটল...
অ্যান্টিগায় প্রথম দিন শেষে স্বস্তিতে টাইগাররা
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পরীমণির প্রথম স্বামী
বিচারের আগে আ.লীগের মাঠে থাকার সুযোগ নেই: উপদেষ্টা নাহিদ
মাকে হত্যার পর থানায় হাজির ছেলে
৮ ক্রিকেটারসহ ৯ জনকে নিষিদ্ধ করলো বিসিবি