শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

রূপসী ধাইরা ফুল

ছেলেবেলায় নানার বাড়িতে বিশাল এক শিমুল গাছের নিচে পুরনো একটি আমগাছে দেখেছি প্রথম। তখন অবশ্য দেখা পর্যন্তই, জন্মরহস্য নিয়ে তেমন কিছু ভাবিনি। শীতকালে গাছটির ডালপালা জড়িয়ে লালচে রঙের ফুলগুলো ঝুলে থাকত। তখন বিস্মিত হয়ে ভেবেছি, আমফুল কি দেখতে এমন? বাসি ফুলগুলো ঝরে পড়ত গাছতলায়। আমরা সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে খেলতে বসতাম। ছোটবেলার সেই ফুলটি আবার নতুন করে যেন ফিরে পেলাম। ঢাকায় রমনা পার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের পুরনো কিছু গাছে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই বেঁচে আছে ওরা। শুধু পার্ক কিংবা উদ্যানেই নয়, পরজীবী এ গাছ প্রায় সারা দেশেই পাওয়া যায়।

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় দেখা ফুলগুলো সবচেয়ে সুদর্শন মনে হয়েছে। তবে পুরনো গাছগুলোর সুউচ্চ ডাল ওদের প্রিয় আবাস হওয়ায় একটু ভালোভাবে খুঁজলেই কেবল দেখা মিলবে। এ কারণে ভালোভাবে না তাকালে সচরাচর চোখে পড়ে না। মূল গাছের দিকে তাকালে মনে হবে একগুচ্ছ জীবন্ত লতাপাতা যেন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে!

এরা পরজীবী গাছ। সাধারণত ধাইরা (Dendrophthoe falcata) নামেই বেশি পরিচিত। কোথাও কোথাও মান্দা বা বান্ধা নামেও ডাকে। প্রিয় আবাস পরিণত আম গাছ। কখনো কখনো মেঘশিরীষ, মেহগনি, রাবারবট বা কাঁঠাল গাছেও দেখা যায়। বাংলার বনফুল গ্রন্থে নওয়াজেশ আহমদ জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আম বাগানগুলোতে এদের বেশি দেখা যায়। নেপালের হিমালয় অঞ্চলে আরেকটি প্রজাতি বেশ সহজলভ্য।

প্রকৃতিতে শীতের আবহ শুরু হলেই এদের উজ্জ্বল রঙের ফুলগুলো ফুটতে শুরু করে। বছরের বাদ-বাকি সময় আমাদের চোখেই পড়ে না। কাষ্ঠল লতা। গুচ্ছমূল আশ্রয় আঁকড়ে থাকে। পাতা পুরু ও বিপ্রতীপভাবে বিন্যস্ত। প্রস্ফুটনকাল ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল। ফুল গুচ্ছবদ্ধ, পুষ্পনল উজ্জ্বল লাল, ওপরে মুখের কাছে সবুজ, চারটি দীর্ঘ আয়তাকার লতিযুক্ত, আড়াই থেকে সাড়ে তিন সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা, বৃতি খাটো, পরিপূর্ণভাবে বিকশিত পাপড়ি চুলের মতো সরু ও মরিচা রঙের।

সহজলভ্য আরেকটি ভ্যারাইটির পুষ্পনল সাদাটে। বংশবৃদ্ধি পাখিদের মাধ্যমেই। পাখিরা ফল খেয়ে যেসব গাছে ঠোঁট ছোঁয়ায় সেখানেই বীজগুলো ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে এ গাছের আগ্রাসন মূল গাছকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে বাকল ও পাতা বিভিন্ন রোগের মহৌষধ। সারা পৃথিবীতে এই গুণে প্রায় ৩১ প্রজাতির গাছ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং এশিয়ায়। সমগ্র ভারতবর্ষে পাওয়া যায় ৭ প্রজাতির গাছ। বটের কয়েকটি প্রজাতির সঙ্গে এদের মৌলিক সাদৃশ্য রয়েছে। প্রায় ৭০ বছর আগে ভারতসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশ ধাইরার গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা হয়েছে। অন্যান্য গাছপালার সঙ্গে এদের প্রধান পার্থক্য হচ্ছে এরা জন্ম ও বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাধারণত আরেকটি গাছের ওপর নির্ভর করে। অর্কিড কিংবা বট জাতীয় গাছগুলো ঠিক যেভাবে জন্মে ও বেড়ে ওঠে। তবে বট দুভাবেই জন্মাতে পারে।

লেখক: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক, সাধারণ সম্পাদক তরুপল্লব

এসএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত