শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া বধ্যভূমিতে আজও শোনা যায় নীরব কান্না

মৃত্যুঞ্জয়ী তোমরা, আমাদের প্রেরণা,
তোমাদের ত্যাগেই কষ্টার্জিত স্বাধীনতা...

তোমাদের মৃত্যুও হতে পারত স্বাভাবিক নিয়মে প্রিয়জনের চোখের জল, আর ভালোবাসার ছোঁয়া নিয়ে। অথচ মুক্তিপাগল শহিদ সারণীতে ঘাতকদের বুলেট আর বেয়নেটের খোঁচায়, নাম না জানা লাশ হলে প্রিয় স্বদেশে! অবশেষে, ইতিহাস হলে তোমরা। মুক্তিযুদ্ধের শোকগাথার সাক্ষী কুষ্টিয়ার বৃহৎ বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি। এই বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার করা হয় দুই পিকআপ ভর্তি মানুষের কঙ্কাল।

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের বিত্তিপাড়া ছিল সদর উপজেলার বিত্তিপাড়া বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় মধ্যবর্তী স্থান। ব্রিটিশ আমলে সেখানে ইংরেজদের একটি কুঠিবাড়ি ছিল, যার অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। ইংরেজরা গরিব প্রজাদের এখানে এনে নীলচাষ বা জমির খাজনা না দিলে শাসন ও নির্যাতন করত–যা সাহেবদের নীলকুঠি হিসেবে চিহ্নিত ছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই জায়গাটি তাদের ক্যাম্প করার জন্য বেছে নেয়। কুষ্টিয়া থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে বিত্তিপাড়া বাজার। একাত্তরে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে পাকিস্তানি হানাদাররা ক্যাম্প বসায়। কুষ্টিয়া পিস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সা’দ আহমেদের নেতৃত্বে এ সময় বিহারি, রাজাকার ও পিস কমিটির সদস্যসহ স্বাধীনতা বিরোধীরা হয়ে উঠে বেপরোয়া।

এই ক্যাম্পটি ছিল হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর এক অন্যতম নির্যাতন কেন্দ্র। উপরন্তু ভেড়ামারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ থেকে এসে যোগ হওয়া কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সংযোগকারী একমাত্র সড়ক। যুদ্ধের সময় চলাচলকারী পরিবহন থামিয়ে চেক করা হতো এবং সন্দেহভাজন অসংখ্য নিরীহ পুরুষ-নারীকে নামিয়ে ক্যাম্পে নেওয়া হতো। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতন ও অত্যাচারের পর মারা গেলে ক্যাম্পের আশপাশেই পুতে রাখা হতো কিংবা পুকুর-খাদে ফেলে দেওয়া হতো। এই ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী, রাজাকার ও আলবদর বাহিনী আশপাশের সব ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের খবর নিয়ে তাদের উপর আক্রমণ, লুটপাট, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ করত। অপরদিকে পাকিস্তানি সেনা, রাজাকার, শান্তি কমিটি ও বিহারিদের ভোগের সামগ্রী হয় অন্তত দুই হাজার মা-বোন। পাকিস্তানি হানাদারদের ক্যাম্পটিতে সুরক্ষিত বাংকার ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা কয়েকবার ক্যাম্পটি আক্রমণ করে; কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। ৯ ডিসেম্বর ক্যাম্পটি মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর দখলে আসে। ক্যাম্পটি দখলের পর কয়েকজন নির্যাতিত জীবিত পুরুষ ও নারীকে বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্বাধীনতার ৩২ বছর পর বধ্যভূমি হিসেবে শনাক্তের পর ২০০৩ সালে কৃষি বিভাগের জায়গাটিতে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হলেও এখন তা অরক্ষিত। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জন স্টোন হাউজ ও ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলামের উপস্থিতিতে দুই পিকআপ বোঝাই মানুষের কঙ্কাল, মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কুষ্টিয়া জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যতগুলো বৃহৎ বধ্যভূমি রয়েছে, বিত্তিপাড়া বধ্যভূমি তার মধ্যে অন্যতম একটি।

এই বধ্যভূমিতে যারা শহিদ হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহম্মেদ, কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডো ও কমান্ডের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং কমান্ডার আবু তৈয়ব (কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কমান্ডো) এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিত্তিপাড়া বধ্যভূমিতে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ। ১২ নভেম্বর ২০১২ সালে এই বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভের শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক এবং ড্রইং ডিজাইন ও পরিকল্পনায় ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মো. আব্দুল মান্নান।

কুষ্টিয়া উন্নয়নের রূপকার মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদফতরের সহযোগিতায় ‘বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প’ এর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের যেসব এলাকায় গণহত্যা হয়েছে সেসব এলাকায় বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। আবার অনেক জায়গায় বধ্যভূমি বেহাল, সেগুলো সংস্কারের পাশাপাশি সংরক্ষণ করা হবে।”

যুগে যুগে এ জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে এ জাতির স্বাধীনতার জন্য কত লোক তাদের জীবন দিয়ে গেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর হাতে। আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে আরও বেশি গণমুখী কার্যক্রম প্রয়োজন।

লেখক: ইতিহাস গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এসএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত