শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

দারিদ্র্যের একটি ‘নারী’ চেহারা আছে

আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, তখন আমাদের একটা উদ্দেশ্য ছিল–সাম্যের সমাজ গঠন করা। একটি ইনইকুয়াল সোসাইটি থেকে ইকুয়াল সোসাইটির দিকে যাওয়া। আজ পঞ্চাশ বছর পর এসে দুর্ভাগ্যের কথা হলো–আমরা সেই বৈষম্য তো কমাতে পারিনি, বরং এখন বৈষম্যের হার অনেক বেড়ে গেছে। সেটি কিন্তু আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন–উভয় ক্ষেত্রেই একটি নেতিবাচক ভূমিকা পালন করছে এবং পেছন দিকে টানার আশঙ্কা আছে। তার কারণ হলো–আমি যদি মনে করি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে, সেখানে অবশ্যই সবার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রত্যেক নাগরিক যদি সমান সুবিধা ভোগ না করে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি কিন্তু অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই সামাজিক ইকুয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন পেছনে পড়ে না থাকে। সবাইকে আমাদের সমান অধিকারের জায়গায় নিয়ে আসতে হবে এবং তাদের জন্য সমান অধিকারের জায়গাটি তৈরি করতে হবে। কাজেই সমাজের মধ্যে এই বৈষম্য বাড়তে থাকা আমাদের অর্জনের মধ্যে অসম্পূর্ণতার কালো ছায়া ফেলছে।

আমরা মুক্তিযুদ্ধের সেই পথের দিকেই যাচ্ছি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এক সুতায় বাধা। আমাদের আরও একটি লক্ষ্য ছিল–সামাজিক ন্যায় বিচার, সমঅধিকার, আত্মসম্মানবোধ। এই জায়গাটিতে আমরা বুকে হাত দিয়ে দাবি করতে পারিনি যে, আমরা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। একইভাবে মানুষের জন্য হিউম্যান ডিগনিটির জায়গাটা নিশ্চিত করতে পারিনি।

আমরা যে জায়গাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জন করতে পারিনি, সেই জায়গাগুলোতে আমরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে ঘরে ফিরে আসার প্রবণতা লক্ষ্য করেছি। কাজেই ঘাটতিগুলোকে যদি আমরা অভ্যন্তরীণ ঘাটতি হিসেবে দেখতে চাই, তার বাইরের যে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, বাইরে থেকে যে অনুরণন হচ্ছে, সেটিও কিন্তু আমরা টের পাচ্ছি।

যদি একটা আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যদি একটি দায়িত্বশীল বাংলাদেশ গড়তে চাই, আমরা যদি সবার জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে চাই, তাহলে সামাজিক ন্যায়বিচার, হিউম্যান ডিগনিটি, বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক সমাজের কোনো বিকল্প নেই।

অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যদি বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে আমরা নারীর ক্ষমতায়নের গল্পটা খুব বলি। বাংলাদেশের একটি অর্জনের জায়গা হিসেবে আমরা নারী ক্ষমতায়নকে তুলে আনছি।

গত পঞ্চাশ বছরে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। সেটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্য কোনো ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে সার্বিকভাবে নারীদের সমমূল্যায়নের জায়গাটিতে কিন্তু আমাদের ঘাটতি আছে। সেকারণেই নারীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, সহিংসতা এখনও কমছে না, বরং বাড়ছে। সেই বাস্তবতার প্রতিফলনই আমরা বহির্বিশ্বে দেখতে পাই। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিপোর্টে নারী নির্যাতনের চিত্রটা আমদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

নারীরা তাদের যে সমঅধিকারের জায়গা, এমনকি কর্মক্ষেত্রে তাদের জন্য যে সামনে আরও সুযোগ তৈরি করা দরকার, একজন মানুষ হিসেবে তাদের প্রতি যে সম্মানটুকু দেখানো দরকার–সেই জায়গাগুলোতে আমরা এখনও পর্যন্ত ঘাটতিতে পড়ে আছি। সেই কথাটিও কিন্তু আমাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত।

আরও একটি বিষয় হলো–আমাদের এখনও ২০ শতাংশের মতো মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। আমরা ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে এটি ২০ শতাংশে নামিয়েছি। এই ২০ শতাংশের মধ্যেও কিন্তু নারীদের অংশ বেশি। দারিদ্র্যের একটি ‘নারী’ চেহারা আছে। কাজেই আমরা যেখানে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলছি, সেখানে দারিদ্র্যের সঙ্গেও যে এটির সম্পর্ক আছে, সেটি আমাদের মনে রাখতে হবে।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

এসএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত