শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

দ্রব্যমূল্যের মূল্যস্ফীতিও দীর্ঘমেয়াদি হবে না

কোভিড চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অর্থনীতিতে আমরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছি।এটাই হল আসল বিষয়। আমাদের সবক্ষেত্রগুলিই ইতিবাচক আছে। উৎপাদন ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। কোথাও উৎপাদন ব্যবস্থা মন্থর হয়নি । বিশেষ করে কৃষির ক্ষেত্রে। এটি পুরোদমেই চলছে। অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ আছে যেটি তা হল, যেহেতু কোভিডের পরে সারাবিশ্ব ঘুরে দাঁড়িয়েছে, অনেক চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। কাজেই দরদাম অনেকটা বেড়ে গেছে খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে। আমাদের অনেকটা আমদানি নির্ভর দেশ অনেক খাদ্যসামগ্রির জন্য। বিশেষ করে আমাদের জ্বালানি তেলের জন্য, ভোজ্য তেলের জন্য, চিনির জন্য। সেজন্য বিশ্ববাজারে এগুলোর দাম অনেক বেড়েছে।

যেহেতু এগুলোর দাম বেড়েছে সেহেতু আমরা আমদানি করছি বিশ্ব বাজার দামে। এই কারণে তুলনামূলক কিছু বেশি দেখা যাচ্ছে। গড় মূল্যস্ফীতি যদিও ১৭ শতাংশের নিচে এখনো। তবে আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা বেড়ে যাওয়ায়, সংহত হওয়ায়, রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায়, আমরা আশা করছি আমাদের মূল্যস্ফীতিও দীর্ঘমেয়াদী হবে না যদি আন্তর্জাতিক বাজারে আর দরদাম না বাড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে দরদাম বাড়লে আমাদের মূল্যস্ফীতিও বাড়বে যদি আমরা আমদানি করি । এই উচ্চমূল্যের মধ্যে এখন হলো মূল্যস্ফীতিটাকে সামাল দেয়া। যতটা সম্ভব নিজেদের উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও উজ্জীবিত করা, শিল্প ও সেবা খাতে আমাদের আরো উৎপাদন বাড়ানো এবং দৃশ্যত অর্থনীতি বেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটা আমি বলতে পারি ।

আমাদের সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছে তবে আমরা অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর হচ্ছি সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের অভাবটা আসলে কোথায় যে কারণে সত্যিকার অর্থেই যারা দেশের মানুষ তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভর্তুকি গুনতেই হচ্ছে ।একটা ব্যাপার মানতে হবে যে,আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমাদের কিছুটা ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এখান থেকে উত্তরণের কি উপায় আছে? হ্যাঁ, উত্তরণের পথতো নিশ্চয় আছে। সেজন্যই তো আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের যাতে রপ্তানি দ্রুত বাড়ানো যায়। প্রবাসী-আয় যাতে আরও বেশি আসে, সেজন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাদের জন্য প্রণোদনা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আগে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠালে ২ শতাংশ প্রণোদনা পেত এখন আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। আমরা কৃষিতে ব্যাপক সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি ভর্তুকির মাধ্যমে। আবার আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গড়ে তুলছি। বড় বড় মেগা প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মেগা তিনটা প্রজেক্ট আমাদের বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। ফলে অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবে। উৎপাদন ব্যবস্থা আরও সক্রিয় ও সমন্বিত হবে। আর মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই আছে এখনও। ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়নি ।

সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতিকে আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যাতে আমাদের বাজেট ঘাটতি আর বেড়ে না যায়। সেই কারণে চেষ্টা করছি মূল্যস্ফীতি থামানোর জন্য। আমরা মূল্যস্ফীতি থামানোর জন্য কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আরো সক্রিয় করছি প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিয়ে। যাতে মূল্যস্ফীতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে মূল্যস্ফীতি হলেও মাথাপিছু আয় কিন্তু মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি। আমাদের দেশের যে আয় সেটা কিন্তু মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি । সে কারণে মূল্যস্ফীতির যে ব্যর্থতা আমরা তা পুষিয়ে নিতে পারি বা ভুলে যেতে পারি আমাদের বর্ধিত এই আয় এর জন্য । কাজেই আমরা যেভাবে বলছি শুধু মূল্যস্ফীতি আর মূল্যস্ফীতি কিন্তু তারচেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে দেশের আয়। মাথাপিছু আয় তার থেকে বেশি বাড়ছে। কাজেই মূল্যস্ফীতি হলেও মানুষ বর্ধিত আয় এর কারণে সেটা পুষিয়ে নিতে পারছে । আমাদের কৃষি ছাড়াও বর্ধিত আয় এর কারণে মানুষ মূল্যস্ফীতি পুষিয়ে নিতে পারছে ।

আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানবসম্পদ । সত্যিকার অর্থে জনগণ কতটুকু লাভবান হয় । ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের চার লেনের হাইওয়ে কি সেটার সুফল কি জনগণ পাচ্ছে না? যারা এই রাস্তায় ভ্রমণ করে তারাইতো সবাই এর সুফল ভোগ করছে। এই যে আমাদের দেশে এত বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো, এর সুফল কি সবাই ভোগ করছে না? ধনী-গরীব,গ্রামের-শহরের মানুষ উদাহরণ দিয়ে বলে বঙ্গবন্ধু ব্রিজ আগামী জুনে উদ্বোধন হয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সবাই উপকৃত ধনী-গরীব বড় ছোট সকলেই। যারা বলছে বড় বড় প্রকল্প নেয়া হয় কিন্তু সাধারণ মানুষের কোন কাজে লাগে না, এটাই আমি বলছি এইসব কথাগুলো একেবারে হাওয়ায় ভাসানো কথা।

দুর্নীতি সর্বক্ষেত্রেই আছে। স্বাস্থ্য,পরিবহন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়েও অনেক দুর্নীতি হয় হাটে বাজারে ভেজাল দুর্নীতি না? যাইহোক সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, প্রকল্প নিলে তার ফল জনগণই ভোগ করে এগুলা জনগণের জন্যই নেয়া হয়। জনকল্যাণমুখি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্ববাজারের মন্দা কাটিয়ে উঠার যে চ্যালেঞ্জ সেটি আমরা যথেষ্ট ভালোভাবেই মোকাবেলা করতে পারছি এবং করছিও।

 

লেখক: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত