শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

বর্জ্য হতে পারে শক্তি ও সম্পদের প্রধান উৎস্য

পৃথিবীর নবম জনবহুল দেশ বাংলাদেশ। জনসংখ্যার ঘণত্বের দিক থেকে দেশটির অবস্থান ১২তম। শহরে জনসংখ্যা বাড়ছে ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে। এখানে অন্যান্য অনেক সমস্যার চেয়ে বড় আকারে বাড়ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা। রাজধানী ঢাকার বাসযোগ্যতা নিয়ে অনেক রকমের তথ্য রয়েছে। ধরা হয়, বাসযোগ্যতার অনুপযোগিতার দিক থেকে ঢাকা পৃথিবীর দশম শহর। এটি মাঝে মাঝে দুই এক এর মধ্যে চলে আসে। ঢাকা শহরের বর্জ্য স্থানান্তর বা বিন্যাসের কোনো সুব্যবস্থা নেই। অতি দুর্বল এখানকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

আমরা যদি দেশের বর্জ্যের দিকে তাকাই, তাহলে যে উপাত্ত পাই, তা হলো, প্রতি বছর কমবেশি ৩০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন টন বর্জ্য জমছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ জৈব বর্জ্য, ১৫ ভাগ অজৈব প্লাস্টিক বর্জ্য ও বাকি ১৫ ভাগ বিবিধ বর্জ্য। এই প্লাস্টিক বর্জ্যের্ ২০ ভাগ একবার ব্যবহৃত পলিথিন। এই পলিথিন এখন দেশের জন্য সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে। ঢাকা সংলগ্ন নদী বুড়িগঙ্গা শীতলক্ষা থেকে শুরু করে নগরীর সকল ড্রেনেজ, সূ্য়্যেরেজ ও কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে পলিথিনে।

ঢাকাসহ প্রধান প্রধান শহরের মিউনিসিপ্যাল আবর্জনা অপসারণের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলোর সংলগ্ন বিশাল আয়তন জুড়ে রোগ জীবানুর প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত এডিস মশা থেকে শুরু করে বহু রোগের জীবানু ছড়াচ্ছে। এসব আবর্জনাকেন্দ্রে ঢাকা শহরেরই শত শত টোকাই পলিথিন, প্লাস্টিকসহ নানা পণ্য সংগ্রহ করছে। তারাও প্রতিনিয়ত নানা জীবানু বহন করছে ও রোগ ছড়াচ্ছে।

পরীক্ষা করে দেখা গেছে ঢাকা শহরের নাগরিক বর্জ্যের মধ্যে ১৫ ভাগ প্লাস্টিক আবর্জনা, ৬৫ ভাগ জৈব আবর্জনা ও ২০ ভাগ বিবিধ আবর্জনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচ, চামড়া, ধাতব পদার্থ, কাপড়, কাঠ ইত্যাদি।

প্রশ্ন হলো এসব আবর্জনার ব্যবস্থাপনা কী হতে পারে?

আমরা ওয়েস্ট টেকনোলজি এলএলসি ইউএসএর পক্ষ থেকে গত এক দশকে দেশের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তাব্যক্তি, নগর পরিকল্পনাবিদ এমনকি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। পৃথিবীর সর্বাধুনিকতম বর্জ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ বান্ধব সার্কুলার ইকোনমির ধারণা তাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। আমরা পৃথিবীর অনেক দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, বিষয়টিতে তারা যথেষ্টই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে বরাবরই চেয়েছি আমাদের প্রযুক্তি ও কর্মতৎপরতার সুফল সর্বপ্রথম বাংলাদেশে পৌঁছাক, সেই লক্ষ্যে এখনো আমাদের প্রয়াস ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

নগরের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা দাতা সংস্থা, সিটি করপোরেশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সমন্বয় করে একটি অসাধারণ কর্মব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি। যে ব্যবস্থার আওতায় গৃহস্থ বর্জ্য তথা নাগরিক বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা হবে, সেখান থেকে আরেকটি ইউনিটে বিভিন্ন উপাদান পৃথকীকরণ করা হবে। যেখান থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে উৎপাদিত হবে ডিজেল, অ্যাভিয়েশন জ্বালানি ও এলপিজি। জ্বালানি থেকে তৈরি হবে বিদ্যুৎ। জৈব আবর্জনা থেকে তৈরি হবে বায়োগ্যাস, উচ্ছিষ্ট অংশ থেকে হবে জৈব সার, বায়োগ্যাস রূপান্তর করা হবে সিএনজিতে যা পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হবে, অন্যদিকে জৈব সার ব্যবহার হবে আবাদি জমিতে। একইভাবে সিটি করপোরেশনের অন্যান্য বিবিধ আবর্জনা কাঠ, কাঁচ, চামড়া, ধাতব পদার্থ বানিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি হবে সংশ্লিষ্ট ইণ্ডাষ্ট্রিতে। এখানেই শেষ নয়, আবর্জনার যেসব অংশ থেকে জ্বালানী আসবে সেসব জ্বালানি থেকেই উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ। যা যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে।

কাঠের যুগ, পাথর যুগ, ধাতব যুগ পেরিয়ে আমরা এখন প্লাস্টিক যুগে বসবাস করছি। চারদিকে প্লাস্টিকে সয়লাব। এক হিসেবে দেখা যায়, পৃথিবীতে অশোধিত যে তেলের ভাণ্ডার তা মূলত ব্যবহার হয় একদিকে পরিবহন খাতের জ্বালানি বাবদ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে। আরেকদিকে ব্যবহার হয়, মানুষের ব্যবহার্য প্লাস্টিক সামগ্রি উৎপাদনে। আর প্লাস্টিক ব্যবহারের পরপরই পরিণত হয় বর্জ্যে। এটি সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ সমস্যা।

খোলা মাথায় একটু ভেবে দেখতে পারেন, প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে না কোথায়? আমরা শুধু প্লাস্টিক বোতলে পানি খাচ্ছি, ওষুধ খাচ্ছি বা ব্যাগে পণ্য বহন করছি তা-ই নয়, জীবনের প্রতিটি অংশে, এমনকি কৃষি ও পরিবেশের যত কাজ সেখানেও প্লাস্টিকের ব্যবহার হচ্ছে। আর এই প্লাস্টিক আমাদের জন্য হয়ে উঠছে এক বিভীষিকা। প্লাস্টিক কী কী ভাবে আমাদের এই সুন্দর ধরিত্রীকে তার নিজের ক্ষেত্রে পরিণত করছে তা দেখতে পারি।

এক. একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ভাগাড় দিনে দিনে বহু আয়তন দখল করে নিচ্ছে।

দুই. ব্যবহৃত প্লাস্টিক ভাগাড় পর্যন্ত পৌছতে অতিরিক্ত পরিবহনর প্রয়োজন হচ্ছে।

তিন. এসব ক্ষেত্রেও রয়েছে অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন।

চার. যেহেতু এগুলো মাটিতে মেশেনা সেহেতু পরিবেশে এর কঠিন নেতিবাচক প্রভাব তো বলাই বাহুল্য।

পাঁচ. এখান থেকে পানি দুষণ হচ্ছে।

ছয়. বাতাস দুষিত হচ্ছে।

সাত, আমাদের সামুদ্রিক জীবন দিনে দিনে বিপদজনক হয়ে উঠছে।

আট. দুষণে আক্রান্ত হচ্ছে নদ-নদী।

নয়. ড্রেনেজ ও সুয়েরেজ বন্ধ হয়ে একটু বৃষ্টিতেই বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে একেকটি শহর।

প্লাস্টিক কী?

প্লাস্টিক হচ্ছে ম্যাক্রোমোলিকিউলস, পলিমারাইজেশন দ্বারা গঠিত হয় যা যথার্থ পরিমাণে তাপ এবং চাপপ্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোনও ধরনের শক্তির মাধ্যমে আকৃতির পরিবর্তন হতে পারে।

প্লাস্টিকগুলো তাদের অর্থনৈতিক মূল্য, সহজ প্রাপ্যতা, সহজ প্রক্রিয়া ক্ষমতা, হালকা ওজন, স্থায়িত্ব এবং শক্তি দক্ষতার কারণে আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

প্লাস্টিক আধুনিক বিশ্বকে গড়ে ওঠার পেছনে এক নিয়ামক হয়ে উঠেছে। আমাদের জীবনযাত্রার মানকে রূপান্তরিত করেছে। এমন কোনো মানবিক ক্রিয়াকলাপ নেই যেখানে প্লাস্টিক পোশাক থেকে আশ্রয়, পরিবহন থেকে যোগাযোগ এবং বিনোদন থেকে স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না।

প্লাস্টিক কীভাবে তৈরি হয়

প্লাস্টিক কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিন এবং অন্যান্য উপাদানের বিভিন্ন সংমিশ্রণ বা সমন্বয়ে গঠিত। এখন প্লাস্টিকের অগণিত রকমের ব্যবহার রয়েছে। কাঠ, বাঁশ. কাঁচ, চামড়া, রাবার, ও ধাতব পদার্থের জায়গা দখল করছে প্লাস্টিক।

প্লাস্টিকের উৎস্য

ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বেশিরভাগই নিম্নলিখিত রাসায়নিকগুলো থেকে উদ্ভূত হয়:

১. ইথিলিন, ২। প্রোপিলিন, ৩। বিউটাডিন এবং ৪। বেনজিন

এই রাসায়নিকগুলি প্রক্রিয়াকরণের পরে পেট্রোলিয়াম পরিশোধন প্রক্রিয়ার সময় বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে প্রাপ্ত ন্যাপথা থেকে উদ্ভূত হয়।

কত রকমের প্লাসটিক

থার্মো প্লাস্টিক ও থার্মোসেটিং প্লাস্টিকের মধ্যে দুটি ধরন আছে। একটি উচ্চতাপমাত্রায় আকৃতির পরিবর্তন হয়, আরেকটি উচ্চ তাপমাত্রায় আকৃতির পরিবর্তন হয় না।

থারমোপ্লাস্টিক থেকে পলিথিন, পলিপ্রোফিলিন, নাইলন, পলি কার্বোনেট ইত্যাদি হয়। এখান থেকেই বাকেট, কাপ, নাইলন রশি, দুধ ও পানির বোতল, কন্টেনার ইত্যাদি তৈরি হয়। অন্যদিকে থার্মোসেটিং প্লাস্টিক থেকে ফেনল ফর্মালডিহাইড, ইউরিয়া ফরমালডিহাইড, মেলামাইন ফর্মালডিহাইড, থার্মোসেটিং পলিয়েস্টার ইত্যাদি হয়। সেখান থেকে আমরা ইলেক্ট্রিক সুইচ, ফরমিকা সেমিকা টেবিল-টপ, মেলামাইন বাসন কোসন তৈরি হয়।

প্লাস্টিক ফিড স্টক রিসাইকেলিং বুক এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্লাস্টিক বর্জের ১০ ভাগ পুণর্ব্যবহার হয়, ২৫ ভাগ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ৬৫ ভাগ ভাগাড়ে অথবা যত্র তত্র ফেলে দেয়া হয়। এগুলোই মাটিতে মেশে।

ওয়েস্ট টেকনোলজি এলএলসি ইউএসএ উদ্ভাবিত প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে চাই। বর্জ্য প্লাস্টিক সংগ্রহ করে বাছাই, ধোয়া ও শুকানোর পর চুর্ণ করা হয়। সেগুলোকে উচ্চ তাপে গলানো হয়। সেগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ঘনত্বে ছেকে প্রক্রিয়াজাতকরণেল মাধ্যমে তৈরি কনরা হয় জ্বালানি। এই জ্বালানিই পরিশোধন করে বিমানের জ্বালানি ও এলপিজি করা হয়। ওই জ্বালানি থেকেই দহন ইঞ্জিন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

আমরা ওয়েস্ট টেকনোলজি এলএলসি ইউএসএ’র পক্ষ থেকে হিসেব কষে দেখেছি, বছরে ২৮ মিলিয়ন টন বর্জের ১৫ ভাগ যদি প্লাস্টিক বর্জ্য হয়, তাহলে তার পরিমাণ হবে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন টন। এই পরিমাণ বর্জ্য প্লাস্টিক থেকে ৫ হাজার ৪’শ ৬০ মিলিয়ন টন ডিজেল, ৪২ দশমিক ২ মিলিয়ন সিলিণ্ডার এলপিজি ও ৯৬. ৬ মিলিয়ন লিটার এভিয়েশন ফুয়েল বা গ্যাসোলিন পেতে পারি। যদি মোট বর্জ্য প্লাস্টিকের ভেতর থেকে ২ শতাংশ একবার ব্যবহৃত প্লাস্টিকও ব্যবহার করি তাহলে তা থেকে আমরা পাবো ১ হাজার ৪২ মিলিয়ন লিটার ডিজেল, ৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন সিলিণ্ডার এলপিজি এবং ১ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন লিটার এভিয়েশন ফুয়েল। এই জ্বালানি থেকে প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে ২ দশমিক ১ মেগাওয়াট। বছরে হবে ১ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মেগাওয়াট। এখানে কর্মসংস্থান হবে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের।

বাংলাদেশে ২৮ মিলিয়ন টন কঠিন বর্জ্য জমে, বা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ১৮ দশমিক ২ মিলিয়ন টন জৈব বর্জ্য দিয়ে বছরে বিপুল পরিমাণ বায়োগ্যাস, বিদ্যুৎ ও জৈব সার পেতে পারি। এর পরিমাণটি বছরে ১৬৩ মিলিয়ন সিলিন্ডার বায়োগ্যাস, ৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন জৈব সার।

আমাদের প্রতিষ্ঠানে সুদীর্ঘকালের গবেষণা, জরীপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ও শিল্প স্থাপন করে তা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে নিশ্চিত হয়েছি, বাংলাদেশকে বর্জ্যের অভিশাপমুক্ত করা পাহাড় সমান সংকট নয়। শুধু উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতার প্রশ্ন। আমি দেশের বারোটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় যোগাযোগ করেছি। অনেকের অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে ওই তৎপরতার ধারাবাহিকতা কিছুটা ব্যহত হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সে পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এক বৈপ্লবিক কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। মানুষ জানবে, বর্জ্যই আমাদের সবচেয়ে দামী সম্পদ।

ড.মঈনউদ্দিন সরকার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, ইউএসএ

Header Ad
Header Ad

অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে ২৮ জনের ৩ কোটি আত্মসাৎ, ফেরত দেওয়ার দাবি

সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে টাঙ্গাইলে ২৮ জনের কাছ থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ছয় দলালের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত ৬ দালাল হলেন, রহিজ উদ্দিন কাপালী, ছাবাস উদ্দিন কাপালী, সালমা বেগম, শাহ আলম, বাবুল কাপালী এবং সিয়াম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম মুকুল বলেন, প্রায় ২ বছর আগে ওই ছয় দালাল চক্র একত্র হয়ে আমাদের প্রলোভন ও বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে। পরে আমাদের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ও আমাদের পাসপোর্টও নেয় তারা। কিন্ত এখন পর্যন্ত পাসপোর্ট ও আমাদের টাকা ফেরত দেয়নি।

তিনি বলেন, আমরা এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ টাঙ্গাইল সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্ত পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযোগটি আমলে নেয়া হয়নি। চালাল চক্রের মূল হোতা রহিজ উদ্দিন কাপালী স্বপরিবারে পলাতক রয়েছে। এ অবস্থায় আমরা মানবতার জীবনপন করছি। তারমধ্যে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে যাতে আমরা মামলা না করি।

ভুক্তভোগী এই ব্যক্তি আরও বলেন- দালাল চক্র যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে নজর রাখার জন্য জেলা প্রশাসন, র‌্যাব-পুলিশসহ সকলের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় ভুক্তভোগী এসএম মহিউদ্দিন বাদল, এসএম আশরাফুল হক কনক, অপূর্ব হোসেন, সেলিম রেজা, মাছুম, আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে চালাল চক্রের মূল হোতা রহিজ উদ্দিন কাপালীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শান্ত দেব বলেন, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ডকুমেন্ট দেয়ার কথা ছিলো, পরবর্তীতে তা আর দেননি। তবুও অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Header Ad
Header Ad

প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে রয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন প্রশাসনে মোট ৫১৬ জন ওএসডি রয়েছেন, এর মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব ও সচিব। এটি প্রশাসনে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তা, যা পূর্বে কখনো হয়নি।

এছাড়া, শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে কখনো এত সংখ্যক শীর্ষ কর্মকর্তা একসঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। এর ফলে, নিচের স্তরের কর্মকর্তারা পদোন্নতি পেতে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ওএসডিতে রাখা কর্মকর্তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে, যা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয়করণের প্রবণতা এবং নিয়মবহির্ভূত পদায়ন-পদোন্নতির প্রভাব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এজন্য তারা আশা করছেন যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা কমে যাবে এবং কর্মীদের মধ্যে ন্যায্য পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ৮৪টি সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদ রয়েছে, এর মধ্যে ১৭ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে অনেকেই অতীতে শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তারা দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে নিয়োগ পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে, যারা পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ, ছুটি কিংবা প্রেষণের কারণে ওএসডিতে রাখা হয়েছে। তবে অন্যদিকে, অনেক কর্মকর্তাকেই দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি অবস্থায় বসিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিকর। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনে হতাশা সৃষ্টি করছে এবং সিস্টেমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, বেশি সংখ্যক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিলে নিচের স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ে এবং তাদের মধ্যে কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যাদের কোনো অপরাধের সাথে সম্পর্ক নেই, তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে এবং ওএসডি ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

এছাড়া, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনও একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের ওএসডি ব্যবস্থাকে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। তারা বলেছেন, 'পাবলিক সার্ভিস অ্যাক্ট, ২০১৮' অনুযায়ী, ২৫ বছর চাকরি শেষে কোনো কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল করা উচিত। তারা পরামর্শ দিয়েছে, কোনো কর্মকর্তাকে ওএসডি অবস্থায় রেখে বেতন-ভাতা না দিয়ে, তাদের একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে অন্য কাজে নিযুক্ত করা উচিত।

এই পরিস্থিতিতে, হাইকোর্টও রায় দিয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি ওএসডি রাখা যাবে না। মন্ত্রিসভা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একটি কমিটি গঠন করে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে।

এই বিশাল সংখ্যক ওএসডি কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, যার মধ্যে ১২ জন সিনিয়র সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সহকারী সচিব এবং সিনিয়র সহকারী সচিবদের একটি বিশাল দল রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর ১২১ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে, বাকিরা পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ বা ছুটির কারণে ওএসডিতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ এটি সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতার চিহ্ন। তারা মনে করেন, এটি কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে না, বরং প্রশাসনের কার্যকারিতা ও দক্ষতাকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

Header Ad
Header Ad

ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে তা দুই দেশের সম্পর্কে আশার আলো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার যে তিক্ততা সম্পর্ক তা কমে আসবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যে বৈঠক হয়েছে, তা আমাদের জন্য আনন্দের।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ভূরাজনীতি ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান যে প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশ ও ভারতের এ অঞ্চলের যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই দুজনের বৈঠক আমাদের সামনে একটা আশার আলো তৈরি করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, সেটা যেন আর সামনে না যায় অথবা এটা যেন কমে আসে, এ বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি যতটুকু দেখেছি এ বিষয়ে দুজনেই আন্তরিক ছিলেন। যা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষকে উপকৃত করবে।

এর আগে ক্রীড়া অঙ্গনের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আমিনুল হক, জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মোহাম্মাদ আশরাফুল, হাবিবুল বাশার সুমন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে ২৮ জনের ৩ কোটি আত্মসাৎ, ফেরত দেওয়ার দাবি
প্রশাসনে রেকর্ড সংখ্যক কর্মকর্তা ওএসডি, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নতুন রেকর্ড
ড. ইউনূস-মোদির বৈঠক আশার আলো তৈরি করেছে: মির্জা ফখরুল
সাভারে আবারও চলন্ত বাসে ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ মালামাল লুটপাট
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!