শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি

আজকে আমরা যখন স্বাধীনতার কথা স্মরণ করছি, তখন আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের বন্ধুত্ব, তাদের সহযোগিতা আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছে। এরপর যখন দেশ স্বাধীন হলো, ১৬মার্চে যখন পাকিস্তানিদের আমরা পরাজিত করলাম, ভারত এবং বাংলাদেশের যৌথবাহিনীর কাছে তারা পরাজিত হলো, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রত্যাবর্তন করলেন, ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন হলো, তখন প্রশ্ন আসলো, এখনতো আমরা স্বাধীন হয়েছি, এখন আমরা কি করবো?

মনে রাখতে হবে, স্বাধীনদেশেও কিন্তু আমাদের সেই চ্যালেঞ্জটা খানিকটা রয়ে গেল। পৃথিবীর অনেকদেশই আমাদের স্বীকৃতি দিতে দ্বিধান্বিত হলো, কারণ পাকিস্তানীরা বলছে যে, এটাতো ভারতীয় ষড়যন্ত্রের ফসল। এটাতো পাকিস্তান ভেঙ্গে ফেলার ষড়যন্ত্র এবং পৃথিবীর অনেকদেশ সেটা বিশ্বাসও করেছে। ফলে আমাদের স্বাধীনতার প্রথম তিন চার বছর আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জটাই ছিল, আমরা কি করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিটুকু আদায় করতে পারবো এবং সেই সংগ্রামটা আমরা করে গেছি প্রথম তিনটি বছর। সেই সংগ্রামের একটি স্বীকৃতি আমরা পেয়ে গেছি যখন জাতিসংঘে আমরা সদস্যপদ লাভ করলাম। ১৯৭৪সালের সেপ্টেম্বর মাসে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গিয়ে বাংলায় ভাষণ দিলেন। তার মাধ্যমে আমরা বলবো যে, স্বাধীন দেশ হিসেবে মোটামুটি স্বীকৃতির যে প্রক্রিয়াটি সেটি সম্পূর্ণতা অর্জন করলো।চীন এবং অন্যান্য দেশ ৭৫সালের মাঝামাঝি গিয়ে তারা স্বীকৃতি দেয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আমরা যে লড়ছি, আমাদের প্রত্যাশা যে একটা বড় উপাদান বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে, সেই বক্তব্যটি পৃথিবীর কাছে নিয়ে যাওয়াটি দরকার ছিল এবং সেক্ষেত্রে আমরা সফল হয়েছি।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল, স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ। তাতেও আমরা সফল হই। তৃতীয় জায়গাটিতে যদি আসি, বিদ্ধস্ত দেশ, রাস্তা নাই ঘাট নাই, ৮০% মানুষ দারিদ্র। এই জায়গায় একটি দেশকে চালু করা, তার অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা, সেই কাজটিও কিন্তু আমাদের জন্য সহজ কাজ ছিল না। সে সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বন্ধুরা যারা ছিল, তাদের কাছে কিন্তু আমরা সহযোগিতা চেয়েছি এবং সেই সহযোগিতাটি আমরা স্বার্থকভাবেই পেয়েছি।

আমি সবিনয়ে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, বাংলাদেশে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি তার প্রায় ৩৫শতাংশ কাজ, কিন্তু বৈদেশিক সাহায্য কর্তৃক হয়। কাজেই বাংলাদেশের শৈশবকালের যাত্রা শুরু থেকেই কিন্তু আমরা বৈদেশিক সহযোগিতাটুকু পাই এবং এখনও পেয়ে আসছি। এর একটা অসাধারণ মুল্য কিন্তু আমাদের আছে। তখন আমরা যে প্রক্রিয়াটি শুরু করে সফলভাবে চালু করতে পেরেছিলাম, সেটা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চালু রাখতে ব্যাপকভাবে আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং জেনে ভাল লাগবে যে, এখন বাংলাদেশ বিদেশি আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা ভাল একটি অবস্থানে আছি বলতে পারি।আগে আমরা খাদ্যে সহযোগিতা চাইতাম, এখন আমরা প্রকল্প সহযোগিতা চাই।

আমরা যে অর্থনৈতিকভাবে সবল হচ্ছি, আমরা যে দারিদ্র বিমোচনে সফল হচ্ছি, নারী উন্নয়নসহ শিক্ষা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমরা যে সফল হচ্ছি, তার ইঙ্গিতটা হচ্ছে, আমরা কিন্তু যে বিদেশি সহযোগিতা পাই এবং সেই সাহায্যটি কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আসে। খাদ্য সাহায্যের জন্য সেটা এখন আর প্রয়োজন হয়না। এটাকেও আমরা আমাদের অর্জনের একটি জায়গা হিসেবে দেখতে পারি।

এখনকার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা এবং বিজয় দিবস দুটিরই যখন আমরা সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি, সেক্ষেত্রে আমাদের একটি অন্যতম বড় অর্জন হলো আমরা এখন স্বল্প আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি এবং এটি কিন্তু আমাদের আগামী পাঁচ বছরের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ ২০২৬সালে আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকা অর্জন করবো। এটা বড় ধরণের অর্জন আমরা বলতে পারি। এই অর্জনটি আমরা প্রত্যাশা করছি, আমরা আসলে মুখিয়ে আছি যে, এই অর্জনটি আমরা কিভাবে ঘটাবো। তবে বলতে পারি, আমরা স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে এসে অর্জনের যে গল্প করছি, সেই অর্জনের গল্প কিন্তু সম্পূর্ণ একইসাথে খানিকটা অসম্পূর্ণ সেকথা আমাদের বলতেই হবে!

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো