শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও মনোযোগ দরকার

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পঞ্চাশবছর পালন করছি আমরা। আমাদের এখন অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় অথবা উন্নয়নশীল দেশগুলির তুলনায় আমরা বেশ ভাল অবস্থানে আছি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে বিষয়টি লক্ষনীয়। অনেক চড়াই উতরাই পার হয়ে এসেছে বাংলাদেশ।

আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসছে। সামস্টিকভাবে আমাদের যে উন্নয়ন সুচকগুলি সেগুলি ভাল। আরও একটি ভাল খবর যেটি, তাহলো জাতিসঙ্ঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী অনুন্নয়নশীল দেশ থেকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। এটা একটি বড় অর্জন বলে আমি মনে করি। আমরা এক জায়গায় আটকে না থেকে যেন সামনের দিকে এগুতে পারি । আমাদের আত্মপ্রসাদ নিলে চলবে না। কারণ সুষমবন্টন ভিত্তিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু পিছিয়ে আছি। আয় এবং সম্পদের বণ্টন যদি আমরা দেখি, সেখানে বৈষম্য প্রচুর। দিনদিন বৈষম্য বাড়ছে। এটি ভাল লক্ষণ না। অর্থনৈতিক উন্নয়ন মোটা দাগে সামস্টিক সুচকে হয়েছে কিন্তু উন্নয়নের সুফলটা নীচের স্তরে পৌঁছায়নি।

খেয়াল করলে দেখবেন, ঢাকা শহরে বা অন্যান্য শহরে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, কিন্তু অপেক্ষাকৃত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা আছেন, তাদের অপেক্ষাকৃত উন্নয়ন আমরা দেখছি না। তারা অনেকটাই পিছিয়ে আছে। শুধু অর্থনীতিতে নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রেই আরও উন্নতি দরকার। শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কোভিড অবস্থা যদিও ভালভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছে সরকার। তবে একথাটিও সত্যি যে, দরিদ্র মানুষকে যদি তার চিকিৎসার জন্য একশ টাকা খরচ করতে হয়, সেটা নিজের পকেট থেকেই দিতে হয়। পৃথিবীর কোন দেশেই কিন্তু এই নিয়ম নেই। সেক্ষেত্রে সরকার বা ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলি, তারপর সরকারি ক্লিনিক আছে সেগুলি বহন করে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা যদি বলি, এমনিতে রাস্তাঘাট হয়েছে তবে সেগুলির গুণগতদিকটিও খেয়াল রাখতে হবে বলে মনে করি।

সব সরকারই কিন্তু মাথাপিছু আয় প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেস্টা করেছে। রেমিটেন্স বাড়াবার চেস্টা করেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নীতিমালা অথবা পলিসিগুলি ঠিক আছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রটি বেশ দুর্বল। নীতিমালাগুলি ঠিকভাবে হলেও তার বাস্তবায়নগুলি যথাযথভাবে হচ্ছে না বলে আমি মনে করি। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সবচেয়ে বড় একটি প্রতিবন্ধকতা হলো এখানে নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণটা কম। প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতায় এগুলো সহজে বাস্তবায়ন করা যায় না। আরেকটি বিষয় হলো, অর্থের অপচয় হয়, দুর্নীতি দিন দিন বাড়ছে। আমাদের রিসোর্স যেগুলি আছে, আমাদের যে সম্পদ, সেই সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। এগুলি যদি আমরা ঠিক না করি, ভবিষ্যতে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। অর্থনীতির ক্ষেত্রে আরও যেটি দেখলাম, কাজের ক্ষেত্রে বহুমুখিকরণ ঠিকমতো হয় না। তাছাড়া চামড়া, পাট, ঔষধশিল্প, সিরামিক ইত্যাদি এগুলির সম্ভাবনা আছে কিন্তু সুষ্ঠুভাবে বাড়ছে না। মানব সম্পদের ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনভিজ্ঞ। দক্ষ শ্রমিক বাড়াতে পারছি না। মধ্যপ্রাচ্যে অদক্ষ শ্রমিক পাঠাচ্ছি। দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা এবং তাদেরকে বাইরে পাঠানো, সেটি আরও যথাযথভাবে হওয়া উচিত। আরও একটি দুর্বল দিক আমাদের, শিল্পে উন্নয়ন বিশেষ করে বড় শিল্পগুলি ভাল করলেও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পগুলি অনেকটা পিছিয়ে আছে। এখানে অর্থায়ন একটি সমস্যা। ব্যাংকগুলি অর্থায়ন করতে চায় না। কৃষকরাও কিন্তু যথাযথভাবে প্রণোদনা পায় না। যদিও কৃষকরা আমাদের খাদ্যের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট অবদান রেখেছে।

আমাদের আর্থিকখাত, প্রশাসনিক খাতে যথেষ্ট জবাবদিহিতার দরকার আছে। মনিটরিং অর্থাৎ নজরদারির দরকার আছে। পুজিবাজারে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় অনেক দুর্বলতা আছে। ব্যাংকগুলি বড় বড় ব্যাবসায়িদের দ্বারা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। ছোট বা মাঝারি ব্যাবসায়িদের কাছে পুজি যাচ্ছেনা । আমাদের ব্যাংকখাত চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে আছে। এখানে সুশাসনের অভাব। নানারকম দূর্নীতি হচ্ছে। এগুলি যদি আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে না পারি, তাহলে সেটি আমাদের জন্য উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে কঠিন হবে। পরিশেষে বলতে পারি, জনগণের অংশগ্রহণ দরকার। জনগণ যদি নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের মতামত, সেটি স্থানীয় পর্যায়ে হোক আর জাতীয় পর্যায়ে হোক তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বছরে এইসব প্রতিবন্ধকতাগুলি চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে আমি মনে করি।

 

লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত