নতুন বছরে এগিয়ে যাওয়ার পথরেখা তৈরি হোক

নতুন বছর আসছে আমাদের সামনে ২০২২। আমরা নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। আমাদের জীবনে নতুন বছর একটি ধ্রুবতারা। কারণ বেচে থাকার শর্তে এক একটি বছর আমাদের আলোকিত করে। আমাদের সময়কে ঋদ্ধ করে। ২০২২ আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর করবে, স্বার্থক করবে। আমরা করোনা ভাইরাস একদম চাই না এবং মনে করবো, করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বে আমাদের যা কিছু সক্রিয় কাজ সেটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে এবং সক্রিয় কাজের ভিতর দিয়ে আমাদের নানা কিছু কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে। আমরা এভাবে সরকারের কাছে প্রত্যাশা করি যে, ২০২২ আমাদের স্বাধীনতার একান্নতম বছর হবে। সেখানে আমরা যেন কোথাও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্পে কোন সম্প্রদায়কে নষ্ট হতে দেখি না।
আমরা এই জায়গাটি তৈরি করার স্বপ্ন দেখি। কারণ বারে বারে একই কাজ যদি সংঘটিত হয় তাহলে আমাদের মানবিক বোধের চেতনা ঠিকমতো দাড় হবে না। আর এই চেতনার জায়গাটি সঠিকভাবে উন্মোচিত না হলে গণমানুষের জীবনে অনেক বড় খারাপ কাজ সংঘটিত হবে। বারে বারে মানুষ নির্যাতিত হবে। অপমানিত হবে। জীবনের যন্ত্রণা, মনুষ্যত্ব বোধের চেতনা না থাকলে সেই যন্ত্রণা থেকে মানুষ উদ্ধার পাবে না। আমরা মনে করি ২০২২ আমাদের সামনে আসছে। ২০২২ এ যেন আমরা নিজেদের সুন্দরভাবে স্বার্থকভাবে তৈরি করতে পারি। দেশের উন্নয়নের যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে পারি। আমাদের দেশকে একটি বড় বিশাল সমুন্নত দেশে পরিণত করতে পারি। আমরা ভাবছি, আমাদের যা কিছু ব্যর্থতার জায়গা ছিল ২০২২-এ তা যেন পূর্ণ হয়ে যায় এবং বিগত সময়ের ব্যর্থতার দায়ভার থেকে আমরা যেন উদ্ধার পাই।
নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে। এই নতুন বছরের শুভেচ্ছা আমরা পরস্পর পরস্পরকে জানাবো। কারও প্রতি আমাদের কোন বিদ্বেষ থাকবে না এবং নতুন বছরকে হৃদয়ে ধারণ করে আমরা বড় যাত্রায় অগ্রগামী হবো। আমাদের মনুষ্যত্ব বোধ আমাদের চেতনাবোধ আমাদের সবকিছুতে ভীষণভাবে ছড়িয়ে থাকুক।
যেভাবে আমাদের আন্তর্জাতিক বিশ্বে সেই ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস আন্তর্জাতিক দিবসে পরিণত হয়েছে, ৭ই মার্চের ভাষণ ঐতিহাসিক প্রামাণিক দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করেছে ইউনেস্কো। এভাবে আমাদের অনেক অর্জন বাঙালি জাতি হিসেবে নিজেদের গৌরবকে এভাবে তুলে ধরবে। আরেকটি প্রচেস্টা আমরা যেন করি, এটি আমি সবসময়ই বলি,আমি সবসময়ই বলে এসেছি, আমাদের সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি অনুবাদ ইন্সটিটিউট স্থাপন করা যায় যদি, তাহলে বাংলাদেশের সাহিত্য একটি অনন্য মর্যাদায় উন্নীত হতে পারে । আমাদের বাংলাদেশে ৪৭ পরবর্তী যেসব গল্প উপন্যাস রচিত হয়েছে, সেগুলিকে অনুবাদ করে যদি বিশ্বের দরবারে পৌঁছানো যায় তাহলে বিদেশি পাঠকের কাছে বাংলাদেশের সাহিত্য একটি গভীর জায়গা করে নিতে পারবে। গণজীবনের পটভূমিতে রচিত গল্প উপন্যাস কবিতা নাটক ইত্যাদি সবকিছু যেন আমাদের জন্য একটি বড় দিগন্ত খুলে দেয়। আমাদের চলচিত্র যেন নানা ভাবে তৈরি হয়ে বিশ্বের দরবারে পৌঁছায়। আমাদের সংগীত যেন আমাদের সংগীত শিল্পীরা বিশ্বের দরবারে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। এইসব বিষয়গুলি আমাদের মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।
একবছরেই সবকিছু অর্জন হয়ে যাবে তা নয়,সেটি আমরা জানি। যাত্রা শুরুটা হতে হবে, যাত্রা শুরু হলে আগামী অনেক বছরে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা পাবে। তার গৌরবের জায়গাটি ধারণ করার জন্য সচেতনভাবে অনুপ্রাণিত হবে। এইভাবে আমরা ধারণ করতে চাই যেন,২০২২ নতুন নতুন ধারণা সমৃদ্ধ হয়ে আমাদের সবকিছুকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথরেখা তৈরি করতে পারে সেটিই আমাদের শুভকামনা।
লেখক: কথাসাহিত্যিক।
