শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

এটি কী করোনার লার্নিং লস নাকি মৌলিক জায়গাতেই সমস্যা?

জুন (২০২২) মাসের ২৭, ২৮ ও ২৯ তারিখ খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেছি, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে কথা বলেছি ও ক্লাস নিয়েছি তাদের অবস্থা বোঝার জন্য। একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখলাম শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘Tag Question’ এর ওপর ক্লাস নিচ্ছেন এবং বোর্ডে শিক্ষার্থীদের এই বাক্যগুলো লিখে দিয়ে বলছেন যে, এগুলোর Tag Question তৈরি কর। (i) Everybody loves them----? (ii) the mother rose in her----(iii) He is a presenter----(iv) How nice the school is---- (v) There is little water in the field---?

দেখলাম কোনো শিক্ষার্থীই করতে পারছে না। কেউ কোনো কথাও বলছে না, শিক্ষককে কিছু জিজ্ঞাসাও করছে না। শিক্ষক শুধু বলছেন যে, এগুলো কর। বাক্যগুলো লেখার পর সেগুলো নিজের পড়তে হয়, শিক্ষার্থীদের দ্বারা পড়াতে হয়। তারপর একটি দুটি উদাহরণ দিয়ে একই ধরনের বাক্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের এক্সারসাইজ করানো উচিত। তা না হলে কেউ বুঝবে না। পরে আমি একই ধরনের বাক্য দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি Tag Question করানোর চেষ্টা করলাম। কয়েকজন শিক্ষার্থী পেরেছে, সবাই তখনও পারেনি। বুঝলাম এ ধরনের প্রাকটিস শ্রেণিকক্ষে করানো হয় না। করালে প্রায় সব শিক্ষার্থীই মোটামুটি বিষয়টি আয়ত্ত্ব করতে পারত।

অন্য একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে গেলাম। এ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোভিডের সময় অষ্টম শ্রেণিতে ছিল। তাদের জিজ্ঞেস করলাম অষ্টম শ্রেণিতে ইংরেজি বইয়ে কি কি পড়েছ। কেউ বলতে পারল না। আমি যখন বললাম , নকশীকাঁথা পড়েছ কিনা। তখনই বলল যে পড়েছে। নকশীকাঁথা প্রবন্ধের অধিকাংশ বাক্যই Passive Voice-এ লেখা। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মুখ থেকে শোনার জন্য বহু চেষ্টা করলাম, কেউ বলতে পারল না। অবশেষে আমি বলে দিলাম। তারপর এই বাক্যটি বোর্ডে লিখলাম ‘Nakshikantha is sold outside the country’ শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞেস করলাম এটি Active form এ নাকি ‘Passiv form’এ আছে। ওরা বললো Active form এ আছে। বললাম তাহলে এটিকে passive কর। যেহেতু বিষয়টি চিনতেই পারেনি, কিভাবে করবে? একই ধরনের আর একটি বাক্য দিলাম Medicine is sold in this shop. বললাম এটি Active form এ নাকি ‘Passiv form’এ । একই ধরনের উত্তর দিল। পরে বললাম আমাদের ক্লাসে ৮৮ জন শিক্ষার্থী আছে- এই বাক্যটি ইংরেজিত বলতে। একজনমাত্র বললো class ten student 88. এই হচ্ছে শিক্ষার বাস্তব চিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষায় যখন দেখি যে, ৮ শতাংশ কিংবা ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয় বাকিরা অকৃতকার্য তখন, অনায়াসে বুঝতে পারি শিক্ষার প্রকৃত চিত্র এটিই।

একটি মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে গেলাম। গিয়ে দেখলাম শিক্ষক ‘narration’ পড়াচ্ছেন। শিক্ষক মোটামুটি ইংরেজি বলছেন যেটি একটি ভাল দিক কিন্তু ‘narration’ পড়াচ্ছেন পুরো পুরানা স্টাইলে। ‘direct speech’ কাকে বলে, ‘indirect speech’, কাকে বলে, একটি থেকে আর একটিতে পরিবর্তনের প্রচুর নিয়মাবলী পড়াচ্ছিলেন, নিয়ম কানুন ব্যাখ্যা করছেন কিন্তু কোনো এক্সারসাইজ করতে দেননি। শিক্ষক যেভাবে তার ছাত্রজীবনে narration --- পড়েছেন তার শিক্ষকদের কাছে, এখন এসব পড়ানোতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, নিয়ম মুখস্থ’ করানোর চেয়ে সরাসরি বাক্য ও পরিবর্তন করে দুটির মধ্যে তফাৎ দেখানো এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কি পরিবর্তন হয়েছে, কেন পরিবর্তন হলো ইত্যাদি বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই শুনতে হয়। এভাবে তাদের এনগেজ করতে হয় এবং তাদের চিন্তা করার সুযোগ দিতে হয়। বুঝা গেল এসব বিষয় শিক্ষকের অজানা এবং এ ধরনের পড়ানোর সঙ্গে তার পরিচিতি নেই। একই অবস্থা করোনার আগেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেছি। তাহলে এটিকে কি আমরা করোনার লানিং লস বলব, নাকি বেসিক জায়গাতেই সমস্যা বলব নাকি আধুনিক উপায়ে গ্রামার পড়ানো বা ল্যাংগুয়েজ পড়ানোর সমস্যা বলব? যাই বলিনা কেন, সমস্যা আছেই।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে টানা প্রায় ১৮ মাস সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান বন্ধ ছিল। তবে বন্ধের ওই সময়ে টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইনে ক্লাস নেওয়াসহ নানাভাবে শিক্ষার্থীদের শেখানোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা ছিল। যদিও এসব কার্যক্রমে সব এলাকার সব শিক্ষার্থী সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের কতটুকু শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা নিরূপনের উদ্যেগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য ’বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট’ বা বেডুর মাধ্যমে একটি গবেষণা করানো হয়। এটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে কী মাত্রায় শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা উঠে এসেছে এই গবেষণায়। এসব শিক্ষার্থী এখন নবম শ্রেণিতে পড়ে। তারা ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। দৈবচয়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষার্থী ও প্রায় ছয় হাজার শিক্ষকের ওপর গবেষণাটি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ওই তিন বিষয়ে অনলাইন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ ছাড়া এ তিন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি সম্পর্কে শ্রেণিশিক্ষকের মতামত নেওয়া হয়। মাত্রা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতিকে স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চ---এ তিন ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে। এটিও একটি ভালো দিক। অনলাইন পরীক্ষায় যেসব প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ৬০ শতাংশ বা তার বেশি না পারাকে উচ্চ মাত্রার শিখন ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ৫০ থেকে ৫৯ শতাংশ না পারাকে মধ্যম মাত্রার শিখন ঘাটতি হিসেবে ধরা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য বলছে বাংলায় ৩১শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যম মাত্রায় ও ২৪শতাংশের উচচমাত্রায় শিখণ ঘাটতি রয়েছে। বাংলায় স্বল্প মাত্রায় শিখন ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থী ২৫ শতাংশ। ইংরেজিতে মধ্যম মাত্রায় শিখন ঘাটতি থাকা শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৮শতাংশ, উচ্চমাত্রায় ১৮ শতাংশ এবং স্বল্প মাত্রায় শিখন ঘাটতি রয়েছে ২০ শতাংশের। গণিতে মধ্যম মাত্রায় শিখন ঘাটতি রয়েছে ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর, উচ্চমাত্রার ক্ষেত্রে এই হার ৩৯ শতাংশ এবং স্বল্প মাত্রার ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে তিনটি বিষয়েই বেশি শিখন ঘাটতি দেখা গেছে। খুলনা ও রংপুর বিভাগের শিখন ঘাটতির মাত্রা সবচেয়ে কম। জেলা বিবেচনায় তিনটি বিষয়েই রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ মাাত্রায় শিখন ঘাটতি শিক্ষার্থী চিহ্নিত হয়েছে। ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। তবে গ্রাম ও শহরভেদে শিখন ঘাটতির মাত্রায় বেশ ভিন্নতা রয়েছে। বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে উচ্চমাত্রার শিখন ঘাটতিসম্পন্ন শিক্ষার্থীর হার শহরে সর্বোচচ ৩৬ শতাংশ এবং গ্রামে সর্বোচচ ৪৩ শতাংশ। সমতলের চেয়ে পাহাড়, উপকুল, চর, হাওড় অঞ্চলে বেশি শিখন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের চেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যম ও উচ্চ মাত্রার শিখন ঘাটতি পূরনে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া, টেলিভিশনে ক্লাস সম্প্রচার, অনলাইন ক্লাস ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়াসহ বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এখানে একটি বিষয় হচেছ, যখন সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ ছিল তখন এসব মাধ্যমে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছিল যা প্রশংসার দাবি রাখে। তারপরেও নানা সীমাবদ্ধতা, অসংগতি ও অনভিজ্ঞতার কারণে খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থীই এর দ্বারা উপকৃত হয়েছিল। যদিও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের জোড়ালো যুক্তিছাড়া বার বার বলা হতো যে, প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের আওতায় এসেছে। এটি নিয়ে কার্যকর একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত, যদি সরকার সেভাবে চাইত। সেটি কিন্তু হয়নি। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ে কিছু গবেষণা করেছেন বা সার্ভে হয়েছে— যার ফল খুব হতাশাজনক। সেই বাস্তবতায় টেলিভিশনের ক্লাস কতটা কাজ দেবে সেটি আবারও ভেবে দেখা প্রয়োজন। তবে, ইউটিউবে কিছু ভিডিও ছেড়ে দিলে যার যখন প্রয়োজন সেটি দেখে নিতে পারবে। এই যুক্তিটি খারাপ নয়। টেলিভিশনে চলতে পারে। তবে, সবচেয়ে জোর দিয়ে যে কাজটি করতে হবে তা হচ্ছে, নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষেই সপ্তাহে তিন থেকে চারদিন অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হবে। যেসব বিষয় বেশি কঠিন ও শিক্ষার্থীরা সমস্যা বেশি ফেস করে সেসব বিষয়গুলোতে, বাকিগুলোতেও কমপক্ষে একদিন অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হবে। সেজন্য শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের তরফ থেকে, অভিভাবকদের কাছ থেকে এবং সরকারি তরফে কিছু ফি প্রদান করতে হবে।

সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে ২০২৩ সালেও সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য ২০২৪ সালের পরীক্ষার্থীদের সামনে রেখে গবেষণাটি করা হয়, যাতে চিহ্নিত ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানাই। করোনা মহামারির জেরে দেশের সব পর্যাযের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়েছে। মহামারিকালে অষ্টম শ্রেণির অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে মধ্যম উচ্চমাত্রায় শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বাকি বিষয়গুলোতেও কিন্তু তাদের অবস্থা ভালো নয়। সার্বিক ঘাটতি পূরনের নিমিত্তে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়াসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

লেখক: কান্ট্রি ডিরেক্টর-ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ (ভাব) এবং প্রেসিডেন্ট- ইংলিশ টিচার্স এসোসিশেয়ন অব বাংলাদেশ (ইট্যাব)
সাবেক বিশেষজ্ঞ-ব্র্যাক শিক্ষা ও সাবেক শিক্ষক-ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ক্যাডেট কলেজ, রাজউক কলেজ ও বাউবি।

ইমেইল: masumbillah65@gmail.com

আরএ

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত