শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

পল্লী উন্নয়নে বিশ্ব কবির ভাবনা

রবীন্দ্রনাথের পল্লী উন্নয়ন ভাবনা ছিল গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম হাতিয়ার। জমিদারের সন্তান হয়েও ভাবনায় রেখেছিলেন গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের কল্যাণ। স্বনির্ভর গ্রাম প্রতিষ্ঠা ও গ্রামীণ অর্থনীতি পূর্নরুদ্ধারের ব্যাপারে কবির ভাবনা ছিল সুদূরপ্রসারী। রবীন্দ্রনাথ নিজেই লিখেছেন, আমার জন্মগত পেশা জমিদারী, কিন্তু আমার স্বভাবগত পেশা আসমানদারী। জমিদারের সন্তান হিসেবে তিনি যতো না খাজনা আদায় করেছেন, তার থেকে অনেক বেশি গ্রাম বাংলার সৌন্দর্যসুধা প্রাণভরে উপভোগ করেছেন। খেয়াপারের মাঝিটিকেও তিনি কাব্যিক ছন্দ দিতে ভুলেননি।

রবীন্দ্রনাথ পল্লী উন্নয়নকে একটি জাতির উন্নতির একমাত্র উপায় হিসেবে জেনেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করতেন সাধারণ মানুষকে বাদ দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। পল্লী উন্নয়নের সুযোগ্য গবেষক ড. আনোয়ারুল করীম, তাঁর সমবায়ী রবীন্দ্রনাথ ও পল্লী উন্নয়ন গ্রন্থ পৃ,৯ এ উল্লেখ করেছেন- ’পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ সমবায়কে চালিকাশক্তি মনে করলেও একে সংহত রুপ দেবার জন্য তিনি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর মতে জোট বাঁধা, ব্যুহবদ্ধতা এবং অর্গানিজেশন এই তিনটি পল্লী উন্নয়নের সারকথা’।

সমবায়ভিক্তিক কৃষি ও শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার  এবং সর্বক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছেন। সমবায়ের সাথে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার কবির পল্লী উন্নয়ন ভাবনার এক অভূতপূর্ব সংযোজন। গভীর থেকে গভীরতর চিন্তা চেতনা কবির হদয়কে ছুঁয়েছিল। সমবায়ভিক্তিক পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচির প্রথম উদ্যোগী পুরুষ রবীন্দ্রনাথ । রবীন্দ্রনাথ প্রস্তাবিত পল্লী সমাজের কাঠামো অনেকটাই ইউনিয়ন পরিষদের আদলে সৃষ্ঠ।  শিলাইদহ শাহজাদপুর,পতিসরের আশেপাশের দরিদ্র মানুষগুলোর অসহায়ত্ব তাঁর বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। কবির অন্তদ্ষ্টি ও সাহিত্য প্রতিভা গ্রামীণ মানুষের দূর্বিষহ জীবনকে উপলব্ধি করার সক্ষমতা বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছিল। গ্রাম বাংলার প্রতি রবীন্দ্রনাথের অনুরাগ ছিল প্রবল। গ্রামকে তিনি নারীর সাথে তুলনা করে বলেন’ Villages are like women, in their keeping is the cradle of the race’ ………………… কবিতা ও সাহিত্য কবিকে স্বদেশপ্রেমী করে তুলেছিল এবং সে কারণেই পল্লী উন্নয়নের চেতনা তাঁর অন্তর ছুঁয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিন্নপত্র ’১০ মে ১৮৯৩ সালে শিলাইদহে লিখেছেন’ এই দরিদ্র প্রজাগুলোকে দেখলে ভারী মায়া করে, এরা যেন বিধাতার শিশু সন্তানের মতো নিরুপায়। তিনি এদের মুখে নিজের হাতে কিছু তুলে না দিলে এদের আর গতি নেই। পৃথিবীর স্তন যখন শুকিয়ে যায় তখন এরা কেবল কাঁদতে জানে- কোনোমতে একটুখানি ক্ষুধা ভাঙলেই আবার তখনই ভুলে যায়।”

রবীন্দ্রনাথ অকপটে সাহিত্যচর্চায় গ্রামকে সামনে টেনে এনেছেন। কবির ধারনায় একটি গ্রাম জাগলে একটি দেশ জাগবে”। পল্লী উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ কবির এক যথার্থ প্রাণের তাগিদ। তিনি পল্লী উন্নয়ন বলতে পল্লীর সামগ্রিক অবস্থার উন্নয়নকেই বুঝেছিলেন। তিনি বর্ণ এবং শ্রেণী বৈষম্যকে পল্লী উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় বলে মনে করতেন। তিনি পল্লীর মানুষের দূর্দশা দেখে পীড়িত হয়ে লেখেন; এদের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং এদের অসহ্য কষ্ট দেখলে আমার চোখে জল আসে।”রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনুভূতিপ্রবণ মানবতাবাদী এবং দেশপ্রেমী একজন রোমান্টিক কবি। তিনি প্রজাদের জনদরদী অভিভাবক ছিলেন তাঁর স্বপ্নই ছিল প্রজাদের উন্নয়ন। উপেনকে তিনি ধনী গরিব বৈষম্যের একটি চিহ হিসেবে সবার সামনে উত্থাপন করেছেন। তিনি পল্লী উন্নয়নকে স্বাধীনতার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের বুক থেকে কালোছায়া মুছে ফেলার মন্ত্রের দিক্ষা কবি বহু আগেই রপ্ত করছিলেন । খাদ্য সমস্যা দূরীকরণে তিনি কৃষকদের নিয়ে চাষবাস ও গোরুপালনের উপর জোর দিয়েছিলেন। এর ফলে কৃষকেরা লাভবান হয়েছিল। পল্লী উন্নয়নে বিশ্বকবির সুদূরপ্রসারী চিন্তা চেতনা আজও ভারতবর্ষে সমুজ্জল হয়ে রয়েছে।

চলবে…

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত