শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা

বছরের প্রথম দিন। শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, যদিও সবাই এতে শামিল হতে পারে না। ২০২২ সালের প্রথমদিনও কি সে রকমটি হবে? এনসিটিবি বলছে, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের বই দেওয়া হয় না, তাদের দেওয়া হয় শুধু খাতা, তা না-কি ছাপা হয়ে গেছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর জন্য গত ৯ নভেম্বর প্রেস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে এনসিটিবি। নিয়ম অনুযায়ী, চুক্তির পর বই ছাপাতে প্রেস মালিকরা ৮৪ দিন সময় পান। সেই হিসাবে, ৩১ ডিসেম্বরের আগে এই দুই শ্রেণির বই ছাপার কাজও শেষ হবে না। এর ফলে ১ জানুয়ারি এই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সবকটি বই নাও পেতে পারে।

এ ছাড়া অন্যান্য শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। এই আংশিক বই নিয়েই আগামী ১ জানুয়ারি পাঠ্যবই উৎসব করতে চায় শিক্ষা প্রশাসন। প্রতিবছরই বিনামূল্যের বই ছাপানো, দেশের বিভিন্ন স্থানে সেগুলো প্রেরণ করা এবং শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা, সমালোচনা এবং শেষে বিলম্ব হতে দেখা যায়। বই উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়; কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা কোনো বছরই সময়মতো বই পায় না। বিলম্বের কারণ হিসেবে যেসব কারণ সামনে চলে এসেছে, সেগুলো হলো–পাঠ্যবই ছাপানোর জন্য বাজার উপযোগী দাম নির্ধারণ করতে না পারা, বারবার দরপত্র আহ্বান করা, নির্ধারিত সময়ের বহু পরে ছাপার কাজ শুরু করা, অদক্ষ ও অযোগ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া, যোগ্য কর্মকর্তাদের ওএসডি করে রাখা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঢিলেমি।

এনসিটিবি বলছে, তারা পাঠ্যবই ছাপানোর কাজের অনুমোদনের জন্য সময়মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিল; কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে সাড়া পায়নি। এর মধ্যেই গত সেপ্টেম্বরে এনসিটিবির কয়েকজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে কাজ গতি পায়। এ ছাড়া চলতি ডিসেম্বরের শেষ দিকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অবসরোত্তর ছুটিতে যাবেন। এনসিটিবির সদস্যরা পাঠ্যবইয়ের কাজ দেখভালের পরিবর্তে তারা চেয়ারম্যান হওয়ার তদবিরে ব্যস্ত। এর ফলে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ পিছিয়ে যায়। আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রি-প্রাইমারি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সোয়া দুই কোটি শিক্ষার্থীর জন্য সাড়ে ৩৫ কোটি বই ছাপা, বাঁধাই এবং স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বিতরণ করতে যে সময় আছে তাতে সমস্যা হবে এবং মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিষয়টি এক রকম অসম্ভব।

জানা যায় যে, শিক্ষার্থীরা যাতে সময়মতো পাঠ্যবই হাতে পায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এনসিটিবির কাজে হস্তক্ষেপ করেছে। বছরজুড়ে ঢিলেমি দেখিয়ে গত আগস্টের পর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও পাঠ্যবই ছাপানোর কাজে বেশি তৎপর হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়ও ১০টি পরিদর্শন টিম গঠন করেছে, যারা ঘুরে ঘুরে পাঠ্যবই ছাপানোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একইসঙ্গে এনসিটিবিও ৩৯টি মনিটরিং টিম গঠন করেছে। এমন হতাশাজনক তৎপরতার মধ্যেই এনসিটিবি বলছে, আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপার কাজ শেষ হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিও চাওয়া হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩০ অথব ৩১ ডিসেম্বরে প্রধামন্ত্রী বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন। ১ জানুয়ারি শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে স্কুলে বই উৎসব পালন করবে।

বই ছাপানোর এই মহাযজ্ঞ সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে গিয়ে এনসিটিবির সবাই ব্যস্ত, মহাব্যস্ত। বই ছাপানো হয়েছে কি না এ নিয়েই পুরো এনসিটিবি ব্যস্ত, এতে তাদের উৎসাহেরও কমতি নেই। এনসিটিবিতে গেলে দেখা যায়, অনেক বিভাগে তালা মারা, আর যেসব বিভাগ বা রুমে তালা নেই সেখানকার চেয়ারগুলো খালি। জিজ্ঞেস করলে বা পরিচিতজনদের ফোন করলে জানা যায়, তারা প্রেসে বই ছাপা পরিদর্শনে গেছেন। প্রশ্ন হলো–বই ছাপানো নিয়ে সবাই ব্যস্ত; কিন্তু বইয়ের ভেতর কী লেখা আছে, কীভাবে লেখা আছে, এ নিয়ে কিন্তু কারও খুব একটা চিন্তা নেই। বই ছাপাতে হবে, ছাপানো হচ্ছে, তা সে যে কোনো মূল্যেই হোক। পরে দেখা যায়, একটি বইয়ে গণিতের সঙ্গে কিছু অধ্যায় কিংবা কিছু পৃষ্ঠা এসেছে কৃষি বিজ্ঞান কিংবা ইসলামিয়াতের। সপ্তম শ্রেণির বাংলা বইয়ের সঙ্গে নবম শ্রেণির বাংলা, আবার সমাজবিজ্ঞান বইয়ের সঙ্গে কিছু কবিতা যুক্ত হয়ে শিশুদের কাছে যায়। এমনটি হয় প্রতিবছরই। আর শিশুদের কাছে বই যাওয়া তো চলে পুরো বছর ধরে। গত বছর (২০২০) অক্টোবর নভেম্বর পর্যন্ত বই বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেহেতু বিনামূল্যে বই পাচ্ছে তাই আর এ নিয়ে খুব একটা কথা কেউ বলে না, সাংবাদিকরাও সেভাবে বিষয়টিকে গুরুত্বে দেন না।

বিনামূল্যের বই না পাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকদের ভেতরেও তেমন হা-হুতাশ নেই–তার আরেকটি কারণ হলো–অনেক শিক্ষার্থী, অনেক শিক্ষক এনসিটিবি টেক্সট ব্যবহারই করেন না। বইয়ের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নাত্তর তৈরি করা হয়েছে। তারা সেগুলোই দেখে ও প্রস্তুতি নেয়। আর এ ছাড়া করারই বা কী আছে? হাতে সময়মতো বই পায় না প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ইচ্ছে করলেও কোথাও থেকে বই ক্রয় করতে পারেন না। বই পেতে হবে মাঠ পর্যায়ের পেটি-অফিসারদের কাছ থেকে তৈলমর্দন করে, পোহাতে হবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। তারপর কোনো বই নষ্ট হলে, হারিয়ে গেলে, ছিঁড়ে গেলে দ্বিতীয়বার সেই বই পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই, অতএব বিকল্প পথ তো থাকতে হবে।

অনলাইনে বই? সে তো ভাগ্যের ব্যাপার! ঢাকায় বসেই ঠিকমতো পাওয়া যায় না, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বই ডাউনলোড দিতে হয়তো আধাবেলা অপেক্ষা করতে হবে। এগুলো বাস্তবতা, এগুলো নিয়ে তেমন কেউ কথাও বলেন না। এমনিতেই শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা বই পড়তে চান না, তার মধ্যে আবার এত ঝামেলা। অতএব ঝামেলা এড়াতে বই নিয়ে উচ্চবাচ্য না করাই উত্তম!

২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের জন্য মোট ৩৪ কোটি ৭০ লাখ ২২হাজার ১৩০ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের মোট বই ছাপা হচ্ছে ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮৭৪ কপি। আর মাধ্যমিক স্তরের জন্য মোট ২৪ কোটি ৭১ লাখ ৬৩ হাজার ২৫৬ হাজার কপি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। এনসিটিবির পরিসংখ্যান বলছে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলিয়ে ১৬ কোটি বই ছাপানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০ কোটি বই উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এনসিটিবি জানিয়েছে যে, বাকি সময়ের মধ্যে বাকি বইগুলো পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রক ও বিপণন সমিতির সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, জীবনে যে শিশু প্রথমবার স্কুলে যাচেছ সে জানুয়ারির ১ তারিখ বই পাচেছনা। বই না দিতে পারলে উৎসব হবে কিভাবে? তাদের সংগঠনের হিসেবে ৩১ডিসেম্বরের মধ্যে ৬০ শতাংশ বই ছাপা শেষ হবে। নোয়াখালীতে অবস্থিত অগ্রণী প্রিন্টার্স একাই পেয়েছে প্রাথমিকের ৬০শতাংশ বই ছাপার কাজ। কিভাবে তারা এটি শেষ করবে?অগ্রণী প্রিন্টার্স রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। এটির ছাপাখানা নোয়াখালীতে, তারা সর্বাধিক ১০০ কোটির অধিক বই ছাপার আদেশ পেয়েছে। এত বই ছাপার মতো অবকাঠামো না থাকার পরও এ কার্যাদেশ তারা পেয়েছে। কীভাবে তারা পেল এ নিয়ে কোন কথা হবেনা কারন তারা প্রভাবশালী। তাদের বই ছাপা ও কাগজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিটিবির কাছে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেছে মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যন বলছেন, প্রতিদিন ৫০ লাখ করে বই ছাপা হচ্ছে, প্রতিদিনই বই যাচেছ উপজেলা পর্যায়ে। ফলে সমস্যা হবে না। অপরদিকে, মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় সংগঠন মুদ্রণ শিল্প মালিক সমিতির উপদেষ্টা বলছেন, নানা তথ্য ধামাচাপা দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানো হচ্ছে। আসলে আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা বই হাতে পাবে না। ডিসেম্বরে চেয়ারম্যান অবসরে যাচেছন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে পাওয়া যাবেনা।

অবস্থা নাকি অনেকটাই হ-য-ব-র-ল। কখনো বলা হচ্ছে করোনার প্রভাব, কখনো বলা হচ্ছে কারিকুলামের অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়। আবার দফায় দফায় টেন্ডার ও রি-টেন্ডার করে টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘন ও বিধিমতো টেন্ডারের শর্ত সংশোধন না করে সময়ক্ষেপন করার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকে পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম প্রণয়ন-সংশোধন-পরিমার্জনের জন্য বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি হলেও বিগত কয়েক বছর থেকে এনসিটিবিই হয়ে উঠেছে বই ছাপা ও বিতরণের মতো বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রক-পরিচালক সংস্থা। আসলেই এনসিটিবি এখন কারিকুলাম ও পাঠ্যবইয়ের বোর্ডের পরিবর্তে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মতোই মনে হচ্ছে।
এনসিটিবিকে যদি কার্যকর করতে হয়, তাহলে এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে পূর্ণ সচিব মর্যাদায় উন্নীত করে মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষা না হওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এনসিটিবিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে কারিকুলাম প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্ট সব কাজে। মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকলে চলবে না। মন্ত্রণালয়ে কোনো কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ নেই। তারা কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য অযথা নিদের্শনা ও বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এনসিটিবিতে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা নিয়ে যারা কাজ করেন এবং করতে পারেন তাদেরই পদায়ন করতে হবে। আত্মীয় কিংবা অন্যকোন পরিচয়ে যারা এনসিটিবিতে আছেন তাদের সবাইকে সরিয়ে ফেলতে হবে। মন্ত্রণালয়কে শুধু অবগত করতে হবে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে, মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল করে রাখা যাবে না। এখানে লেখক, গবেষক, পাঠ্যক্রম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় ঘটাতে হবে। রাজনৈতিক কিংবা অন্য পরিচয়ে যারা এখানে আছেন তাদের সবাইকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যুগ যুগ ধরে এখানে থেকে এখানকার ব্যবসা যারা ভালো বুঝে ফেলছেন, তাদের এখান থেকে সরানো যাচ্ছে না; কিন্তু সরাতে হবে আমরা যদি একটি প্রকৃত শিক্ষাক্রম জাতিকে উপহার দিতে চাই।

লেখক: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক

এসএ/

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার ভাটারা থানায় গৃহকর্মী পিংকি আক্তার এই অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পিংকি আক্তার এ জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীমণির এক বছরের মেয়ে সন্তানকে খাবার খাওয়ানো নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গৃহকর্মীকে মারধর করা হয়।

 

ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্মী থানায় জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত