শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-২৬

বিষাদ বসুধা

আরেফিনের মৃত্যুর পর মোহিনী সাতদিন বাসার বাইরে যাননি। কারো সঙ্গে কথা বলেননি। অফিসের খোঁজখবর নেননি। কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কেউ যাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে সেজন্য নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। বাসার অপারেটরকেও বলে রেখেছেন, বাইরের কোনো ফোন তাকে দেওয়া যাবে না। তিনি যে বাসায় আছেন সে কথাও বলা যাবে না। এটা তার একটা অদ্ভুত স্বভাব। তিনি যদি নিজে লুকিয়ে রাখেন তাহলে কেউ তাকে আর খুঁজে পায় না।

মোহিনী তার মা বাবাকে বলে রেখেছেন, তাকে যেন তারা ডাকাডাকি না করেন। আসলে নিজেই নিজেকে ঘরে বন্দি করেছেন। বন্দি করেছেন নিজের মনকেও। এই সময়টা মোহিনী নিজের মতো করে কাটাবেন। ইচ্ছা হলে কারো সঙ্গে কথা বলবেন। ইচ্ছা না হলে বলবেন না। কেউ তাকে খেতে ডাকবে না। গোসলের জন্য বলবে না। অফিসে যাওয়ার জন্য তাড়া করবে না। ঘুমানোর কথা কিংবা ঘুম থেকে ওঠার কথাও বলবে না। এই কাজগুলো মোহিনী নিজের ইচ্ছা মতো করবেন। এ সময় কখনো তিনি টানা আঠারো ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন। আবার আঠারো ঘণ্টা জেগে থেকেছেন। গান শুনেছেন। ছবি দেখেছেন। বই পড়েছেন। একেবারে নিজের সঙ্গে কাটানো যাকে বলে! তিনি তাই করেছেন। পুরো সময়টুকু তিনি নিজেকে দিয়েছেন। নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলেছেন। গল্প করেছেন। নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছেন। বোঝাপড়া তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। কি করবেন তিনি? নতুন করে আবার সংসার করবেন? কি হবে? যদি আবার আঘাত পেতে হয়! যদি আবার এলোমেলো হয়ে যায় সবকিছু!

মোহিনী অতীত নিয়ে ভাবেন। ভাবে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোর কথা। আরেফিনের সঙ্গে তার ভালোবাসার দিনগুলোর কথা। একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর কথা। সেই দিনগুলো কত আনন্দের ছিল। কত মধুর ছিল। সেদিন কত স্বপ্ন ছিল। কত আকাঙ্ক্ষা ছিল। শুরুটা বেশ ভালোভাবেই হয়েছিল। যদিও মা বাবা মেনে নিতে পারছিলেন না। কারণ, আরেফিন খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পরিচয় দেওয়ার মতো কিছু নেই। আরেফিন তাই ওর মা-বাবার কথা মুখেও আনেনি। তারপরও মা বাবা অসন্তুষ্ট ছিলেন। যে কারণে তার জন্য ঘর ছাড়ার মতো অন্যত্র বাসা নিয়ে থেকেছি। ওর জন্য মা বাবাকে তো বটেই, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সব খুইয়েছিলাম। তারপরও সেটাই মেনে নিয়েছিলাম। আমি আসলেই আরেফিনকে নিয়ে সুখী হতে চেয়েছি। মনে মনে ভেবেছি, কেউ নেই, কিছু নেই! আরেফিন তো আছে! মেধাবী ছেলে। সুশিক্ষিত। চৌকস। সে অনেক বড় হবে। আমার অনুপ্রেরণায় সে অনেক বড় হবে। অনেক দূর এগিয়ে যাবে। জীবনে বড় হতে হলে কারো না কারো অনুপ্রেরণা তো লাগে! তা ছাড়া সে আমার প্রথম ভালোবাসা। তার সঙ্গে আমি বেইমানি করতে পারব না। করিওনি। অথচ আরেফিন বিশ্বাসই করত না যে; আমি ওকে বিয়ে করব। ও বলত, এটা হতে পারে না। কেউ মেনে নেবে না। সবার বাধা উপেক্ষা করেই তো ওকে আমি বিয়ে করেছিলাম! কারণ ওকে আমি কথা দিয়েছিলাম। সেই কথা আমি রেখেছি। কে জানতো আরেফিন এভাবে পাল্টে যাবে! মানুষের মন। চেনা বড়ই শক্ত। ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়। সাপের মতো খোলস পাল্টায়। সেজন্যই হয়ত মানুষে মানুষে এতো বিভেদ।

মোহিনী আরও ভাবেন, তারপরও তো আরেফিনকে নিয়েই ছিলাম। কত যন্ত্রণা দিয়েছে! রাতের পর রাত ঘুমাতে পারিনি। ওর অনেক যাতনা সহ্য করেছি। অনেক ছোটলোকিপনা মেনে নিয়েছি। ওর জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেছি! অথচ শেষ পর্যন্ত আরেফিন আমার সঙ্গে অভিমান করল। অনেক বড় অভিমান। আমি বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে হয়ত ওকে যেতে দিতাম না। ও আমাকে না বলে চীনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। আর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের বাড়িতে চলে যাব। তাই করেছি। আমি কি পেয়েছি সে হিসাব কষতে গিয়ে ভুল আমিও করেছি। আর সে ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে আজ। সবই যেন নিঃশেষ হয়ে গেল। আবার নতুন করে সংসার জীবনে পা দেওয়ার কোনো মানে নেই। কী আছে! বিধাতা তো আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। সংসার জীবন হয়ত আমার জন্য নয়। সবাইকে সবকিছুতেই শতভাগ সফল হতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই! অন্যদিক থেকে তো আমি সফল! আমি যদি এ রকম একটা সমৃদ্ধশালী পরিবারে না জন্মাতাম! যদি দরিদ্র পরিবারে জন্মাতাম! তাহলে তো অর্থ কষ্ট, খাবার কষ্টে জীবন আরও অতীষ্ট হয়ে উঠত। আমি বিশাল একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। বাবার প্রতিষ্ঠানগুলোও আমারই থাকবে। হয়ত এগুলো নিয়েই আমাকে থাকতে হবে। সামনের দিকগুলোতে মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়াই হয়ত উত্তম কাজ হবে।

মোহিনীর একটি গানের কথা আজ বড় মনে পড়ছে। তিনি মোবাইল হাতে নিয়ে ইউটিউবে সার্চ দেন। জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘বড় অভিমান করে চলে গেছ আর বলে গেছ ফিরে আসবে না। আমি জানি হার মানবে তবু দূরে থাকা ভালোবাসবে না।’..

গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েন মোহিনী। ঘুমের ঘোরে তিনি আরেফিনকে দেখেন। আরেফিন তার কাছে আসেন। তাকে আদর করেন। আদরে আদরে ওকে ভরিয়ে তোলেন। তার কপালে চোখে ঠোঁটে গলায় বুকে তারপর শরীরের সর্বত্র আরেফিনের ঠোঁটের পরশ বুলিয়ে মোহিনীকে পাগল করে তোলেন। গভীর ভালোবাসার আবেশে ডুবে যান মোহিনী। দারুণ এক ভালোলাগার অনুভূতি নিয়ে মোহিনীর ঘুম ভাঙে। চোখ মেলে দেখেন সবই দুঃস্বপ্ন। যা হওয়ার নয়। কোনো দিন যা হবে না। হতে পারে না। কিন্তু তিনি এ রকম একটা স্বপ্ন দেখলেন!
আবার মোহিনীর মনটা ভারী হয়ে ওঠে। চুপচাপ বিছানায় শুয়ে থাকে। ঘুরেফিরে আরেফিনের কথা মনে পড়ে। অতীতের নানা স্মৃতি মনের আয়নায় ভেসে উঠে।

মোহিনী অফিসে যাবেন। মোহিনী আর ঘরে বসে থাকবেন না। অতীতকে আকড়ে ধরে বসে থাকবেন না। তিনি নিজেকে ভাঙবেন। নিজেকে আবার নতুন করে গড়ে তুলবেন। নতুনভাবে তিনি বেঁচে থাকবেন। মানুষের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেবেন। নিজের যা সম্পদ আছে তা প্রয়োজনের বেশি একটুও তিনি রাখবেন না। এখন মানুষ বড় অসহায়। এই বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বাড়াতে হবে সাহায্যের হাত। ঘরে বসে আর অলস সময় কাটাবেন না। এ পর্যন্ত যা করেছেন সেটা তা খুবই সামান্য। আরও অনেক কিছু করার আছে তার। অনেকভাবে তিনি মানুষকে সাহায্য করতে পারেন।

মোহিনী ভাবেন, এদেশের মানুষ বড় অসহায়। এই দেশে কথায় কথায় মানুষের চলে চাকরি যায়। ঠুকনো অজুহাতে চাকরি থেকে ছাঁটাই হয়। করোনাকালে এ পর্যন্ত অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। অনেকেই বেতনবঞ্চিত। এ অবস্থায় ঢাকা শহরে একটা পরিবার চলে কি করে! তা ছাড়া জিনিসপত্রের যা দাম! বাড়ি ভাড়া, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ! চিন্তাই করা যায় না। করোনার মধ্যেও স্কুলগুলো বেতন নিচ্ছে। বাড়িওয়ালারা বাড়িভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। এসব অমানবিক খবর পত্রিকায় দেখে মন খারাপ হয় মোহিনীর। তিনি মনে মনে বলেন, মানুষ এত নিষ্ঠুর কেন? মানুষ তো মানুষের জন্যই। অথচ সেই মানুষ কত স্বার্থপর! কত আত্মকেন্দ্রিক! কত রূপ সেই মানুষের! নিজের স্বার্থে মানুষ সবকিছু করতে পারে!

মোহিনীর কাছে এই মানুষগুলোকে অচেনা লাগে। তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন, অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবেন। কাউকে না কাউকে তো হাল ধরতেই হয়! সেই হালটা তিনি ধরবেন। যত কষ্টই হোক, তিনি এই সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা হবেন না।

আবার মোহিনীর মনে প্রশ্ন জাগে; একা কী করবেন তিনি? তার পক্ষে কতটুকুই বা সম্ভব! তারপরও মোহিনীর পক্ষে যা করা সম্ভব তা তিনি করবেন বলে মনস্থির করেছেন। তার দেখাদেখি আরও অনেকেই হয়ত এগিয়ে আসবেন। অথবা কেউ যদি নাও আসে লজ্জা তো পাবে!

চলবে…
আগের পর্বগুলো পড়ুন>>>
বিষাদ বসুধা: পর্ব-২৫

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২৪

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২৩

বিষাদ বসুধা: পর্ব-২২

বিষাদ বসুধা: পর্ব ২০

বিষাদ বসুধা: পর্ব ১৯

আরএ/

Header Ad
Header Ad

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান শিউ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নিবন্ধিত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে ফেরত নেবে মিয়ানমার।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ছয় দফায় রোহিঙ্গাদের মূল তালিকা মিয়ানমারকে সরবরাহ করেছিল। এখনো ৭০ হাজার রোহিঙ্গার চূড়ান্ত যাচাইকরণ বাকি রয়েছে। মূল তালিকায় থাকা বাকি সাড়ে ৫ লাখ রোহিঙ্গার যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।

বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও মানবিক সহায়তা পাঠাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

Header Ad
Header Ad

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত এই জোট বর্তমানে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বৃহত্তর সংহতকরণের চেষ্টা করছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের শেষ ভাগে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করা হয়। সাত সদস্যের আঞ্চলিক ব্লক—বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডের নেতারা ‘সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং উন্মুক্ত বিমসটেক’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বিমসটেক সনদ অনুসারে, চেয়ারম্যানের পদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্ণানুক্রমিকভাবে আবর্তিত হয়। শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় অংশগ্রহণকারী নেতাদের প্রতীকী গ্রুপ ছবি তোলার মাধ্যমে। এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, বিদায়ী বিমসটেক সভাপতি স্বাগত ভাষণ দেন। মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য বিমসটেক নেতারা আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এছাড়া, সকালে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস থাই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দেন, যেখানে বিমসটেক কাঠামোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

Header Ad
Header Ad

চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনকে পৃথক করেছে ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। করিডোরের এক পাশে ভারতের মূল ভূখণ্ড থাকলেও অপর পাশে রয়েছে সাতটি রাজ্য, যেগুলোর সঙ্গে কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে ভারতের।

সম্প্রতি (২৮ মার্চ) বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রথম চীন সফরের সময় ‘সেভেন সিস্টার্স’ অঞ্চল নিয়ে মন্তব্য করেন। এতে ভারতের উদ্বেগ বহুগুণে বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি করিডোরে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী শিলিগুড়ি করিডোরকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সেখানে রাফায়েল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি করিডোরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত সামরিক মহড়ার আয়োজন করছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই সরু করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় ভারত সেখানে বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান করিডোরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেছেন এবং কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে চাইছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে দেশটি করিডোর অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ