শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান

যে রাতে জ্যাক ওই ঘটনার বর্ণনা শুনেছিল সে রাতে বিছানার একপাশে গুটিশুটি মেরে পড়েছিল যাতে তার ভাইয়ের গায়ের সঙ্গে ছোঁয়া না লাগে। তখনকার দিনে তারা দুভাই এক বিছানায় ঘুমাত। বমনভাব এবং ভীতি ঠেকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হয়েছিল তাকে। ঘটনার বর্ণনা শুনে কল্পনায় যেসব চিত্র আসত সেগুলো তার কাছে ভীতিকর মনে হতো। সারা জীবনই ওইসব প্রতিমূর্তি তাকে তাড়া করেছে, তার ঘুমের মধ্যেও; কখনও কখনও মাঝে মধ্যে, কখনও কখনও নিয়মিতভাবে। বিভিন্ন রূপ ধরে দুঃম্বপ্ন তাকে তাড়া করে বেড়াত। তবে সব সময় ওইসব দুঃস্বপ্নের বিষয়বস্তু একটাই থাকত: তাকে ওই প্রতিমূর্তিগুলো ফাঁসি দেওয়ার জন্য নিতে এসেছে।

জেগে উঠে অনেক সময় ধরে চেষ্টা করার পরে তবে সেই ভয়জাগানিয়া মানসিক অবস্থা থেকে সে বের হয়ে আসতে পারত যেখানে সত্যি কোনো আশঙ্কা নেই তার ফাঁসি হয়ে যাওয়ার। বড় হওয়ার পর তার চারপাশে পৃথিবীর ঘটনাবলী এমনভাবে ঘটেছে তার ফাঁসি যেন আর খুব বেশি অসম্ভব ঘটনা থাকেনি। বাস্তবতা তার স্বপ্নকে আর প্রশমন করতেও পারেনি। বরং তার ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন বেশ কিছু বছর ধরে তার বাস্ততবাকে যেন হৃষ্টপুষ্ট করেছে। যে দুঃস্বপ্ন তার বাবাকে তাড়া করেছে সেটাই যেন তিনি তার ছেলের জন্য রেখে গেছেন একমাত্র সুস্পষ্ট এবং নিশ্চিত উত্তরাধিকার হিসেবে। এই রহস্যময় বন্ধন তাকে সেন্ট ব্রিউকের ওই অচেনা মানুষটির সঙ্গে সম্পর্কের সুতোয় বেঁধেছে যে মানুষটি হয়তো ধারণাই করতে পারেননি, তার এরকম অপঘাতী মৃত্যু হবে। এই বন্ধন তার মায়ের বোধগম্যতার বাইরে; কেননা তিনি ওই ফাঁসির রাতের ঘটনার বর্ণনা শুনেছিলেন, জ্যাকের বাবার বমি করা দেখেছেন এবং সকালবেলা ভুলেও গেছেন। সেভাবেই পরবর্তীতে তিনি অনুভব করতে অক্ষম থেকেছেন সময় বদলে গেছে সেকথাও। তার কাছে সময় একই রকম রয়ে গেছে: তিনি মনে করেছেন, কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই যে কোনো মুহূর্তে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অন্যদিকে, জ্যাকের নানির সবকিছু সম্পর্কে অনেকটা সঠিক ধারণা ছিল: জ্যাককে তিনি প্রায়ই বলতেন, তোর শেষ পরিণতি হবে ফাঁসিকাঠ। কেন হবে না? এরকম আশঙ্কা একদম যে অস্বাভাবিক ছিল তাও নয়। তিনি পরিষ্কারভাবে তেমন কোনো আশঙ্কার কথা জানতেন না। তবে তার চারিত্রিক গঠন যেমন ছিল তাতে জ্যাকের ভাগ্যে সেরকম কিছু ঘটে গেলে তিনি বিস্মিত হতেন না মোটেও। কালো পোশাক পরিহিত দীর্ঘদেহী নানিকে দেখাত মহিলা পয়গম্বরের মতো। অনেক বিষয় সম্পর্কেই বেখবর এবং একগুঁয়ে ছিলেন বলে কী করে সবকিছু বিনা প্রতিবাদে মেনে নেওয়া যায় সে জ্ঞান তার ছিল না। জ্যাকের ছেলেবেলার অধিকাংশ অভিজ্ঞতা জুড়ে অন্য আর কারো থেকে সবচেয়ে বেশি তার উপস্থিতি। মাহুন থেকে আগত বাবা মা তাকে বড় করেছিলেন ছোট একটা খামার এলাকায় এবং অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়েছিলেন মাহুন থেকে আগত হালকা পাতলা কোমল গড়নের একজন মানুষের সঙ্গে। তার স্বামীর ভাইয়েরা ১৮৪৮ সালের দিকে তাদের দাদার মৃত্যুর পরে আলজেরিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন।

তাদের দাদা জীবনের একটা সময় জুড়ে ছিলেন কবি: গাধার পিঠে চড়ে গোটা দ্বীপের সব্জি বাগানগুলোর দেয়ালের পাশ দিয়ে ঘুরে বেড়াতেন আর কাব্য রচনা করতেন। এরকম কাব্য রচনা চলার এক পর্যায়ে হঠাৎ তিনি কাব্য রচনা ছেড়ে দিলেন: তার বিশ্বাস হয়েছিল, তিনি একজন প্রেমিককে শাস্তি দিচ্ছেন। কিন্তু সামনের ওই ছায়াচিত্র এবং বৃহৎ প্রান্তভাগঅলা কালো টুপির কাছে তিনি প্রতারিত হয়েছিলেন এবং এভাবেই পরিবারিকসূত্রে পাওয়া কাব্যগুণকে হত্যা করেছিলেন। শেষে তার সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারেননি। একজন কবির প্রতারিত হওয়ার মতো এরকম ট্র্যাজিক পরিণতির মধ্যেই তার বংশধরদের আলজেরীয় উপকূলে বছর বছর সংখ্যায় বেড়ে ওঠা নিরক্ষর লোকদের মাঝে বসবাসের শুরু। আশেপাশে কোনো স্কুল ছিল না। প্রখর সূর্যের নিচে শ্রম ঢেলে শেষ হয়ে যাওয়া জীবনের সঙ্গেই তাদের অস্তিত্বের বন্ধন। কিন্তু জ্যাকের নানার ফটো দেখে বোঝা যায়, তার কবি দাদার উৎসাহের কিছু একটা রেশ তার মধ্যে ছিল।

তবে সরু মুখমণ্ডল, উঁচু ভ্রু রাশির নিচে তার সুস্পষ্ট চাহনি এবং চোখে স্বপ্নবাজের প্রকাশভঙ্গি দেখে মনে করার কোনো কারণ নেই, তিনি তার অল্পবয়সী, সুদর্শনা এবং শক্তিমতি স্ত্রীর সামনে নিজস্ব মূর্তি রক্ষা করতে পারবেন। নানি তার স্বামীকে নয় জন সন্তান উপহার দিয়েছিলেন: দুজন শৈশবেই মারা যায়। একজন প্রতিবন্ধী হয়ে রক্ষা পায়; শেষের জন জন্মের সময় থেকেই আধা বোবা এবং বধির। তার সন্তানদের তিনি বড় করেছেন একটা ছোট খামারের নিরানন্দ পরিবেশে এবং একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে নিজের ভাগের কঠিন কায়িক শ্রমের কাজকর্মও করেছেন। খাবার সময় টেবিলের এক কোণে লম্বা একটা লাঠি হাতে বসে থাকতেন। তাতে মুখের কথায় কাউকে শাসন করার মতো প্ররিশ্রমের হাত থেকে রেহাই মিলত। কারো দোষ পেলে সঙ্গে সঙ্গে মাথার ওপর বাড়ি মারতেন।

ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে তিনি নিজের জন্য এবং তার স্বামীর জন্য শ্রদ্ধা আদায় করে নেওয়ার চেষ্টা করতেন: ছেলেমেয়েদের তিনি নির্দেশ দিতেন তারা যেন কথা বলার সময় বাবার সঙ্গে নম্র ভদ্রভাবে স্পেনীয় কায়দায় কথা বলে। তার স্বামী অবশ্য এই শ্রদ্ধা উপভোগ করেননি; অল্প বয়সেই তিনি মারা যান। রোদে পুড়ে, কঠিন পরিশ্রমের ফলে এবং সম্ভবত দাম্পত্য জীবনের কারণে তিনি মারা গেছেন; জ্যাক জানতে পারেনি, কী রোগে তিনি মারা গেছেন। একা হয়ে যাওয়ায় নানি খামার ছেড়ে তার ছোট সন্তানদের নিয়ে আলজিয়ার্সে বসবাসের জন্য চলে যান। বাকিরা কাজেকর্মে ব্যস্ত ছিল। কারণ সামান্য নবিশ হওয়ার মতো বয়স হতেই তাদেরকে কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তাকে বোঝার মতো বয়স হলে জ্যাক দেখতে পেয়েছে, না দারিদ্র, না অন্য কোনো বিরূপ পরিস্থিতি তাকে কাবু করতে পেরেছে। তখন শুধু তিন সন্তান তার সঙ্গে ছিল: ক্যাথরিন, যোসেফ এবং প্রতিবন্দ্বী এতিয়েনে। জ্যাকের মায়ের আরেক নাম ক্যাথরিন, তাকেও অন্য লোকদের বাড়ির কাজে লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল; প্রতিবন্দ্বী ছোট ছেলে, পরবর্তীতে উদ্যমী: টব, পিপে ইত্যাদি নির্মাতা হয়েছিল। যোসেফ তখনও বিয়ে করেনি এবং রেলওয়ের কাজ করত। তাদের তিন জনের রোজগার একত্র করলে খুব সামান্য পরিমাণই হতো এবং সেটা দিয়েই পাঁচ সদস্যের সংসার চলত। সংসারের টাকা পয়সার দেখভাল করতেন নানি এবং পরে জ্যাক তার সম্পর্কে প্রথমত যে ধারণাটা পেয়েছে সেটা হলো, তিনি কৃপণ। যে বাতাস আমাদের বাঁচিয়ে রাখে সে বাতাস প্রসঙ্গে আমরা যতখানি কৃপণ তার চেয়ে মনে হয় তিনি বেশি কৃপণ ছিলেন না।

ছোটদের কাপড়-চোপড় নানি নিজে কিনতেন। জ্যাকের মা কাজ থেকে বাড়ি ফিরতেন দিনের শেষ ভাগে। তার মায়ের কাছে যা শুনতেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন। তার মায়ের শক্তি দেখে বিমূঢ়ও হতেন এবং তার কাছেই তার নিজের রোজগার সবকিছুই বুঝে দিতেন। কাজেই জ্যাকের ছেলেবেলার সবটা সময় জুড়েই যেসব রেইনকোট পড়তে হয়েছে সেগুলো তার শরীরিক আকারের চেয়ে অনেক বড় থাকত। এখানে নানির যুক্তি ছিল প্রকৃতি নির্ভর, মানে ছোট জ্যাক বড় হতে থাকবে এবং যেহেতু রেইনকোটটা অনেক দিন ব্যবহার করতে হবে, জ্যাক বড় হয়ে গেলেও একই রেইনকোট তাকে মানিয়ে যাবে। পনের বছর বয়সের আগ পর্যন্ত জ্যাক খুব একটা দ্রুত বাড়েনি এবং রেইনকোটের মধ্যে জ্যাক বড় হয়ে ওঠার আগেই সেটা ছিড়ে গেছে।

পরবর্তীটা যখন কেনা হতো তখনও ওই মিতব্যয়িতার নীতিতেই কেনা হতো। আর জ্যাকের ক্লাসমেটরা তার লম্বা পোশাক নিয়ে দুষ্টুমি করলে তার কোমরের পাশে রেইনকোটটা ফুলিয়ে ওপরের দিকে তোলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকত না। কারণ তাতে রেইনকোটের হাস্যকর চেহারায় খানিকটা মানানসই ভাব ফুটে উঠত। অবশ্য স্কুলের ওই সব লজ্জার ঘটনাগুলো সে দ্রুতই ভুলে যেত ক্লাসে ঢুকলে। সেখানে জ্যাকের মর্যাদা সবার ওপরে থাকত। এছাড়া খেলার মাঠেও ছিল তার রাজত্ব: সে খুব ভালো ফুটবল খেলতে পারত। কিন্তু সেখানেও আনন্দের বিপরীতে আরেক সমস্যা ছিল: ফুটবল মাঠে ছিল সিমেন্টের গ্রাউন্ড; ক্লাসের বিরতিতে ফুটবল খেললে তার জুতার তলা ক্ষয়ে যেত বলে নানি নিষেধ করে দিয়েছিলেন এই খেলা। নাতির জন্য তিনি নিজে শক্ত তলাঅলা জুতা কিনে দিয়েছিলেন। আশা করেছিলেন, ওই জুতা অমর হয়ে থাকবে। জুতার আয়ু বাড়ানোর জন্য তলায় মোচাকৃতির বিরাট পেরেক লাগানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাতে জুতার আয়ু দ্বিগুণ হওয়ার কথা। পেরেক ক্ষয় হয়ে গেলে তারপর জুতার তলা ক্ষয়ে যাবে। তাতে নানির আরেক সুবিধা হয়েছিল: তিনি জ্যাককে ফুটবল খেলতে নিষেধ করেছিলেন; তার নিষেধাজ্ঞা জ্যাক কতখানি অমান্য করল তাও ধরা সহজ হয়ে গেল।

এরপরও জ্যাক মাঠে ফুটবল খেললে পেরেকের নাল তার অবাধ্য হয়ে ক্ষয়ে যেত। বাড়ি ফিরে প্রতিদিন জ্যাককে নানির কাছে হাজিরা দিতে হতো। তখন কাসান্ড্রা, তার নানি, সাধারণত রান্নাঘরে কালো হাঁড়িপাতিলগুলোর ওপর তার কৃর্তত্ব ফলাতে ব্যস্ত থাকতেন। নাল পরানোর সময় ঘোড়ার পা যেমন ওপরের দিকে তোলা থাকে সেভাবে জ্যাক হাঁটু মুড়ে জুতার তলা ওপরের দিকে তুলে নানিকে দেখাত। অবশ্য বন্ধুদের ডাক এবং প্রিয় খেলার লোভ তাকে টানতই। তখন অসম্ভব সদ্গুণ অবলম্বন না করে বরং পাপকে ঢাকার চেষ্টাই করত সে: স্কুল থেকে ফেরার পথে খানিকটা সময় ব্যয় করে কাদামাটির ভেতর জুতার তলা ঘষে নিতো যাতে পেরেকের ক্ষয়ে যাওয়া মাথা না দেখা যায়। কখনও কখনও এই চেষ্টা সফলও হতো। কিন্তু এক সময় পেরেকের ক্ষয়ে যাওয়া মাথা বের হয়েই যেত, কিংবা খোদ জুতার তলাটাই নষ্ট হয়ে যেত, কিংবা সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজিক বিষয়ও ঘটে যেত–খেলার সময় মাঠের মাটিতে কষে লাথি চালালে অথবা গাছপালা রক্ষা করার জন্য ব্যবহৃত লোহার বেষ্টনীতে লাথি মারলে জুতার নিচের তলা থেকে ওপরের তলা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। সে রকম ঘটনার দিনে দড়ি কিংবা সুতা দিয়ে জুতা বেঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরত জ্যাক।

ওইসব রাতে চামড়ার চাবুক ছিল অনিবার্য। কান্নারত জ্যাককে মা শুধু একটা সান্ত্বনাই দিতে পারতেন, জানিস তো জুতোগুলো কত দামি। আরেকটু সচেতন হতে পারিস না? মা কোনোদিন তার সন্তানদের গায়ে হাত তুলতেন না। পরের দিন জ্যাককে মোটা কাপড়ের তৈরি দড়ি দিয়ে বানানো তলাঅলা জুতা পরিয়ে জুতা মেরামতকারীর কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। দুতিন দিন পর তার সেই জুতা ফেরত পেত সে, নতুন নাল পরানো অবস্থায়। আরেকবার তাকে পিচ্ছিল নড়বড়ে তলার ওপরে ভারসাম্য রক্ষার অনুশীলন করতে হতো।

(চলবে)

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি