শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব ১৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান

৬. পরিবার

মা বললেন, আহা, তুই এখানে থাকলে কী যে ভালো লাগে! তবে সন্ধ্যা আসলে দেখবি, আমার আর এত একা লাগছে না। শীতের সময় আগে আগে অন্ধকার নেমে আসে। যদি পড়াশোনাটা জানতাম! এত অল্প আলোতে সেলাই করতেও পারি না। চোখ ব্যথা করে। এতিয়েনে এখানে না থাকলে আমি শুয়ে শুয়ে খাওয়ার সময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকি। অনেক লম্বা সময়, প্রায় দুঘণ্টা। খোকাখুকুরা আমার এখানে থাকলে ওদের সাথে কথাবার্তা বলে সময় কাটাতে পারতাম। কিন্তু ওরা এসে বেশিক্ষণ থাকে না; চলে যায়। আমি খুব বেশি বুড়িয়ে গেছি। হতে পারে বুড়ো মানুষদের গায়ের গন্ধও খারাপ হয়ে যায়। তাই হয়তো আমার অবস্থা এমন, একা।

একটার পর একটা ছোট ছোট বাক্যে কথাগুলো এমনভাবে বললেন যেন তার বহুদিন আটকে থাকা চিন্তাগুলো বাইরে ছেড়ে দিয়ে হালকা হলেন। তারপর যেন তার চিন্তার যোগান শেষ হয়ে গেছে এমনভাবে আবার নীরব হয়ে গেলেন: ঠোট দুটো চেপে রাখা, শান্ত বিষণ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন খাবার ঘরের বন্ধ ঝাঁপের দিকে। ওখানে রাস্তা থেকে রুদ্ধ আলো এসে পড়ছে। সেই একই জায়গায় একই নিরানন্দময় চেয়ারে বসে আছেন তিনি। আর তার ছেলে রুমের মাঝখানে রাখা টেবিলের চারপাশে ঘুরছে যেভাবে সে ছোটবেলায় ঘুরত।

জ্যাক আরেক চক্কর ঘোরার সময় মা তার দিকে তাকালেন।

– সলফেরিনো, খুব সুন্দর না?

– হ্যাঁ, একেবারে নিষ্কলঙ্ক। তবে তুমি শেষবার যেরকম দেখেছিলে হয়তো সেরকম নেই। বদলে যেতেই পারে।

– হ্যাঁ, সবকিছুই বদলে যায়।

– ডাক্তার তোমাকে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন। ওনার কথা তোমার মনে আছে, মা?

– না, সে কতকাল আগের কথা।

– বাবার কথাও কেউ মনে রাখেনি।

– আমরা বেশিদিন ছিলাম না। আর তোর বাবা খুব মুখচাপা ছিল।

– মা। জ্যাকের কথায় তিনি না হেসে বরং মৃদু, শূন্য দৃষ্টিতে তাকালেন। জ্যাক আবার বলল, আমার মনে হয়, তুমি আর বাবা আলজিয়ার্সে বেশি দিন এক সাথে থাকোনি।

– না, না।

– আমার কথাটা বুঝতে পেরেছ, মা? তিনি বুঝতে পারেননি বলেই মনে হলো জ্যাকের। কেমন ভয়ার্ত চাহনি তার চোখে যেন ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে আছেন। জ্যাক প্রশ্নটা আবারও জিজ্ঞেস করল, তোমরা আলজিয়ার্সে একসাথে বেশি দিন থাকোনি, না?

– না, মা বললেন।

– তাহলে বাবা পিরেত্তের শিরোচ্ছেদের ঘটনা দেখতে গেলেন কখন? কথাটা বলার সঙ্গে জ্যাক নিজের হাত দিয়ে ঘাড়ের কাছে ইঙ্গিত করল যাতে মা তার কথা ভালো করে বুঝতে পারেন।

– হ্যাঁ, সে রাত তিনটের সময় উঠে পড়ল বারবারুসে যাওয়ার জন্য।

– তাহলে তুমি তখন আলজিয়ার্সে?

– হ্যাঁ।

– কোন সময়ের কথা এটা?

– জানি না। সে তখন রিকমের কাজ করত।

– তার মানে তুমি সলফেরিনোতে যাওয়ার আগে?

– হ্যাঁ।

তিনি হ্যাঁ বললেন। কিন্তু সেটা না-ও হতে পারে। কারণ পেছনের দিকে যেতে হলে তাকে মেঘাচ্ছন্ন স্মৃতির ভেতর দিয়ে যেতে হবে। কাজেই কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। বলতে গেলে, দরিদ্র মানুষদের স্মৃতি ধনী লোকদের স্মৃতির মতো অতোটা পুষ্ট নয়। তাদের ফাঁকা জায়গাগুলোতে সীমানাচিহ্নের সংখ্যা খুবই কম। কারণ যেখানে তাদের বসবাস তার বাইরে খুব একটা তারা যায় না; তাদের ধূসর এবং বৈশিষ্ট্যহীন সারা জীবনে উল্লেখ করার মতো কম ঘটনাই থাকে। অবশ্য তাদের মতে, তাদের হৃদয়ের স্মৃতি থাকে এবং সেটাই নিশ্চয়তা দিতে পারে। তবে দুঃখ আর শ্রমের ফলে হৃদয়ও ক্ষয়ে যায়। ক্লান্তির চাপে সবকিছু ভুলে যায় তাড়াতাড়িই। অতীতের বিষয় আর ঘটনার স্মৃতিচারণ হলো ধনীদের জন্য। দরিদ্রদের জন্য স্মৃতি শুধু তাদের মৃত্যুর দিকে যাওয়ার পথের ওপরে কতিপয় দুর্বল চিহ্ন রেখে যায়। আর টিকে থাকার জন্য খুব বেশি স্মৃতি ধরে রাখার দরকারও নেই।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু ধাবমান দিনের নিবিড় সান্নিধ্য রক্ষা করে যেতে হবে যেমন জ্যাকের মা করেছেন; সেটাও ছোটবেলার অসুস্থতার জন্য কিছুটা প্রয়োজনের খাতিরে। তার নানির মতে, এ প্রতিক্রিয়াটা হয়েছিল টাইফয়েডের জন্য। কিন্তু টাইফয়েডের তো এরকম প্রতিক্রিয়া রেখে যাওয়ার কথা নয়। সেটা সম্ভবত ছিল টাইফাস, নাকি অন্য কিছু? এখানেও আবার অস্পষ্টতা। সেই অসুস্থতার কারণে তিনি বধির হয়েছেন এবং কথা বলতে সমস্যা হয়েছে। সবার চেয়ে হতভাগ্যরাও যেসব বিষয়ে শিক্ষালাভ করেছে সেসব বিষয় থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। সুতরাং সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টাও তার ওপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর জীবনকে মোকাবেলা করার এটাই তার একমাত্র উপায়।

তা ছাড়া তার আর কী-ই বা করার ছিল? তার মতো অবস্থানে থাকলে অন্য যে কোনো মানুষেরই কি বিকল্প কোনো উপায় থাকত? জ্যাক চাইছে, যে মানুষটা চল্লিশ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন তার মা যেন তার কথা আবেগাপ্লুত হয়ে বর্ণনা করেন। কারণ তিনি তো ওই মানুষটার সঙ্গে আপাতত পাঁচ বছরের জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। নাকি নেননি? ওই রকম আবেগী বর্ণনা তিনি দিতে পারেন না। অবশ্য জ্যাক জানে না, তার মা তার বাবাকে গভীর আবেগের সঙ্গে ভালোবেসেছেন কি না; ভালোবাসুন আর না-ই বাসুন, সে বিষয়ে মাকে সরসরি জিজ্ঞেস করতে গেলে জ্যাক নিজেও মায়ের মতোই নীরব আর জড়তাচ্ছন্ন হয়ে যায়।

বাবা মায়ের মাঝে কেমন সম্পর্ক ছিল সেটা জ্যাক মন থেকেই জানতে চায় না। কাজেই মায়ের কাছ থেকে স্বাভাবিকভাবে যা জানা যায় তার ওপর ভরসা করে অন্য চেষ্টা আপাতত সে বাদ দিয়ে দেয়। এমনকি একটা ঘটনা বা পরিস্থিতি তার শিশু মনের ওপর ছাপ ফেলেছে এবং সারা জীবন, তার স্বপ্নেও তাকে তাড়া করেছে–সেটা হলো একজন কুখ্যাত অপরাধীর ফাঁসির সময় উপস্থিত থাকার জন্য তার বাবার রাত তিনটের সময় ঘুম থেকে উঠে পড়া। তবে ওই ঘটনার কথাও সে শুনেছিল নানির কাছ থেকে।

আলজিয়ার্সের খুব কাছের একটা খামারে দিনমজুরের কাজ করত পিরেত্তে। সে তার মনিবদের এবং তিনটা শিশুকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিল তাদের বাড়িতে। ছেলেবেলায় একদিন জ্যাক জিজ্ঞেস করেছিল, ডাকাতি করতে গিয়ে খুন করেছে? তার এতিয়েনে মামা বলেছিল, হ্যাঁ। কিন্তু নানি বলেছিলেন, না ডাকাতি করার জন্য নয়। তবে তিনি এর চেয়ে বেশি আর কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বিভৎস অবস্থার লাশগুলো তারা দেখেছিল। ঘরের ছাদ পর্যন্ত সবখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। একটা বিছানার নিচে সবচেয়ে ছোট শিশুটা কিছুক্ষণ জীবিত ছিল এবং তার রক্তে ভেজা আঙুলে লিখে গিয়েছিল, পিরেত্তে দায়ী। পরে সেও মারা গিয়েছিল। খুনিকে বিমূঢ় অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল গ্রামের দিকে। ভয়ার্ত গণদাবি উঠল তার ফাঁসির পক্ষে এবং তাৎক্ষণিকভাবেই মঞ্জুরও হয়ে গেল। তাকে ফাঁসি দেওয়া হল বারবারুসের জেলখানার সামনে বেশ কিছু লোকের উপস্থিতিতে। জ্যাকের বাবা ওই ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত থাকার জন্য রাত তিনটের সময় ঘুম থেকে উঠেছিলেন।

নানির মতে, ওই ফাঁসির দৃশ্যের প্রতিক্রিয়া তার বাবার মনের ওপর কঠিন চাপ তৈরি করেছিল। তবে কী ঘটেছিল সে কথা তারা আর জানতে পারেনি। আপাতদৃশ্যে ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে জ্যাকের বাবা সে রাতে বাড়ি ফিরেছিলেন ক্রুদ্ধ অবস্থায়। বিছানায় গিয়ে বেশ কয়েক বার উঠে এসে বমি করেছিলেন। তারপর আবার ঘুমাতে গিয়েছিলেন। সে রাতে কী দেখেছিলেন সে ব্যাপারে আর কিছু বলতে চাননি।

(চলবে)

এসএ/

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১১

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১০

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৯

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৮

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৭

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৬

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৫

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৪

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ৩

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ২

দ্য ফার্স্ট ম্যান: পর্ব ১

Header Ad
Header Ad

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার রঞ্জুর বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যরা।

খান মো. সাঈদ হোসেন জসিম গাইবান্ধা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ঠিকাদার। তার বাড়ি গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার মহুরি পাড়ায় (বিহারি পট্টি)।

অপরদিকে, মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জু জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি পৌর শহরের পুরাতন বাজার এলাকার একোয়াস্টেট পাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালে গাইবান্ধা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র পরিচালকও ছিলেন।

গ্রেপ্তারি বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা মোস্তাক আহম্মেদ রঞ্জুর বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে অবস্থান করা খান মো. সাঈদ হোসেন জসিমকেও আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং আগুন লাগানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুরের আগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সাঈদ হোসেন জসিম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন, ‘রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলাম। সবার দোয়া চাই।’

Header Ad
Header Ad

সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা

বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজন করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি- এবার আমাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হলে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে, আমরা একটি মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করবো।’

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানগত অধিকার নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে নারী, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জনগণ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ভয়াবহ গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, গত ১৫ বছরে আমাদের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার হারিয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবক্ষয় ঘটেছে এবং নাগরিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে। এ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের বিপুল প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং প্রায় দুই হাজার নিরপরাধ মানুষ, যার মধ্যে ১১৮ জন শিশু, এই আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আবার নতুনভাবে জন্ম নেয়।

ড. ইউনূস জানান, সংস্কার পরিকল্পনার অন্যতম মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকার এরই মধ্যে বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারি প্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন সংস্থা এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যা জনসাধারণের মালিকানা, জবাবদিহি ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্বদানকারী এবং দেশকে মুক্তকারী ছাত্রনেতারা আমাকে আমাদের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি জনগণের স্বার্থে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছি।

বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক অঞ্চলের আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে এটিই আমার প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা। ১৯৯৭ সালে থাইল্যান্ডে শুরু হওয়ার পর থেকে বিমসটেক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের আগমনের পর থেকে আমাকে এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিমসটেক সচিবালয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মহাসচিব, রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পান্ডের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা।

Header Ad
Header Ad

নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু

বক্তব্য রাখছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, যে উদ্দেশ্য শহীদরা রক্ত দিয়েছে, সেই গণতন্ত্র একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কাজেই ভোটের অধিকারের প্রতিষ্ঠার যে দাবি, যেটি আমি মনে করি যৌক্তিক সময়েই এই সরকার প্রদক্ষেপ নিবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগ করবে এটিই আমাদের সকলের প্রত্যাশা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই সরকার ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কাজেই এই সরকার ব্যর্থ হলে শহীদের রক্ত বৃথা যাবে।

বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে ‘বিন্দুবাসিনী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ উপলক্ষে আয়োজিত মিট দ্যা প্রেস এ তিনি এসব কথা বলেন।

টুকু বলেন, নির্বাচনের দাবি কিন্ত বাংলাদেশের আপামোড় জন সাধারণের। মানুষ ১৪, ১৮ এবং ২৪ সালে ভোট দিতে পারেনি। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নতুন ভোটার হওয়ার সত্বেও তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কাজেই সেই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এ দেশের মানুষ ও জনগণ করেছে।

বিএনপির এই নেতা এক প্রশ্নে জবাবে আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদ তারা এই দেশ থেকে পালিয়ে বিভিন্নভাবে পাশ্ববর্তী দেশে থেকে এই দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন রকম উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, সেভাবে এদের ষড়যন্ত্র আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবো।

এ সময় জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের