শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

দৃষ্টিনন্দন কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া শাহী ও পাটিকাবাড়ী শাহী মসজিদ

ঐতিহ্যবাহী ‘ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ’ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের ঝাউদিয়া বাজারের উত্তরে পুরাতন মুসলমান জমিদার শাহ্ সুফি আদারী মিয়া’র চৌধুরী বাড়িতে অবস্থিত। কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ সড়কের লক্ষীপুর বাসষ্টপ থেকে ১৫ কিলোমিটার বা বিত্তিপাড়া থেকে ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে দৃষ্টিনন্দন এই শাহী মসজিদটি অবস্থিত। এই মসজিদে কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি, সে কারণে এর সঠিক নির্মাণকাল সম্পর্কে জানা যায় না।

ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ তিন গম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকার ভূমি পরিকল্পনাবিশিষ্ট। গম্বুজের মধ্যে মেহরাবে, মসজিদের ভেতরের দেয়ালে শিউলী, গাঁদা, পদ্ম প্রভৃতি ফুল, ফুলের সাজি বা ফুলদানি, লতাপাতা দ্বারা অঙ্কিত। ফুলদানিগুলোর আকার ইরানি ফুলদানির আকৃতি বিশিষ্ট। চিত্রগুলির জ্যামিতিক ত্রিকোণ অঙ্কনে মুঘল স্থাপত্যকলার সঙ্গে বাঙালি স্থাপত্যকলার অপূর্ব সমাবেশ ঘটেছে। উত্তর-দক্ষিণে পরিমিতি ৪৬.৮ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫ ফুট।

মসজিদে নামাজের জন্য দুই কাতারে ৩০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন এবং মসজিদঘরের পশ্চিম দেওয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে যাদের রূপ-নকশা তিন রকম। মেহরাব তিনটির মধ্যে মাঝখানের কেন্দ্রীয় মেহরাব কিছুটা বড় আকৃতির যার মাপ উচ্চতায় ৮ দশমিক ২১ ফুট এবং প্রশস্তে ৪ দশমিক ৬৭ ফুট। মসজিদের উত্তর-দক্ষিণে বড় জানালা আকৃতির আদলে ভেন্টিলেশন প্রাচীর রয়েছে যা মসজিদের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে গবেষকরা মনে করেন এবং এরূপ আকৃতি ‘খিলান করা জানালা’ নামেও পরিচিত।

মসজিদের চার কোণায় চারটি বড় মিনার রয়েছে। সম্মুখের প্রশস্ত চত্বরের বেষ্টনীর দুই প্রান্তে এবং প্রবেশ পথের দুই দিকেও মিনার আছে। ক্ষুদ্রাকৃতির টালি, ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনি এবং দেওয়ালের বেড় ৩ ফুট। পশ্চিম ও পূর্ব দেয়ালের পুরুত্ব ৩ দশমিক ১০ ফুট এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালের ৩ দশমিক ৩৩ ফুট। পূর্ব-পশ্চিমে উলম্বভাবে স্থাপিত দু’টি খিলানের ওপরে তিনটি গম্বুজের সাহায্যে মসজিদঘরের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মসজিদের পূর্ব দেওয়ালে সম্মুখে তিনটি দরজা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বা মধ্যবর্তী প্রবেশদ্বারটি, পাশ্ববর্তী দরজা দুটি অপেক্ষা কিছুটা উঁচু, এটির উচ্চতা ৬ দশমিক ৩৩ ফুট এবং প্রশস্ত ৩ দশমিক ৪২ ফুট।

মূল মসজিদ ঘরের পূর্বদিকে আয়তকার ‘সাহন’ রয়েছে। এর পরিমিতি পূর্ব-পশ্চিমে ৫৪ দশমিক ৪২ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৫২ দশমিক ২ ফুট। উঁচু প্রবেশদ্বারের মূল ফটক এবং এর দুই পার্শ্বে কোণায় গম্বুজসহ মধ্যম গোলাকৃতি দুটি মিনার রয়েছে যা পুরো মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। লোকচক্ষুর অন্তরালে একটি নিভৃত পল্লীতে মুঘল আমলে (শাসনকাল ১৫২৬-১৮৫৭) নির্মিত এই মসজিদটি কুষ্টিয়া তথা বাংলাদেশের একটি মূল্যবান স্থাপত্যশৈলী। ঝাউদিয়ার এই মসজিদটির ভিতরে মুঘল শিল্পকলার অপূর্ব নিদর্শন ও কারুকার্যে শোভিত রয়েছে- যা বাংলাদেশের মসজিদ স্থাপত্যশিল্পের নান্দনিক শিল্পের উদাহরণ। অনেক স্থানেই এমন অপূর্ব কারুকার্য শোভিত মসজিদ খুব কমই দেখা যায়। মুঘল আমলে নির্মিত মসজিদগুলির মধ্যে বাংলাদেশে যে কয়েকটি সৌন্দর্যে চমৎকার তার মধ্যে ঢাকার তারা মসজিদটির সঙ্গে ঝাউদিয়া শাহী মসজিদের তুলনা করা যায়। জমিদারের বংশীয় উত্তরসূরি হাসান আলী চৌধুরী তৎকালীন চেয়ারম্যান থাকাকালীন ১৯৬২ সালে মসজিদের বারান্দার উপর সুপ্রশস্ত ছাদ নির্মাণ করেন। কিন্তু মসজিদের পুরাকীর্তির মৌলিক সৌন্দর্য রক্ষার জন্যে প্রত্নতত্ত বিভাগ ১৯৭৯ সালে ছাদটি ভেঙে আগের অবস্থায় নিয়ে আসে। ১৯৮০ সালের দিকে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত বিভাগ এই ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদ সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং এখানে একজন কর্মচারী নিযুক্ত করে। প্রতি শুক্রবার এই মসজিদে জুম্মার নামায আদায় হয় এবং মান্নাত-সদ্কা-দান এসবের প্রাণি সম্প্রদানসহ নানা উদ্দেশে টাকা-পয়সা-সমমূল্যের উপঢৌকন দেবার জন্য প্রচুর সংখ্যক মুসলমানসহ অন্য ধর্মের মানুষের আগমন ঘটে। এ ছাড়া, এখানে শুক্রবার আরও শিরনি দেওয়ার জন্য শত শত লোকের আগমন ঘটে। পর্যটন মৌসুমে নানা শ্রেণির পর্যটকের সমাগমে মুখরিত হয়ে থাকে মসজিদের সম্মুখের প্রশস্ত বারান্দা ও চত্বর।

সুফি আদারী চৌধুরী মুঘল সম্রাট শাহজাহানের (শাসনকাল ১৫৯২-১৬৬৬) রাজত্বকালে ও তৎপরবর্তী এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। মসজিদের অনতিদূরেই রয়েছে তার মাজার। তিনি মুঘলদের দানকৃত লাখেরাজ সম্পত্তির জমিদারি ভোগ করতেন। এলাকায় তিনি একজন বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারক ও কামেল পীর নামেও পরিচিত। যার কারণে মুঘল বাদশাহ’র সন্তুষ্টি লাভে সমর্থ হন এবং বাদশার আর্থিক আনুকূল্য ও কারিগরি সহায়তায় তিনি এই অপূর্ব নিদর্শণ নির্মাণ করতে সফল হন। মসজিদ নির্মাণের সম্পূর্ণ জমি-জায়গা ও মাজার চত্বর পীর সাহেবের নিজস্ব মালিকানার ভূমি বলে স্বীকৃত আছে। কুষ্টিয়া অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি বিষয়ে কুমুদনাথ মল্লিক লিখিত (শ্রীমোহিত রায় সম্পাদিত) ‘নদীয়া-কাহিনিতে এই মসজিদের নির্মাণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: ‘মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শাহ সুফি সৈয়দ আহাম্মদ আলী বা সুফি আদারী মিয়া চৌধুরী। তিনি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দানভাজন ছিলেন। মসজিদের পাশেই তার মাজার। তিনি কামেল ফকির রূপে খ্যাত হন।’ চৌধুরী পরিবার থেকেও জানা যায়, মসজিদটি অষ্টাদশ শতকে নির্মিত হয়েছে। তিনি সুদূর ইরাক হতে ভারত, ভারত থেকে ঝাউদিয়া এসে ইসলাম প্রচার শুরু করেন এবং মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি এ অঞ্চলে একজন প্রজা দরদি জমিদার ও দরবেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তার পিতা শাহ আজিজুর রহমান দিল্লীর বাদশাহের নিকট থেকে কিছু ভূ-সম্পত্তি লাভ করেন বলেও জানা যায়।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে হালসা রেল স্টেশনের দক্ষিণে নিকটবর্তী পাটিকাবাড়ী গ্রামে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট একটি প্রাচীন ‘পাটিকাবাড়ী শাহী মসজিদ’ ছিল যা বিলুপ্ত হয়ে এখন ‘পাটিকাবাড়ী খামারপাড়া জামে মসজিদ’ নামে পরিচিত। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে (১৬৫৮-১৭০৭) ঝাউদিয়ার শাহ সুফি সৈয়দ আহাম্মেদ আলী (আদারী মিয়া চৌধুরী) তার কাছারি সংলগ্ন চৌধুরী বাড়িতে মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন এই ক্ষুদ্র মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। ইতিহাসের পাতা থেকে খুব সামান্যই এই মসজিদটি সম্পর্কে জানা যায়, মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩৩ ফুট এবং প্রস্থ ১৩ ফুট। মসজিদের উপরে সমান তিনটি গম্বুজ, চার কোণায় চারটি এবং মাঝের দরজার দুই পার্শ্বে দুটি পিলারের উপরে দুটি ছোট মিনার ছিলো। ছোট ছোট টেরাকোটার রূপ-নকশা সম্বলিত ইট, চুন ও সুরকির গাঁথুনি এর দেওয়ালের বেড় ৩ ফুট। মসজিদটিতে দুই কাতারে ১৬ জন নামাজ আদায় করতে পারতেন। মসজিদটির ভেতরে এবং বাইরের দেওয়ালে লতাপাতা, ফুল অঙ্কিত ছিল; যা অযত্ন অবহেলায় বিনষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে এই প্রাচীন মুঘল শিল্পকলার নিদর্শনটি পড়ে ছিল। ঝাউদিয়ার চৌধুরীদের তৈরি এই মসজিদটিরও পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে দুটি দরজা ছিল; তবে পশ্চিমেও একটি দরজা ছিল কিন্তু তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ঝাউদিয়া শাহী মসজিদের মতো এত সুন্দর না হলেও এর প্রাচীনত্ব সমসাময়িক। কিন্তু ভগ্নদশা সহজেই চোখে পড়লে ১৯১৫ সালে আকবর আলী চৌধুরী মসজিদটি সংস্কার করেছিলেন বলে জানা যায়। মসজিদের পাশেই চৌধুরীদের খননকৃত পুকুর রয়েছে।

মসজিদের সম্মুখে দুই খণ্ড বড় আকারের কালো পাথর ছিল-যা এলাকাবাসী পবিত্র মনে করত। বড় আক্ষেপ ও পরিতাপের বিষয় এই যে, এখানে মসজিদের প্রাচীন ঐতিহ্য স্থাপনা ভেঙে শেষ স্মৃতি ও পবিত্রতার নিদর্শনস্বরূপ দুইখানা দূর্লভ কালোপাথরের একখানা কিছুদিন আগেও ছিল বর্তমানে এখন আর নেই! পাথর দুটি চুরি হয়ে যায় বলে জনশ্রুতি আছে। নির্বোধের মতো ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠাতার নাম নিশানা সবকিছু। দাপটে ভূস্বামীদের কাছে ইতিহাস ঐতিহ্যের নির্মম পরাজয়! আরও পরিতাপের বিষয় এলাকার যে কয়েকজন শিক্ষিত মুরুব্বি ও যুব সম্প্রদায় ছিলেন, তারা কেউই ইসলামী মহান ঐত্যিহ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করেননি, বাধাও দেননি! গবেষক মনে করেন, এই টেরাকোটা সজ্জিত মসজিদটি অবশ্যই সংরক্ষণ করা যেত, কারণ একই চৌধুরী জমিদারের হাতে তৈরি ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ যদি সংরক্ষণ করা যায় তবে এটাও সম্ভব ছিল।

ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন: ইতিহাস গবেষক

 

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী