বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ফুটপাতে জুতা বিক্রেতা, শিশুদের ফ্রি ফুটবল কোচ

অখিলেশ পালের গল্প নিয়ে সিনেমা হতে চলেছে। বখে গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন তুমুল সংগ্রামে। গৃহহীনদের বিশ্বকাপে, ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। সত্যি কাহিনীটি লিখেছেন ওমর শাহেদ

এক সময় স্থানীয় অপরাধীদের দলপতি ছিলেন-তাকে ‘ডন’ বলা হতো। তার বিপক্ষে ৪৫টি মামলা ছিল। পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল সাজা দেবার জন্য, আইনের মুখোমুখি করতে। এখন তিনি পুরোপুরি ভিন্ন একজন মানুষ। বস্তিগুলোতে বাস করা শিশুদের ফুটবল খেলা শেখান, অপরাধপ্রবণ বিপদজনক এলাকাগুলোতেও তার সেই কাজ চলে। মোটে আট বছর বয়সে বস্তির এই শিশুটি বাজে অভ্যাস যেমন সিগারেট খাওয়া ও জুয়া খেলা শিখে নেন। বাবা ছিলেন একজন পিয়ন, চাকরি করতেন ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের নাগপুর শহরের নাগপুর সরকারী হাসপাতালটিতে। মা একজন গৃহবধু ছিলেন। দুটি বড় বোনের সঙ্গে থাকতেন তিনি। পুরোপুরি কঠিন একটি জীবন ছিল সেই বয়সের ছেলেটির নাগপুরের আজানি বস্তিতে। ছোট শিশুটি বাজে নেশা ও জীবনের ফাঁদে পড়ে অবাক হয়ে চেয়ে থাকতো, বস্তির ওই ছেলেগুলো এসব উপভোগ করতে কীভাবে টাকা যোগাড় করছে। তার কৌতুহলই তাকে তাদের বন্ধু বানালো। ছয় ক্লাসের পর লেখাপড়া ছেড়ে দিলো অখিলেশ পাল। কুখ্যাত ছেলেদের দলটিতে যোগ দিল সে।

আস্তে, আস্তে অনুভব করলো এবং দেখলো, এই ছেলেগুলো বাজে কাজ করতে ডাকাতিসহ নানা ধরণের সামাজিক অন্যায়েও যুক্ত হয়ে গিয়েছে। তারা এভাবে সহজে টাকা কামাচ্ছে ও তাদের ভাষায় উপভোগ করছে তার চোখে পড়লো। অন্যদিকে সে দেখলো, তার বাবা সারাদিন-রাত খেটেও পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটাতে পারছেন না। অন্যসব টিনএজার বা কিশোরের মতোই সহজে টাকা কামানোর দিকে আগ্রহী হয়ে পড়লো, ঝুঁকে গেল অখিলেশ। সে কাজ করতে শুরু করলো আবাসন অধিপতি ও রাজনীতিবিদদের হয়ে; তাদের সে মানুষকে ভয় দেখানো এমনকি আঘাত করতেও সাহায্য করতো। এরপর তার জীবনে এলেন ভিজয় বার্সে। মনে পড়ে অখিলেশের-‘আমাদের কাছে তিনি ছিলেন একজন পুলিশের মতো। ফলে যখন তিনি আমাকে ও আমার বন্ধুদের ডাকলেন; তাদের মধ্যে যারা রাস্তার পুরোটা জুড়ে সিগারেট খাচ্ছিল ও জুয়া খেলছিল; আমাদের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও যেতে বাধ্য হলাম।’

যখন অখিলেশ পাল বার্সেকে জিজ্ঞাসা করলো, কেন তিনি তাদের ডেকেছেন, তিনি তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন, তারা যদি বলটি নিয়ে খেলে তাহলে সে কী খেলবে? সে ও তার বন্ধুরা এতে ভীষণ অবাক হয়ে গেল। তারপরও তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলো, খেললে কী তিনি তাদের পয়সা দেবেন। উত্তরে মাথা নাড়লেন এই বিখ্যাত ফুটবল কোচ, খেলার জন্য তিনি তাদের প্রত্যেককে পাঁচ রুপি করে দেবেন।

তারা প্রথমে তার সঙ্গে মজা করলো ও এরপর মনে করলো, কেবল খেলার জন্য পাঁচ রুপি করে দেওয়া কোনো মন্দ চুক্তি নয়। এরপরের ১৫টি দিন ছেলেদের খেলা ও বিনিময়ে পয়সা নেওয়া রুটিনে পরিণত হলো। সময় বাড়লো খেলার অনেক, তাদের আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি হলো ফুটবলের দিকে। ফুটবল খেলাকে তারা অন্যসব কাজের চেয়ে জরুরি বানিয়ে ফেললো। তবে ১৫ দিন পেরুনোর পর বাসে তাদের বলটি দেবেন না বলে জানিয়ে দিলেন। কেননা, তার কাছে আর পয়সা নেই। তবে ফুটবলে আসক্ত হয়ে পড়া ছেলের দল টাকা ছাড়াই ফুটবলটি পেতে ব্যাগ্র হয়ে গেল।

‘এই ১৫ দিনে অনুভব করলাম, আমরা আমাদের সব বাজে অভ্যাস থেকে দূরে সরে গিয়েছি ও একটি নতুন অভ্যাসে পড়েছি-সেটি হলো ফুটবল। আমরা আমাদের পুরোনো কাপড়গুলো ও কাগজ দিয়ে বান্ডিল বানিয়ে ফুটবল তৈরি করতাম। সেগুলো দিয়ে খেলতাম। তবে এই সত্যিকারের ফুটবল পাওয়ার পর আমরা সেটিতে খেলার জন্য প্রাথনা করতাম-এভাবেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কথা মনে পড়লো অভিলেশ পালের।

ইতিমধ্যে অপরাধজগত ও পুলিশের অনুসরণে পড়লো অখিলেশ। প্রায় ৪৫টি মামলা আছে তার নামে তখন। নিজেকে একটি কবরখানাতেও সে ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ১৫ থেকে ২০ দিন কোনোরকমে, না খেয়ে না দেয়ে লুকিয়ে রাখলো। ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে সাধারণত সে ভিক্ষুকদের সঙ্গে ঘুমাতো। কোনো সময় তাদের খাবারও ছিনিয়ে খেত। এরপর তাদের হাত থেকে বাঁচতে দৌড়ে পালাতো কবরখানায়। যে রাজনীতিবিদ ও বড় আবাসন ব্যবসায়ীদের জন্য সে কাজ করেছে, তাদের কেউই তাকে এই জীবন থেকে বাঁচতে সাহায্য করেননি।অবশেষে যখন অখিলেশ পাল বুঝতে পারলেন, নিজের জীবনকে তিনি ধ্বংস করে ফেলছেন; পরিবার ও এক বন্ধুর সাহায্যে পুলিশের কাছে আত্মসমপর্ণ করলেন। বিচারককে যখন অঙ্গীকার করলেন, এখন থেকে তিনি একজন বদলে যাওয়া মানুষ হবেন, জামিন পেলেন তিনি। নিজের নতুন জীবন শুরু করলেন। আদালতের বিচারক তাকে সূয ওঠার আগেই তাকে তার এলাকা ছেড়ে যেতে হবে ও অন্ধকার নামার পর ফিরে আসতে পারবেন-এই আদেশ দিলেন। ফলে তাকে তার বাড়ি ছাড়তে হলো। তবে ভালো জীবনের দেখা পাচ্ছিলেন না অখিলেশ।

একদিন তিনি দেখলেন, কটি ছেলেমেয়ে একটি সাইকেলে যাচ্ছে, পিছু, পিছু ছুটছে, হাসাহাসি করছে। তারা তাকে পেরিয়ে যাচ্ছিল। তারা খুব খুশি হয়ে ছুটছে দেখে অখিলেশ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কোথায় যাচ্ছো?’ উত্তর দিলো, ‘আমরা পাশের একটি মাঠে প্রতিদিন খেলি। এখন খেলতে যাচ্ছি।’ কথাটি তাকে তার পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিলো। ফলে আবার তিনি খেলতে শুরু করলেন ভিজয় বাসের সংগঠন ‘স্লাম সকার’-এ।

সেখানে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এর সুবাদে ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিকভাবে খেলার সুযোগ পেলেন। তবে ওই অতীত তখনো তাকে তাড়া করে ফিরছিল। আগের অপরাধ রেকর্ডগুলোর জন্য অখিলেশ পাল পাসপোর্ট পাচ্ছিলেন না। তবে তার একাগ্রতা দেখে আগের প্রতিষ্ঠানের মালিক জয়সাওয়াল আদালতে আপিল করলেন ও তাকে পাসপোট পেতে সাহায্য করলেন।

ব্রাজিলে গৃহহীনদের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার জন্য ভারতীয় দলের সঙ্গে গেলেন অখিলেশ পাল। যাবার আগে ভারতীয় দলটি একটি প্রেস কনফারেন্স করলো। ‘আমি সত্যিই খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। নিজের অতীত বলা আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে গেল সেখানেও। সেসব নিয়ে বলতে এখনো আমার খারাপ লাগে। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে যেভাবে একটি চাকরি পেতে ও পাসপোর্ট পেতে আমার কষ্ট হয়েছে তেমনটি হবে-এই প্রস্তুতি নিলাম মনের গভীরে। তবে অবাক হয়ে গেলাম, এই মানুষগুলো আমাকে নিয়ে গর্বিত হয়ে গেলেন। আমাকে গৃহহীনদের ফুটবল বিশ্বকাপের ২০০৯ সালের ভারতীয় দলের অধিনায়ক ঘোষণা করা হলো। এই প্রথম নিজেকে নিয়ে আমার ভালো লাগলো’-বলেছেন অখিলেশ পাল।

গৃহহীন ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক এত ভালো খেললেন যে বিখ্যাত ব্রিটিশ ফুটবল দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নামকরা কোচ ডেভিড ময়ইজ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর তিনি কী করবেন? তবে ব্রিটেনের বিশ্বখ্যাত ফুটবল লীগে খেলা হলো না তার। নামকরা দলের প্রতিও কোনো আগ্রহ বোধ করলেন না অখিলেশ পাল। কেননা, তিনি সবসময় চেয়েছেন, চারপাশের সামাজিক অবস্থাগুলোর কারণে যেসব শিশু তার মতো ভুল পথে চলে গিয়েছে, তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন, ওদের ফুটবল খেলা শেখাবেন।

এখন তিনি লিভিং হোপ বা আশায় বাঁচছেন নামের একটি এনজিওর সঙ্গে কাজ করছেন এবং তাদের মাধ্যমে নাগপুরের অত্যন্ত অপরাধ প্রবণ এলাকার শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছেন। এই কাজের শুরুটিও তার জন্য খুব কঠিন ছিল, ‘এই মানুষগুলোকে বোঝানো কঠিন ছিল। কেননা, তাদের মায়েরাও তারা যে ব্যবসাগুলো করেন, সেগুলোতে তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে যেতে ক্রমাগত চেষ্টা করে চলছিলেন। তবে সেই সংগ্রাম আমার জীবনভরের একটি অভিজ্ঞতা। সবসময় ভেবেছি, আমার একটি ক্ষত-বিক্ষত অতীত আছে কিন্তু এই শিশুদের কজন একদিন আমাকে জানালো, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবক মিটিংয়ে তাদের মায়েরা ভিন্ন লোকদের নিয়ে আসলেন, শিক্ষকরা তাদের বাবা সম্পকে জিজ্ঞাসা করার পর বোকার মতো ওরা বলে ফেললো, এমনকি বাবা কে তাও তারা জানে না। এটি ছিল হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমি সত্যিই তাদের এই ব্যথাবিধুর ঘটনাগুলো থেকে বের করে আনতে চেয়েছিলাম, তাদের মধ্যে ক্ষমাশীলতা তৈরি হলো খেলার মাধ্যমে।’

তবে কোথাও ফুটবল খেলা শেখানোর জন্য কোনো টাকা নেন না তিনি। ফুটপাতে জুতা বিক্রি করে রোজগার করেন। তবে এই টাকা তার ও পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। তার ও স্ত্রী কবিতার ছেলে ইমানুয়েল পালকে নিয়ে বড় স্বপ্ন আছে। ছেলেটি এখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। লেখাপড়ার অভাবে কোনো চাকরি জোটাতে পারেননি তার বাবা। ফলে তিনি চান, তার ছেলে সবচেয়ে ভালো বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়গুলোতে পড়ুক।

এই উজ্জলতা ছড়িয়ে যাওয়া ভারতীয় তারকার গল্প দেশটির সব তরুণদের জন্য প্রেরণা। তার জীবনের গল্পটি অনেক জায়গায় লেখা হয়েছে। এখন বলিউডে ছবি হতে চলেছে। তবে এখনো পরিবারের মুখে গ্রাস তুলে দিতে তাকে সংগ্রাম করে যেতে হচ্ছে। তারপরও তিনি আশা করেন, তার প্রতিভাগুলো সঠিক জায়গায় চলে যাক এবং দেশের প্রতি সম্মান বয়ে আনুক। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অখিলেশ বললেন, “যখন আমার ছেলের বিদ্যালয়ের ফিগুলো দিতে পারি না আমি আশাহত হতে পড়ি। যাই হোক-এটিও আমাকে আমার মতো আরো অনেকের জীবন বদলে দেওয়ার লক্ষ্যটিকে আঘাত করে না। প্রত্যেককে আমি কেবল একটি কথাই বলতে চাই এবং তাদের সবাইকে, যারা খারাপ অভ্যাসের ফাঁদে পড়ে আছেন-‘আপনার যদি দৃঢ়প্রতিজ্ঞা থাকে, তাহলে যেকোনো বয়সে, যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো মূল্যে নিজেকে বদলাতে পারবেন’।”

(ইন্টারনেট থেকে অনুবাদ)

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী