শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫ | ১৩ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

অংশগ্রহণমূলক নয়, প্রয়োজন প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন

আমরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই না। আমরা চাই প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। ২০১৮ সালে আমাদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছিল। সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। সেটি কি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছিল? আমি ঠিক জানি না, উনারা ইচ্ছাকৃতভাবে বলেন নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে বলেন, কিন্তু এই ভাবনাটিই সঠিক না।

আমরা চাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। এ জন্য প্রথমত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে আমাদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হতে হলে প্রথমে সবার জন্য সময় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

সবাই যেন নিজ দলের পক্ষে প্রচার পচারণা চালাতে পারে, নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালাতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এবারও বিভিন্ন বাধা বিপত্তি তৈরি হচ্ছে। গতবারও নির্বাচনের আগে মামলা হামলাসহ অনেক কিছু হয়েছে। আমাদের সংবিধানকে অস্ত্রে পরিনত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত এগারোটি নির্বাচন হয়েছে।

কয়েকটি তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হয়েছে। এগুলো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। দুটি নির্বাচন এক তরফা হয়েছে যেগুলো কোনো নির্বাচন ছিল না। নির্বাচনে যদি প্রতিযোগিতা না থাকে, অংশগ্রহণই না থাকে, তাহলে সেটিতো আর নির্বাচন হলো না। দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলোই ‘ফেইলড ইলেকশন’।

আমাদের সংবিধানকে একতরফাভাবে পরিণত করে, নিজেদের মতো পরিবর্তন করে যেটি করা হচ্ছে, আমরা আরেকটি ব্যর্থ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছি। কাজেই এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের একটি সাংবিধানিক কাঠামো দিতে হবে। সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমেই কিন্তু প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আমাদের নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে।

গতবার আমরা দেখেছি যে, নির্বাচন কমিশনের প্রচ্ছন্ন সম্মতিতে যে ক্ষমতাশীল দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তারা মধ্যরাতে ভোটগ্রহণের অনুষ্ঠান করেছে। কাজেই নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। তাহলে হয়তো নিরপেক্ষও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা আশা করতে পারি। স্বচ্ছতার জায়গাটি নিশ্চিত না হলে, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি যারা আছেন তারাই পুনরায় ফিরে আসবেন।

ইভিএম নিয়ে যে একটি অযৌক্তিক অর্থাৎ কারসাজিমূলক একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি বলব ইভিএম একটি যন্ত্র এবং নিম্নমানের একটি যন্ত্র, যেটি দিয়ে ভোট গণনা করা যেমন যায় তেমনি ভোট জালিয়াতিও করা যায়। ভোট কারচুপির মাধ্যমে এই জালিয়াতিটুকু করতে পারে নির্বাচন কমিশন এবং তার কর্মকর্তারা। আমি মনে করি, যদি সত্যিকার অর্থেই নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হয় তাহলে ইভিএম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি কোনো সমাধান হতে পারে না।

আমাদের এই ভোট কারচুপির নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইভিএম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখানে আরও অনেক দুর্বল পয়েন্ট আছে যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত।

সরকার তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন প্রক্রিয়াটিও বাতিল করে দিয়েছে। এর কারণ কী? কারণ, তারা জিততে চায়। কাজেই সেটি যদি পরিবর্তন করা না হয় তাহলে সমস্যা হতে পারে। যে কারণে ১০ মে এক পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত আদেশে আদালত তত্বাবধায়ক সরকারকে ভবিষ্যতের জন্য অবৈধ ঘোষণা করা হলো বলে আদেশ দিয়েছিলেন।

আমার কথা, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয়, গ্রহণযোগ্য না হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে যদি মানুষের সম্মতির শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে জাতি আগামীতে আরও সংকীর্ণ, আরও বেশি অন্ধকারচ্ছান্ন হয়ে পড়বে। যার ফলে দেশ অবধারিতভাবেই একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সম্মিলিতভাবে ভালো থাকতে হলে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে এগোতে হবে।

লেখক: সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)

Header Ad
Header Ad

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

ফাইল ছবি

এবার ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে, যদি আবহাওয়া অনুকূলে না থাকে, তাহলে ঈদের জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সভায় জানানো হয়, যদি আবহাওয়া ভাল থাকে, তবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত আয়োজন করা হবে। কিন্তু, যদি আবহাওয়া প্রতিকূল থাকে, তাহলে ঈদ জামাত বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, যদি আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হয়ে ওঠে, তবে ঈদের জামাতের স্থান পরিবর্তন করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, এসএসএফ, ডিএমপি কমিশনার, আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্পারসো এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে।

কমিটি নির্ধারিত সময়ের আগে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রধান জামাত বায়তুল মোকাররম মসজিদে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেবে।

এছাড়া, এবার প্রধান জামাতের প্রথম কাতারটি গত বছরের তুলনায় দীর্ঘ করা হবে যাতে ভিআইপিরা প্রথম কাতারে দাঁড়াতে পারেন। ঈদগাহ মাঠে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ মার্চ অথবা ১ এপ্রিল ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

Header Ad
Header Ad

সন্‌জীদা খাতুনের শেষ ইচ্ছা: চিকিৎসা গবেষণার জন্য দেহ দান

সন‌্জীদা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

বাঙালি সংস্কৃতির প্রখর আলো ছড়িয়ে যাওয়ার এক অমূল্য প্রতীক, ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি সন‌্জীদা খাতুন তার জীবনাবসানের পরও বাঙালির জন্য এক মহান দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তার শেষ ইচ্ছা ছিল দেহ দান, যা অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে।

তার মৃত্যুর পর, সন‌্জীদা খাতুনের ছেলে পার্থ তানভীর নভেদ জানিয়েছেন, “এটি ছিল সন‌্জীদা খাতুনের ২৭ বছর আগের সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা, তার পরিবার, মরদেহ দান করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছি এবং আজকের দিনে (বৃহস্পতিবার) মরদেহ দান করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।”

এমন একজন কিংবদন্তি, যিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যের জন্য কাজ করেছেন, সন‌্জীদা খাতুন ছিলেন এক আলোকবর্তিকা। গানে গানে, সুরে সুরে তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়ের সন্ধান দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন সন‌্জীদা খাতুন। মৃত্যুর পর, সেদিন রাতে তার মরদেহ রাখা হয় হাসপাতালের হিমঘরে। পরের দিন, বুধবার দুপুরে তার কফিন ছায়ানট ভবনে নেওয়া হয়, যেখানে গানে গানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান ছায়ানটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এরপর, তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে, যেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরবর্তীতে, সন‌্জীদা খাতুনের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয় এবং সেখানে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ তাকে শেষ বিদায় জানান।

বৃহস্পতিবার, সন‌্জীদা খাতুনের পরিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ দান করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এটি তার শেষ মহৎ কর্ম, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Header Ad
Header Ad

গোবিন্দগঞ্জের কামদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জাকিরুল গ্রেফতার

গ্রেফতার জাকিরুল। ছবি: সংগৃহীত

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জাকিরুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

জাকিরুল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বইল গ্রামের বাসিন্দা মতিয়ার আলীর ছেলে। তিনি কামদিয়া ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, জাকিরুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, এবং তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের নজরে ছিলেন।

গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল বলেন, "জাকিরুলকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে, তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারছি না। এ ঘটনায় আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।"

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
সন্‌জীদা খাতুনের শেষ ইচ্ছা: চিকিৎসা গবেষণার জন্য দেহ দান
গোবিন্দগঞ্জের কামদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জাকিরুল গ্রেফতার
কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাকরি হারানোর অভিযোগ এক নারী পোশাককর্মীর
লাইলাতুল কদরের সন্ধানে ইবাদতে মশগুল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা
৫ সংস্কার কমিশনের মেয়াদ বাড়লো
চুয়াডাঙ্গায় যুবকের কোমরে মিলল ৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার স্বর্ণ
জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে: বিষ্ণোইয়ের হুমকি প্রসঙ্গে সালমান খান
গুলশানে কয়েদির বেশে দেখা মিলল আফরান নিশোর
বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এখন থেকে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ এভিনিউ’
পিএসএলে খেলার ছাড়পত্র পেলেন লিটন-নাহিদ-রিশাদ
দেশের ইতিহাসে রেকর্ড সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো মার্চে
ব্যাটারিচালিত ভ্যানে শোডাউন দিয়ে নিজ এলাকায় আখতার হোসেন
আশরাফুল আলম খোকন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
এবার এমপি পদ ফেরত চাইলেন হিরো আলম
মেসিকে বিশ্বকাপ নিয়ে বিরক্ত না করার অনুরোধ স্কালোনির
স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশকে যে বার্তা দিলেন ট্রাম্প
মেয়র হিসেবে শপথ নেব কি না, সেটা দলীয় বিষয়: ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক
নওগাঁয় পুলিশ সুপারের বডিগার্ড পরিচয়ে চাঁদা দাবি, গ্রেফতার ১
ডিসেম্বরে নির্বাচনের কথা বললেও জুনে চলে যায় কীভাবে, প্রশ্ন রিজভীর