শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ছাত্রদল সভাপতি-সম্পাদকের কু-কীর্তির ফিরিস্তি লন্ডনে!

কমিটি বাণিজ্য, অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করাসহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল হক শ্রাবন ও সাধারণ সম্পাদক  সাইফ মাহমুদ জুয়েলের বিরুদ্ধে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও সাইফ মাহমুদ জুয়েলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র নেতারা। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলের দুই শীর্ষ নেতার সকল কু-কীর্তির প্রামাণ্য দলিলও পাঠানো হয়েছে তারেক রহমানের কাছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর এসব সূত্রে জানা গেছে।

শুধু তাই নয়, ছাত্ররাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলের বিতারিত হওয়ার নেপথ্যে জুয়েলের ভুমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ খোদ নিজ দলের নেতাদের। এমনকি ছাত্রদলকে বরিশাল সমিতিতে পরিণত করার অভিযোগও উঠেছে জুয়েলের বিরুদ্ধে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০২ সদস্যের ১২২ জন বরিশাল বিভাগের। বরিশাল বাড়ি হলেই যে কাউকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢুকিয়েছেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক। এতে যোগ্যরা বাদ পড়েছেন।

দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ না করা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে না ছাত্রদলের। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি এবং ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর আর কোনো কাউন্সিল হয়নি। সর্বশেষ কমিটি গঠন হয় গত ১৭ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সুপার ফাইভ কমিটি ঘোষণা করেন।

এতে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে জড়িত পরিবারের সন্তান কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণকে সভাপতি, আওয়ামী পরিবারের আরেক সন্তান সাইফ মাহমুদ জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়াকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের নেতৃত্বে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু এই নেতৃত্বে বিরুদ্ধে অভিযোগর শেষ নেই। সভাপতি কাজী রওনকুল হক শ্রাবণের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার মুখের ভাষা অশালীন, কথায় কথায় অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। অসংখ্য মেয়েদের ছাত্রদলের পদ পাইয়ে দেবে বলে মিথ্যা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও আছে এই নেতার বিরুদ্ধে। বেশকিছুদিন পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অশালীন কর্মকাণ্ড ভাইরাল হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রত হন।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল আসল ওরফে জুয়েল হাওলাদার। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাহাড়সম। ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে ছিলেন সংস্কারপন্থী। জুয়েলের বিরুদ্ধে রয়েছে ছিনতাই এবং অপহরণ মামলা। রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় একটি অপহরণ মামলায় জুয়েল চার মাস জেল খেটেছেন। (মামলা নং ১২১৫-২৭-০৭-২০০০)।

ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটিতে বরিশাল অঞ্চলকে প্রাধান্য দেওয়া প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, নেতৃত্বে প্রতিযোগিতা আছে, দলের জন্য নিবেদিত ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। কাজেই নেতৃত্ব নির্বাচনে কার বাড়ি কোন অঞ্চলে তা বিবেচনা করা হয় না। যোগ্যদের অবমূল্যায়ন করে অযোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে এই ধরনের অভিযোগ সত্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সারা দেশেই নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে সরব থাকতে হচ্ছে। নেতৃত্বে আসার পর থেকেই ছাত্রদল সবসময়ই বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ করে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসমুখী কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে। যখন চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক আসবে তখন ছাত্রদল বসে থাকবে না। ছাত্রদল যেকোনো মূল্যে আন্দোলনের অগ্রপথে থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আর্থিক লেনদেনকে প্রাধান্য দিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে বিবাহিত, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিজস্ব বলয়ে রাজনীতি করেন এমন বিবাহিত, অপহরণ ও মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার আসামিরা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। প্রাধান্য পেয়েছেন বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেতা-কর্মীরা। ৩০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৪৫ জনের বেশি আছেন বিবাহিত।

ছাত্রজীবন শেষ করে অনেকেই চাকরি করছেন। অছাত্র, বিবাহিত, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনসহ অসংখ্য অসামঞ্জস্য দিয়েই গঠিত হয়েছে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পাওয়া এমন ৫৭ জনের একটি তালিকা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর (কারাগারে যাওয়ার পূর্বে) বরাবর প্রেরণ করেছেন পদ বঞ্চিত ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। তখন প্রাথমিক অবস্থায় অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩৩ জনের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

এদিকে সংগঠনের সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছেন নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু। ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রোগ্রাম থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতির ঘোষণা দেন। ২ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিতভাবে অব্যাহতি পত্র জমা দেন।

ফরিদ হোসেন বাবু ঢাকপ্রকাশ-কে বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছি। চেষ্টা করেছি নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের ঐতিহ্য ধরে রাখতে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাদের অসহযোগী মনোভাবের ফলে যথাযথভাবে সম্ভব হয়ে উঠেনি। নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের কমিটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন হলো স্থগিত করে রাখা হয়েছে। ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে নিয়মিত জড়িত নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক পরিচয় বা স্বীকৃতি দিতে পারিনি। এসব কারণে অব্যাহতি নিয়েছি।

ছাত্রদল ঢাবি ক্যাম্পাস আউট হওয়ার নেপথ্যে

ছাত্রদলের বিগত কমিটির নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনীতির সহঅবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হলেও পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বর্তমান কমিটির নেতৃত্ব।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আদনান আলম বাবু, তিনি সাইফ মাহমুদ জুয়েল গ্রুপের বড় ভাই। একইসঙ্গে তিনি ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের আপন মামাতো ভাই। বলতে গেলে আদনান বাবু বর্তমানে একজন তেলেসমাতিওয়ালা লোক। তিনি একইসঙ্গে যেমন জয়কে দিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটিতে সুবিধা নিয়েছেন, তেমনি নিজ সংগঠনের এবং নিজ গ্রুপের ছোট ভাই জুয়েলের কাছে ছাত্রদলের তদবির করছেন। আদনান বাবু এখন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসার চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, গত বছরের ২৪ মে ঢাবি ক্যাম্পাসে একটি সভায় জুয়েল শেখ হাসিনাকে নিয়ে বক্তব্য দেন। তার আগের দিন আদনান বাবুর মধ্যস্থতায় ধানমন্ডি স্টার কাবাবের সামনে একটি কালো রংয়ের গাড়িতে বসে আল নাহিয়ান জয় ও সাইফ মাহমুদ জুয়েল আধ ঘণ্টার বেশি সময় নিজেদের মধ্যে কথা বলেন। পরেরদিন ২৪ মে জুয়েল ক্যাম্পাসে বক্তব্য দেওয়ার পরে প্রথমে জয়ের অনুসারীরাই ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে প্রতিহতের ঘোষণা দেয়।

ঘটনা যে জয়-জুয়েলের পরিকল্পিত তা আরও স্পষ্ট হয় যখন জুয়েল ক্যাম্পাসে নিজে হাতে বাঁশ নিয়ে ছাত্রলীগকে উসকে দেয়। যদিও দুই মিনিটের জন্য বাঁশ হাতে নিয়ে জুয়েল সেদিন ঢাবি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিপদে ফেলে চলে গিয়ে ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ জুয়েলের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে ছাত্রদল আজকে ক্যাম্পাস ছাড়া।

ছাত্রদল যেন বরিশাল সমিতি

কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল সভাপতি সাঈদুর রহমান (বরিশাল), সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন (পটুয়াখালী), সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান (বরিশাল)। ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৮ জনই বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম (বরিশাল), প্রচার সম্পাদক রুমি(বরিশাল)।

ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল (বরিশাল), সাধারণ সম্পাদক রাসেল বাবু (বরিশাল), সাংগঠনিক সম্পাদক সাগর বাবু (বরিশাল), সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মনির হোসেন (ভোলা), দপ্তর সম্পাদকের বাড়িও বরিশাল। ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি আবুল কালাম নাসির (বরিশাল), সাধারণ সম্পাদক জুয়েল হাসান রাজ (বরিশাল)। ৭ সদস্য কমিটিতে পরে যারা দপ্তর, সহ-দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন তাদের বাড়িও (ভোলা)।

এখানেই শেষ নয়, গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশে বক্তব্যে দেন ছাত্রদল সভাপতি। বক্তব্যের সুযোগ না পেয়ে সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল গণসমাবেশের সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম মজনুর সঙ্গে তর্কে জড়ান।

ছাত্রদলের সভাপতি নিজেও সাধারণ সম্পাদকের এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতবোধ করে পরবর্তী সময়ে বিএনপি নেতাদের বলেন, টিক আছে শুধু আমি বক্তব্যে দেব, সে (জুয়েল) কেবল মাত্র স্লোগান দেবে। পরে জুয়েলকে স্লোগান দিতে দেখা যায় আর গণসমাবেশের সঞ্চালনায় থাকা বিএনপি নেতা আমিনুল হক মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু তাকে বুঝিয়ে সমঝোতা করেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের এমন আচরণে মঞ্চে থাকা প্রধান অতিথি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বিব্রত হন।

এ ছাড়া, গত ১৩ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনরি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। তার এমন ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণে ক্ষুব্ধ হন কৃষকদলের সভাপতিসহ উপস্থিত কৃষক নেতারা। এ নিয়ে কৃষকদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩০২ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিতে ২২ জনকে সহ-সভাপতি এবং ১৪৫ জনকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৩৮ জনকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পাশাপাশি খোরশেদ আলম সোহেলকে সভাপতি আর আরিফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

১ জানুয়ারি ছাত্রদলের সমাবেশে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদেরও উপর চড়াও হন। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিকের জামার কলার ধরতেও দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে সংগঠনের সভাপতি রওনকুল হক শ্রাবন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তাৎক্ষণিক ক্ষমা চান। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকেও এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এখনো।

এনএইচবি/এমএমএ/

Header Ad
Header Ad

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিস্তৃতি এতদূর গিয়েছে যে, জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জও এর আওতায় এসেছে। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত অ্যান্টার্কটিকার জনশূন্য হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

এই দ্বীপপুঞ্জে মানুষের কোনো বসবাস নেই, সেখানে শুধু পেঙ্গুইন, সিল এবং পরিযায়ী পাখিরা বসবাস করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই দ্বীপপুঞ্জের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে দ্বীপগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে একই হারে শুল্ক আরোপ করেছে!

অস্ট্রেলিয়ার সরকারের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ বিশ্বের অন্যতম প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী জনশূন্য অঞ্চল। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ফ্রেম্যান্টল বন্দর থেকে সেখানে পৌঁছাতে জাহাজে কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগে। দ্বীপগুলোর বাসিন্দারা শুধুই বিভিন্ন প্রজাতির সংরক্ষিত পাখি, সিল এবং পেঙ্গুইন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির বিস্তার নিয়ে অনেকে বিস্মিত। জনমানবহীন দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে শুল্ক-সংক্রান্ত বিরোধ সত্যিই নজিরবিহীন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার তিনি ফের একই কৌশলে মাঠে নেমেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধারের জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনা স্পষ্টতই বলেছেন, সামনে ও পেছনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামতে হবে। সামনের গ্রুপ আক্রান্ত হলে পেছনের গ্রুপকে প্রতিহত করতে হবে এবং হামলাকারীদের চরম শিক্ষা দিতে হবে।

বুধবার গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় যে কোনো মূল্যে পুনরুদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। দিল্লি থেকে টেলিফোনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমানে বিদেশে পলাতক নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে তিনি এই নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশনার পর আওয়ামী লীগের ভেতরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, ‘শেখ হাসিনার ভুল সিদ্ধান্ত এবং কিছু হাইব্রিড আওয়ামী লীগারের দুর্নীতির কারণে দল আজ এই পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ নেত্রীর এবং তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা নিরাপদে আছেন, কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীরা পথে পথে মার খাচ্ছেন। এখন তিনি আবার তাদের বিপদে ঠেলে দিতে চান।’

টেলিফোন কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা এত বড় বড় কথা বলো, অথচ এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্ধার করতে পারলা না! ৫০ থেকে ১০০ জন লোক গেলে কি তোমাদের সবাইকে মেরে ফেলা হবে? লাখ লাখ লোক ঢাকায় আনার কথা বলো, অথচ একটা অফিস উদ্ধার করতে পারো না! যেভাবেই হোক, দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে হবে—এটাই আমার শেষ কথা।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, পরিকল্পনা করা হলেও কিছু কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আপনার নির্দেশেই আমরা কাজ করব। শুধু ভোলা থেকেই ২০ লাখ লোক ঢাকায় সমবেত হবে। যখনই আপনার ডাক আসবে, আমরা তিন থেকে চার লাখ লোক নিয়ে ঢাকায় আসব।’

টেলিফোন আলাপে শেখ হাসিনা আরও কিছু নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘ছোট ছোট বিক্ষোভের দরকার নেই, বড় আকারে মিছিল করতে হবে। সামনে একটি গ্রুপ থাকবে, পেছনে আরেকটি গ্রুপ। কেউ হামলা করলে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে তাদের শিক্ষা দিতে হবে। কেউ কাউকে কিছু দেবে না, নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে হবে।’

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শেখ হাসিনা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস সব জায়গায় মিথ্যা কথা বলছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার তথ্য সংগ্রহ করো। ছবি তোলো, ভিডিও করো এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা করার প্রস্তুতি নাও।’

জবাবে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন জানান, ইতোমধ্যে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এখন বিদেশে আরামে আছেন। অথচ তারা দেশে থাকা নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন, যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফের রাস্তায় নামে। কিন্তু একজন দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য সাধারণ নেতাকর্মীরা কেন ঝুঁকি নেবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে কৌশলে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, সেটি সফল হবে বলে মনে হয় না। সাড়ে ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-গুমের কোনো অনুশোচনা তাদের মধ্যে নেই। বরং তারা নিজেদের শাসনামলকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দিল্লিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের টেলিফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সম্প্রতি তার একাধিক ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Header Ad
Header Ad

টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত

নিহত শফিউল্লাহ মিয়া। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ট্রাক চাপায় শফিউল্লাহ মিয়া (৪৭) নামে এক আনসার সদস্য (কমান্ডার) সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শফিউল্লাহ মিয়া উপজেলার মৌলভীপাড়া গ্রামের মরহুম হাবিবুল্লাহ ওরফে মজনু মিয়ার ছেলে। তিনি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কমান্ডার (পিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায, ঈদের ছুটিতে গত ২৮ মার্চ বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ছুটি শেষে শুক্রবার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল শফিউল্লাহর। শুক্রবার ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে ছিলেন তিনি।

এ সময় দেলদুয়ার সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। এতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি ভেঙে শফিউল্লাহর মাথায় পড়ে। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোয়েব আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন শফিউল্লাহ। শুক্রবার ভোরে তিনি নামাজ পরে হাঁটতে বের হন। হাঁটার একপর্যায়ে হাসপাতালের সামনে এলে মাটি বহনকারীর ড্রাম ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো
লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান