শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২২ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি

অলস ৫ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা

বিদেশি ঋণের অর্থ যথাসময়ে ব্যয় করতে না পারায় সরকারকে এই ঋণের জন্য ঋণদাতাদের সার্ভিস চার্জ দিতে হচ্ছে। বর্তমানে পাইপলাইনে জমে থাকা এমন ঋণের পরিমাণ ৪৮ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। ডলারের বর্তমান বাজারমূল্য ১০৭ টাকা ধরলে বাংলাদেশি মুদ্রায় পাঁচ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা অলস পড়ে আছে।

অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বারবার বলার পরও বিদেশি ঋণের কোনো প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে ঠিকমতো ঋণও ব্যয় করা যাচ্ছে না।

ঋণের টাকায় আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নদীবন্দর স্থাপনে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। চার বছেরে অর্থাৎ ২০২২ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদেশি অর্থের এই প্রকল্পটির কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। গত ১৬ আগস্ট সংশোধিত প্রস্তাবনাটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ১৬৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু বাস্তবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ব্যয় করতে পেরেছে ১১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এখনো ব্যবহার করতে পারেনি বা পাইপলাইনে আছে ৪৮ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এসব অর্থ ব্যয় করতে না পারায় সরকারকে কমিটমেন্ট চার্জ দিতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন ঢাকাপ্রকাশ-কে বলেন, ‘সরকার বললেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঠিকমতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছে না। চার থেকে পাঁচ বছরের প্রকল্পও বাস্তবায়ন করতে পারছে না। বিভিন্ন অজুহাতে সময় বাড়ায়। এতে সরকারি ব্যয় বাড়ছে। আবার জনগণ সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গ্রেস পিরিয়ড পার হয়ে গেলে তখন অতিরিক্ত চার্জও দিতে হবে। সময় মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারায় পাইনলাইনেও বেশি করে জমে যাচ্ছে অব্যবহৃত ঋণ। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে হলে সরকারকে যেভাবে হোক প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে হবে।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেছেন, বিদেশি ঋণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা উঠেছে। আমরা ঋণ নেব কেন? কিন্তু মনে রাখতে হবে মেট্রোরেল, ন্যাশনাল হাইওয়ে হচ্ছে বৈদেশিক ঋণে। বিদেশি সহায়তা আমাদের উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করছে। আমাদের প্রচুর ঋণ নেওয়া দরকার। কারণ বৈদেশিক ঋণে সুদ কম, পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধ করতে হয়। বৈদেশিক ঋণে সুদ হচ্ছে শূন্য দশমিক ৭৫ থেকে দেড় শতাংশ।

ইআরডি সূত্র আরও জানায়, গত জুন পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৪৩ মিলিয়ন ডলার পাইপলাইনে রয়ে গেছে। আগের অর্থবছরে পাইপলাইনে ছিলো ৫০ হাজার ৩৪৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২০ সালে ছিল ৪৮ হাজার ৮১৯ মিলিয়ন ডলার। তার আগের অর্থবছরে ছিল ৪৪ হাজার ৫২৯ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ২০১৮ অর্থবছরে ছিল ৩৫ হাজার ৭৪৯ মিলিয়ন ডলার। এভাবে প্রতি অর্থবছরে জমে থাকছে বিদেশি ঋণ। তা ব্যবহার করতে না পারায় ঋণের সার্ভিস চার্জ ঠিকই পরিশোধ করতে হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ১৪ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ ছিল ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ বলছেন, এর কারণে বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাবে। এটা মোটেই ঠিক না। বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। সরকার যেমন বেশি করে ঋণ নিচ্ছে তেমনি পরিশোধও করছে ভালোভাবে। বৈদেশিক ঋণ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশ প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগীদের এই ঋণ ২৮ বছর পর্যন্ত মেয়াদে গ্রহণ করা হচ্ছে। তারমধ্যে গড়ে গ্রেস পিরিয়ড হচ্ছে ৭ দশমিক ৬ বছর।

এসব ঋণের স্থিতি (আউটস্ট্যান্ডিং) আছে ৫৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বিশ্ব ব্যাংকের ৩২ শতাংশ। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ২৪ শতাংশ, জাপানের ১৮ শতাংশ, রাশিয়ার ৯ শতাংশ, চীনের ৮ শতাংশ, ভারতের ২ শতাংশ এবং আইডিবি ও এআইআইবির এক শতাংশ করে ঋণ রয়েছে। অন্যান্য ঋণ রয়েছে ৫ শতাংশ।

বিদেশি ঋণের শর্ত অনুযায়ী পরামর্শক নিয়োগ থেকে ঠিকাদার নিয়োগও ঋণদাতাদের ইচ্ছামতো করা হয়। তাই এই ঋণ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুললেও সরকারে পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিদেশি ঋণের দরকার আছে। পৃথিবীর সব দেশই ঋণ নিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নেও এটা দরকার আছে।

এনএইচবি/এসএন

 

Header Ad
Header Ad

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গেও বৈঠক করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের দ্বিতীয় দিনে পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলন শেষে প্রথমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন ড. ইউনূস। থাই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ড. ইউনূস। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। একই দিন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হরিনি অমরসুরিয়ার সঙ্গে হোটেল সাংগ্রিলায় বৈঠক করেন ড. ইউনূস, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

বিকেলে মিয়ানমারের সরকার প্রধানের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ করেন ড. ইউনূস।

এদিকে, বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেন—“বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছি। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক বর্তমানে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবহন, জ্বালানি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃআঞ্চলিক জোট হিসেবে কাজ করছে।

Header Ad
Header Ad

যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৬৮২ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ লোকসভায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সীমান্তে আটক হওয়া ভারতীয়দের নথিপত্র যাচাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রত্যাবাসন করে। একই সঙ্গে ভারত সরকার অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং এই সমস্যা মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে। অপরাধমূলক অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং পেশাদারদের আমেরিকা যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দিচ্ছে মোদী সরকার। মার্কিন কর্তৃপক্ষ যে ভারতীয় নাগরিকদের তালিকা পাঠায়, তা গুরুত্ব সহকারে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে, জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। মানব পাচারচক্রের সঙ্গে এজেন্টদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Header Ad
Header Ad

কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম হাসান সরকার অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দিয়ে বিয়ের খবর জানিয়েছেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ক্যাপশনে লিখেছেন— "আলহামদুলিল্লাহ কবুল। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন।"

এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তোলা ছবি কাভার ফটো হিসেবে পোস্ট করেছেন এই অভিনেতা। ছবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকেও দেখা গেছে।

 

তবে স্ত্রীর পরিচয় সম্পর্কে ফেসবুক পোস্টে কিছু উল্লেখ করেননি শামীম।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

এক দিনেই পাঁচ রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ড. ইউনূস
যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ৬৮২ ভারতীয়কে ফেরত পাঠিয়েছে
কাকে বিয়ে করলেন জনপ্রিয় অভিনেতা শামীম?
ঢাকার পথে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস
মানিকগঞ্জে বাঁশঝাড়ে কার্টনে মিললো তরুণীর লাশ
ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তবে এ বিষয়ে আর কিছু বলা সম্ভব নয় : বিক্রম মিশ্রি
মার্কিন গাড়ি আমদানিতে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা কানাডার
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ
চিকেনস নেকে ভারী যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করল ভারত
চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর জিডি
পেঙ্গুইন ও পাখিদের উপরেও ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ!
নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশ, আবারও শেখ হাসিনার উসকানি!
টাঙ্গাইলে ট্রাকচাপায় আনসার কমান্ডার নিহত
লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা: না ফেরার দেশে প্রেমা, নিহত বেড়ে ১১
নিষেধাজ্ঞায় পড়লেন মেসির দেহরক্ষী, ঢুকতে পারবেন না মাঠে
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলো বাংলাদেশ
ঈদ আনন্দে মুখরিত রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো