বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

শেষ ট্রেন

ফতেহগঞ্জ রেলস্টেশনটা আকারে খুব বড় নয়। কয়েকটি অচল হয়ে যাওয়া বগি পড়ে রয়েছে পরিত্যক্ত রেললাইনের উপরে। এই স্টেশনে সব ট্রেন থামেও না। তবে রাত্রির শুরু থেকে বেশ কয়েকটি ট্রেন ছেড়ে যায় শহরমুখী। বেশিরভাগ ট্রেনই মালবাহী ট্রেন। ফতেহগঞ্জের আশেপাশে বেশিরভাগ শস্যক্ষেত। সরিয়া, আলু, গম, আখ এখানে ফলে বৃষ্টির মতো। অন্যান্য ফসলও খুব ভালো হয়। সেসব ফসলই বিক্রি হয় এই স্টেশনের পাশে। ফলে দিনের বেলা লোকজনের আনাগোনা না থাকলেও রাত্রিতেই যেন জমজমাট হয়ে উঠে স্টেনশটা। রাত্রির দেবতা যেন এখানে বসিয়ে দেয় রহস্যের পসরা।

স্টেশনের নতুন মাস্টার হিসেবে এসেছেন সাখওয়াত হোসেন। সদ্য স্নাতক পাস করেই সংসারের হাল ধরেছেন বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে। গ্রামের বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ মহকুমায়, সেই গ্রাম থেকে সরকারি চাকরি করা যেন সোনার হরিণ ধরে আনা। স্টেশনের কাজের চাপে খুব একটা যাওয়া হয় না বাবা-মায়ের ঘরে।

সেই স্টেশনের পাশেই রয়েছে পতিতাদের আনাগোনা। রাত হলেই যেন সেখানে বাড়ে যৌনতার দেবতার ব্যস্ততা। মুখে সাদা মোটা প্রলেপের মেকাপ করে, লাল লিপস্টিক লাগিয়ে আকৃষ্ট করে খদ্দরদের। সেই বারাঙ্গনাদের অনেকেই স্টেশনের পাশের অব্যবহৃত রেলওয়ের কামরায় কাজ সেরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের বেশিরভাগ খদ্দরই, শ্রমিক ও বাবু সাহেবরা।

স্টেশন মাস্টার সাখওয়াত বেশ নিরীহ প্রকৃতির লোক। কোনো দুর্নীতি কিংবা টাকার বিনিময়ে মালপত্র নেওয়ানোর অভিযোগও নেই তার বিরুদ্ধে। রাতে স্টেশনে কাজ করার পর দুপুর পর্যন্ত এক ঘুম দেয় সে। এরপর বিকেল হলে প্রতিদিনই হাটতে বের হয় গ্রামের মেঠোপথে। গ্রামের পথের দুই পাশে সারি সারি হলুদ সরিষার ক্ষেত। সেই সরিষার ক্ষেত যেন যেন ইশারা দিয়ে ডেকে যায় পথিকদের। তার সামনেই বয়ে গেছে উজান নদী। সেই নদীর ধারেই বসে বিকেলটা কাটায় শাখওয়াত। এই গ্রামে খুব একটা বন্ধু নেই তার, রয়েছে শুধু রফিক। যে শাখওয়াত মিয়াকে খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়। এক কথায় মজিদ শফিকের কেয়ারটেকার।

উজান নদীর প্রকাণ্ড বটগাছটার নিচেই বসে সময় কাটায় আঞ্জুম। সঙ্গে বসে আড্ডা জমায় তার সাথীরা, কখনো বা নদীর পাশের সরিষা খেতে জুড়ে দৌড়ে দৌড়ে বাড়ি যায় সাদিয়া। দেখে যেন মনে হয় কোনো এক হলুদ বনের ধারে আকাশ নদীর নীলে উড়ে যাচ্ছে এক প্রজাপতি।

প্রায়ই স্টেশনে সেই পল্লির মেয়েদের দেখা পায় সাখওয়াত। কিন্ত কিছু করার নেই, সমাজটা এখানে এভাবেই চলছে, এখানে এই নিয়ম। এসব ভেবেই খুব বিষণ্ণ থাকে সে।

আজ স্টেশনে বেশ একটা জটলা বেধে গেল। গ্রামের হারুন সরদারের নাকি মালামাল নিয়ে ঝামেলা লেগেছে শহরের লিটন মালাকারের সাথে। সেই ঝামেলা মিটমাটের দায়িত্ব পড়েছে সাখওয়াতের উপর। সেই ঝামেলার দায়িত্ব শেষ করতে না করতেই স্টেশনে এসেছে ফতেহগঞ্জ থানার পুলিশ। স্টেশনের পাশেই মিলেছে পতিতা পল্লির সুমনা রানির লাশ। কে বা কারা যেন সুন্দর দেহের আকৃতিতে একে দিয়েছে মৃত্যুর যন্ত্রণা। গলায় কিসের যেন একটা দাগ, সাদা ধবধবে গলায় লাল রক্তবরণ ধারণ করেছে সেই দাগ।

স্টেশনের এসব ঝামেলা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই জায়গা থেকেই চেষ্টা তদবির করতে লাগল সাখওয়াত। কিন্ত উপায় খুব একটা হয়ে উঠছে না।

আজ নদীর ধারে আবার এসে বসেছে সাখওয়াত। হঠাৎ প্রকাণ্ড বটগাছটার নিচে চোখ পড়তেই দেখা মিলল আঞ্জুমের। ঠিক যেন দমকা একটা হাওয়া এসে নাড়িয়ে দিল সাখওয়াতের সমস্ত শরীর। যেন আমের বনের দমকা হাওয়া এসে নাড়িয়ে দেয় আমের মুকুল।
সাদা বর্ণের চেহারায় যেন লাল লাল আভা। চোখে যেন নেমে এসেছে নিশ্চুপ দিগন্তের রহস্য। ভ্রুকুটিতে যেন কাজল লেপেছে কালো মেঘের দেবতা। সদ্য ১৭ তে পাওয়া দেওয়া বালিকার যৌবন যেন উঁকি দেয় পোশাকের দেয়াল ভেদ করে। বান্ধবীর সাথে হাস্যরসে মেতে আছে আঞ্জুম। সেই আঞ্জুমের হাসি যেন উজান নদীর ঢেউ, উজান নদীর ঢেউ যেভাবে ভাঙছে দুই কূল সেভাবে সাখওয়াতের হৃদয় কূলে আছড়ে পড়ছে আঞ্জুমের হাসি।

সেদিন রাতে স্টেশনে আর মন বসছে না, আকাশে উকি দিচ্ছে শুক্লা দাদশীর চাঁদ। শীতের হিমেল হাওয়ায় দূর থেকে যেন ভেসে আসছে সরিষা ফুলের প্রজাপতিরা। তারই মাঝে সাখওয়াতের বুক জুড়ে যে নারীহৃদয় খেলা করছে সে আঞ্জুম। যাকে ভেবে আজ অফিসে খুব একটা কাজেই হাত দেওয়া হলো না সাখওয়াতের।

গ্রামের সকলেই স্টেশনের বড় বাবু বলে চেনেন সাখওয়াতকে। অনেকেই সম্মানও করে। মাঝেমধ্যেই গ্রামের ভালো ফল ফলাদি পাঠিয়ে দেয় সাখওয়াতের অফিসে।

পরদিন আবার সেই নদীতটে আঞ্জুমের সাথে দেখা সাখওয়াতের। সাখওয়াতের মনে যেন আবার দোলা দেয় প্রেমের প্রজাপ্রতি। আজ যে করেই হউক আঞ্জুমের সাথে কথা বলবে সাখওয়াত। দৃপ্তপায়ে এগিয়ে গিয়ে মনের একরাশ লজ্জাকে দূরে ঠেলে দিয়ে জিজ্ঞেস করল: তোমার নাম কী?

আঞ্জুম: আমার নাম আঞ্জুম আপনি ভালো আছেন বাবুসাহেব?

বাবুসাহেব নামটায় কেমন যেন খটকা বোধ করতে লাগে শাখওয়াত, সাখওয়াত বলে তুমি আমাকে বাবুসাহেব না ডাকলে খুশি হব।

এরপর এভাবেই চলতে থাকে তাদের কথোপকথন। সায়াহ্নের এক অবেলায় দুজন দুজনকে অবলীলায় সঁপে দেয় তাদের মন ও প্রাণ।

এভাবে প্রতি বেলায়ই প্রায় দেখা করত আঞ্জুম ও সাখওয়াত। আঞ্জুম-সাখওয়াতের প্রেম দেখে গোধূলি নিজেকে লুকিয়ে নিত আকাশের কালো বুকে। যৌবনের পুলক দীপ্তে কখন যে সাখওয়াতের ওষ্ঠাধারে আঞ্জুমের লাল লিপস্টিক জায়গা করে নিয়েছে সেটা সে বুঝেনি।

মাস ছয়েক পেরেল মায়ের চিঠি এল সাখওয়াতের। বাবার অসুখ করেছে। যেকোনোভাবেই ছুটি তাকে নিতেই হবে। বাড়ি তাকে আসতে হবে। মায়ের চিঠি পেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফিরল সাখওয়াত।

অপরাহ্নে নদীতটে আঞ্জুম সাখওয়াতের আশায় বসে থাকলেও দেখা নেই তার। নদীর বুকে যেন কোথায় একটা চর জেগেছে। সরিষাফুলগুলোও নিজেদের লুকিয়ে নিয়েছে সরিষার দানার মাঝে। দিন যায়, রাত যায়, কেটে যায় সূর্যাস্ত থেকে রাত, মধ্যরাত। তবুও দেখা নেই সাখওয়াতের। এভাবেই মাসখানেক পার হয়ে যায় কিন্তু সাখওয়াতের দেখা মেলে না।

প্রতিদিনই প্রায় স্টেশনে সাখওয়াতকে খুঁজতে আসেন আঞ্জুম। রফিকের কাছে খোঁজ নিয়েও কিছু জানতে পারে না সে। এদিকে গায়ে গড়নে বেড়ে উঠায় পল্লিতে চাহিদা বেড়েছে আঞ্জুমের। বাবা-মা হারা আঞ্জুমের ছোটবেলায় ঠাঁই হয়েছিল এই পল্লির সুমি মাসির কাছে। সুমি মাসি তাকে মেয়ের মতোই বড় করেছে কিন্তু কখনো কাজে দেয়নি। এবার সুমি মাসিও যেন তাকে ধরে বসল কাজের জন্য।

সুমি মাসিকে মা বলেই ডাকে আঞ্জুম। আঞ্জুম সুমি মাসির কাছে তার ভালোবাসার কথা জানালে, সুমি মাসি অট্টহাসিতে লুটায়। সুমি মাসি বলে, যৌবনকালে এমন বহুত নাগর আমার পিছে আছিল, কাজ শেষে সব ব্যাটায় পালায়, আমাগো খালি মুখেই ভালোবাসে, মনে মনে আসলে এই শরীরের লোভ। সুমি মাসি সাফ জানিয়ে দিলেন ৭ দিন পর থেকে কাজ শুরু করবি।

এরপর সাত দিন পেরিয়ে গেলেও আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই আঞ্জুমের। আঞ্জুম আজ নিজেকে সাজিয়েছে চন্দন লেপে, মেখেছে সুগন্ধী, রেলস্টেশনের পাশের পতিতাপল্লিতে আজ বাবুদের ভিড়। নতুন বারাঙ্গনাকে পেতে সুমি মাসির কাছে ধরনা দিচ্ছেন অনেকেই। সবচেয়ে বেশি টাকায় বিনিময়ে আঞ্জুমের দেহের মাতাল স্বাদ নেওয়ার সুযোগ পেলেন হারুন সরদার।

মাস দুয়েক ফিরে এলেন সাখওয়াত। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের মৃত্যু তাকে এই জীবনের মায়া থেকে দূরে নিয়ে এসেছিল। স্টেশনে ফিরতেই স্টেশনের গার্ড রফিক খবর দিলেন, বড়বাবু, পল্লির সরদারের মেয়ে আঞ্জুম আপনাকে খুঁজতে আসছিল। এখন স্টেশনে অনেক লোকজনের ভিড় হয় আঞ্জুমের জন্য।

এই কথা শোনামাত্র, আকাশ থেকে পড়ল সাখওয়াত। মন-প্রাণ দিয়ে যাকে ভালোবেসেছিল, যার রূপের তৃষ্ণায় খুঁজেছিল নিজের স্বর্গ; সেই আঞ্জুম আজ এই কাজ করছে। কোনোমতেই কথাটা মানতে পেরে উঠছে না সাখওয়াত।

রফিককে আসার খবর পাঠিয়ে স্টেশনের অবস্থা জানতে চাইলে রফিকও ঠিক একই কথা বললেন। রফিক জানালেন, স্টেশনের সব কাজের লোক আপনারে নিয়ে খারাপ কথা কয় বড়বাবু। পল্লির আঞ্জুমের সঙ্গে নাকি আপনার প্রেম আছে। আপনি নাকি আঞ্জুমের সবচেয়ে বড় খদ্দের। নইলে আপনাকে প্রতিদিন সে খুঁজতে আসে কেন?

ব্যাপারটা বেশ শক্তভাবে আঘাত করে সাখওয়াতকে। সাখওয়াত আজ অফিসে বসেছে। বিষন্ণ মনে কাজ করছে। রাত্রি বাড়ার সাথেই স্টেশন মাস্টারের বাইরের রুমে সেই চিরচেনা গলার সুর। যে গলার সুরে তৃষ্ণা মিটতো সাখওয়াতের। রুমে প্রবেশ করেই নির্বাক দাঁড়িয়ে গেলেন দুইজন। দুজন দুজনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মূর্তির মতো কারো কোনো কথা নেই। যেই মানবীকে ভালোবেসে সব সঁপেছিল সাখওয়াত। তার গড়নে, চললে আজ ব্যবধান। তার নরম গালে লেপেছে ইংরেজি মুখ রাঙানোর প্রসাধনী।

সাখওয়াতকে আঞ্জুম বলল, আমাদের মতো মেয়েদের আপনারা কী জন্য ভালোবাসার নামে রঙ তামাশা করেন বড়বাবু। আগে কইতেন, এই শরীরডা দিতাম। মনডা দিয়া তো কষ্টের নদীতে ডুবছি। কই, প্রতিদিন যে কত মাইনসেরে শরীর দিই মায়াতো লাগে না। আপনারে দিসি আমার মন এজন্যই এখন আমার এই অবস্থা।

আঞ্জুমকে সাখওয়াত বলল, তুমি এখন যাও, কাল বিকেলে আমি নদীতীরে আসব।

পরদিন নদীতটে এসে দুজন দুজনকে সব ঘটনা খুলে বললেন। চারপাশে কথা কানাঘুষা শুরু হয়েছে বড়বাবুকে নিয়ে। আঞ্জুমকে সাখওয়াত বলল, আমার জীবনে দুই মাসে কী হয়েছে জানি না, তুমি আমাকে বিয়ে করবে?

আঞ্জুম অট্টহাসিতে বলল, আপনি তামাশা করছেন বড়বাবু?

সাখওয়াত বললো, তামাশা নয় সত্যি, কাল রাত ১০টার ট্রেনে আমরা হাওড়া যাব। তুমি যেভাবেই হউক, আসবে। একটা বোরকা পড়ে আসবে।

রফিকের কাছে ঘটনাটা খুলো বলল সাখওয়াত। চাকরিটা সে আর করবে না। আজ রাতেই তারা অন্য একটা ট্রেনে হাওড়া যাবে। রফিককে সব ব্যবস্থা করতে বললেন।

মৃদুমধুর ঠান্ডার রাত্রিতে ট্রেন এসে দাঁড়ালো স্টেশনে। ফাস্ট ক্লাস কেবিনে দুজন দুজনার জীবনের সব ভুলে উঠে পড়ল। জানালার ফাঁক দিয়ে দুজন দেখে নিল চিরপরিচিত জীবনটাকে। হুইসেল বেজে উঠল, ট্রেন ধীরে ধীরে চলত লাগল। দুইপাশে সারি সারি ফসলের ক্ষেত, আকাশে পুর্ণিমার চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। পুরো আকাশটাই অসংখ্য তারা। দুজন মুখোমুখি বসে আছে চুপচাপ। ট্রেন চলছে, কোথাও থামবে কি না তার প্রয়োজন বোধ করছে না কেউই। একটা ভালোবাসার দেবতা যেন সেই ট্রেনের কামরায় আশীর্বাদ দিয়েছেন। পৃথিবীর পথে অনন্তকাল চলছে তাদের ভালোবাসার ট্রেন।

এসএন

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী