সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩২
Dhaka Prokash

বিশেষ নিবন্ধ

অর্থপাচার রোধে যা যা করতে হবে

যে কোন দেশের অর্থপাচার সেই দেশের জন্য একটি মারাত্নক সমস্যা। আমরা দেখছি হাল নাগাদ প্রচুর অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। অর্থপাচারের দুটি দিক আছে। এই যে পাচারকৃত অর্থ এটা আসলে কোন দিক থেকে আসে? এটা অনার্জিত অথবা সুদ, ঘুষ, মানবপাচার, মাদক,নারীপাচার সহ সকল প্রকার বেআইনি ব্যবসা, এসবই হলো এর উৎস। এছাড়া দুর্নীতি, নানারকম অব্যবস্থাপনার ফলেও এই অপকর্মগুলি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত যখন অর্থ বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছে তার প্রভাব কি পড়ছে আমাদের দেশের উপর? আমাদের আয় কম,আমাদের সঞ্চয় কম,বাইরের থেকে ধার দেনা করতে হয়। এর মধ্যে অর্থগুলো যদি বাইরে চলে যায়,আমাদের  বিনিয়োগ,কর্মসংস্থান,সবদিক থেকেই এটি একটা বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যারা এই অর্থগুলো পাচার করছে এরা বিদেশে বিলাস বহুল জীবনের পাশাপাশি দেশেও কিন্তু একটা আমেজি আয়েশি জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে যারা সত্যিকারের ব্যবসায়ী,যারা ব্যবসা করতে চায়,তারা কিন্তু এদের সাথে পেরে উঠে না এবং একসময় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম ২০০৫সালে এন্টি মানি লন্ডারিং ডিপার্টমেন্ট খুলেছিল। তাদের কাজ ছিল এ বিষয়ে মনিটরিং করা, ব্যাংকের কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কি না দেখা, অর্থ অন্যায়ভাবে বাইরে চলে যাচ্ছে কি না ইত্যাদি সহ বিষয়গুলো তদারকি করা। আমি মনে করি প্রকৃতপক্ষে সেই কাজটি  যথাযথভাবে হচ্ছেনা। তাছাড়া  অনিয়ম দেখা গেলে সেক্ষেত্রে সেটা দুর্নীতি দমন কমিশন ও সি.আই.ডির দায়িত্বে পড়ে। তারা তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপগুলো নেয়। এখানে আমি দেখেছি এরা বহু সময় নিয়ে, বলা যায় এরা অনেক বেশি কালক্ষেপণ করে এবং দায়সারা একটা তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে দেয়। কখনো কখনো আমরা তা দেখতেও পাই না। তাছড়া বিষয়টি তখন দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সি আই ডি র কাছে ন্যস্ত হয় বলে সেটি আর সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন থাকেনা। দায়িত্বটি তখন সরকার সহ বেশ কয়েকটি সংস্থার উপর বর্তায়।

আমরা জানি,বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। সুইজারল্যন্ড,মালয়েশিয়া সহ বিভিন্ন দেশে এসব অন্যায়গুলি হচ্ছে।এগুলো সনাক্ত করা খুব যে কঠিন তা কিন্তু না। এটা কমাতে হলে বাংলাদেশকে আরও অনেক বেশি  সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, তাদের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সহ তাদেরকে কঠোরভাবে আইনের আওয়ায় নিয়ে আসতে হবে।

আমেরিকাতেও অর্থ পাচার হয়। কিন্তু ওদের ক্ষেত্রে আইন বেশ কড়াকড়ি। ভারতেও দুর্নীতি হয় কিন্তু ওরা খুব দ্রুত পদক্ষেপগুলি নেয়। যেমন,অপরাধীদের বিদেশ থেকে ফে্রত নিয়ে আসা। ওদের ওখানে কেস হচ্ছে। ওরা সুইজারল্যান্ডে যোগাযোগ করছে, ইংল্যান্ডে যোগাযোগ করছে,আমাদের দেশে আমি দেখি,একটা চিঠি দিচ্ছে তারপর সব চুপচাপ।কর্তৃপক্ষ বলছে,আমরা দেখবো,দেখছি,হবে তারপর সব কিছুই আড়ালে চলে যায়। এ ধরণের আপ্তবাক্য অর্থাৎ ধরাছোঁয়ার বাইরে কথাবার্তা যেগুলি প্রকৃতপক্ষে কোন কাজেই আসেনা।।দুই একটি কেস যদি দৃষ্টান্তমূলকভাবে ধরা যেত দুর্নীতিটা কিছুটা হলেও কমতো।

বাংলাদেশ এগমন্ট গ্রুপের সদস্য। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি এর সদস্য। এখানেও আমরা একেবারেই তৎপর নই। আমরা নেপাল,মালয়শিয়া,ফিলিপিনের সাথেও একটি চুক্তি করেছিলাম। অর্থপাচারের ক্ষেত্রে এরা আমাদের জানাবে,আমরা তাদের জানাবো এবং একইসাথে এর সমাধানে বিভিন্নরকম পদক্ষেপ নিব। সেগুলোও যথাযথভাবে কিছুই হচ্ছেনা।

অতএব আইনি পদক্ষেপ নেয়া, দেশে এবং বিদেশে বিশেষ করে এ ধরণের বেআইনি অর্থগুলি যেন না জেনারেট হয় সেদিকে নজরদারি বাড়ানো উচিত। কারণ এভাবে যদি অর্থ বাইরে যেতেই থাকে তাহলে এক্ষেত্রে অপরাধিরা আরো অনেক বেশি উৎসাহিত হবে।ফলে দুর্নীতি হতেই থাকবে।

এই অনার্জিত অর্থ দিয়ে এরা বাড়ি কিনে, ফ্ল্যাট কিনে, জমিজমা কিনে,সেগুলো রোধ করতে হবে।অর্থাৎ সুশাসনের দরকার আছে। স্ব স্ব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতারও দরকার আছে। এই জবাবদিহিতা না থাকাতে, সঠিকভাবে আইনের শাসন না থাকাতে এবং এর পিছনে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেয়া,সেগুলি সঠিকভাবে হচ্ছেনা দেখেই এরা নেতিবাচকভাবে উৎসাহিত হয়ে উঠছে। ফলে এটা দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু বলবো না সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে নষ্ট হচ্ছে। কিছুদিন পর পর এ সংক্রান্ত দুর্নীতিগুলি খবরের কাগজে উঠে আসে এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী এত অর্থ পাচার কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

যে কোন মুল্যে দেশ থেকে এভাবে অর্থ পাচার রোধ করতেই হবে এবং এটা করা না গেলে দেশের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হবে একইসাথে দেশের এগিয়ে যাওয়া অনেক বেশি কঠিন হবে। 

লেখক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর 

অনুলিখন: শেহনাজ পূর্ণা

Header Ad
Header Ad

মে মাসে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট গণঅভুত্থানে গণহত্যার মামলায় আগামী মাসের শুরুতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিচার শুরু হচ্ছে-আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরার বৈশ্বিক নেতাদের সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠান ‘টক টু আল–জাজিরা’য় এ কথা বলেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যেই নির্বাচন হবে বলে ফের জানিয়েছেন তিনি

এ সময় তিনি আরও বলেন, শুধু মানবিক সহায়তা নয়, নিরাপদ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান।

বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং উদাহরণ সৃষ্টিকারী নির্বাচন উপহার দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচনের আগে সংস্কারের তালিকা ছোট হলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন এবং তালিকা বড় হলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশা এখনও তুঙ্গে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার এখনও তাদের জন্য ভালো সমাধান।

আলজাজিরার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জুলাই বিপ্লব, সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়া, সাবেক সরকারের দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আলজাজিরার উপস্থাপক ড. ইউনূসকে প্রশ্ন করেন, এটা কি বলা ঠিক যে, শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মধুচন্দ্রিমা’ এখন সম্ভবত শেষ হয়েছে? কিছু বেশ বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব আপনাকে দিতে হবে। কারণ, পুরোনো ক্ষমতাধরদের প্রভাব রয়েছে, অনেকে রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগাতে চাইতে পারে।

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, মধুচন্দ্রিমা শেষ হোক বা না হোক, বাংলাদেশের মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার এখনও তাদের জন্য ভালো সমাধান। তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সরাসরি চলে যেতে এখনও বলছে না। বরং একটা ভালো নির্বাচন উপহার দিতে সরকারই নির্বাচন আয়োজনের দিকে যাচ্ছে। জনগণ তাড়াতাড়ি ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা এখনও বলছে না।

লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সমাধান কি বাংলাদেশ একা করতে পারবে?

জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কাজ করছি। তারা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কিছু বোঝাপড়া যাতে তৈরি হয়।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন,
এ প্রশ্নের জবাবের একটি অংশ আওয়ামী লীগকেই নির্ধারণ করতে হবে। দলটি আগে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে–তারা নির্বাচনে যোগ দেবে কিনা। তারা এখনও কিছু ঘোষণা করেনি। তা ছাড়া নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন কী প্রতিক্রিয়া দেয়, সেটাসহ নানা বিষয় সামনে আসতে পারে।

তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তা নয়। অন্যান্য রাজনৈতিক দল আছে, যারা বলতে পারে যে, এ আইনের অধীনে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

সাক্ষাৎকারে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের প্রসঙ্গ ওঠে। ড. ইউনূস জানান,
তিনি বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে শেখ হাসিনাকে ‘চুপ’ রাখতে বলেছিলেন তিনি। জবাবে মোদি বলেছিলেন, এটা তার জন্য সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে কিছু বললে, সেটি তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, একসঙ্গে কাজ করার নীতি নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা একসঙ্গেই পারস্পরিক সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ নিতে চাই।

Header Ad
Header Ad

ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা। এছাড়া আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮২ শতাংশ।

সারাদেশের সকাল ৬ টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো অথবা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপামাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আরও বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরের ডিমলাতে সর্বোচ্চ ৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

Header Ad
Header Ad

সবাই মিলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। ছবি: সংগৃহীত

ঐকমত্য কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় সনদ তৈরি করা। সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার অংশ হিসেবে আলোচনা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের এলডি হলে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আলী রীয়াজ বলেন, চর্চা, ঐক্যে এবং সম্মিলিতভাবে জাতীয় সনদ তৈরি করতে সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। ঐকমত্য কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় সনদ তৈরি করা। যাতে করে ক্ষমতার বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশ যাতে সমস্ত সম্ভাবনা নিয়ে জাগ্রত হতে পারে। গত ৫৩ বছর মানুষ যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করছে, সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করা যায়, পথ উন্মুক্ত করা যায়, যেন সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারি। তারাই অংশ হিসেবে এ আলোচনা।

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন, মতামত ও সুপারিশই যথেষ্ট নয়। সব রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর জনমানুষের ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে নতুন বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর করতে পারব। কাজে কি লিখছি তা নয়, চর্চার মধ্য দিয়ে, অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে, প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে আমাদের এ কাজে অগ্রসর হতে হবে। আমরা সেই প্রচেষ্টায় আছি।

ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তরুণদের নেতৃত্বে প্রাণ দিয়ে যে সম্ভাবনা তৈরি করেছে, সবাই মিলে সে সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হতে হবে। সেই পথ ও প্রচেষ্টায় সবাই একত্রিত আছি, থাকব। একত্রিত থাকার তাগিদ জারি রাখব।

রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি দলের কাছে মতামত চেয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর মধ্যে ৩৫টি দল মতামত জমা দিয়েছে বলে জানান আলী রীয়াজ। রোববার পর্যন্ত কমিশন ১৯টি দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে। ২০তম দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে কমিশন সংলাপ করছে বলে জানান আলী রীয়াজ।

২০১৮ সালে বর্তমান গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে আলী রীয়াজ বলেন, তাদের অকুতোভয় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নতুন পর্যায় সূচনা হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী পর্যায়ে একটি অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের সঞ্চালনায় কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

মে মাসে শেখ হাসিনার বিচার শুরু হচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা
ঢাকাসহ সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে
সবাই মিলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই লক্ষ্য: আলী রীয়াজ
ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ
কাশ্মীর সীমান্তে ভারত-পাকিস্তানের ফের গোলাগুলি
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে ৩ পরিবর্তন
দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা
টটেনহামকে উড়িয়ে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল
শেখ হাসিনাকে ‘চুপ’ রাখতে পারবেন না মোদি
রেফারির কাছে ক্ষমা চাইলেন মাদ্রিদের ডিফেন্ডার আন্তনিও রুদিগার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা উপহার দিলেন ছাত্রদল নেতা
দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি
নওগাঁয় গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত না দেওয়ায় জাতীয় পার্টি’র নেতাকে গণধোলাই
পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও পানি না দেওয়ার আহ্বান বিজেপি এমপির
এসআই নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ, ৫৯৯ জনকে প্রাথমিক সুপারিশ
হাকিমপুরে গরীবের চাল ছাত্রলীগ নেতার গুদামে
চুরির অভিযোগে কুবির দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার
ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে আগবাড়িয়ে কিছু করার পক্ষে নয় ঢাকা
সাব-ইন্সপেক্টর পদে প্রাথমিক সুপারিশ পেল ৫৯৯ জন
দুই উপদেষ্টার এপিএস-পিও’র দুর্নীতির খোঁজে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু