শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা একটি বাস্তবতা

আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানেই পুরোপুরিভাবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই, থাকার কথাও নয়। তবে, গুরুত্বপূর্ন কয়েকটি বিষয় যেমন গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক অর্থাৎ যে সব শিক্ষক এ বিষয়গুলোতে অনার্স কিংবা মাস্টার্স করেছেন কিংবা স্নাতক পাস করলেও স্নাতক শ্রেণিতে তাদের ঐ বিষয়গুলো ছিল তাদের পড়ানোর কথা।

এটি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবারই দাবি। আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই তাদের বিদ্যালয় জীবন শেষ করছে এ দুটি বিষয়ে দুর্বলতা নিয়ে। গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক,দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকাকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রশ্ন হচেছ বর্তমান বাস্তবতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে আমরা কি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পাওয়ার অবস্থায় আছি? এ নিয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিবছর একটি চমৎকার কাজ করে যেটি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। ব্যানবেইস দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতি বছরই ‘বাংলাদেশ এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকস’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২১ সালের সে ধরনের তথ্য বলছে যে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের ৮০ শতাংশেরই নেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন স্নাতক কিংবা স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। ২০২১ সালে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন ৯৬ হাজার ৫৮ জন। এর মধ্যে কেবল ৬ হাজার ২৪১ জন শিক্ষক ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী আর এ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ছিলেন ৯ হাজার ৪১ জন শিক্ষক। সে হিসাবে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের ৮৪শতাংশেরই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রি নেই। অভিন্ন চিত্র দেখা যায় গণিতের ক্ষেত্রেও। ব্যানবেইসের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় গণিতের শিক্ষক ছিলেন সর্বমোট ৬৭হাজার ৯৫৫জন। এর মধ্যে মাত্র ৫হাজার ৮৪৩জন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও ৭ হাজার ২৮৫ জন শিক্ষক গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সে হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিতে ডিগ্রি রয়েছে কেবল ১৯ শতাংশ শিক্ষকের। বাকি ৮১ শতাংশই অন্য বিষয়ে ডিগ্রিধারী।

বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রিধারী শিক্ষকের দিক থেকে বেসরকারির তুলনায় অবশ্য সরকারি বিদ্যালয়গুলোর চিত্র ভালো। সরকারি বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৫০৬ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ১ হাজার ৪৬৩ জনই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে যা শতকরা ৩০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বিদ্যালয়ে ৯১ হাজার ৫৫২ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রি রয়েছে ১৩ হাজার ৮১৯ জনের বা ১৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। আর গণিত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৬০২ শিক্ষকের মধ্যে এক হাজার ২৫৪ জন বা ৩৪ দশমিক ৮১ ভাগের বিষয়ভিত্তিক স্নাতক স্নাতকোত্তর ডিগ্রী রয়েছে। যদিও বেসরকারির ক্ষেত্রে সেই হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।অর্থাৎ ৬৪ হাজার ৩৫৩ শিক্ষকের মধ্যে গণিতের ডিগ্রি রয়েছে কেবল ১১ হাজার ৮৭৪ জনের। সরকারি স্কুলের ৪ হাজার ৫০৬ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ৬৯০ জনের স্নাতকে ইংরেজি ছিল আর ১৪৬জন এইচএসসি পাস।

আর বেসরকারি স্কুলের ৯১ হাজার ৫৫২ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ২০ হাজার ৬৫০ জনের স্নাতক ইংরেজি ছিল না আর ৩ হাজার ৭১১ জন এইচএসসিপাস। ৬৭ হাজার ৯৫৫ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১৬ হাজার ২৫৬ জন বা ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশের স্নাতকে গণিত ছিল না। আর ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ বা ৮ হাজার ২৫৮ জন এইচএসসিতে গণিত পড়েননি, কিন্তু গণিতে শিক্ষকতা করছেন। এদের মধ্যে ৩হজার ৬০২ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ৭৪৫ জনের স্নাতক পর্যায়ে গণিত ছিল না, আর এইচ এসসিতে গণিত ছিল না ২০২জনের। বেসরকারি স্কুলের ৬৪ হাজার ৩৫৩ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১৫হাজার ৫১১ জনের স্নাতক পর্যায়ে গণিত ছিল না, আর এইচএসসিতে গণিত ছিল না ৮ হাজার ৫৬ জনের।

শিক্ষকদের যোগ্যতাগত ঘাটতির প্রভাব স্বভাবতই শিক্ষার্থীদের শিখনফলে পড়ার কথা এবং পড়ছেও। সরকারের বিভিন্ন গবেষণায়ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতাগত দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা অধিদপ্তরের তদারক ও মূল্যায়ন বিভাগ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিষয়ক একটি গবেষণা পরিচালনা করে। ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অব সেকেন্ডারি স্টুডেন্টস-২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি মাউশি। তবে ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাধ্যমিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এখনো ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে।

এর মধ্যে ইংরেজিতে বেশি খারাপ। ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইংরেজি অবস্থা খুবই খারাপ, ৩২ শতাংশ খারাপ বা গড়পড়তা স্তরে আছে। এ দুই স্তর মেলালে ৬১ শতাংশ শিক্ষার্থীর অবস্থাই খারাপ বলা যায়। মোটামুটি ভালো স্তরে আছে ১৮ শতাংশের মতো। বাকি শিক্ষার্থীরা ভালো ও খুবই ভাল স্তরে আছে। অষ্টম শ্রেণিতে ইংরেজিতে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ব্যান্ড ২ ও ৩ স্তরে আছে। ২৮ শতাংশ মোটামুটি ভাল। এ শ্রেণিতে চার ভাগের প্রায় এক ভাগ খুবই ভাল করেছে। এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো। সাড়ে ১২ শতাংশ খারাপ স্তরে। বাকিরা মোটামুটি ভাল, ভাল ও খুবই ভাল।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, যেসব শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রী নেই, তাদের দিয়ে পাঠদান করিয়ে কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জন সম্ভব নয়। তাদের মতে, শুধু গণিত কিংবা ইংরেজি নয়, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া জরুরি।একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে, গণিতের গ্রাজুয়েট যারা তাদের শিক্ষার্থীরা গণিতে ভাল করেছে, যারা বিজ্ঞানের গ্রাজুয়েট তাদের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানে ভাল করেছে। আর ম্যানেজমেন্ট পড়ে যারা গণিতে পড়াচেছন তাদের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের হার কম। ভিন্ন বিষয়ের স্নতকধারীরা গণিত কিংবা বিজ্ঞান পড়াতে গেলে কাঙক্ষিত মান অর্জন কঠিন হবেই। প্রশিক্ষণের দিক দিয়েও বেশ পিছিয়ে রয়েছেন গণিত ও ইংরেজি শিক্ষকরা। ২০১৯ সালে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার নানাদিক নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান।

এর ফলাফলের ভিত্তিতে’ সেকেন্ডারি স্কুল টিচারস ইন বাংলাদেশ: ইন দ্যা লাইট অব এসডিজি ফোর’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।তাতে উঠে আসে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত ৫৫ শতাংশ শিক্ষকেরই বিষয়ভিত্তিক কোনো প্রশিক্ষন নেই। শিক্ষকের মানের কথা বলতে গেলে সবার আগে যে বিষয়টি আসে সেটি হলো শিক্ষকের যোগ্যতা। কারণ, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা কোনভাবেই সম্ভব নয়। অথচ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়টি বেশ অবহেলিত। আর যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক না পাওয়ার অন্যতম কারন আমরা এ পেশায় তাদের আকৃষ্ট করতে পারছি না। বিভিন্ন খাতে যত বড় উন্নয়নই হোক না কেন, শিক্ষাকে অবহেলায় রেখে তা কখনই টেকসই হবে না। তাই আমাদের শিক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে হলেও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় প্রয়োজন বলে কোনো কোনো শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেছেন।

গণিতে ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ৪৩ শতাংশ শিক্ষার্থী খারাপ। এর মধ্যে ১৩ শতাংশের অবস্থা খুবই খারাপ। মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছে তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষার্থী। খুবই ভাল স্তরে আছে কেবল ৫ শতাংশ। অষ্টম শ্রেণিতে গণিত বিষয়ে ২২ শতাংশ খারাপ অবস্থায় এবং মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে ৩৬ শতাংশ। বাকিরা ভালো ও খুবই ভালো। দশম শ্রেণিতে প্রায় ৭ শতাংশের মতো শিক্ষার্থীর অবস্থা খারাপ। এ শ্রেণিতে খুবই খারাপ শিক্ষার্থী প্রায় নেই বললেই চলে। ভাল অবস্থায় আছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৬ হাজারের বেশি ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে ২২ শতাংশই স্নাতকে ইংরেজি পড়েননি। আর ৪ শতাংশ ইংরেজি শিক্ষক শুধু এইচএসসি পাস। অপরদিকে, মাধ্যমিকের ৬৭ হাজার ৯৭৫ জন গণিত শিক্ষকের মধ্যে ১২ শতাংশের বেশির স্নাতক বা এইচএসসিতে গণিত ছিল না। আর প্রায় ২৪ শতাংশের স্নাতকে গণিত বিষয় ছিল না। অর্থাৎ স্নাতক গণিত ও ইংরেজি না পড়েই এক পঞ্চমাংশ শিক্ষক গণিত ও ইংরেজি বিষয় পড়াচ্ছেন। শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচচশিক্ষা না থাকলে শিক্ষকদের মাধ্যমে কাঙিক্ষত শিখনফল অর্জন সম্ভব নয়।

এরশাদ সরকার জনপ্রিয়তার জন্য ইংরেজি ছাড়া বিএ ও গণিত ছাড়া বিএসসি পড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তখন পাস করা শিক্ষার্থীদের একটা অংশ শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে গণিত ও ইংরেজি বিষয় পড়াচ্ছেন। আমার প্রশ্ন আমাদের দেশের তখনকার শিক্ষাবিদরা কি বিষয়টিতে খুব একটা বাধাঁ প্রদান করেছিলেন? করেননি। এরশাদ আর্মির লোক। আর্মিতে তো ইংরেজির গুরুত্ব থাকে সবক্ষেত্রেই কিন্তু এখানে কী ঘটেছিল? তবে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছেন কেউ কেউ কারণ এসব শিক্ষক অবসরে চলে গেলে ও নতুন যোগ্যতা অনুসারে শিক্ষক নিয়োগ হলে এমনটি আর থাকবেনা। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উচচশিক্ষা সবক্ষেত্রেই ইংরেজিতে দক্ষতা জরুরি। আর বিশ্বের সব শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় গণিত শিক্ষাকে। আর এ দুটোতেই আমাদের শিক্ষার্থীরা দুর্বলতা নিতে উপরের শ্রেণিতে উঠতে থাকে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা একটি বাস্তবতা। এ নিয়ে অতিরঞ্জন, হা-হুতাশ, সরকারের সমালোচনা, দুংখ প্রকাশ কিংবা বেশি বেশি উপদেশ দেওয়ার মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? যারা গণিত, ইংরেজি কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কিংবা মাষ্টার্স নিয়ে পড়াশুনা করেন তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ শিক্ষকতা ছাড়া অন্য কোনো পেশায় ঢোকার চেষ্টা করেন এবং ঢুকে যান। এটিও স্বাভাবিক। শিক্ষকতা অর্থনৈতিকভাবে সব জায়গায় বা সবক্ষেত্রে আকর্ষণীয় নয়। তা ছাড়া, এ পেশা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং বর্তমান যুগে খুব চাপেরও। প্রতিষ্ঠান যদি একটু নাম করা হয় তাহলে শিক্ষকদের খাটুনির অন্ত থাকে না। যদি নামকরা না হয় তাহলে চাকরি করাটা অনেকের নিকট প্রেস্টিজের ব্যাপার বলে মনে হয়। তাই, অনেক মেধাবীরা এ পেশায় আসতে চান না।

আর অনার্স মাস্টার্সে শিক্ষার্থীরা যে কন্টেন্ট ও অধ্যায় নিয়ে পড়াশুনা করেন সেগুলো মাধ্যমিক নেই তবে জ্ঞান নিয়ে তাদের যে চর্চা বা প্রাকটিস হয় সেটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষভাবে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের কাজে লাগে। যেমন ইংরেজিতে যারা অনার্স পড়েন তারা যে শেক্স্রপিয়ার, বায়রন পড়ে আসেন তা কিন্তু মাধ্যমিকে নেই। আবার ল্যাংগুয়েজ স্ট্রিম থেকে আসেন তারাও এসে দেখেন মাধ্যমিকে পড়ানোর বিষয় আলাদা। মাধ্যমিকে ভালোভাবে পড়ানোর জন্য তাদের আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়। গণিতে তারা যেসব বিষয় গ্রাজুয়েশন লেভেলে পড়ে আসেন সেগুলো কিন্তু মাধ্যমিকে নেই। অন্য বিষয়ের শিক্ষক যদি ডেডিকেটেড হন তাহলে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কিন্তু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদান আনন্দময় করতে পারেন। গণিতে অনার্স পড়ুয়ারাই যে গণিত করাতে পারবেন তা নয়। যারা অর্থনীতি কিংবা অ্যাকাউন্টিং কিংবা ম্যানেজমেন্ট পড়ে আসেন তারাও কিন্তু পারবেন। একইভাবে, ইতিহাস, অর্থনীতিসহ অন্যান্য বিষয়ে যারা অনার্স পড়েন তারা যদি চর্চা করেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তাহলে ইংরেজি পড়াতে পারেন। আর সেটি তো করতেই হবে, এটিইতো আমাদের বাস্তবতা। উচচমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষক থাকেন বিষয়ভিত্তিক।

আমরা সাধারনত ইংরেজিতে দুর্বল বলতে কি বুঝি? ইংরেজিতে হয়তো ‘এ’ প্লাস পায়নি শিক্ষার্থীরা কিংবা গ্রামারের কিছু জিজ্ঞেস করলে সঠিকভাবে বলতে পারে না সেগুলোকে বলে থাকি। আসলে ইংরেজিতে নিজে কোনো কিছু লিখতে পারবে, বলতে পারবে শুদ্ধভাবে, বিদেশিদের ইংরেজি শুনে বুঝতে পারবে, যেকোনো ইংরেজি বিষয় পড়ে তার মর্মোদ্ধার করতে পারবে। মাধ্যমিক পর্যায়ে এবং উচচ মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি কিন্তু সেভাবে পড়ানো হয় না। এমনিক ইংরেজিতে অনার্স পড়ে যারা মাধ্যমিকে শিক্ষকতা করতে আসেন তারাও এভাবে পড়ান না। তারাও কিছু গ্রামারের নিয়ম-কানুন মুখস্থ করান, কিছু কম্পোজিশন মুখস্থ করান। একইভাবে গণিতের মাধ্যমে যে ব্যাসিক ধারণা সৃষ্টি হওয়ার কথা শিক্ষার্থীদের সেটি কিন্তু হয় না। কাজেই অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং শিক্ষকদের নিজেদের আগ্রহে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির সাথে পরিচিতি লাভ করে মাধ্যমিকের বিষয়গুলো ফলপ্রসূভাবে পড়ানোর দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। করতে হবেও তাই।

লেখক:শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, সাবেক ক্যাডেট কলেজ, রাজউক কলেজ ও বাউবির শিক্ষক, প্রেসিডেন্ট, ইংলিশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইট্যাব)

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী