শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

ভোটের বাদ্য ও ইভিএমের খরচ

আন্দোলনের উত্তাপের মধ্যেই চলছে নির্বাচনের আলোচনা। কেমন হবে নির্বাচন, কেমন দেখতে চাই নির্বাচন আর কেমন হয়েছিল নির্বাচন এই আলোচনাকে সামনে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয়। পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে কোনোকিছুই তো আগের মতো হয় না। ফলে নির্বাচন কেন আগের মতো হবে?

২০১৪ সালের নির্বাচনে বিরোধীদল ভোট বর্জনের কারণে ভোটের দিনের আগেই সরকার গঠনের উপযোগী আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকার জয়লাভ করেছিল। তাতে আইন রক্ষা হলেও নির্বাচন তার গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ক্ষমতাসীনরাও একে নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলেছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সবাই অংশ নিলেন কিন্তু অভিযোগ উঠল যে ভোটের আগের রাতেই ভোটবাক্স ভর্তি করা হয়েছে।

তাহলে আগামী নির্বাচন কেমন হবে? আগের মতো দৃষ্টিকটু পথে হবে না এটা নিশ্চিত, তাহলে কীভাবে হবে? নির্বাচনের সময় সরকার কেমন থাকবে, প্রশাসন ও পুলিশ কী ভূমিকা পালন করবে, এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছাপিয়ে মূল আলোচনা কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে যন্ত্র নিয়ে। যন্ত্রের নাম ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন।

নির্বাচন একটি অতি রাজনৈতিক বিষয়। নির্বাচন নিয়ে সংকটটাও রাজনৈতিক। আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংকটকে কি কারিগরি পদ্ধতিতে মোকাবিলা করা হবে? ডিজিটাল সাফল্যের প্রচার করতে করতে সরকার শেষ পর্যন্ত নির্বাচনেও কি ডিজিটাল নির্ভরতা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে? এই প্রশ্ন উঠছে বিরোধী শিবিরসহ অনেকেরই মধ্যে। কিন্তু সংকট যখন রাজনৈতিক তখন কারিগরি কৌশল সংকট মোকাবিলায় কতটা কাজে আসবে? আগের দিন বা রাতে এলাকায় থাকতে পারবে কি না, ভোটদানের কক্ষে কার নিয়ন্ত্রণ থাকবে, কেউ আবার বোতাম টেপায় সহায়তা করবে কি না, ভোট গণনার সময় আবার সাময়িকভাবে গণনা বন্ধ থাকবে কি না ইত্যাদি নানা সন্দেহ ঘুরে বেড়ায় বাতাসে। কিন্তু সে সব বিষয় নিয়ে আশ্বস্ত করার চাইতে ইভিএমে ভোট করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থান সন্দেহ জাগায়। এমনিতেই ঘর পোড়া গরু তার উপর আবার ইভিএমের সিঁদুরে মেঘ!

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় ইভিএম নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ উৎসাহ নিয়ে সমর্থন জানালেও শুধু বিরোধী দলসমূহ নয়, নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মহলেও যন্ত্রটি নিয়ে ভীষণ আপত্তি রয়েছে। ইভিএম নিয়ে আপত্তির একটা কারণ হলো ইভিএম রিমোট হ্যাকিং করা যায়।

ড. অ্যালেক্স হালডারমেন নামে একজন বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ইভিএমের ওপর গবেষণা করে প্রমাণ পেয়েছেন, আমেরিকায় ইভিএম টেম্পারপ্রুফ নয়। পরবর্তীকালে এ কারণে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যেও ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ২২টির বেশি অঙ্গরাজ্যে ইভিএম নিষিদ্ধ। আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসও ইভিএম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। জার্মানি ও ফিনল্যান্ডে আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ইভিএম।

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৪ সাল থেকে ইভিএম ব্যবহার করছে আর ভারত ব্যবহার শুরু করেছে ১৯৮৪ সালে। এই দুই দেশে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে এখন বিতর্ক চলছে। পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, ভারতে ইভিএম জালিয়াতি জেনে যাওয়ার কারণে খুনের মতো ঘটনা ঘটেছে। (ইভিএমের কারচুপি জানায় গোপীনাথ ও গৌরী খুন? ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, প্রথম আলো)।

নির্বাচনী পদ্ধতি সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা, পৃথিবীর ৯০ শতাংশ দেশে ইভিএম পদ্ধতি নেই। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ড ই-ভোটিং পরিত্যাগ করেছে। ২০০৯ সালের মার্চ মাসে জার্মানির ফেডারেল কোর্ট ইভিএমকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দেয়। ২০০৯ সালে ফিনল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট তিনটি মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনের ফলাফল অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। উন্নত দেশ, আধুনিক যন্ত্র এবং ডিজিটাল টেকনোলজি ভালোভাবে ব্যবহার করা সত্ত্বেও মূলত, ইভিএম নিয়ে বিতর্ক ও নানাবিধ জটিলতার কারণে এই দেশগুলো ইভিএম ব্যবহার থেকে সরে গেছে। ইভিএম নিয়ে ইউরোপের দেশসমূহের একাধিক পর্যবেক্ষণের কারণেই তারা ইভিএমে জনগণকে ভোট দিতে বাধ্য করছেন না। ফলে আমাদের দেশে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতার মধ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। এর ফলে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা এবং ইভিএম কেনার জন্য টাকা বরাদ্দের তৎপরতা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ডলারের রিজার্ভ কমে যাওয়া, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বিশ্বব্যাপী নানা সংকটের কথা বলে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যখন ব্যয় সংকোচনের কথা বলা হচ্ছে, যখন আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে, তখন নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানালেন, আগামী নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোট করার জন্য মাত্র ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা দিয়ে ২ লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনা হবে। তাদের হিসাবে মেশিন-প্রতি দাম পড়বে মাত্র ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৫৫০ টাকা। এত দাম আর পেপার অডিট ট্রেইল থাকবে কি না এই সন্দেহ সত্ত্বেও এ যেন টানাটানির সংসারে গাড়ি কেনার পরিকল্পনার মতো।

এর মধ্যেই খবর বের হলো, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ ২০১৮ সালে ইসি ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা দিয়ে যে দেড় লাখ ইভিএম কিনেছিল (যার প্রতিটির দাম পড়েছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা) তার ২৮ হাজারই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। বিকল ইভিএমগুলোর ‘ওয়ারেন্টি ডেট’ থাকলেও সেগুলো বিনা খরচে মেরামত করে কাজে লাগানো যাবে কি না তা পরিষ্কার জানা যায়নি এখনো।

এখন ছোট বেলায় শেখা পাটিগণিত অনুযায়ী একটু হিসেব করে দেখা যাক। নতুন ইভিএম কিনতে খরচ হবে ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকা‍‍‍, আগের ইভিএম কিনতে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা। তাহলে ইভিএম কেনা বাবদ খরচ দাঁড়ায় ১২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। ১ মার্চ নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১১ কোটি ৩২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫১ জন। ৩০০ আসনে এই পরিমাণ ভোটার হলে ১৫০ আসনে তার অর্ধেক হবে। ১৫০ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার। তাহলে ইভিএম যন্ত্র বাবদ এই ১৫০ আসনে প্রত্যেক ভোটারের পেছনে খরচ কত হবে, দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে ভোটারপিছু শুধু ইভিএম কেনা বাবদ খরচ হবে ২ হাজার ২১৪ টাকা। এর বাইরে পরিচালনা ব্যয় তো আছেই। এই বিপুল ব্যয় করে বাড়তি হিসেবে আমরা পাব আপত্তি, অসন্তোষ আর আশঙ্কা।

গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত জবাবদিহি আর প্রধান সংকট আস্থাহীনতা। যন্ত্রের চাইতেও জনগণের মনের সংশয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই সংশয় দূর করাটাই নির্বাচনের আগে প্রধান কাজ।

লেখক: সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)।

এসএন

 

Header Ad
Header Ad

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলা ও বাড়ি লুটপাটের পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। বুধবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম আতাউর রহমান (৬০)। তিনি বিলউথরাইল গ্রামের মৃত ফজের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সমর্থক। বিবাদমান একটি জমি নিয়ে বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে ভুক্তভোগী আতাউর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

সংবাদ পেয়ে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টিম। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে তাঁদেরকে নওগাঁ কারাগারে পাঠিয়েছে মান্দা থানা পুলিশ।

সংবাদ পেয়ে সেখানে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ও উপজেলা বিএনপি'র নেতৃবৃন্দরা।

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তুহিন আলী (৪০), বুলবুল আহমেদ সুমন (৩২), মাইনুল ইসলাম (৪০), মারুফ হোসেন (১৯), পিয়াস আহমেদ (১৯), ফিরোজ হোসেন (২৬), আবু সাইদ মন্ডল (৪৫), বিদ্যুৎ হোসেন গাইন (৩৬) ও এমাজ উদ্দিন মন্ডল (৫৫)।

ভুক্তভোগী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার কবলাকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল করে রেখেছেন বিলউথরাইল পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন। আদালতের রায়ের পরও ওই সম্পত্তিতে যেতে পারছি না। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পশ্চিমপাড়ার আওয়ামীলীগ সমর্থকের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতবাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আমাদের সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকারীদের দেওয়া আগুনে পুরো বাড়ির টিনের ছাউনি, দুটি মোটরসাইকেল, জমির দলিলসহ যাবতীয় আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তা আমরা কোনোভাবে প্রাণে বেঁচে যাই।’

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আতাউর রহমানের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ঘটনায় আতাউর রহমান বাদি হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদেরকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু

ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু। ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে এই বৈঠক শুরু হয়, যা উভয় নেতা মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. ইউনূস এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিমসটেক সম্মেলনের এক নৈশভোজে দুই নেতার কুশলাদি বিনিময় হয়। নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।

এই নৈশভোজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোর অধিকাংশই পেছন থেকে তোলা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে ওই নৈশভোজের কিছু ছবি পোস্ট করেছেন, যার ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, “ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে।”

ড. ইউনূস বর্তমানে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Header Ad
Header Ad

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে অপসারণ করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। শুক্রবারের ঐতিহাসিক এই রায়ের মাধ্যমে ইউনের প্রেসিডেন্সি বাতিল করা হয়, যার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। এই সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আন্তর্বর্তীকালীন প্রধান বিচারপতি মুন হিউং-বে আদালতের রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার পদক্ষেপ ছিল গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি আরও বলেন, ইউন জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং সামরিক আইন জারি করে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

এই রায়ের পক্ষে আটজন বিচারপতি একমত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং "আমরা জিতেছি!" স্লোগান দিতে থাকেন, যা দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েক মাস ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর সংকেত।

এছাড়া, ৬৪ বছর বয়সী ইউন সুক-ইওল এখনও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। জানুয়ারিতে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তবে পরে মার্চে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করে তাকে মুক্তি দেয়।

এ সংকট শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর, যখন ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংসদ সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে পার্লামেন্টে প্রবেশ করে এবং আইনটি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে ইউন এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন এবং দাবি করেন, তার কখনও জরুরি সামরিক শাসন জারি করার ইচ্ছা ছিল না।

প্রতিবাদ চলতে থাকলেও আদালতের রায়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর একটি প্রভাব পড়বে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

লুটপাটের পর পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি সমর্থকের বসতবাড়ি, গ্রেপ্তার ৯
ব্যাংককে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করল আদালত
গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
সংস্কার শেষে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করাই প্রধান লক্ষ্য: প্রধান উপদেষ্টা
নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: টুকু
যৌথবাহিনীর অভিযান: ৭ দিনে গ্রেপ্তার ৩৪১
রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় প্রাণ গেলো নারীর
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
ব্যাংককে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আজ
রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া ময়মনসিংহের ইয়াসিন নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যুর ইতিবাচক সমাধান হবে: প্রধান উপদেষ্টা
অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি