শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫ | ৬ বৈশাখ ১৪৩২
Dhaka Prokash

স্বাধীনতার অর্ধ-শতাব্দী: ওষুধশিল্পে বাংলাদেশ কতদূর এগোল

স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশে ওষুধশিল্প ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। দেশের সিংহভাগ ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এতে প্রচুর বৈদশেকি মুদ্রার অপচয় হতো। দেশে যে সামান্য পরমিাণ ওষুধ উৎপাদন হতো, তাও বিদেশি ওষুধ কোম্পানির নিয়ন্ত্রাধীন ছিল। ছিল না সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ। এ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবিুর রহমানরে উদ্যোগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি ‘ড্রাগ কন্ট্রোলার অফিস’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশের মানুষ যেন প্রয়োজনের সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়রোধ করা যায় সে লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবিুর রহমান একটি কমিটি গঠন করান। এই কমিটিকে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন, বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ওষুধের মান যাচাই-বাছাই, পরমিাণ ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। গঠন করা হয় টিসিবির অধীনে একটি ‘ড্রাগ সেল’। মূলত এসব র্কমকাণ্ডই ‘ছায়া ওষুধ নীতি’ হিসাবে কাজ করেছে। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওষুধের আমদানি কমিয়ে দেশে ওষুধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ঔষধশিল্পকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য ‘ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর’ গঠন করেন। এ ছাড়া ওষুধের আমদানি কমিয়ে আনতে আগেই গঠিত ‘বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক’ ও ‘বাংলাদশে শিল্প ঋণ সংস্থা’কে নতুন ঔষধশিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে নির্দেশ দেন।

বর্তমানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হাতে ঔষধ শিল্পের পূর্ণ তদারকি। প্রতিষ্ঠনটি ১৯৭৬ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে সরাসরি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে একটি পৃথক অধিদপ্তর হিসেবে কাজ শুরু করে এবং ১৭ জানুয়ারি ২০১০ এ এসে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর হিসেবে উন্নীত হয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাজ- ওষুধের সমস্ত নতুন প্রকল্পের প্রস্তাবের মূল্যায়ন, ঔষধ উৎপাদন লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন, বিক্রয় ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যু এবং নবায়ন, ওষুধ পণ্যের নিবন্ধন ও নবায়ন, ওষুধ পণ্যের মূল্য নির্ধারণ এবং মূল্যের সার্টিফিকেশন, ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং উপকরণ আমদানির জন্য তালিকার অনুমোদন, ওষুধ আমদানির জন্য ইন্ডেন্টের অনুমোদন, নজরদারি এবং ফার্মাকোভিজিল্যান্স কার্যকলাপ, মাদক আদালত এবং অন্যান্য আদালতে মামলার বিচার, রপ্তানি লাইসেন্স, এফএসসি (ফ্রি সেলস সার্টিফিকেট), জিএমপি (গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাকটিস) সার্টিফিকেট এবং সিপিপি (ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের শংসাপত্র) প্রদান।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিশেষ করে ১৯৮২ সালে প্রথম ড্রাগ অ্যাক্ট জারি হওয়ার পর ঔষধ শিল্পের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। আশির দশকের প্রথমদিকে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ছিল। তখন দেশে মোট ১১৬ জন লাইসেন্সধারী ওষুধ উৎপাদনকারী ছিল। তাদের মধ্যে ৮টি বহুজাতিক কোম্পানি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৭০ শতাংশ উৎপাদন করত। বাকী ৩০ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশ করে বাজার যথাক্রমে ২৫টি মাঝারি ও ১৩৩টি ক্ষুদ্র আকারের স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের দখলে ছিল। কিছু স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর হয়ে কাজ করত, আমদানিকৃত প্রোডাক্টস বিক্রয় করত এবং ওষুধ উৎপাদন করত। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মূলত সিম্পল ড্রাগ ফর্মুলেশন ম্যানুফ্যাকচার করত আর এগুলো ছিল বহুলাংশে নন-এসেনশিয়াল ড্রাগস। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত হয় বাংলাদেশ ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স ১৯৮২। এই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী কোনো বিদেশি কোম্পানি
কোনো স্থানীয় উৎপাদনকারীর কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে পারবে না যদি না দেশে তাদের নিজস্ব কোনো সেটআপ থাকে । এ অর্ডিন্যান্স বাস্তবায়নের ফলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আধিপত্য কমতে থাকে এবং দেশীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর বিকাশ লাভ করে। ১৯৮২ সালের ড্রাগ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয় ২০০৫ ও ২০১৫ সালের ওষুধ নীতির মাধ্যমে। জাতীয় ওষুধনীতি ২০০৫ এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল কম দামে জরুরি ওষুধের সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা। এ একই নীতির আওতায় সাবকনট্রাকটিং এর উপর বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার ফলে কতগুলো স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোম্পানিগুলোর
সঙ্গে মিলে ওষুধ উৎপাদন ও রপ্তানির কাজ শুরু করে। কেবল জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রেই নয় অধিকন্তু প্যাটেনটেড ওষুধের ক্ষেত্রেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করে।

১৯৯৫ সালে, বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে ট্রিপস চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর ফলে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পেটেন্ট ছাড়াই ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সুবিধা পায়। আর এ জন্যে বাংলাদেশ কম খরচে ওষুধ উৎপাদন করতে পারে এবং ভোক্তা পর্যায়ে ওষুধের দাম অনেক কম হয়, যা বাংলাদেশের অনুন্নত স্বাস্থ্য খাতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রাথমিকভাবে, চুক্তির সময়সীমা ২০০৫ সাল পর্যন্ত ছিল, কিন্তু পরে এটি ২০১৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। পরে আবার চুক্তির মেয়াদ ২০৩৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই সুবিধাটি

দেশের ওষুধ শিল্পের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতিকারকরা প্রধানত জেনিরিক ওষুধ উৎপাদন করে। বাংলাদেশে উৎপাদিত ওষুধের ৮০ শতাংশই জেনেরিক, ২০ শতাংশ মাত্র প্যাটেন্টেড ড্রাগ। মোট ওষুধের মধ্যে জেনেরিক ওষুধের আধিপত্য দেশের ওষুধ শিল্প বিকাশের একটি শক্তিশালী স্তম্ভস্বরূপ। কারণ এসব ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্যাটেন্ট বাবদ কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না [৩] ড্রাগ অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প খাত (অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক খাত) একটি শক্তিশালী খাত হিসেবে দ্রুত বিকাশ লাভ করতে থাকে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলে জেনিরিক ওষুধ উৎপাদনের বিকাশমান হাব হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১৩ সালে এ খাত থেকে ১০২ বিলিয়ন টাকা রাজস্ব আয় হয়, যা বেড়ে ২০১৮ সালে ২০২ বিলিয়ন ডলারে উন্নিত হয়। 

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে মোট ৪৭টি কোম্পানি বিশ্বের ১৫৩টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে থাকে। তবে দেশের ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল এখনো আমদানি নির্ভর, তাই লাভের গুড় পিঁপড়ায়ই খেয়ে যায় বেশি। অধুনা এ সমস্যা সমাধানকল্পে এবং ঔষধ শিল্পকে সয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ‘এ্যকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট’ বা ঔষধশিল্প পার্ক নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে তৈরি হবে ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল এতে কাঁচা মালের আমদানি খরচ বাঁচবে। দেশে নিজস্ব পেটেন্টেড ঔষুধের গবেষণা ও উৎপাদন বাড়বে। দেশের কেমিস্ট ও বায়োকেমিস্টরা দেশে কাজ করতে আগ্রহী হবে। সঙ্গে সঙ্গে ঔষধের বাজার আরও সম্প্রোসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান [৪]। জনাব জামানের আমরাও প্রত্যাশা করি বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাক। নিজস্ব পেটেন্টে তৈরি হোক নতুন নতুন ওষুধ, বাড়ুক রপ্তানি আয়। সেই সঙ্গে দেশে ঔষধের মূল্য থাকুক সাধারণ নিম্নবিত্তের হাতের নাগালে যেন রোগ নিরাময়ে ঔষধ কিনতে গিয়ে যেন কাওকে সর্বশান্ত হতে না হয়।

লেখক: ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার সি ই ও, এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েট ফর সোশ্যাল ডেভোলাপমেন্ট

এমএমএ/

 

Header Ad
Header Ad

দেশের ইতিহাসে এবারের নির্বাচন সর্বোত্তম হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোত্তম নির্বাচন—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল)-এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন—সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোসালেস, বাংলাদেশ নির্বাচন ও গণতন্ত্র কর্মসূচির পরামর্শক মে বুটয়, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার থারিন্ডু আবেরত্না, প্রোগ্রাম অফিসার আয়ান রহমান খান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আফসানা আমেই।

এএনএফআরইএল হচ্ছে এশিয়ার একটি নির্বাচনভিত্তিক নাগরিক সংগঠন, যারা বিগত দুই দশক ধরে সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।

সাক্ষাতে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে তাদের চলমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করে। তারা জানান, বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও নাগরিকচালিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা স্টেকহোল্ডার ম্যাপিং ও প্রয়োজন নির্ধারণমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন, যা দেশের সুশীল সমাজের কার্যকর সম্পৃক্ততা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

Header Ad
Header Ad

বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে ভারত: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভারত দাবি করছে—বাংলাদেশ নাকি ধ্বংস হয়ে গেছে, এ দেশ আর টিকে নেই। এসব বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই, এটি দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

শনিবার দুপুরে নাটোর জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জিয়া পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন। সেই পথেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজও জনগণের দল হিসেবে টিকে আছে। বিএনপি এমন একটি দল, যাকে কোনো ষড়যন্ত্র দিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না।

ভারতকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তারা চায় এই দেশ ভারতের অনুগত হয়ে থাকুক। তাই তারা একটি তাবেদার রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছে। শেখ হাসিনার মাধ্যমে তারা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের ছত্রছায়ায় এই সরকার গুম, খুন, দমন-পীড়নের রাজনীতি চালিয়ে গেছে। সেই শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করতে ভারত মদত দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন—ভারতকে যা দিয়েছেন, তারা তা সারা জীবন মনে রাখবে। জনগণ এখন সেই কথার অর্থ বুঝতে পেরেছে। দেশের সম্পদ লুটপাট, টাকা পাচার, বিরোধীদের দমন—সবই করা হয়েছে ভারতের আশীর্বাদে। এখন ভারত তাদের সহানুভূতি দেখাচ্ছে, কারণ তারা চায় বাংলাদেশকে নিজেদের প্রভাবাধীন রাখতেই।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাটোর জিয়া পরিষদের সভাপতি আহমুদুল হক চৌধুরি স্বপন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. শফিকুল ইসলাম।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। আরও বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী মহাসচিব প্রফেসর ড. মো. এমতাজ হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক কাজী গোলাম মোর্শেদ, রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সালাম বিপ্লব, নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিদেশি প্রভাবের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানান।

Header Ad
Header Ad

ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালই যেন নিজেই অসুস্থ!

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন ভূঞাপুর ছাড়াও আশপাশের গোপালপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার অসংখ্য মানুষ। তবে জনগুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটি বর্তমানে নিজেই এক অসুস্থ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে।

বছরের পর বছর ধরে চলে আসা নানা অব্যবস্থাপনা, জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে এই সরকারি হাসপাতালটি এখন রোগীদের ভোগান্তির আরেক নাম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ভিতর ও বাইরের পরিবেশ একেবারেই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় ধরে সইতে হচ্ছে। বিশেষ করে টয়লেটের অবস্থা ভয়াবহ; অধিকাংশ টয়লেট ব্যবহারের অযোগ্য এবং পরিচ্ছন্নতার কোনো ব্যবস্থাই নেই। পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড উভয়ের রোগীরা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

ছবি : ঢাকাপ্রকাশ

বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় হাসপাতাল কার্যত অন্ধকারে ডুবে যায়। হাসপাতালে একটি জেনারেটর থাকলেও তা চালু করা হয় না এবং সেটিও বহু পুরনো। হাতে গোনা কয়েকটি চার্জিং বাল্ব থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোর আলো টিকেই না, কিছু সময় পর বন্ধ হয়ে যায়। শিশু ওয়ার্ডের (ডায়রিয়া) মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চার্জিং বাল্ব পর্যন্ত নেই। ফলে রাতের বেলায় এক ভয়ংকর ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আলো না থাকায় নার্সদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে সেবা দিতে দেখা গেছে।

চরম গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা। শিশু ওয়ার্ডে থাকা আটটি ফ্যানের মধ্যে তিনটি সম্পূর্ণ নষ্ট, আর যেগুলো সচল রয়েছে, বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলোও চলে না। ফলে শিশু রোগীরা ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছে, তাদের স্বজনরা হাতপাখা বা চার্জার ফ্যান নিয়ে চেষ্টা করছেন কিছুটা স্বস্তি দিতে।

হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রবেশ করে দেখা যায়, মেঝেতে ময়লার দাগ, দেয়ালে থুতু, কফ ও পানের পিকের ছিটা। শয্যা ও ওষুধ রাখার ট্রেগুলোতেও দেখা গেছে মরিচা ও জমে থাকা ময়লা। এসব স্থানে মাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে অবলীলায়, যা পুরো হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

এমন পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী, যিনি হাসপাতালের বারান্দায় ফ্যানহীন পরিবেশে ভর্তি রয়েছেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেওয়ার পরও কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি। টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগিতা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিন মাসের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোজিনা বেগম বলেন, টয়লেটের অবস্থার কারণে তিনি পানি ও খাবার খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন, যেন টয়লেট ব্যবহার না করতে হয়। টয়লেটে ঢোকা তো দূরের কথা, পাশে দাঁড়ানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতার কারণে।

গোপালপুর উপজেলার বড়শিলা গ্রামের রোগীর স্বজন সাজেদা বেগম বলেন, এখানে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীর স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কোনো অভিযোগ করার সুযোগ নেই, আর কেউ কিছু বললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২২ সালে ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) হিসেবে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের এই বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নার্স জানান, ডা. সোবহান কর্তৃত্ববাদী মনোভাব পোষণ করেন। তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীরা বদলি বা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

তবে আরএমও ডা. খাদেমুল ইসলাম বলেন, “সমস্যা যে নেই, সেটা বলছি না। তবুও আমরা সীমিত জনবল ও সামর্থ্যে কাজ করে যাচ্ছি। শতভাগ কাজ সম্ভব হয় না।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান বলেন, “জেনারেটর থাকলেও সেটি চালাতে সরকারি বরাদ্দ নেই। মাঝেমধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালানো হয়। ক্লিনার মাত্র একজন, মাঝে মাঝে বাইরে থেকে লোক ডেকে এনে পরিষ্কার করাতে হয়। আর ফ্যান বা লাইট যেকোনো সময় নষ্ট হতে পারে, যখন জানা যায়, তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” বীর মুক্তিযোদ্ধার বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কেভিনের ব্যবস্থা রয়েছে। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সার্বিকভাবে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা যে ভয়াবহ নাজুক অবস্থায় রয়েছে, তা এই চিত্রগুলো স্পষ্ট করে দেয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ নজরদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে, এই হাসপাতাল রোগীদের সুস্থতার জায়গা হয়ে না থেকে এক ভয়াবহ দুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

দেশের ইতিহাসে এবারের নির্বাচন সর্বোত্তম হবে: প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে ভারত: রিজভী
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালই যেন নিজেই অসুস্থ!
জাতীয় পার্টি কোনো সুবিধাবাদী দল নয়: জিএম কাদের
প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে আইসিইউতে পরিচালক সৃজিত মুখার্জি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান যেন কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয় : নাহিদ ইসলাম
আ.লীগের মিছিল ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশ
হাসিনা-কাদেরসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে ‘রেড নোটিশ’ জারির আবেদন
নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর সেই শিশু সেহেরিশের লাশ উদ্ধার
আগামী ঈদের আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ করছে সরকার
লাল কাপড়ে ঢাকা হবে দেশের সব পলিটেকনিকের ফটক
৬০ বছর বয়সে বিয়ে করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ১২ কেজি রূপার গয়না জব্দ
ফয়জুল করীমকে বরিশালের মেয়র ঘোষণার দাবি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি যুবক নিহত
গোবিন্দগঞ্জে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আটক
বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দিল ভারতীয়রা
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক শনিবার
বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে যা জানাল পাকিস্তান
গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা, শিশুসহ একই পরিবারের ১৩ জন নিহত