শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১
Dhaka Prokash

রাজেকুজ্জামান রতন

মৃত্যু, মৃত্যুদণ্ড এবং তারপর?

 দেশের মানুষ যখন শুনেছিল সারারাত ধরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে তারই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আহত সেই ছাত্র যন্ত্রণায় কাতরেছে, অনুনয় করেছে আর না মারার জন্য, নিজের পরিচয় দিয়ে বারবার বলেছে যারা তাঁকে মারছে সেও তাদের রাজনীতি করে, মার খেতে খেতে মৃত প্রায় সেই ছাত্র তরুণ যার নাম আবরার ফাহাদ একটু পানি খেতে চেয়েছিল কিন্তু পায় নি। কিল ঘুষি শুধু নয়, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প সহ লাঠি সোটা দিয়ে মারতে মারতে যখন দেখেছে মরেই গেল তখন তোষকে মুড়িয়ে সিঁড়ির নিচে রেখে এসেছিল তাঁকে। এই বর্ণনা দিয়েছিল যারা মেরেছে তাদেরই কয়েকজন। মানুষ পত্রিকায় এসব পড়ে শিউরে উঠেছে, অনেকেই পড়তে পারেন নি। কেউ কেঁদেছেন, কেউ স্তব্ধ হয়ে ভেবেছেন, এও কি সম্ভব !

 

দুই বছর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের আঘাতে আঘাতে প্রায় থেঁতলে যাওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। প্রথম দিকে বুয়েট এর ছাত্র ছাত্রীরা আতংকিত হলেও পরবর্তীতে তাঁরাও নেমে আসে প্রতিবাদ বিক্ষোভে। নির্যাতিত ও নিহত  আবরারের বাবা সন্তান হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, প্রগতিশীল ছাত্র জোট সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, রাজনৈতিক মহল, সামাজিক সংগঠন দেশব্যাপী যে প্রতিবাদ গড়ে তোলে তার ফলে এই হত্যা মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক হয়  তিনজন। ছাত্রলীগ বহিস্কার করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকেই।

 

এরপর দুই বছর ধরে মামলা চলার পর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৫ জনকে  যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর  ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। শাস্তির রায় ঘোষণার যুক্তি হিসেবে আদালতে বিচারক বলেন, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দেওয়া হয়েছে।  


রাগে উত্তেজনায় কাউকে আঘাত করার মধ্যে খুব একটা অস্বাভাবিকতা নেই। দুই পক্ষের সংঘর্ষে লাঠির আঘাতে বা গুলিতে কেউ মারা যাওয়া বা টার্গেট করে কাউকে হত্যা করা বা অকস্মাৎ আঘাতে মরে যাওয়া এক কথা। কিন্তু  একজন সহপাঠীকে রাতভর পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার মধ্যে বিকৃত আনন্দ উপভোগ করা সম্পূর্ণ আলাদা কথা। আবরারকে পিটিয়ে অর্ধমৃত রেখে তারা রাতের খাবার খেয়েছে, খেলা দেখেছে। সবাই মিলে এ অবস্থায় যেতে পারলো কি ভাবে?  এই ধরণের  নৃশংসতার কোনও নজির কি আছে? অনেকেই বলেন  ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এই নৃশংসতার তুলনা হতে পারে কেবল ছাত্রলীগের সঙ্গেই। ২০১২ সালে পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করেছিল বিশ্বজিৎ দাসকে। এ দুটি ঘটনায় কোনটি বেশি নৃশংস তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। অনেকেই বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডকেই শীর্ষে রাখবেন। কারণ, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল দিনের বেলায় সবার চোখের সামনে। সব টিভির ক্যামেরায় তার ছবি আছে। এক্ষেত্রে বলা যায় ঘটনাটি তাৎক্ষনিক উত্তেজনায়, স্রেফ সন্দেহের ভিত্তিতে স্বল্পসময়ে ঘটেছে। কিন্তু আবরার হত্যাকাণ্ড তা নয়। প্রস্তুতি নিয়ে এই ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে দলবেঁধে দফায় দফায় পিটিয়ে হত্যা করার মধ্যে ঠান্ডা মাথায় নির্মমতার কি কোনও তুলনা হয়।  

 

আবরার ফাহাদের অপরাধ ছিল, তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। এর জন্যে কি কাউকে পেটাতে হবে? ছাত্রলীগ তখন আইন হাতে তুলে নিয়ে কি বুঝাতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর, আইনের শাসনের ওপর তাদের আস্থা নেই।
সাধারণত বলা হয়ে থাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে অপরাধী ভয় পাবে এবং অপরাধ প্রবণতা কমবে। শাস্তি দেয়ার আইন, শাস্তি কার্যকর করার এত ব্যবস্থা সত্ত্বেও অপরাধ কি কমছে? শাস্তির ঝুঁকি আর অপরাধের ফলে অর্জিত সুবিধা এই দুইয়ের তুলনামূলক বিচারে সুবিধা পেতে শাস্তির ঝুঁকি নিতে পিছু পা হয় না অনেকেই। এর সাথে ক্ষমতার রসায়ন মিলে গেলে তো সোনায় সোহাগা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের কোন কোন নেতা কর্মী শাস্তি পেয়েছে, বহিস্কার হয়েছে কিন্তু  ক্ষমতার দম্ভে ছাত্রলীগের বেপরোয়া আচরণ কি কমেছে?  দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেআইনি কর্মকাণ্ড, হল দখল, গেস্টরুম, গণরুম- নানা প্রক্রিয়ায় তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালায়। কুয়েটে তাদের নির্যাতনে প্রভোস্টের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে গেলো। তাদের নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বেও বিপর্যস্ত হয় শিক্ষার পরিবেশ, বন্ধ হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কেউ মৃত্যুবরণ করলে  আলোচনার ঝড় উঠে কিন্তু  প্রতিদিন ছাত্রলীগের নির্যাতনের অসংখ্য  খবর অন্তরালে চাপা পড়ে থাকে।



এই যে  আদালতের রায়ে দণ্ডিত হলো বুয়েট ছাত্রলীগের ২৫জন নেতাকর্মী তারা কিন্তু খুনি হতে বুয়েটে ভর্তি হয়নি, ভর্তি হয়েছিল প্রকৌশলী হতে এবং তারা মেধার ভিত্তিতেই ভর্তি হয়েছিল।  কি প্রক্রিয়ায় বা কেন তারা এই মানসিকতা অর্জন করলো তা যদি বিচার করা না হয় তাহলে একটা দুইটা আলোচিত মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে খুনি মানসিকতা তৈরির  এই প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না। যারা তাদের খুনি বানায়, তাদেরকে কি খুঁজে বের করা হয়েছে কখনো?  আর অতীতেও অনেক কঠিন রায় হয়েছে কিন্তু ফলাফল কি? তাই শুধু কঠোর শাস্তির রায় হলেই  অপরাধ থামবে না। সে রায় কার্যকর হবে কি না তার নিশ্চয়তা নিয়েও সংশয় আছে, ক্ষমা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেমন ৯ বছর পরও নৃশংসভাবে নিহত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার রায় কার্যকর হয়নি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই সমাজে কারণ তাদের রাজনৈতিক সুরক্ষা আছে এবং তারা ক্ষমতা বলয়ের আশেপাশেই আছে।   

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দম্ভে বেপরোয়া হয়ে ওঠা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের থামানোর আকুল আবেদন করছেন অনেকেই। কেউ আবার বলছেন ব্যবস্থা তো নেয়া হচ্ছে। কিন্তু নতুন নতুন ঘটনার কারণে এটা এখন দিনের আলোর মত পরিস্কার যে এতে কাজ হচ্ছে না। এই দুর্বৃত্তপনার  উৎসের সন্ধান করতে হবে। কারণ লতিফ সিদ্দিকী, সম্রাট, পাপিয়া, সাহেদ, শোভন বা জাহাঙ্গীর আলমের পরিনতি দেখেও তো নিবৃত্ত হয়নি ডা. মুরাদ হাসান। চাঁদাবাজির অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে  বহিষ্কার করেও তো  থামানো যাচ্ছেনা ছাত্রলীগকে। 

 

নিম্ন আদালতের রায় হয়েছে, এটা একটা দৃষ্টান্ত। আবরারের মা বলেছেন শাস্তি দেখতে চাই। আর সাজা প্রাপ্তদের বাবা রা বলছেন, চিন্তা কোরো না বাবা। উচ্চতর আদালত থেকে ছাড়িয়ে আনবোই। দুজনেই তো বাবা ! তাই শাস্তি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, রায় কার্যকর কি পারবে এই প্রবণতা থামাতে ? যে ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি একদল মেধাবী ছাত্রের মনে খুনের সংস্কৃতি গড়ে তোলে তা কি অধরাই থেকে যাবে? না কি পাল্টা রাজনীতি ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে আসবেন এটিই এখন বড় প্রশ্ন। এর উত্তর খুঁজে নেয়ার মধ্যেই আছে আমাদের ভবিষ্যৎ।  আবরার হত্যা মামলার রায়ের ক্ষেত্রে এই কথাটি প্রযোজ্য। এই ঘটনায় আবরার তো নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেনই একই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে গেলো আরও ২৫ মেধাবীর জীবন, আজীবন বেদনা বহন করবে তাদের পরিবার। দণ্ডিত ২৫ জনই বুয়েটের শিক্ষার্থী। এমন মেধাবী ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন দিতে গিয়ে বিচারকের হৃদয়ও নিশ্চয়ই ক্ষণিকের জন্য হলেও কেঁদেছে। তারুণ্যের কি বেদনাময় অপচয়!

 

একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে। এই মৃত্যুর দায় কে নেবে ? কেউ কি নেবে ? ২০ জন তরুণকে ফাঁসির দণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেতে হলো কেন? বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে খুনি মানসিকতা গড়ে উঠেছিল কেন তাদের? যারা এবং যে রাজনীতি তাদেরকে এই পথে এনেছিলো  তাদের পরিচয় উদঘাটন করাটাও জরুরী।  

 
লেখক: সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)

  

Header Ad
Header Ad

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান

ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের উদ্যোগে ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে, যা নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনো বাস কাউন্টার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করলে, তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়সহ সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা এবং একাধিক আরোহী বহন রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে পলাশ তালুকদার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে মোট ১৮টি মামলায় ৭০,০০০/ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে এবারের ঈদে ঠাকুরগাঁও জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

Header Ad
Header Ad

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন

ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে, বিপরীতে বেড়েছে ইউরোর মূল্য। বিনিয়োগকারীরা ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো নিরাপদ আশ্রয়স্থলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বাজারে ধাক্কা লাগে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দরপতন ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ডের পাশাপাশি স্বর্ণে বিনিয়োগ শুরু করেন।

ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা দেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত আমদানির ওপর ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ করবেন এবং দেশের কিছু বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর উচ্চতর শুল্ক বসাবেন। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও জ্বালানি মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরের শুরুর পর থেকে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ইউরো সূচক ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৫৬ শতাংশ, নিউজিল্যান্ড ডলার ০.৯ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ১.৭ শতাংশ এবং সুইস ফ্রাঙ্ক পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন জানান, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির ফলে ডলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “অনিশ্চয়তা এখনও বেশি রয়েছে—যদিও কয়েকদিনের মধ্যে কিছু শুল্ক বাতিল বা সংশোধন হতে পারে। তবে এর অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্মুট-হাওলি শুল্ক আইনের চেয়েও বেশি হতে পারে।”

১৯৩০ সালে স্মুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি কর বাড়িয়েছিল, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক শুল্কের সূত্রপাত ঘটায় এবং বৈশ্বিক মহামন্দাকে আরও গভীর করে তোলে।

ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথর্ন আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কেবল বাণিজ্যের ভারসাম্য রক্ষার কৌশল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করার পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। তবে, এই স্তরের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, ব্যারন’স, দ্য গার্ডিয়ান

Header Ad
Header Ad

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত

গেল মাসে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করলেও ফিফা র‍্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন র‍্যাংকিং অনুযায়ী, ৯০৪.১৬ পয়েন্ট নিয়ে জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীরা ১৮৫তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১৮৩তম স্থানে।

এদিকে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সংগ্রহ এখন ১৮৮৬.১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, স্পেন ১৮৫৪.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ১৮৫৪.৭১ পয়েন্ট নিয়ে ফরাসিরা নেমে গেছে তিন নম্বরে।

ইংল্যান্ড ১৮১৯.২ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি চারে রয়েছে। ব্রাজিল এক জয় ও এক হারের পরও ১৭৭৬.০৩ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই পাঁচ নম্বরে রয়েছে। নেদারল্যান্ডস ১৭৫২.৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ছয়ে উঠে এসেছে, আর পর্তুগাল এক ধাপ পিছিয়ে ১৭৫০.০৮ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে নেমেছে।

র‍্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে আট, নয় ও দশ নম্বরে রয়েছে বেলজিয়াম (১৭৩৫.৭৫), ইতালি (১৭১৮.৩১) এবং জার্মানি (১৭১৬.৯৮)। সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে মিয়ানমার, যারা সাত ধাপ এগিয়ে এখন ১৬২ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে, আফ্রিকার দেশ গিনি বিসাউ আট ধাপ পিছিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সেরা অবস্থানে রয়েছে জাপান। ১৬৫২.৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি ১৫তম স্থানে রয়েছে, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

Header Ad
Header Ad

সর্বশেষ সংবাদ

অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএ'র বিশেষ অভিযান
শুল্ক আরোপের জেরে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের দরপতন
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের উন্নতি, শীর্ষেই আর্জেন্টিনা
পাহাড়ের প্রধান সমস্যা চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক তানিফা
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছালেন প্রধান উপদেষ্টা
বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের দাবি জয়শঙ্করের
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পরিকল্পনার ঘোষণার পরপরই স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
গাজীপুরে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় যুবকের মৃত্যু
গাজার অংশবিশেষ দখল করার ঘোষণা ইসরায়েলের
মিঠাপুকুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেফতার
এসএসসি পরীক্ষা একমাস পেছানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের ডাক
অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে রিয়ালের মুখোমুখি বার্সেলোনা
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা
ব্যাংককে হচ্ছে ইউনূস-মোদির বৈঠক
সাতক্ষীরায় মদপানে দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯
ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা: রিজভী